
ভারতীয় চলচ্চিত্র অনেকের কাছেই এক স্বপ্ন জগতের হাতছানি। বিশেষ করে আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষই স্বাধীনতার প্রাক কাল থেকে আজ অবধি ভারতীয় চলচ্চিত্রের রাহুগ্রাসে বন্দী হয়ে রয়েছে। মূলত নাচ-গান আর মশালা মিক্স এইসব তথাকথিত ভারতীয় চলচ্চিত্রের মুখোশের আড়ালে রয়েছে এক সুগভীর ষড়যন্ত্র। ইল্লুমিনাতি সম্পর্কে যাদের ধারণা আছে তারা জানেন যে কীভাবে হলিউড এর চলচ্চিত্র জগত এই ইল্লুমিনাতির ধারক ও বাহক হিসেবে কাজ করছে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় ঠিক একই ভাব ধারাতেই চলছে ভারতীয় চলচ্চিত্র।

আমার এই পোস্টে দেখানোর চেষ্টা করব তারই প্রমাণ স্বরূপ ভারতীয় চলচ্চিত্রে ব্যবহৃত কিছু ইল্লুমিনাতি প্রতীকের ব্যবহার সম্পর্কে।

প্রথম সুপারস্টার চিত্র নায়িকা সুলোচনা

প্রথম মিস ইন্ডিয়া প্রমীলা


চিত্র নায়িকা নাদিরা
প্রায় একশ বছরের ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সেই শুরু থেকেই যায়নদের আধিপত্য বিস্তার লক্ষ্য করা যায়। প্রায় সর্বক্ষেত্রেই যায়নদের উপস্থিতি ছিলো। মানুষের সহজ সরল সামাজিক জীবন যাপন ও ধর্মীয় বিশ্বাসকে পূঁজি করে এইসব চলচ্চিত্রের অন্তরালে চলতে থাকে ইল্লুমিনাতির প্রচার-প্রচারণার কার্যক্রম। এই ইল্লুমিনাতির কাজের কয়েকটি ধারার মধ্যে একটি ধারা হলো সাংস্কৃতিক মাধ্যম দিয়ে মানুষের মনোজগতকে ধীরে ধীরে গ্রাস করে নেশার মোহে আবিষ্ট করে ফেলা। যার ফলস্বরূপ আজকে আমরা ভারতীয় চলচ্চিত্রের কাছে দাসত্ব বরণ করে নিতে বাধ্য হচ্ছি।



যায়নরা ধীরে ধীরে ভারতীয় গন্ডীর মধ্যে প্রবেশ শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে পুরো ভারত জুড়ে ছড়িয়ে যেতে থাকে। যার ফলশ্রুতিতে বর্তমানে অধিকাংশ চলচ্চিত্রই নির্মিত হচ্ছে যায়নিজমকে অগ্রাধিকার দিয়ে। সেই আলম আরা থেকে শুরু করে বর্তমানের দীপিকা পাডুকা পর্যন্ত সবাই ইল্লুমিনাতিকে ভারতীয় চলচ্চিত্রে দিয়েছে এক ভয়ংকর রুপ।


ইল্লুমিনাতি প্রতীক বলতে যেমনঃ ডেভিল’স ওয়ান আইড সিম্বল, ওবেলিস্ক, 666, চেকার্ড ফ্লোর, এল-ডিয়াব্লো হ্যান্ড সাইন প্রায় সবই ভারতীয় চলচ্চিত্রে বহুলভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।














ইল্লুমিনাতি প্রতীকে হাত ও আঙুলের ব্যবহার




রা-ওয়ান সিনেমার পোস্টারটিতে দ্যা লেডী ইন রেড হিসেবে কারিনা কাপুরকে বেশ ভালই মানিয়েছে। অথচ এই দ্যা লেডী ইন রেড হলো ইল্লুমিনাতি প্রতীকেরই আরেকটি বহুল ব্যবহৃত অংশ বিশেষ।
রা – প্রাচীন মিশরীয় সূর্য দেবতা। যার অর্থ হলো অনিশ্চয়তা কিন্তু রা শব্দটি দিয়ে এখানে বোঝান হয়েছে সৃষ্টিশীল শক্তিকে যা ইল্লুমিনাতিতে বহুল ব্যবহৃত একটি প্রতীক। রা-ওয়ান সিনেমাটিতে একটি উল্ল্যেখযোগ্য চরিত্র হলো লুসিফার যা মূলত শয়তানকেই প্রতিনিধিত্ব করে।

ইল্লুমিনাতি কনসেপ্ট নিয়ে নির্মিত এজেন্ট ভিনোদ সিনেমাটির পোস্টারটিতে দ্যা লেডী ইন রেড হিসেবে দেখা যাচ্ছে সাইফ আলী খানের পেছনে দাঁড়িয়ে আছে লাল গাউন পরে কারিনা কাপুর।

এখানে লাভ আজ কাল সিনেমার এই পোস্টারটি থেকে যদি শুধুমাত্র O ব্যতীত অবশিষ্ট সকল বর্ণ বাদ দেয়া হয় তাহলে ব্রীজটি সহ কী প্রতীক পাওয়া যায় দেখে নেয়া যাক।

আখেত যা মিশরীয় পুরাণ অনুযায়ী সূর্য দেবতা রা’কে প্রতিনিধিত্ব করে।

পোস্টারটিতে লক্ষ্য করার বিষয়বস্তু হলো, দীপিকার সুন্দর নগ্ন পা আর কোমর বাঁকিয়ে দাঁড়িয়ে থাকার এই অপূর্ব দৃশ্যের পেছনের ব্যাকগ্রাউন্ডেই রয়েছে মসজিদ আর কিছু কোরআনের আয়াতের ক্যালিওগ্রাফি।

ইল্লুমিনাতিতে বহুল ব্যবহৃত একটি প্রতীক যার সাথে নীচের ছবিটির তুলনা করা যেতে পারে।

এবার ইন্ডিয়া বুলস কোম্পানি ক্ষ্যাত একটি বিজ্ঞাপনের দিকে নজর দেয়া যাক, যেখানে ইল্লুমিনাতির রাজত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত একটি চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। বিজ্ঞাপনটিতে দেখা যায় কী করে ইল্লুমিনাতি তার রাজত্বের বিস্তার ঘটাচ্ছে মানুষের কল্যাণের নাম করে মূলত শয়তানি শক্তির আগ্রাসন ঘটিয়ে।
তবে, আমার এই পোস্টে আমি কোন প্রকার জোড়ালো প্রমাণ সহ বলছিনা যে এইসব শিল্পীরা সবাই ইল্লুমিনাতি সংঘের সাথে জড়িত রয়েছে। আমার ধারণা সঠিক নাও হতে পারে। আমি শুধুমাত্র ইল্লুমিনাতি প্রতীকের ব্যবহারের ভিত্তিতেই এই পোস্ট সাজিয়েছি। তবে এই কথা সুনিশ্চিত ভাবেই বলা যায় যে ভারতীয় চলচ্চিত্রে ইল্লুমিনাতির আগ্রাসন রয়েছে। অতএব ভারতীয় চলচ্চিত্রের নামে আসলে আমরা কী দেখছি সেই ব্যাপারে সচেতন হওয়া প্রত্যেক বিশ্বাসীদের জন্য অত্যন্ত জরুরী।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জুলাই, ২০১৫ রাত ৩:২৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




