somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বয়স্ক মানেই মুরব্বী নয়; মুরব্বী হয় জ্ঞানে, সৎকর্মে, বিনয়ে এবং নিরপেক্ষতায়

১৭ ই অক্টোবর, ২০১৫ রাত ৩:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাদের সমাজে এবং পুরো বিশ্বে একটি ধারণা প্রচলিত আছে যে যিনি যত বয়স্ক তিনি তত মুরব্বী! যেমন বাপ-চাচা-দাদারা মুরব্বী, পীর ছাহেব মুরব্বী, মোল্লা-পুরোহিত-যাজক-ভান্তেরা মুরব্বী ইত্যাদি। আমি মোটেই একমত হতে পারছি না। দয়া করে মুরব্বীরা ক্ষেপে যাবেন না। ’গাঁয়ে মানে না আপনি মোড়ল’ মতবাদেও আমি বিশ্বাসী নই। আসুন মহান আল্লাহর পবিত্র কোরআন থেকে জানতে চেষ্টা করি মুরব্বী আসলে কারা।
”এবং যখন তাদেরকে বলা হয় আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তা তোমরা অনুসরণ কর, পক্ষান্তরে তারা বলে আমরা অনুসরণ করব যা আমরা পেয়েছি আমাদের বাপ-দাদাদের (তথা মুরব্বী বা পিতৃপুরুষ) উপর। এমন কি তাদের বাপ-দাদারা যদিও কিছুই বুঝতো না এবং তারা সঠিক পথে ছিলো না (তথাপিও?)” (সূরা বাক্বারা, আয়াত ১৭০)।
অধিকাংশ তফসীরকারক আয়াতটির ব্যাখ্যায় টেনে এনেছেন মহানবী (সা.) এর যুগের ইহুদী-নাসারাদের নবীকে না মানার কাহিনী। আর তা হচ্ছে আয়াতটির শানে-নযুল। শুধু শানে-নযুল পড়ে কস্মিনকালেও কোরআন বুঝা যাবে না। আর কোরআন কোন কাল বা সময়ের ঘেরাটোপে আবদ্ধ নয়। এটি একটি সর্বজনীন এবং সর্বকালের গ্রন্থ, কেউ মানুক আর না মানুক। বাপ-দাদারা কি এ যুগে নেই? ইসলাম অনুসারীর ঘরে জন্মগ্রহণ করেছেন, তাই আপনি ইসলামিক, একইভাবে আছে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান আরো আছে শিয়া, সুন্নি, ওয়াহাবি, খারেজী, কাদিয়ানি, শিখ, তালেবান, আইএসআইএস ইত্যাদি। ইসলামের মুরব্বীরা বলে তাদের ধর্মই শ্রেষ্ঠ, একইভাবে বলে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানরা। অন্যদিকে সুন্নিরা (ইসলামের একটি সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়) বলে তারাই আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের মধ্যে আছে বাকিরা বরবাদ, একইভাবে বলে শিয়া, ওয়াহাবি, খারেজী, কাদিয়ানিরাও। আপনি যাবেন কোথায়? যখন প্রমাণের কথা বলা হয় তখন আপনি এদের কাউকে পাবেন না। পাবেন না মোল্লাকে, পাবেন না পুরোহিতকে, পাবেন না যাজককে, পাবেন না ভান্তেকে। এরা সবাই আনুষ্ঠানিক ধর্ম তথা আচার-প্রথায় বিশ্বাসী। অথচ মহান আল্লাহ আনুষ্ঠানিক ধর্ম তথা আচার-প্রথায় মোটেই বিশ্বাসী নন। নইলে তিনি বাপ-দাদাদের ধর্মকেই মানতে বলতেন। তাই তো তিনি বলেন, ”সেদিন (শেষবিচার দিবসে) যে (ব্যক্তি) আল্লাহর কাছে একটি বিশুদ্ধ অন্তর নিয়ে উপস্থিত হবে (সে-ই রক্ষা পাবে)” (সূরা শুআরা, আয়াত ৮৯)। বলা হয়নি যে লক্ষ-কোটি রাকাত নামায কিংবা অনেক রোযা কিংবা হজ্ব বা যাকাত নিয়ে উপস্থিত হবে সে-ই রক্ষা পাবে। অন্তরকে বিশুদ্ধ করতে হলে বাপ-দাদাদের ধর্মকে বিসর্জন দেয়া ছাড়া কোন গত্যন্তর নেই। আবু লাহাবও ছিলেন মহানবী (সা.) এর চাচা এবং হযরত হামযা (রা.)ও ছিলেন নবীর চাচা। আবু লাহাব নামটি ইতিহাসে অত্যন্ত ঘৃণিত একটি নাম যদিও নবীর চাচা। নবী বংশের হলেও তাকে ’সৈয়দ’ পর্যন্ত বলা যাচ্ছে না। অথচ এখন সৈয়দের ছড়াছড়ি! একটু গভীরে গেলে দেখা যাবে এখানে আবু লাহাবদের সংখ্যাই বেশি। সত্য হচ্ছে মহানবী (সা.) এর নূরের বংশধরটিই আসল বংশধর। আবু লাহাব নবী (সা.) কে নবী হিসেবে না দেখে দেখেছিলেন ভাতিজা হিসেবে। চাচা মুরব্বী হয়ে কীভাবে ভাতিজার কাছে বায়াত হয়! বুদ্ধিমান ছিলেন হযরত হামযা (রা.)। যিনি নিজেকে চিন্তা করেছেন একজন পথহারা পথিক। তাই পথের সন্ধান পাওয়ার আশায় গিয়েছিলেন একজন পথ প্রদর্শক তথা নবী (সা.) এর কাছে, ভাতিজার কাছে নয়। তিনিও কিন্তু ছিলেন মুরব্বী। আল্লাহর আওলিয়া বা বন্ধুরা যে কোন বয়সের হতে পারেন। তাঁরা যে শুধু থুত্থুরে বুড়ো হবেন কিংবা বয়স্ক হবেন কিংবা দাদা-চাচাদের বয়সী হবেন এমন কোন কথা নেই। যিনি আল্লাহর আওলিয়া হবেন তাঁর মধ্যে জ্ঞান তো থাকবেই, আরো থাকবে সৎকর্ম, থাকবে বিনয়, থাকবে নিরপেক্ষতা এবং থাকবে সত্য। এবং তিনিই মুরব্বী।
অনেকে ক্রোধের বশে বলে ফেলে, আমার পূর্ব পুরুষ খুব রাগী স্বভাবের ছিলো তাই আমিও রাগী! এখানেই আপনার ব্যর্থতা। পূর্ব পুরুষ ল্যাংটা হাঁটতো কিংবা গাছের ছাল পরতো বলে আপনিও কি এখনো সেরকম থাকবেন? পূর্ব পুরুষের রক্তে ছিলো লুচ্চামি-বদমাইশি তাই বলে আপনিও কি লুচ্চামি-বদমাইশি করবেন? পূর্ব পুরুষ রোবটের মতো নামায পড়েছেন, রোযা রেখে উপবাস করেছেন, অবৈধ টাকায় হজ্ব-যাকাত করে পাছায় তবলা বাজিয়েছেন বলে আপনিও কি তাই করবেন?
কোরআনে আল্লাহ ইসলাম ধর্মকে সবার জন্য মনোনীত করেছেন বলেছেন কিন্তু কোথাও বলেননি তাঁর অর্থাৎ আল্লাহর ধর্ম কোনটি। বুঝতে হবে ’ইসলাম’ কোন বাপ-দাদাদের ধর্ম নয়, এটি আল্লাহর মনোনীত ধর্ম। কীভাবে? পরিপূর্ণরূপে ঢুকেন (সূরা বাক্বারা, আয়াত ২০৮) তবেই বুঝবেন। নইলে তালগোল পাকিয়ে ফেলবেন আর দশটা ধর্মের সাথে। ঘি-মাখন কিন্তু দুধের ভেতরেই থাকে, ইসলামের ভেতরেও আল্লাহ আছেন। তাই ইসলাম মানতে হবে কিন্তু রঙিন হতে হবে মহান আল্লাহর ধর্মে। ”আল্লাহর রঙ (ধর্ম) এবং কে আল্লাহর চাইতে রঙে উত্তম” (সূরা বাক্বারা, আয়াত ১৩৮)। আরো দেখুন, কোরআনে আল্লাহ নামায কায়েম করতে বলেছেন, ব্যস একদল জোরে-শোরে লেগে গেল নামায কায়েম করতে। প্রচার করতে লাগল সবচেয়ে বড় ইবাদত নাকি নামায! অথচ হিসেব করে দেখা গেল সবচেয়ে সহজ এবং ছোট ইবাদত হচ্ছে নামায। কোরআনে আল্লাহ নামায কায়েম করতে বললেও কোথাও বলেননি তিনি নিজে নামায পড়েন। বলেছেন, ”তিনি নবীর উপর দরূদ পড়েন” (সূরা আহযাব, আয়াত ৫৬)। নবীর উপর দরূদ পড়া বাহ্যিকভাবে খুব সহজ মনে হলেও অনেকের কাছে খুবই কঠিন! যাদের কাছে কঠিন তারা ইসলামের অনুসারী বটে কিন্তু নবী বিদ্বেষী। তারা ’আল্লাহুমা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিও ...’ ছাড়া আর কোন দরূদ শরীফ খুঁজে পান না। তাদের কাছে প্রশ্ন, আল্লাহ তবে কোন দরূদটি তাঁর নবীর উপর পড়েন? এবার বুঝে নিন কোন ইবাদতটি বড়।
এবার একটি হাদীস বলে শেষ করছি- ”যে ব্যক্তি আমাদের ছোটদের স্নেহ করে না ও বড়দের মর্যাদা বুঝে না, সে আমাদের দলভুক্ত নয়” (তিরমিযি শরীফ, ৪র্থ খণ্ড, হাদীস নং ১৯২০)। সুতরাং মুরব্বীদের ধর্ম মানা না গেলেও তাঁদের কিন্তু অশ্রদ্ধা করা যাবে না। তাঁরা যদি বিধর্মীও হয় তবুও ”তাঁদের শ্রদ্ধা করে যেতে হবে দুনিয়ার এ জীবনে” (সূরা লোকমান, আয়াত ১৫)।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই অক্টোবর, ২০১৫ রাত ৩:৪৩
৭টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এগারটি বছর পার হয়ে গেল…. কিছু পরিসংখ্যান নিয়ে একাদশতম বর্ষপূর্তি পোস্ট

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৪১



পূর্বের বর্ষপূর্তি পোস্টের লিঙ্কঃ দশম বর্ষপূর্তি পোস্ট

সামহোয়্যরইনব্লগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখ রাত ১১টা ২৬ মিনিটে প্রকাশিত হয় আমার প্রথম কবিতা, বক্ষমাঝে থাকবে তুমি। বলা যায় খুব দ্রুতই, মাত্র তৃতীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ক্যায়া হুয়া ? হুক্কা হুয়া; হুক্কা হুক্কা হুক্কা হুয়া

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২৫


২৪ বছর ধরে ঢাবিতে অনার্স পড়ছে; তা-ও নাকি ভাষা শিক্ষা বিভাগে উর্দূ নিয়ে !!! আজতক তার পড়া শেষ হয় নাই !!! এ ভার্সিটিতে নাম লিখালে পন্ডিত মশাই'রা কি কোনও... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুঃখ খচিত পতাকা আমার

লিখেছেন এম ডি মুসা, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্র প্রাঙ্গণে
আজ হঠাৎ কার ছায়া নামে?
কার দুঃসাহসী কালো হাত
ইতিহাসের বুকের ওপর আঁকে পরাধীনতার নাম?

যে নাম একদিন ভাষার কণ্ঠ রুদ্ধ করতে চেয়েছিল,
যে শাসন একাত্তরে ছড়িয়েছিল মৃত্যুর অন্ধকার
আজ কেন তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ হতো হায়দ্রাবাদ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৫

।।হায়দারাবাদের নিজাম।।


১৯৪৭ সাল ভারতবর্ষের মুসলমানরা যখন নির্যাতনের শিকার অনেকগুলো গণহত্যা হয়েছিল দাঙ্গা হয়েছিল। ১৯৪৬ সালে বা তারও আগে এই মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ রাজনীতি শুরু করেছিল কংগ্রেসের রাজনীতি দিয়ে তিনি কংগ্রেসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডাক্তার আসিবার পূর্বে রোগীটি মারা গেলো

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩



বাংলাদেশে ডাক্তারদের অবহেলায় কি পরিমাণ প্রাণ অকালে ঝরে গিয়েছে তা কল্পনাতীত। এবং আমাদের দেশের ডাক্তার এই অপরাধে নূন্যতম অনুশোচনা বোধ করে না।

ডাক্তারদের অবহেলার কারণে দেশের পাঠ্য বই ইংরেজি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×