![]()
পানাম নগরী একটি অতি প্রাচীন ও ঐতিহাসিক জনপদের নাম। পানাম নগরীর ধ্বংসপ্রাপ্ত ইমারত সমূহ স্বাক্ষ্য দেয় একসময় সোনারগাঁয়ের অভিজাত নাগরিকদের বসবাসের কেন্দ্র ছিল। মায়াবি পর্দায় দুলে উঠার মতো মসলিন এবং ঋতু ভিত্তিক বিভিন্ন উৎসবে মূখর নগরী; আবহমান বাঙালির লোকাচার, জীবনাচার, আবহমান জীবন সংস্কৃতির এক জীবন্ত দলিল ছিলো পানাম নগরী। ঈসা খাঁ বাংলার প্রথম রাজধানী স্থাপন করেছিলেন সোনাগাঁওয়ে। পূর্বে মেঘনা আর পশ্চিমে শীতলক্ষ্যা নদীপথে বিলেত থেকে আসতো বিলাতি থানকাপড়, দেশ থেকে যেতো মসলিন। শীতলক্ষ্যা আর মেঘনার ঘাটে প্রতিদিনই ভিড়তো পালতোলা নৌকা। পরবর্তিতে এই পোষাক বাণিজ্যের স্থান দখল করে ইংরেজরা এখানে বসিয়েছিলেন নীলের বাণিজ্যকেন্দ্র। পানামে ঔপনিবেশিক ধাঁচের দোতলা এবং একতলা বাড়ি রয়েছে প্রচুর। যার বেশিরভাগ বাড়িই ঊনবিংশ শতাব্দির। মূলত পানাম ছিলো হিন্দু ধনী ব্যবসায়ীদের বসতক্ষেত্র। তারাই গড়ে তোলেন এই নগরী।
![]()
![]()
![]()
![]()
![]()
![]()
পানামের টিকে থাকা বাড়িগুলোর মধ্যে স্থাপত্যে ঔপনিবেশিকতা ছাড়াও মোঘল, গ্রিক এবং গান্ধারা স্থাপত্যশৈলীর সাথে স্থানীয় কারিগরদের শিল্পকুশলতার অপূর্ব সংমিশ্রণ দেখা যায়। ইটের সঙ্গে ব্যবহার করা হয়েছে ঢালাই লোহার তৈরি ব্র্যাকেট। মেঝেতে রয়েছে লাল, সাদা, কালো মোজাইকের কারুকাজ। প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই খিলান ও ছাদের মধ্যবর্তি স্থানে নীল ও সাদা ছাপ দেখা যায়। এছাড়া বাড়িগুলোতে নকশা ও কাস্ট আয়রনের কাজ নিখুঁত। এর সাথে আছে সিরামিক টাইলবাসের রূপায়ণ। বেশিরভাগ বাড়ির চারদিকের ঘেরাটোপের ভিতর আছে উন্মুক্ত উঠান।
![]()
![]()
![]()
![]()
![]()
![]()
পানাম নগরী আর জেগে উঠেনি। পানাম নগরীর মূল প্রবেশ পথের ছোট্ট খালটির উপরে একটি সেতু ছিলো, যার কোনো অস্তিত্ব আর অবশিষ্ট নেই। অযত্ন আর অবহেলায় পানাম নগরীর বাড়িঘরগুলোতে শ্যাওলা ধরেছে, ভেতরের পরিবেশটা স্যাঁতস্যাঁতে, গোমট। বাড়িগুলোর দেয়ালে গজাচ্ছে গাছপালা, অনেক বাড়ির ভিতরে ঢুকে গেছে গাছের শিকড়। অনেক ঘরের চৌকাঠ ও রেলিং খুলে পড়েছে। চুরি হচ্ছে কড়িকাঠ ও তক্তা। ফলে বিভিন্ন সময় বাড়িগুলোর ছাদ ধ্বসে পড়ছে, ভেঙ্গে পড়ছে সিঁড়ি ও দেয়াল। পরিত্যক্ত এসব বাড়িগুলোর অনেকগুলোতে মানুষ কিংবা পশু-পাখি মলমূত্র ত্যাগ করে থাকে। অনেক বাড়িরই সিরামিক টাইল্সে ভাঙ্গন ধরেছে, খিলানে ধরেছে মরিচা। কোনো কোনো বাড়ির কার্ণিশে গজিয়েছে আগাছা।একটি বাড়িতে বিশাল নাচঘরে বসে জুয়াড়ি আর নেশাখোরদের আড্ডা।
![]()
![]()
![]()
![]()
![]()
![]()
অনেক ভবনকে সংস্কারের নামে মূল স্থাপত্যিক সৌন্দর্য্য ঢেকে ফেলা হয়েছে। শত বছরের পুরোন কাশীনাথ ভবনের পুরোন অলংকরণ ফেলে দিয়ে নতুন করে অলংকরণ করা হয়েছে। তাছাড়া অতীতের ছোট ও চ্যাপ্টাকৃতি ইটের পরিবর্তে ব্যবহৃত হয়েছে বর্তমানের বড় আকারের ইট।
![]()
![]()
![]()
![]()
![]()
![]()
স্মৃতি বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে যাওয়া পানাম নগরীর লোনা ইট, কালো পাথরের টেরাকোটা ধূসর স্মৃতি এখনও ইতস্তত বিক্ষিপ্ত অবস্থায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। নাচ ঘরে এখন আর নাচে না নর্তকী। বাজে না নর্তকীর পায়ের ঘুঙুর। বণিকদের সারি সারি ডিঙি নোঙর ফেলেনা পানাম নগরীর ঘাটে। কালের পরিক্রমায় হারিয়ে গেছে এ নগরীর জীবনের সব বর্ণাঢ্য আয়োজন। থেমে গেছে প্রাণের প্রবাহ। অনাদর আর অবহেলার চিহ্ন গায়ে মেখে আজও দাড়িয়ে আছে ধ্বংসাবশেষ অট্টালিকাগুলো অস্তিত্বের সাক্ষী হয়ে।
উৎসর্গঃ শ্রদ্ধেয় ও প্রিয় ব্লগার আমিনুর রহমান ভাইকে।
(তথ্য সংগ্রহে বাংলাদেশ পর্যটন এবং ছবি নিজস্ব মোবাইল থেকে তোলা)
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে মে, ২০১৫ রাত ১১:৩৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



