আমার অসমাপ্ত কাজগুলোর বয়ান কি ভাবে প্রকাশ করা যায় আমি জানিনা। এটা আসলে সিঁড়ি নয় যে ক্রমান্বয়ে উঠে গেলেই হয় অথবা ছোটবেলার সেই স্বপ্নেরচিলেকোঠা যেখানে হাজার স্বপ্নেরা ছোটে বুদঁবুদের মত লাল নীল হলুদ আকাশী একটা বেছে নিলেই গোটা পৃথিবীটাই ছোটে । ছেলেবেলায় অনেক বন্ধু থাকলেও কেন জানি মেয়ে বন্ধুদের সাথেই মিশতে নিরাপদ বোধ করতাম কারন আমার সবকটা বন্ধুই ছিলো দুরন্ত বাঁদর গোছের। বিশাল কলোনিতে জঙ্গল গাছ গাছড়ার অভাব ছিলোনা।মানুষও ছিলো অনেক কম, এর ওর গাছে ঢিল ছোঁড়া , ঘুড়ি উড়াও, গুলতি দিয়ে পাখি মারা অথবা যখন তখন মারপিট আমার ধাতে সইতো না বলা যায় তখন থেকেই আমি অহিংস। আর তাই মেয়ে বন্ধুগুলোর কাছে আমি ছিলাম নিরীহ নিরাপদ এক মুরগীর মত তাই আমি ওদের কাছে সবসময় স্বাগত। আমার বন্ধুগুলোর স্বভাবসুলভ কিন্তু মোটেই মেয়েলি ছিলোনা বরঞ্চ রীতিমত ডাকাবুকো এবং আমার জীবনের অসমাপ্ত কাজের শুরুটাও হয়েছিলো এরকম এক বন্ধুর কারনে। এরকম এক দোস্ত টেলিফােন করে তাদের ছাদের উপর নিয়ে গিয়ে বুকের উপর একটা ফ্লাইং মেরে বললো -বুঝলি এটাকে বলে কুংফু ! ব্রুসলির কাছ থেকে শেখা। আমি তখন চি'ৎপটাং হয়ে গলা ফাটিয়ে চিৎকার করছিলাম - এ জন্য ডেকেছিলি ? একটা চাইনিজ মার্কা ভিলেন হাসি হেসে বললো -নারে ভিডিওটা দেখ তোর ও মনে হবে তুর্যটার পাছায় একটা ফ্লাইং মারতে। আমি তো অবাক কেন কেন তুর্য কেন? বারে সেদিন স্কুল ছুটির পর তুর্য তোর পাছায় এতবড় লাথি মারলো আর তুই বোকার মত ভেই ভেই করে কাঁদছিলি কিছুই বললিনা! শুনেই আমার কানটা জ্বালা করে উঠলো।বোকার মত বললাম তুই দেখেছিলি? শুধু আমি কেন গোটা কলোনির মেয়েগুলো দেখেছে। সেই দিনই বোধহয় বালকবেলার প্রথম অপমান বােধ । তীব্র অভিমান হয়েছিলো নিজের উপর, এই স্কুল , কলোনি ,ছাদের কবুতর, ব্রুসলি, উপরের অবিরল মেঘের ছুটে চলা সবকিছুই যেন আমার দূর্দশার স্বাক্ষী। আমি পালিয়ে গেলাম আমার ছোট চিলেকোঠায় তীব্র অপমান বোধে দিশেহারা আমি তিনদিন ঘর থেকে বের হলাম না। আমি জানি তুর্যটার সাথে কখনো পেরে উঠবোনা শরীর স্বাস্হ্যে আমার থেকে প্রায়ই দ্বিগুণ তাই আমাকে ভাবতে হবে....কিন্তু ঘটনাটা আমি প্রায়ই ভুলেই গিয়েছিলাম একদিন মেজদার রুমে নতুন কেনা ব্রুসলির এন্টার দ্যা ড্রাগন পোস্টার দেখে আমার কাংখিত অসমাপ্ত কাজটি মাথাচাড়া দিয়ে উঠলো । আমাকে অবশ্যই ব্রুসলি হতে হবে। এবার তুর্যটার লাথির একটা মোক্ষম জবাব পাওয়া গেল। তুর্যটা আসলেই একটা গুন্ডা টাইপের যখন তখন একে ওকে ধরছে তো মারছে । ওর সাথে ওর চেলা গুলোও মহা পাজি, তুর্য ওদের ও মারে। আমাকে দেখলেই হলো ও্ই যে লালটু থাইল্যান্ডি হাঁস বলে কানে একটা মোচড় মেরে পিঠে একটা চাপড় না দিয়ে কখনো যাবেনা তাই এক ক্লাশ হলেও সেকশন আলাদা হবার কারনে অন্য রুমে বসতে হতো তা না হলে যে কি হতো পাঠক বুঝতেই পারছেন। ব্রুসলি হবার তাড়ণায় হাতে কলমে কুংফু শিক্ষা নামক একটা বইও গোপনে কিনে ফেললাম । ব্রুসলির ভিডিও আর বই দেখে ছাদের উপর প্রাকটিস করতাম আর সে কি প্রাকটিস ওর চোখের চাহনী হাঁটার স্টাইল এমনকি ওর ঘোড়া র মত চিৎকার টাও আমার টুথস্থ। কিন্তু তুর্যকে আর পাওয়া গেলনা, ওর বাবা অন্য জেলায় বদলি হয়ে যাওয়াতে আমার কাজটি অসমাপ্তই থেকে গেল।(ধারাবাহিক)
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা মে, ২০১৪ রাত ১২:১৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



