
মালি ডুয়াংডির এ অস্বাভাবিক দৈহিক বৃদ্ধি ছোটবেলা থেকেই। এ ব্যাপার লক্ষ্য করে তার বাবা-মা তাকে নিয়ে যান ডাক্তারের কাছে। ডাক্তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বের করলেন মালির ব্রেইন টিউমার। এ টিউমার স্নায়ুতে চাপ প্রয়োগ করে। ফলে তার গ্রোথ হরমোনে ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয়। আর এ কারণেই সে অস্বাভাবিক হারে বাড়তে থাকে। ডাক্তার অবশ্য বর্ধন নিয়ন্ত্রণের উপায় বলে দিয়েছেন। কিন্তু সে উপায় খুবই ব্যয়বহুল। প্রতি তিন মাস পরপর একটি ইনজেকশন পুশ করতে হবে। বাংলাদেশি টাকায় যার দাম ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা। এতো ব্যয়বহুল ইনজেকশন প্রতি তিনমাস পরপর দেয়া তার পরিবারের পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠেনি। যার ফলে ঠেকানো যায়নি তার এ অস্বাভাবিক বৃদ্ধি।
দেহের এ অস্বাভাবিক বৃদ্ধিই মালি ডুয়াংডির মন খারাপের কারণ। তার ওপর তার দৃষ্টিশক্তি নেই। ব্রেইন টিউমারের কারণে তা নষ্ট হয়ে গেছে।
অতিরিক্ত লম্বা হওয়ায় স্কুল জীবনে তার কোনো বন্ধু তো জোটেইনি উল্টো তাকে সহ্য করতে হয়েছে সহপাঠীদের নানারকম জ্বালাতন। এ নিয়ে মালি ডুয়াংডির কষ্টের কোনো শেষ নেই। অবশেষে স্কুল ছাড়ার কারণে তার এ কষ্ট কিছুটা কমে।
মালি ডুয়াংডি জানায়, স্কুলে তার সমবয়সীরা তাকে নোংরা মালি বলে ডাকতো। অপমান করতো। অনেক কষ্টের সঙ্গে মালি জানায়, তারা যে কেন এসব করতো আমি আজও ভেবে পাই না।
খেলার সাথী না থাকায় চরম হতাশায় দিন কাটাতে হয়েছে তাকে। খেলতে গেলে সবাই না করতো। তার জীবনটা একরকম নিঃসঙ্গই বলা চলে।
মালি ডুয়াংডি অন্য সবার থেকে আলাদা এমনই মনে করে সে। তার কখনো কোনো ছেলে বন্ধু হয়নি তা নিয়েও তার অপরিসীম কষ্ট। সে জানায়, আমার কখনোই কোনো ছেলে বন্ধু ছিল না। আর কখনো হবে কি না সে আশাও করি না। আমি মনে করি আমার মতো মেয়ের বিয়েও সম্ভব নয়।
বর্তমানে মালি ঘরেই থাকে। মাকে রান্নায় সাহায্য করে। আর মাঝে মাঝে খালার বাড়ি থেকে ঘুরে এসে মনকে হালকা করে।
তবে শতকষ্টের মাঝেও এ জীবনের সাথেই মানিয়ে নিয়েছে মালি ডুয়াংডি। হয়তো তার বাবা-মার অনেক কষ্ট হবে। তবু বাঁচতে তো হবে।
২০০৯ সালে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে বিশ্বের লম্বা হিসেবে মালি ডুয়াংডির নাম লেখা হয়। সে ব্রাজিলের ৬ ফুট ৯ ইঞ্চি লম্বা এলিসিনা সিলভাকে টপকে গিনেস বুকে স্থান পায়।
খবরের লিঙ্ক:

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



