গ্রামের বাড়ি থেকে আমার এক আত্মীয় আমাকে মুঠোআলাপনীতে জানাল যে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও বাড়িতে সামাজিক ভাবে খাজা বাবা (রহমতুল্লাহি আলাইহি)-এর ওরশ পালিত হবে (এবং আমি যেন সহযোগিতা করি)। খুব ভাল। খাজা বাবা (রহমতুল্লাহি আলাইহি)-এর মত মহান বুযুর্গ এবং ওলি আল্লাহর ওরশ পালিত হবে এতে আমার কোন আপত্তি নেই। কিন্তু আমার প্রশ্ন কেন খাজা বাবার ওরশ পালন করতে হবে? উনি কি কবরে ঠেকে গেছেন যে ওরশ পালন করে ওনার জন্য ছোওয়াব পৌঁছাতে হবে! ওনার কবরে কি প্রচন্ড আজাব হচ্ছে যে ওরশ পালন করে সেটা বন্ধ করার ব্যবস্থা করতে হবে! অথবা অন্য কোন কারণ?
ইতিহাস সাক্ষী যেদিন খাজা বাবা (রহমতুল্লাহি আলাইহি) ইন্তিকাল করেন সেদিন ওনার ললাট মোবারকে আরবী হরফে একটি বাক্য পরিস্ফুট হয়েছিল যার বাংলা হচ্ছে ”আল্লাহর বন্ধু আল্লাহর প্রেমে ইন্তেকাল করেছেন”। এ রকম একটি মহান সনদ যাঁর আছে তাঁর জন্য ওরশের কোন প্রয়োজন আছে? কেউ যদি তাঁর মাজারে না যায় এতেও খাজা বাবার কিছু যায় আসবে না। বরঞ্চ ওনার মত ওলি আল্লাহকে আমাদেরই প্রয়োজন।
কেন প্রয়োজন? বছর বছর ওরশের নামে চাঁদাবাজি করার জন্য? ওরশের নামে কাওয়ালী গেয়ে নারী-পুরুষের নাচানাচির জন্য? ওরশের নামে প্রতিবছর পিকনিকের মত ভুরিভোজের জন্য? ছি! আপনাদের লজ্জা করে না? খাজা বাবা (রহমতুল্লাহি আলাইহি) কি এসবের জন্য এসেছিলেন? কঠোর সাধনা আর শ্রমে তিনি আমাদের জন্য ইহলৌকিক আর পরলৌকিক মুক্তি কামনায় একটি ত্বরীকার উদ্ভব করেছিলেন যা ’চিশতীয়া ত্বরীকা’ নামে পরিচিত। যারা ওরশের জন্য পাগলপারা তাদের ’চিশতীয়া ত্বরীকা’ কী প্রশ্ন করলে দেখবেন আকাশ থেকে পড়বে। ’চিশতীয়া ত্বরীকা’র সাধনা আর রেয়াজত করা দূরে থাক এরা অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় নামাযের ধারে-কাছেও নেই অথচ ওরশের জন্য দেওয়ানা! ধিক! এসব ভন্ডদের। ধিক! এদের ভন্ডামির প্রতি। মহান আল্লাহর কাছে এদের হেদায়েত কামনা করছি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


