![]()
তখনও নিঃসঙ্গ রানওয়ে জুড়ে শীতের নেশায় বিভোর অমানিশা,
কুয়াশার আবেশে বাতাসে শিশিরের নিঃশব্দ পদচারনা,
মাতাল সাগরের কোলাহলে মুখরিত বালুচর,
ঝাউ বনের পথে হলো প্রথম পরিণয়।
মনে পড়ে পাহাড়ের দেহে লজ্জা বিকিয়ে দিয়ে বুনো ঘাসগুলো কেমন নগ্ন হতেছিলো !
মেমফিস হতে উঠে আসা নীল জলা পরীরা,
প্রান এঁকে দিয়েছিলো পাল তোলা খাগড়ার বহরে;
পৌষের গর্ভে তারপর রচে গেল অনন্ত এক কাব্যিক মহাকাল,
স্বর্গ আর নরকের দ্বৈরথে আজও যার শঙ্খ বাজে,
ঝিনুকের শব দেহে নির্ঘুম জেগে রয় জীবনের মুক্তোরা।
মৃতপ্রায় রোদের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে ছায়াভিমান,
খুঁজে ফিরে মাটিতে শ্যাওলার ঘন বন।
ময়ূরের মতো করে সেতো পেখম তুলে নাচেনা,
ডানা মেলে উড়ে চলে শকুনের মতো;
ধীর-স্থির তারপর নির্জীব দেহটাকে ছিঁড়ে খায়,
রক্ত মাখা শব্দরা বেহালার সুর তুলে বিলাপ করে,
আঁচল পেতে কেউ তার অশ্রু কুঁড়োয়না।
মনে পড়ে আকাশের কাছে লজ্জা বিকিয়ে দিয়ে লোনা শহরটা সেদিন খুব কেঁদেছিলো !
বুক পকেটে রাখা রমণীর চুলের ফিতাটা এখনও রঙিন,
যদি কখনও স্বপ্ন আসে বাতাসের অবাধ্যতায়,
তবে তাকে খোঁপায় বেঁধে নেয়ার আশ্বাসে।
চোখের মেলাতে সন্ধ্যার রকমারী পশরা বসেছে,
বায়স্কোপের ভেতরে বধূ সেজে রাত হাসে,
তবু রোদের অপেক্ষায়;
সূর্য নক্ষত্র রমণীর প্রতি আরাধনা;
এই বুঝি ভোর হয়ে এলো বলে !
![]()
প্রণয়ের হাট-বাজারে বিধবা মর্ত্যরানীর বিকিকিনি ভাল না,
দর-দাম কশে দেখি নদীর মোহনা কাশফুলের শেকলে আঁটা,
ক্ষুধার বেনারশি শাড়িতে যে জোছনার নকশি বোনা,
হলুদ সন্ধ্যার পরিশেষে দেখি আঁচলে তার গোলাপের কাঁটা।
যুবতী মেঘবনের পায়ে সরু হিলের ঠক-ঠক শব্দে বাতাস কাঁদে,
গানের গন্ধ ভরা রজনীগন্ধার সৌন্দর্য ডেকে বলে,
এই দুঃখ আমি কোথায় রাখি ? হে প্রিয়,
“আমাকে তবু গোপন করে নিও তোমার অব্যয়ের দহনে"
শুনেছি পূর্ণিমার উঠোনে একদা একঝাঁক অমানিশা হেসেছিলো,
বুড়ো সূর্য তাকে নবজীবন দিতে গিয়ে নাকি নিজেই অন্ধকারে অস্ত গিয়েছিলো,
শোকে বিহবল মালতীর চোখে এখনো তারই প্রলয়ের অগ্নিশিখা জ্বলে,
জনক-জননীর বেশে আমাদের জানালার কার্নিশে তবু যেন রোদ খেলে।
![]()
আজকের এই রাত যেন কোন এক ভয়ানক খুনি,
চোখের তীর দূর আকাশের অন্ধকারকে করেছে নিশানা;
মৃত তারারা খসে পড়ছে চেয়ে দেখো নিয়তির অধরে,
সময়গুলো ভীষণ ভীত চারদিকের নিঃসঙ্গতায়,
হৃদয়ের বহ্নিতে উঠেছে ধোঁয়া,
জ্বলছে দেখো প্রণয়ের পর্ণমোচী,
বেঁচে থাকা যে আজ অসম্ভব !
মুখোশের আড়ালে পরিচয়হীন কতশত মুখোশ,
রক্ষীদের আগে পেছনেও পাহারারত অগণিত রক্ষী,
এলোমেলো নিঃশ্বাসে বিষণ্ণতার বুনো হাসি,
মৃত্যু যে কখন এসে কাড়া নাড়বে দরজায় জানা নেই ?
জন্মের পরেই মৃত্যু কাঁদা মাটির সংসারে,
নীল বিষের ফাঁদ পাতা এই মহাপ্রলয়ের অভিসারে,
বেঁচে থাকা যে আজ অসম্ভব !
![]()
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে মে, ২০১৫ রাত ১১:৩৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



