
মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) তাঁর বিদায় হজ্জের ভাষণে সুস্পষ্ট করে বলে গিয়েছেন, তিনি মানুষের জন্য কোরআন এবং হাদিস রেখে যাচ্ছেন এবং এই দুটিকে আঁকড়ে ধরে থাকলেই মানুষের জন্য রয়েছে মুক্তির পথ।
আমরা মুসলমানেরা সবাই আশেকে রাসূল। কিন্তু আসলেই কি তাই ? মুসলমানদের আজ এত চরম বিপর্যয়ের কারণ কি ? কেন আজ পৃথিবী জুড়ে এত অবিশ্বাস আর প্রমাণ খোঁজার তাগিদ ?
যদি গভীরভাবে চিন্তা করা যায়, তাহলে একটি কথাই বলতে হয় আমরা কেউ নবীর কথা মতো কোরআন এবং হাদিস আঁকড়ে ধরে নেই। কোরআন এবং হাদিস আঁকড়ে ধরে থাকা মানে ঘরের ভেতর দামী মখমলের কাপড় দিয়ে এই দুটি ধর্ম গ্রন্থ মুড়িয়ে রাখা নয় কিংবা দৈনিক কোরআন তেলাওয়াত করা, নামাযে সূরা পড়া আর রমজান এলেই তারাবী নামাযে কোরআন খতম দেয়া নয়। হ্যাঁ অবশ্যই কোরআন ধর্মীয় এইসব কাজের জন্যই কিন্তু কোরআন কখনই শুধুই একটি ধর্ম গ্রন্থ নয়। এঁকে বলা হয়েই থাকে পরিপূর্ণ জীবন বিধান। অতএব পৃথিবীর জন্য এবং মানুষের জন্য এই কোরআনেই রয়েছে সকল কিছুর সমাধান। কিন্তু আমরা কি মুসলমান হিসেবে সত্যিকার ভাবে সেইসব সমাধানে পৌঁছাতে পেরেছি ?
আসুন দেখা যাক সূরা আল ইসরায় বর্ণিত কিছু আয়াত সম্পর্কেঃ
আর তিনি এমন জিনিস সৃষ্টি করেন যা তোমরা জান না।
তিনিই তোমাদের কাজে নিয়োজিত করেছেন রাত্রি, দিন, সূর্য এবং চন্দ্রকে। তারকাসমূহ তাঁরই বিধানের কর্মে নিয়োজিত রয়েছে। নিশ্চয়ই এতে বোধশক্তিসম্পন্নদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে। তোমাদের জন্যে পৃথিবীতে যেসব রং-বেরঙের বস্তু ছড়িয়ে দিয়েছেন, সেগুলোতে নিদর্শন রয়েছে তাদের জন্যে যারা চিন্তা-ভাবনা করে।
তিনিই কাজে লাগিয়ে দিয়েছেন সমুদ্রকে, যাতে তা থেকে তোমরা তাজা মাংস খেতে পার এবং তা থেকে বের করতে পার পরিধেয় অলঙ্কার। তুমি তাতে জলযান সমূহকে পানি চিরে চলতে দেখবে এবং যাতে তোমরা আল্লাহর কৃপা অন্বেষণ কর এবং যাতে তার অনুগ্রহ স্বীকার কর।
এবং তিনি পৃথিবীর উপর বোঝা রেখেছেন যে, কখনো যেন তা তোমাদেরকে নিয়ে হেলে-দুলে না পড়ে এবং নদী ও পথ তৈরী করেছেন, যাতে তোমরা পথ প্রদর্শিত হও।
এবং তিনি পথ নির্ণয়ক বহু চিহ্ন সৃষ্টি করেছেন, এবং তারকা দ্বারা ও মানুষ পথের নির্দেশ পায়।
উপরের প্রতিটা আয়াতেই একটি বিষয় খুব লক্ষণীয়। মহান আল্লাহ তাআলা তাঁর সৃষ্টি থেকে জ্ঞান অর্জন এবং চিন্তা ভাবনার কথা বলছেন কিছু নিদর্শন উল্ল্যেখ করে। কোরআনের বেশিরভাগ আয়াতেই ঠিক এমনি ভাবে বলা আছে যে চিন্তাশীলদের জন্য রয়েছে জ্ঞানের খোঁড়াক। কিন্তু আমরা মুসলমানরা এই কোরআনের আয়াত নিয়ে আসলে কতটা সুগভীর চিন্তা করার প্রয়াশ পেয়েছি, কতটা বিশ্লেষণ করে বোঝার চেষ্টা করেছি ?
আমরা শুধু কিছু ঘটনার মধ্যেই আবধ্য রয়েছি কিন্তু স্বয়ং আল্লাহ তাআলা বলেছেন এইসব ঘটনার মধ্যে রয়েছে জ্ঞানীদের জন্য ভাবনার বিষয়। আমরা সূরা ফীলের ঘটনায় দেখতে পাই কি করে আবাবিল নামক পাখি দ্বারা বিরাট হাতি বাহিনী কুপোকাত হয়েছে, কিভাবে মূসা (আঃ) তাঁর দলবল নিয়ে নীল নদ অতিক্রম করেছেন এবং ফেরাউন ডুবে মরেছে, কিভাবে ইব্রাহীম (আঃ) তাঁর পুত্র ইসমাইল (আঃ) কে কোরবানি করার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। এইসবই আমরা গল্পের মতো করে পড়েই বিশ্বাস করি এবং এর থেকে শিক্ষা নেই। কিন্তু আদৌ কি এসবের গভীরে পৌঁছাতে পেরেছি কিংবা কখনও চেষ্টা করেছি ? নাকি অন্ধ ধর্ম বিশ্বাসের দোহাই দিয়ে শুধু মেনেই গিয়েছি, পাছে যদি পাপা হয়ে যায় এই ভয়ে !
অথচ স্বয়ং আল্লাহ নিজেই তাঁর গ্রন্থে বলে দিয়েছেন এইসব নিয়ে রয়েছে জ্ঞান চর্চার অবাধ সুযোগ এবং আমরা যেন এসব থেকে শিক্ষা গ্রহণ করি। শিক্ষা গ্রহণ বলতে শুধুই পড়ে মুখস্ত করে কিছু বয়ান করাকেই বোঝানো হয়নি। যেখানে কোরআনের প্রথম আয়াতেই বলা হয়েছে, পড় তোমার প্রভুর নামে। পড়তে বলা হয়েছে মানে এই নয় শুধুই পড়। এখানে অত্যন্ত গভীরের জ্ঞান অন্বেষণের কথাই বলা হয়েছে। নতুবা কোরআনকে বলা হতো না পরিপূর্ণ জীবন বিধান।
উপরে বর্ণিত সূরা আল ইসরার কিছু আয়াতে দেখা যাচ্ছে, বলা হয়েছে জল পথে নৌ যান চলার কথা, বলা হয়েছে চাঁদ, তারা আর সূর্য হলো মানুষের পথ নির্ণায়ক। এবং এইসব বোধশক্তি সম্পন্ন মানুষের জন্য জ্ঞান চর্চার উপাদান। অতএব এখানে চাঁদ, তারা আর সূর্য নিয়ে গবেষণা করতে কোন বাঁধা নেই। সেই প্রাচীন কাল থেকেই মানুষ জ্যোতিষ শাস্ত্রের চর্চা করে আসছে তবে কি এইজন্যই ? সেই মিশর পুরাণ, ইনকা সভ্যতাতেও দেখা গেছে জ্যোতিষ শাস্ত্র নিয়ে চর্চা। এইসব নক্ষত্রের উপর ভিত্তি করে পিরামিড পর্যন্ত নির্মিত হয়েছে।
আমরা যারা আশেকে রাসূল আমাদের কাছে মেরাজের ঘটনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই মেরাজের জন্য যে যানের কথা এসেছে তাঁর নাম বোরাক। বোরাক আরবী শব্দ যার অর্থ বিদ্যুৎ। প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী দেখা যায় বোরাক ছিলো গাধা কিংবা খচ্চরের মতো একটি জীব যা অতি উচ্চগতি সম্পন্ন এবং যার কান অতি চিকন, পাখা আছে এবং গায়ের রং ধবধবে সাদা।
এখানে লক্ষণীয় বিষয় হলো নবী যে বর্ণনা দিয়ে গেছেন তা মূলত বুঝিয়েছিলেন সেই বোরাক নামক যানটি দেখতে কেমন ছিলো। এর অর্থ এই নয় যে, বোরাক ছিলো খচ্চর প্রজাতির কোন প্রাণী বিশেষ। এখন পরবর্তীতে এটি রূপান্তরিত হতে হতে যদি বোরাক থেকে খচ্চরে পরিণত হয়ে যায় তাহলে সেটি নিতান্তই আমাদের অন্ধ জ্ঞানের কারণ। পারস্যের জ্ঞানীরা একসময় এই বোরাকের চিত্ররূপ দান করেছিলো মানুষের মুখের মতো। আবার আরবী থেকে ফারসীতে অনুবাদের সময় করা হয়েছিলো ভুল অনুবাদ এবং পরবর্তীতে মোঘল আমলে ভারতবর্ষে এর চিত্র অঙ্কিত হয় পাখা ওয়ালা উড়ন্ত এক ঘোড়া রূপে।
কিন্তু আমাদের মস্তিষ্কে কি একবারও এলোনা যে কেন এর নাম বোরাক অথবা বিদ্যুৎ। নতুবা এর নামতো আরবীতে হাম্মার কিংবা বাংলায় গাধার গাড়িই হতে পারতো। যদি বোরাকের বর্ণনা আধুনিক কালের কোন রকেটের সাথে তুলনা করে মেলাই দেখা যাবে তুলনা করতে গিয়ে বলছি মাথায় চিকন কান আছে, রং সাদা, আর আছে পা পর্যন্ত লম্বা পাখা। তাহলে কি বোরাক এর সাথে রকেটের কোন সাদৃশ্য পাওয়া যাবে ?
এবার আসুন নবী ইউনুস (আঃ) এর কাহিনী সম্পর্কে জানা যাক। তাকে মাছের পেটে দীর্ঘ দিন থাকতে হয়। এবং শেষে জীবিত অবস্থায় সেই মাছ তাকে ফেলে যায় সমুদ্রের তীরে। কি অদ্ভুত না ? মাছের পেটে থেকেও একজন মানুষ জীবিত থাকলেন এবং এখানেই আল্লাহর অপার মহিমা নিহীত রয়েছে। আমরা ঠিক এই বিশ্বাস নিয়েই থাকতে বিশ্বাসী যে সেটি আসলে মাছই ছিলো। নতুবা ধর্মদ্রোহী হয়ে যেতে পারি। কিন্তু একজন প্রকৃত মুসলমান হিসেবে কি কখনও ভেবে দেখেছি আসলেই সেটি মাছ ছিলো কিনা ? যেখানে আল্লাহ স্বয়ং নিজেই বলেছেন জলে চলা যানের কথা যেখানে আমাদের জন্য রয়েছে জ্ঞান চর্চার নিদর্শন। কেন আমরা ধরেই নেই যে সবই আসলে ছিলো খচ্চর, মাছ আর আবাবিল নামক পাখি। যদি বলি আল্লাহ মাছ নয় তিনি আসলে সাবমেরিন পাঠিয়েছিলেন, পাঠিয়েছিলেন রকেট, পাঠিয়েছিলেন হেলিকপ্টার তাহলে কি আল্লাহতে অবিশ্বাস করা হয়ে যাবে ? আমিতো বলবো মুসলিম হিসেবে যেহেতু বিশ্বাস করি আল্লাহ সর্বজ্ঞানী, সর্ব প্রজ্ঞাময়, সর্বশক্তিমান তাঁর পক্ষে রকেট, সাবমেরিন কিংবা হেলিকপ্টার পাঠানো কোন বিচিত্র কোন বিষয় নয়। যিনি চাঁদ, সূর্য, তারা বানাতে পারেন মানুষের পথ নির্ণায়ক হিসেবে, যিনি দোযখ এবং জান্নাত বানাতে পারেন তিনি এইসব কেন পারবেন না ? এটা আমার কাছে এক বিপন্ন বিস্ময়।
হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন, তোমরা আল্লাহ্র নবীদের মধ্যে মর্যাদার তারতম্য করোনা। তিনি যেমন মেরাজে সিদরাতুল মুনতাহায় গিয়েছেন, তেমন নবী ইউনুস (আঃ) ছিলেন মাছের পেটে।
আমরা লুত (আঃ) এর ঘটনায় বিশ্বাস করি। কি করে একটি জাতির উপর আকাশ থেকে আগুন বর্ষিত হয়, কি করে তাঁর স্ত্রী লবনের মূর্তিতে পরিণত হয়। আকাশ থেকে আগুন নিক্ষেপের যেসব বর্ণনা পাওয়া যায় তাঁর বেশিরভাগেই দেখা যায় আজকের পারমাণবিক বোমার সাথে মিল রয়েছে। এত উজ্জ্বল রশ্মির বিকিরণ শুধুমাত্র আগুন নিক্ষেপে সম্ভব নয় বরং তা পারমাণবিক বোমার মতোই ছিলো।
আমরা জানি যে পৃথিবীতে সর্বপ্রথম পারমাণবিক বোমার আঘাত হানা হয় হিরোশিমা আর নাগাসাকিতে। কিন্তু মহেঞ্জোদারোতেও পাওয়া গেছে অনুরূপ বিস্ফোরণের চিহ্ন কিংবা পেরুতেও পাওয়া গেছে একই রকম বিস্ফোরণের চিহ্ন। যেখানে দেখা গেছে প্রচুর পরিমাণে রেডিয়েশন হয়েছে যা ধূমকেতুর আঘাতে সম্ভব নয়। তাহলে এত আগে নিশ্চয় মানুষ তখন পারমাণবিক বোমা বানাতে সক্ষম হয়েছিলো। এইসবই বিস্তর গবেষণার বিষয়। এখন মানুষ ব্যাটারী চালায় কিন্তু হাজার বছর আগের সভ্যতা খুঁড়ে ইরাকে পাওয়া গেছে উন্নত মানের ব্যাটারী কোষ। সেইসব মানুষ ব্যতীত অন্য কারও আবিষ্কার ভাবার কোন অবকাশ দেখিনা।
এখন আসুন ঈসা (আঃ) এখনও জীবিত আছেন। এবং তিনি যে বয়সে আকাশে উঠে গিয়েছিলেন ঠিক সেই বয়সেই আবার পৃথিবীতে নেমে আসবেন। অনেক বর্ণনাতেই এসেছে তিনি যখন আসবেন দেখে মনে হবে সদ্য তিনি গোসল করে এসেছেন এবং তাঁর মাথার চুল হতে বিন্দু বিন্দু পানি ঝরবে। তবে কি বলা যেতে পারেনা এখানেও কোন বিশেষ প্রক্রিয়ার ব্যবহার করা হয়েছে। আর এইসব ধারণায় অবশ্যই আল্লাহ তাআলার উপর বিশ্বাসের কোন ভাটা পরার কথা নয়। বরং তিনি চাইলে সবই পারেন যা মানুষও করতে পারেনা সেই বিশ্বাসই দৃঢ় হয়। আর মানুষকে আল্লাহ দিয়েছেন শ্রেষ্ঠত্ব। বানিয়েছেন আশরাফুল মাখলুকাত করে। দিয়েছেন সকল বিষয়ে জ্ঞান। অতএব মানুষ আজকে যে রকেট, সাবমেরিন, হেলিকপ্টার বানাতে সক্ষম হয়েছে সেই সবই আল্লাহ প্রদত্ত জ্ঞানের কারণেই সম্ভব হয়েছে। কারণ আল্লাহর কাছে সকল সৃষ্টিই বিদ্যমান এবং সেইসব জ্ঞানই তিনি মানুষকে দান করেছেন।
যেমন আল্লাহ সূরা আল ইসরায় আরও বলেছেন,
নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের গোপন রহস্য আল্লাহর কাছেই রয়েছে। কিয়ামতের ব্যাপারটি তো এমন, যেমন চোখের পলক অথবা তার চাইতেও নিকটবর্তী। নিশ্চয় আল্লাহ সব কিছুর উপর শক্তিমান।
তাই অনেক রহস্য চাইলেও ভেদ করা সম্ভব নয়। শুধুমাত্র ধারণা করা যেতে পারে।
ধরুন আফ্রিকার কোন গভীর জঙ্গলে যেখানে শিক্ষার আলো, প্রযুক্তির আলো পৌঁছায়নি সেখানে গিয়ে যদি মানুষকে কম্পিউটার সম্পর্কে বলতে চান কিসের সাথে তুলনা করে বলবেন ?
যদি বলা হয় কম্পিউটার হলো একটা প্রস্তরখন্ড এখানে লেখা যায়, ছবি আঁকা যায়, তাহলে কি হবে ? আফ্রিকার মানুষ একসময় প্রস্তরখন্ডকেই বলবে কম্পিউটার।
আমরা মানুষ আমাদের নিজেদের জ্ঞান সম্পর্কেই অনিশ্চিত সেখানে আল্লাহ্র জ্ঞান সম্পর্কে কি করে জ্ঞানী হবো ?
আমরা আমাদের পূর্বের হাজার হাজার বছর আগের মানুষের প্রযুক্তির কথা ভাবতে গিয়ে মনে করি তারা ছিলো মূর্খ তারা কি করে পিরামিড, স্টোনহেঞ্জ বানাবে ? এইসব কোন ভিনগ্রহের অশরীরির কাজ। অথচ এই মানুষই কিন্তু আজকের যুগের কম্পিউটার বানিয়েছে। আমরা এলিয়েনে বিশ্বাস করি যে তারাও নাকি মানুষের চেয়ে প্রযুক্তিতে এগিয়ে। তা আজ পর্যন্ত কোন এলিয়েন কে পৃথিবীতে এসে কোন যুদ্ধ করতে দেখা গেলোনা কেন ? অথচ কেবলমাত্র মানুষই আকাশে স্যাটেলাইট পাঠাতে সক্ষম হয়েছে। আজকের যুগের মানুষ যদি ক্রেন ব্যবহার করে আইফেল টাওয়ার বানাতে পারে অবশ্যই আদি যুগের মানুষও বিশেষ কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে পিরামিড বানিয়েছিলো। যা তাদের ধ্বংসের মধ্য দিয়ে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এখন যদি আজকের বিশ্ব কোন কারণে ধ্বংস হয়ে যায় তাহলে আগামী কোন সভ্যতা কি বলবে ? আমরা কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে করেছিলাম এইটা একটা তাদের কাছে বিস্ময়। অথবা কোন ভিনগ্রহ থেকে কেউ এসে আমাদের সব কিছু করে দিয়ে গিয়েছিলো। আসলে আমরাই সভ্যতায় সবচেয়ে এগিয়ে, আর আগের যেসব সভ্যতা ছিলো সেগুলো কিছুই না এমনটা হয়ত ইচ্ছা করেই আমরা ভাবি; পাছে আমাদের অজ্ঞতা প্রকাশিত হয়ে পড়ে, আমরা হেরে যাই আমাদের পূর্ব পুরুষের জ্ঞানের কাছে।
আমরা জানি যে, আল্লাহ মানুষ ও জীন সৃষ্টি করেছেন তাঁর ইবাদতের জন্য। মুসলমান ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী এও জানি যে, আল্লাহ যখন মানুষ সৃষ্টির সিদ্ধ্যান্ত নেন তখন ফেরেশতারা উদ্বেক প্রকাশ করেছিলো মানুষ না জানি আবার জীনদের মতো মারামারি, কাটাকাটি শুরু করে দেয় ? কেন তাদের এই উদ্বেক কারণ তখন জীনদের দমাতে পৃথিবীতে ফেরেশতাদের নেমে আসতে হতো। তাহলে দেখা যাচ্ছে মানুষ সৃষ্টির বহু আগেই এই পৃথিবীতে জীন জাতির সৃষ্টি হয়েছিলো এবং কে জানে বিভিন্ন আদি সভ্যতার নিদর্শনে যেসব অদ্ভুত প্রকৃতির দেবতাদের ছবি পাওয়া গেছে তারা আবার জীন নয়তো ! বহু নিদর্শনে পাওয়া গেছে আকাশ থেকে পাখা লাগানো দেবতা পৃথিবীতে নেমে আসছে কিংবা আছে আগুন চালিত রথের বর্ণনা। দেবতারা নাকি আগুন চালিত রথে করে পৃথিবীতে আসতো যাদের দেহে পাখা থাকতো। এখন কথা হলো এরা তাহলে কোন প্রকারের বোরাক ছিলো ? নাকি ফেরেশতা জীব্রাইল (আঃ) এর দেহের বর্ণনা অনুযায়ী পাখা সম্বলিত কেউ ছিলো, নাকি স্বয়ং ফেরেশতা জীব্রাইল (আঃ) আসতেন যাকে সেই সভ্যতার মানুষেরা তাদের প্রস্তর খন্ডে এঁকে রেখেছিলেন।
এই ধারণা একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায়না। কারণ আমরা জানি আল্লাহ অসংখ্য নবী রাসূল গোত্র ভেদে পাঠিয়েছিলেন এবং তাঁর আসমানী কিতাব সংখ্যা ১০৪। কিন্তু কোরআনে কিন্তু সব নবীদের ঘটনা আসেনি কিংবা মূল ৪ টি কিতাব ছাড়া বাকি ১০০ খানা কিতাব সম্পর্কে আমাদের অজানাই রয়ে গেছে। হিন্দু ধর্মে বিশ্বাস করা হয় যমদূত মৃত্যু নিয়ে আসে, মুসলমান ধর্মে বিশ্বাস করে আজ্রাইল (আঃ) জান কবচ করে, ইনকা কিংবা মিশরীয় পুরাণে বুক অফ ডেথে উল্ল্যেখ আছে এমনই এক মৃত্যু দেবতার কথা যাকে কালো মেঘময় বাতাসের সাথে তুলনা করা হয়েছে। গ্রীক পুরাণে মানুষের মাথা ওয়ালা পাখা ওয়ালা অশ্বারোহী কল্পনা করা হয়। যে ধর্মের আলোকেই আর যে পুরাণের আলোকেই দেখা যাক না কেন বিশ্বাস প্রায় একই শুধু ধর্ম আর পুরাণ ভিন্নতায় ব্যবহৃত হয়েছে ভিন্ন নাম। কোথাও দেবতা বলা হলে, কোথাও বলা হয়েছে ঈশ্বরের দূত। নূহ (আঃ) এর যে ঘটনা তা হিন্দু পুরাণে দেবতা শিবের দশ রূপের একটি মৎস্য রুপধারী আবতারের সাথে হুবুহু মিলে যাওয়া কি শুধুই কাকতালীয় ! কিংবা মিশর পুরাণের দেবতা রায়ের পাখা কিংবা গ্রীক দেবতা হোরাডাসের পাখার সাদৃশ্য কি শুধুই কাকতালীয় !
আরব্য রজনীর আলীবাবা চল্লিশ চোরেরা কোন দেবতা ছিলো যে তারা পাহাড়ের অটোমেটিক দরজা বানিয়েছিলো ? চিচিং ফাঁক বললেই দরজা খুলে যেতো। সেই সবই কি শুধুই রুপকথার কোন গল্প ? যদি তাই হয়ে থাকে তবে আজকের মানুষ যেভাবে আধুনিক শপিং মলে অটোমেটিং গ্লাস ডোর ব্যবহার করে পা রাখলেই চিচিং ফাঁক; এটাও তাহলে রুপকথার গল্প কিংবা কোন এলিয়েনের কাজ !
বস্তুত মানুষ সবসময় সর্বযুগেই জ্ঞান বিজ্ঞানে আধুনিক এবং যার কাছ থেকে এই জ্ঞান প্রাপ্ত হয়েছে তিনি আর কেউ নন স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা যিনি সর্ব জ্ঞানের অধিকারী।
তাই সভ্যতার যে কোন কালকেই ছোট করে দেখার কোন অবকাশ নেই কিংবা মানুষের জ্ঞানকে ছোট করে দেখারও কোন কারণ নেই। মানুষ যেমন আদি কালে মমি বানাতে সক্ষম হয়েছে, এই কালে বানাচ্ছে ক্রিয়নিক্স। শুধুমাত্র সভ্যতার বিলুপ্তিতে রহস্যের জালে বাঁধা পড়ে গেছে সেইসব বিজ্ঞান, সেইসব আধুনিক আবিষ্কার। আর যেখানে মানুষের জ্ঞানকে ছোট করে দেখার কন অবকাশ নেই, সেখানে সৃষ্টিকর্তা হলেন সর্বশক্তিমান মহাপ্রজ্ঞার অধিকারী।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই নভেম্বর, ২০১৫ রাত ৩:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


