![]()
আমার বুকের 'পরে তোমাদের পায়ের শব্দ শোনা যায়,
অনিদ্রায় জেগে থেকে যেন নূপুরের কোলাহল মনে হয়,
চাঁদের সুষমায় ডুকরে ওঠে কল্যাণী;
পাশে বসে বিলাপ করে,
আমি তারে কি আর কলঙ্ক দেবো !
উজানের পথে কান পেতে শুনি,
দেবতারা পানশি ভিড়ায়েছে;
নোঙর ফেলবে বলে,
ঝাউবনে - নীরব তমসায়।
নিস্তব্ধ চারিদিক;
মানুষেরা সেজেছে মানুষীর বেশে,
দেবতারা দেবী রূপে,
গাছের পাতায় লুটপাট হতে গিয়ে;
তমসায় রক্তে ভিজে কোষ।
সকালের প্রথম রোদ গায়ে মেখে ফিরবে সে জানি,
আঁচলের এলোমেলো বিন্যাসে,
এলোকেশের অতন্দ্র প্রহরী যারা জেগে ছিল,
তাদের হাতেও রক্তের দাগ তখনও লেগে ছিল।
আমার হৃদয় এক পুরুষ বেশ্যার মতো,
ঝুম বর্ষায় রক্তাক্ত হবে বলে মানুষ সাঁজে;
মানুষ সেজে কালের যোনীতে চেতনার ফানুস উড়ায়,
আমি তারে কিছুতেই পারিনা এড়াতে !
এইসব দিন রাতের গল্প,
কল্পলোকের স্বপ্ন হয়ে ধরা দেয় - মেঘের খরতায়।
প্রাতরাশে ডাহুক ডাকা সোনালী বীজের গন্ধ ভাসে,
আকাশের ওপারে আকাশে ফিকে হয়ে রংধনু আসে,
বিছানায় শুয়ে থেকে;
জীবিত অথবা অর্ধমৃত রোগের করুণায়,
আরশোলার পথ চলায়;
উজ্জীবিত কীটের প্রহসন দেখি মনের হরষে।
এখন আর নদীর নাব্যতা মাপা হয়ে ওঠেনা আমার,
পদ্ম পাতায় কবিতারা এসে ম্লান হয়,
স্বজাতিদের খাঁচায় নিজেকে বড্ড বেশি বেমানান লাগে;
যদিও ওদের মতো আমারও চোখ, হাত, পা,সবই আছে;
তবু আমার আকাশের রোদ ওদের মতো মেঘে ঢাকা নয়,
দরজায় রাখা পাপোশটি এখনও তেমনই আছে,
শুধু ধুলোর মায়ায় স্বপ্নের পশরা বসেছে,
এই ব্যথা, এই প্রেম শুকিয়েছে জোছনার খরতাপে,
ভেবে ভেবে প্রার্থনারত মৃত্যুর সহবাসে,
মৃত্যু উপত্যকায় যেখানে বুড়ো সূর্য কাঁদে।
তার কথা ভেবে তবু মন উদাস হয়,
ফড়িঙের রঙিন ডানায় সন্ধ্যারা ক্লান্ত জেগে রয়,
আর আমরা সবাই আমাদের মতো করে বেঁচে থাকি।
জীবন অগাধ, অবাধ্য প্রেমিকেরা
পথে পথে ঘুরে ফিরে
নিয়ন আলোকে স্বপ্নের ফেরি করে,
মাঝে মাঝে দুই একটা বন্দুকের গুলির শব্দ শোনা যায়;
ভয় হয়, এই বুঝি আমার বুকের 'পরেও হাসবে শেষে।
এই প্রেম চেয়েছিলাম বুঝি !
তোমার নাভির গহীনে উনুনের তপ্ততায়,
অনেক অনিদ্রায় আলতা মাখা নগ্ন পায়ে
রক্তকরবী সাজিয়েছি,
শীতল হতে চেয়েছি;
শিউলির ঝরে পরা আনন্দে,
শেষবার ঘুমাবো বলে;
আমার মতো করে-
আমরা সবাই জেগে রই।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে মে, ২০১৫ রাত ১১:৪০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



