
[১]
পড়ে থাকি ঘরকুণো নির্জীব আমি এক আসবাব,
যেভাবে রাখছো সেভাবেই থাকছি;
নেই কোন হাহুতাশ,
নেই কোন স্বপ্ন বিলাস,
যদি এক মরু ধুলোতেও সাঁজে আমার যত হাবভাব,
জানি তুমি নত হয়ে আসবেই কাছে;
আমি নীরবে তাকিয়ে রব তোমার আকাশ পানে,
মেঘের 'পরে মেঘ ভাসে,
আমি সিক্ত হব,
আমি সিক্ত হই,
তোমার ভালোবাসার স্যাভলনে,
পড়ে থাকি ঘরকুণো নির্জীব আমি এক আসবাব,
যতনে-অযতনে;
কারণে-অকারণে,
জানি তবু আমারই আবেশে তুমি সুখ খুঁজে পাও।
[২]
গহীণে নিঃশব্দের অনুভূতি সুতীব্র;
অরণ্যের আধিক্যে এক অদ্ভুত মাদকতা,
সবটাই এখন কেবলই ধূসর স্মৃতিচারণা,
কংক্রিটের শহরে বেঁচে থাকা এক নির্মোহ যাতনা।
সূর্যের প্রেমে রাতখোর সময়গুলোকে পবিত্র করে,
সকালের পথে হই ক্লান্ত;
ঘামে ভেজা মানুষ আমি,
একে দুর্গন্ধ বলোনা,
এ আমার বেঁচে থাকার পরম আনন্দ।
রাজপথে যে মেয়েটি বেলী আর গোলাপ ফেরী করে ফেরে;
ফুটপাথে বেওয়ারিশ জীবনের সংঘাতে,
তার কাছে পরাজয় মেনে নেয়াই শ্রেয়।
[৩]
খেয়ে দেখি গোপালভোগ আম টক লাগে,
টক আমেই চরম মাদকতা পেলাম,
কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি;
পাইনি টের,
দিগন্ত জুড়ে বিস্তৃত সূর্যের কাতানে জীবন যখন হাঁসফাঁস,
জেগে দেখি গরুতে খেয়ে গেছে আমার মাঠের সবটুকু ঘাস।
বুড়ো তেঁতুল গাছের ছায়ায় বসে কান্নার শব্দ শুনি,
দেখি এক জীন কন্যা,
দাঁড়িয়ে আছে স্বৈরাচারী চোখ পেতে;
শার্টের আড়ালে বিবস্ত্র সম্ভ্রম ঘামে ভিজে একাকার,
এখন কফির সময় নয়;
প্রয়োজন এক গ্লাস হিম শীতল ম্যাঙ্গো জুস !
লেট নাইট ডীযেদের কণ্ঠে শোনা জীবনের যত উচ্ছ্বাস,
সীসার টানে টানে ধোঁয়ার কুন্ডলীতে ব্যালে নাচ নাচিয়ে,
মীর জাফর সময়ের অবৈধতায় করেছিলো আমাকে;
লোকাল বাসের যাত্রীদের মতো,
আমিও এক টাকার ভাঁড়া নিয়ে তুমুল তর্ক শেষে ফিরেছি এই দুপূরে,
বড় বেশি ক্লান্ত আমি,
এখন তোমার আছরে পাগল হওয়ার মত মানসিকতা আমার নেই।
শেষকালে কোন ওঝায় আমি আরোগ্য হব ?
গেরুয়া-সাদা-সবুজ রঙে রাঙানো;
ওই চোখের পাতায় ছায়ামনির দুর্গম চাহনি হতে,
আমাকে নিস্তার দাও,
এখনও বিস্তর ক্ষেত চাষা রয়ে গেছে বাকী।
[৪]
বরং তুমি জন্ম নাও সোনালী ধান হয়ে,
মানুষের আহারে মহীয়সী জীবন নিয়ে।
এক মুঠো ভাতের অন্বেষণে প্রতিদিন কত ঘাম ঝরে,
কত মানুষ বীনা আহারে নিদ্রা যায়;
যে শিশুটি ফুটপাথের সংসারে বেড়ে উঠে,
তার কাছে ভাতের চেয়ে সুখকর আর কিছু নয়।
খরঞ্চলের মানুষগুলোর কথা একবার ভেবে দেখ,
এক বিন্দু পানির তৃষ্ণায় জীবন তাদের কতটা মরীচিকাময় !
বরং তুমি কৃষাণের চোখে সুদিনের স্বপ্ন হও;
যান্ত্রিক জীবনের পেছনে যে শ্রম পূঁজি রয়,
তাকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকাতেই জয়।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই নভেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১২:০৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



