somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একদা এক সন্ধ্যায়

২৬ শে মে, ২০১০ দুপুর ২:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কোন এক সন্ধ্যাবেলা বেদনাহত প্রাণে
বসে বসে ভাবছিলাম একা নদীকিনারে। নাহ্
তাকে ঠিক ঠিক সন্ধ্যা বলা যাবে না তবে
বিকেলও ছিলো না; আর সত্যি কথা যদি বলতে হয়
ওগুলোকে কোনভাবেই ভাবনা বলা যায় না।
বরং ক্রমাগত ভাবনার ভারে আমি ছিলাম ক্লান্ত, ভীষণ ক্লান্ত,
বস্ত্তত আমি আর ভাবতেই চাইছিলাম না।
বহুদিন আগের কথা- দু’একটা ভুলতো হতেই পারে
আর কথা পুরোনো হলে ঠিকমত কে কবে রেখেছে মনে ।
যাক গে সে সব। মোটকথা সেদিন নদীতীরে বসেছিলাম
একটি বিশেষ কারণে--

এক অর্বাচীন কিশোরীর হৃদয়রেখা ধরে
হাঁটতে গিয়ে বুঝলাম মোটেই তা সরলরেখা নয়
বেমাক্কা হোঁচটে ভীষণভাবে আহত হয়েছিলাম
শুশ্রূষার প্রয়োজন ছিলো তাই নদীকিনারে বসে
মচকানো মনের গায়ে ডলছিলাম
নানাবিধ দার্শনিক আরকের সাথে
অতিঘণীভূত আদর্শিক পালিশের যথাযথ মিশ্রণ
সৌভাগ্য সে মলম আমাকে নিরাশ করেনি
এদিকে পরিচর্যাও হচ্ছিল বেশ ভালো -

ঠান্ডা বাতাসের ছোঁয়া, শান্ত নদী আমাকে দিচ্ছিল
প্রশান্ত আমেজ, সতেজ অনুভূতি
সবকিছু সামলে উঠছিলাম দ্রুত
নতুন শেখা সিগারেটের ধোঁয়ার সাথে
হাওয়ায় মিলিয়ে যাচ্ছিল বাকী যা কিছু
দীনতার মেঘ।
নির্জন নদীতীরে বসে বিশিষ্ট বোধের আলোয়
ক্রমশ ফিরে পাচ্ছিলাম আপন অধিকার
ঠিক সন্ধ্যা-তারাটির মতো : উজ্জ্বল, নি:সঙ্গ, মহৎ!
না, ঠিক নি:সঙ্গ না,
তখনই খেয়ালে এল যে
আশেপাশে মানুষ আছে এবং তারা
সঞ্চরণশীল. . . .
তাদের বিড়ির গন্ধ, খোশগল্প, মাথাঘষা কিংবা
ডুবদেবার মৃদু শব্দ আমার কাছে এতক্ষণ
নি:স্তব্ধতার অংশ বলেই মনে হচ্ছিল।
ও হ্যাঁ, ততক্ষণে সন্ধ্যা আরও ঘণীভূত হয়েছে
তবু রক্তিম আভার শেষ ভগ্নাংশে
তাদের চকচকে নাকের ডগা তখনো
ঘোষণা করছিল যে তারা মোটেই সিল্যুয়েট নয়
কয়েকজনা ক্লান্ত মজুর মাত্র;
দিনশেষে এখানে বসে, কিছু খুচরো
গল্পগুজবের মাঝে দু’একটা বিড়ি টেনে
স্নান সেরে
নিজের ঘরে ফিরে যাবে: নিজের ঘরে?
হয়তো নিজের না
তবু ঘর তো, ঘরে মানুষকে ফিরতেই হয়।
যেখানে অপেক্ষা করছে তার বধু, সন্তান
অথবা তেমন কেউ নেই তার
শুধুই বৃদ্ধা মাতা কিংবা এও হতে পারে
সে ঘর শুধুই অন্ধকার, সে গেলেই কেবল জ্বলবে বাতি

আবার হয়তো দেখা গেল
এসবের কিছুই না: সে আদৌ ঘরে ফিরে যাবে না
বস্ত্ততঃ তার কোন ঘরই নেই
সে কোথাও ফিরে যায় না, কেবল ঘুরতে থাকে; অবশ্য
এটাকে ঠিক ঘোরাও বলা যায় না, বরং বলা যায়-
সে কেবল উড়তে থাকে, ছেঁড়া ঠোঙ্গার মতো
যতক্ষণ না কুড়িয়ে নেয় কোন কাগজ কুড়ানী
আবার কাগজ কুড়ানীর কথা এসে গেল, ধুর্
খালি কথার পিঠে কথা আসে, আসল কথায় আসি
যা বলছিলাম- লোকটির হয়তো ঘর নেই
কিন্তু এমন ভাবতে মন সায় দেয় না
ঘর থাকবে না এটা হয় নাকি?

তবে এমনও হতে পারে
সে সরাসরি ঘরে ফিরবে না
হয়তো কোন রকে বসে তাস পিটোবে
টিনের মগে আনা চা খেয়ে বিড়ি টানতে টানতে
খিস্তি করবে; অবশ্য শুঁড়ীখানায় ঢোকার স্বাধীনতাও তার রয়েছে
ভাগ্য ভাল থাকলে সেখানে সে খুঁজে পেতে
পারে জন্মের কৈফিয়ত এবং এই সাফল্যে উৎসাহিত হয়ে সে
উপভোগ করতে পারে কোন পথনারী’র সঙ্গ
ট্যাঁকের জোর একটু বেশি হলে
ছাদের তলায়ও সেটা হতে পারে।

এসব শেষ হলেই কেবল বাড়ি ফেরার প্রশ্ন আসে
তখন সেখানে কে তার জন্য অপেক্ষা করছে
সে কথা এখানে অবান্তর; সে কোথায় ফিরে যাবে না যাবে
সে আলোচনা এখানে একেবারেই অথর্হীন।

আর মানুষের এতো বেশি ব্যক্তিগত বিষয়ে
হাত দেওয়া একদমই উচিত না
সবচেয়ে বড় কথা মূল ঘটনার সাথে এসব
আলোচনার কোনই সম্পর্ক নেই; এটা জানা কথা
সব ক্ষেত্রেই পরিমিতিবোধ প্রয়োজন
যতটুকু না বললে না ততটুকুই বলা উচিত
তাই তার ঘরের দরজায় ঠিক কি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল
সেটা জানার চেয়ে জরুরী হচ্ছে-

তখন স্পষ্টতই আমরা স্থান কালের ঐক্যে
বিরাজ করছিলাম, এ নিয়ে কোন সন্দেহই ছিল না
অবাক কান্ড!
সেখানেই সমস্যা হল-

হঠাৎ করেই কেন যেন মনে হতে লাগল
কোথায় একটা কিন্তু রয়েছে
কিংবা তার চেয়েও বেশি কিছু
কেন মনে হচ্ছিল জানি না, অথচ কিছু একটা মনে হচ্ছিল
তাতে কোন সন্দেহ নেই।

যদিও আমার উপস্থিতিকে তারা গ্রাহ্য বা অগ্রাহ্য
কোনটাই করেনি
অবশ্য তাতে কিছু প্রমাণ হয় না
কিন্তু সমস্যা ছিলো অন্য যায়গায়
মনে হচ্ছিল ওরা আমাকে দেখেই নি
এমনকি আমার এমনও সন্দেহ হচ্ছিল ওরা
আদৌ আছে কি না!

তাদের একজন ঠিক আমার পাশ দিয়ে
হেঁটে গেল- একটু হলেই আমার গায়ে
লাগতো- কিন্তু লাগেনি- হয়তো
লেগেছিল আমি বুঝতে পারিনি।

আর একজন আমার সামনেই গামছা ঝাড়ছিল
তখন ঠান্ডা জলের ঝাপটা লাগে আমার মুখে
না! কথাটা ঠিক হল না, মুখে লাগেনি বরং বলা যায়
জলকণা আমার ভিতর দিয়ে
বেরিয়ে গেল- আর সেটাই হয়েছিল মনে হয়
কারণ- আমি নিশ্চিত বলতে পারি আমার
মুখে কোন জল লাগেনি-
আমি খেয়াল করেছিলাম আমার মুখ
শুকনোই আছে- অথচ আমি পেলাম
একটা শীতল অথবা সিরসিরে অনুভূতি অথবা
এমনও হতে পারে সে অনুভূতি আমি
ঠিক শনাক্ত করতে পারিনি-

কিন্তু পরে ভেবে দেখেছি মোটেও আশ্চর্য নয়
আসলে জলকণা খুব মিহি ছিল, এতটা মিহি যে
শরীরে লাগে না- ভেদ করে চলে যায়- তাই এখন
আর আশ্চর্য হই না- বহুদিন আগের ঘটনা
তখন আমার বয়স ছিল আঠার এখন . . .!
হাসি পায়- তখন কত সহজে আশ্চর্য হতাম!

তারপর বয়স বাড়ছিল দ্রুত, সেই সাথে
জ্ঞান- আর এটাতো সবাই জানে, জ্ঞান
সবই ব্যাখ্যা করতে পারে-
এই আপাত আশ্চর্য ঘটনাগুলো খুবই সাধারণ
খুব সহজে তা বোঝা যায়, শুধু সময়ের ব্যাপার-
তবু মাঝে মাঝে খটকা লাগে

হঠাৎ হঠাৎ মনে হয়-এত মিহি জল, ওরা পেল কোথায়!
আসলে খুব অপরিপক্ক ছিলাম-
সঠিকভাবে সবকিছু পর্যবেক্ষণ করতে পারিনি-
সেই কতকাল আগের কথা!
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পিঠে কোদাল, হাতে মোবাইল

লিখেছেন মুনতাসির, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:২৪



শীতের সকাল।
কুয়াশার চাদরে মোড়ানো মাঠ,
পিঠে কোদাল, হাতে সময়—
মাটি আর মানুষের প্রতিদিনের নিরব সংলাপ।

বগুড়া, ২০২৬। ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তন

লিখেছেন কিরকুট, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৫৪

*** জামাত শিবির এর যারা আছেন তারা দয়ে করে প্রবেশ করবেন না ***


বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ এখন আর কেবল একটি দলের ভাগ্যের প্রশ্ন নয় এটি রাজনৈতিক ভারসাম্য, গণতান্ত্রিক কাঠামো... ...বাকিটুকু পড়ুন

অবশেষে দেশে গণতন্ত্র কায়েম হইলো

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৩

দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে এখন আমাদের আর কোন টেনশন রইলো না। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের বিজয়ী প্রার্থীদের আজ শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই মূলত দেশ আবার গণতন্ত্রের ট্রেনে যাত্রা শুরু করলো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

রঙিন ডালিম ফলের একটি ব্যতিক্রমি অঙ্গ বিশ্লেষন ( Anatomy of Pomegranate )

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১১


সবুজ পাতার আড়াল ভেঙে
ডালিম ঝুলে লাজুক রঙে
বাইরে রক্তিম খোলস কঠিন
ভিতরে দারুন জীবন রঙিন।
শত দানার গোপন ভুবন
একসাথে বাঁধা মধুর টান
হৃদয়ের হাজার স্বপ্ন যেন
লুকিয়ে থাকা রক্তিম গান।
নীচে দেয়া চিত্রে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এনসিপি কি সত্যিই ডঃ ইউনুসকে হত্যার চক্রান্ত করছে?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:১৫



এটা সত্যি যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এনসিপি নেতারা ডঃ ইউনুসকে যাচ্ছেতাই ভাষায় গালিগালাজ করেছেন। কিন্তু, তাই বলে হত্যা কেন করবে!!! ব্লগে আমার এই পোস্টের মাধ্যমে এন,সি,পি নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×