অফিসের বস এক দিন তার রুমে ডেকে বললেন
- আপনার কি পাসপোর্ট করা আছে?
- জি না।
- পাসপোর্ট করে রাখুন, কাজে লাগবে।
তাই পাসপোর্ট করতে গেলাম। ইন্টারনেট থেকে ফরম ডাউনলোড করে পূরণ করলাম। কাগজপত্র সহ জমা দিলাম। এস.বি. অফিস থেকে বাসায় পুলিশ আসলো। আমি অফিসে ছিলাম তাই এস.বি. অফিসে যেতে হলো। জনৈক এস.আই. দেলোয়ারের সাথে দেখা করতে হবে আমাকে। খুঁজে বের করলাম দেলোয়ার সাহেবকে। ঘুষ চাওয়ার ভাষা ব্যবহারের বৈচিত্র দেখে আমি সত্যিই অভিভূত।
- আপনি যে বাসায় থাকেন সেটা কার বাসা ?
- আমার মামার বাসা।
- আমি আপনার বাসায় গেলাম আর আপনার মামী আমাকে বসতেও বলল না।
কিছুটা অভিযোগের সুরে বললেন, মনে হচ্ছে তিনি আমার শশুড় বাড়ির লোক। আমার মামী তার বিয়ান হয় তাকে বসতে বলেনি বলে তিনি অভিমান করেছেন। আর কোন দিন আমার মামার বাসায় যাবেন না।
এটা আমার জীবনের দ্্বিতীয় ঘুষ দেয়া। আরেকবার দিয়েছিলাম ঢাকা কলেজের সোলেমান মামাকে। ঢাকা কলেজে বাংলায় অনার্সে ভর্তি হয়েছিলাম পরবর্তিতে টিচার্স ট্রেনিং কলেজে চানস হওয়াতে সেখানে চলে গেলাম। ঢাকা কলেজ থেকে আমার সার্টিফিকেটগুলো তোলার জন্য সোলেমান মামাকে 10 টাকা চা খেতে দিয়েছিলাম। এবার পাসপোর্টের জন্য দিলাম 200 টাকা। মোট 210 টাকা। জানিনা জীবনে আরো কত ঘুষ দিতে হবে।
পাঠকবৃন্দ, আমি কি ঘুষ দেয়ার যে হিসেবের খাতা খুলেছি তা বন্ধ করে দেব ? খাতায় লিখে কুলোতে পারবতো?
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


