somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি দায়িত্ব বিষয়ক রম্য রচনা

২৬ শে মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


দায়িত্ব যে কত বড় একটি জিনিস এবার আমি তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি। খুলে বলি। ঢাকায় থাকার সুবাদে গত তিনটি কোরবানির ঈদ এখানেই করতে হয়েছে। এবং প্রতিবারই আমাকে দায়িত্ব নিতে হয়েছে। গরু কেনা হতে শুরু করে কসাই ঠিক করা, গরুকে নিরাপদ আশ্রয়ে রাখা, খাওয়ানো ইত্যাদি সব দায়িত্ব আমি একাই বহন করেছি। গতবছরের অভিজ্ঞতাটা বলি।

গরু কেনার আগের দিন থেকেই আমার টেনশন বেড়ে যায়। ঠিকমতো গরু কিনতে পারবো কিনা, দামে মিলবে কিনা, গরু কিনে সহিসালামতে বাসায় আসতে পারবো কিনা ইত্যাদি টেনশন। এটি বাসার সবাই টের পায়। চুন থেকে পান খসলেই (নাকি পান থেকে চুন খসলে) আমি রিয়েক্ট করা শুরু করি।

গরু কিনতে হাটে যেতে হবে। তেজগাঁওয়ে হাট বসেছে। ছেলে বড়টাকে নিয়ে গিয়েছি। একেতো বৃষ্টি দ্বিতীয়ত হাটের ময়লা আবর্জনা, গরুর মলমূত্র ইত্যাদি একাকার হয়ে গিয়েছে। নাক চেপে দাঁত চেপে আমি হাঁটছি আর গরু দেখছি। ভাবছি, বেপারীরা, যারা এখানে ভোর থেকে গরু বিক্রির জন্য দাঁড়িয়ে আছে, তাদের কতই না কষ্ট। আমি তো গরু নিয়ে চলে যাব কিন্তু তারা তো বিক্রি না হওয়া পর্যন্ত থেকে যাবে। হঠাৎ দেখি বড়সড় একটা গরু দড়ি ছিঁড়ে ছুটে আসছে যেন তার প্রিয়তমাকে কেউ বগলদাবা করে নিয়ে যাচ্ছে! গরুর পিছনে বেপারীও দড়ি ধরে আছে কিন্তু কোনভাবেই সামলানো যাচ্ছে না। রাস্তাঘাট পুরো পিচ্ছিল। আমি যদি দ্রুত সরতে যাই তবে কনফার্ম পা পিছলে পড়ে যাব। ছেলে বিপদ আঁচ করতে পেরে আগেভাগেই নিরাপদ স্থানে সরে গেছে। বেখেয়াল থাকাতে আমি পড়ে গেছি বিপদে। না পারছি সরতে না পারছি দাঁড়াতে। শেষমেষ গরুর সাথে সংঘর্ষ, তার পেটের ধাক্কায় আমি গিয়ে পড়ি ভাবীর বয়সী এক মহিলার উপর! মহিলা আমাকে ধরে ফেলাতে আমি এ যাত্রায় বেঁচে গেছি। উনাকে ধন্যবাদ দিয়েছি আন্টি সম্বোধন করে! বিরাট বিপদ থেকে বাঁচার উত্তেজনায় আপু আর আন্টি গুলিয়ে ফেলেছি! গ্রামের হাটে গরু কিনতে মহিলারা সাধারণত আসে না। ঢাকা একটা আধুনিক শহর। এখানে স্বপ্ন সুপারশপ হতে শুরু করে গরুর হাটেও মহিলাদের আনাগোনা থাকে! ভালো। ঢাকায় নারীরা বেশ এগিয়ে যাচ্ছে।
রাস্তা দিয়ে গরু আনতে আনতে যতবারই লোকে জিজ্ঞেস করেছে ভাই কত, উত্তরে বলেছি বিক্রির জন্য!

এরপর আছে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত গরুর লালন পালন। খড় হতে শুরু করে ভূসি, লবন পানি ইত্যাদি খাওয়ানো। তবে এসবে আমার চেয়ে ছেলেদের আগ্রহ অনেক বেশি। টেনশনে তারা রাতে ঘুমোতেও পারে না যদি গরু কেউ নিয়ে যায়! গরু থাকে জামাই আদরে।

এরপর আসি কসাইয়ের বিষয়ে। আমরা ঠিক করেছিলাম সুপার কসাই। ঘণ্টার মধ্যে আস্ত গরু কেটে কুটে আপনাকে বানিয়ে দেবে। যেমন সার্ভিস তেমন চার্জ, হাজারে দুইশত টাকা। ঈদের দিন ভোরবেলা প্রথম জামাতে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছি। দেখি কসাইয়ের ফোন,
- ছার, আমরা আইতাছি
- আইতাছি মানে! এখনো তো ঈদের নামাজও পড়িনি
- তিনডা ফালাই দিছি, আমরা আইতে আইতে আপনার নামাজ অই যাইবো।

তারা আগের দিন এসে গরু দেখে গেছে। নামাজ পড়ে আসতে দেরী, দেখি কসাইরা গরু ফেলে ছুরি ধরে বসে আছে! আমি অনুমতি দিলেই ....

আমি আর নিতে পারি না। বাসায় এসে নীরবে কান্না করি। হ্যাঁ, গরুদেরও বয়স বাড়ে, তারাও একদিন মারা যায়। কিন্তু....

এবছর দায়িত্বটা অন্যের কাঁধে ছেড়ে দিয়েছি। আহ, কি শান্তি!

হৃদয় আমার নাচেরে আজিকে .... চিল চিল।

তবে আমার এই চিল মুড আমার স্ত্রীর সহ্য হচ্ছে না। আচ্ছা, নারীরা কি চায় যে পুরুষরা সব সময় টেনশনে থাকুক?

আপনাদের কাছে এই টেনশনযুক্ত প্রশ্নটি রেখে আজকের মত বিদায় নিলাম।

সাজনা
বছর ঘুরে আবার এলো
মাহে কুরবানি
নিজেদের ষোলকলা ঠিক রেখে
অবলাদের নিয়ে টানাটানি!

বিঃদ্রঃ ছবিটি এআই দিয়ে বানানো। সুতরাং লুঙ্গি পরা লোকটি আরমান আরজু এটা ভাবার কোন কারণ নেই, ঠিকাসে?
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৬
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যেতে যেতে

লিখেছেন সামিয়া, ২৫ শে মে, ২০২৬ দুপুর ২:২৭




তুমি বারবার ফিরে আসো, আবার বারবার চলে যাও, একদিন আমিও চলে যাব কিন্তু আমি আর ফিরে আসবো না।

আমি প্রতিবারই নিজেকে বুঝাই, এবার আর কিছু অনুভব করবো না। কিন্তু তোমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই ২০২৬ সালে এসেও দেশে জেলখানা রাখার আদৌ কোন প্রয়োজন আছে?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২৫ শে মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৯

দেশে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার প্রায় ৪ মাস হতে চলছে, এর আগে দীর্ঘ ১৭ বছরের আওয়ামী ফ্যাসিবাদি শাসন ব্যবস্থার পতন ঘটিয়ে আন্তর্জাতিক খ্যতিসম্পন্ন্য নোবেল বীজয়ী ড: ইউনুস শতভাগ জনসমর্থন নিয়ে সরকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৪-এর যোদ্ধাদের কি হবে?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৫ শে মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৯

২০২৪ সালের আন্দোলনকে অনেকেই সাধারণ মানুষের ন্যায্য দাবি ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখেছিল। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এমন অভিযোগও উঠছে যে, কিছু স্বার্থান্বেষী ও ক্ষমতালোভী গোষ্ঠী নিজেদের জেদ, প্রভাব ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

রেমিটেন্স যোদ্ধাদের ৭.৫% ট্যাক্স কেটে নিবার সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে ।?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৬ শে মে, ২০২৬ রাত ৩:১২

রেমিটেন্স যোদ্ধাদের ৭.৫% ট্যাক্স কেটে নিবার সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে !?



এই তথ্যটি সঠিক হলে আগামী দিনে সরকার রেমিটেন্স হারাবে ।
যেখানে প্রনোদনা দিয়ে রেমিটেন্স আনা হতো, সেখানে এই অদ্ভূদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেরিন ড্রাইভের রক্তাক্ত পিচ

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৬ শে মে, ২০২৬ সকাল ১০:২৩



সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। গল্পের সমস্ত চরিত্র, নাম, স্থান এবং ঘটনা লেখকের কল্পনাপ্রসূত। বাস্তব কোনো জীবিত বা মৃত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×