কবীরের দোঁহা-
ভারতীয় উপমহাদেশে অসংখ্য ধর্ম ও সম্প্রদায় বাস । যুগের পর বাস করলেও তাদের মধ্যে যেমন সম্প্রদায়গত হানাহানি আছে তেমনি একটি মানবতাবাদী ও সমন্বয়ধর্মী ধারা বহমান ছিল । তারই ইতিহাস নানাভাবে তুলে ধরেছেন ঐতিহাসিক সদ্য প্রয়াত সালাউদ্দিন আহমেদ তার নানা নিবন্ধে ।
সেই কালে বিদ্যমান ধর্মান্ধতা ও জাতিভেদপ্রথার কঠোরতার বিরুদ্ধে, ইসলামের আগমনের পর মধ্যযুগে তাদের পরোক্ষ প্রভাবে যে এক ভক্তিবাদী আন্দোলন গড়ে ওঠে ,কবীর ছিলেন তাদেরই একজন । তিনি ছিলেন একজন মুসলমান,আসল নাম শেখ কবীর উদ্দীন মোমিন আনসারী । ইতিহাসে ‘ভক্ত কবীর’ নামে খ্যাত। তিনি ছিলেন নিরক্ষর, পেশায় তাতি। তিনি ভারতের ভক্তিবাদের সাথে সুফী অতীন্দ্রিয়বাদের সঙ্গে মিলন ঘটিয়ে নিজস্ব এক গোষ্টি গঠন করেছিলেন । বহু হিন্দু এবং মুসলমান তার শিষ্যত্ব গ্রহন করে। তিনি কোন প্রতিষ্ঠানিক ধর্মে বিশ্বাসী ছিলেন না । তার মতে- ঈশ্বর এক,তাকে আমরা রাম বা রহিম যে নামেই ডাকি না কেন ।
হিন্দি ভাষায় অসংখ্য দোহা বা গান রচনা করেছেন যা আজও জনপ্রিয়তা হারায়নি ।
তারই কিছু দোঁহা আমি বাংলায় পদ্যে অনুবাদ করার চেষ্টা করেছি । এগুলি সালাউদ্দিন আহমেদের ‘বাঙালির সাধনা ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ’ এবং ক্ষিতিমোহন সেনের ‘ভারতে হিন্দু মুসলমানে যুক্ত সাধনা’ থেকে নেয়া । হিন্দি থেকে গদ্যে অনুবাদ করেন আচার্য ক্ষিতিমোহন সেন ।
না দেখি কিছু ভাব-ভজনে না দেখি কিছু পূঁথি তে’
কহে কবীর, শুন হে ভাই, যা আছে -সব রুটি তে ।
কোথায় আমায় খোঁজ হে বান্দা
আমি তো তোমারই পাশে,
নাই দেবালয়ে, কিবা মসজিদে
নই আমি কৈলাশে ।।
উপরে তো আর রহেনা পানি
নীচেই পায় সে ঠাঁই,
আমি তো আছি সবার নীচে
তাই সত্যকে পাই ।।
ছাগল গরুর ভয়ে রে ভাই
বাগানে দিলাম বেড়া,
এখন তারে বেড়াই যে খায়
কেমনে দিব পাহাড়া ?
দু’জনের কারও পথসন্ধান নাই,
হিন্দুর দেখি হিন্দুয়ানী,
তুর্কীর তুর্কাই ।।
মসজিদে যদি থাকেন খোদা
বাকী জগৎটা কার ?
মূর্তিতে যদি রামের আবাস,
তবে বাহিরে কি আছে তার ? ।।
হিন্দুর দয়া,তুর্কির মায়া
দুজনেই তারা ,যেন ঘরছাড়া ।।
ওরে নিরেট চাঁড়াল
আর অপরাধীদের দল,
দয়া বিনে এই দেহ অশুদ্ধ,
সেই সাধনার পথে চল।।
না আমি হিন্দু ,নই তো মুসলমান
ষঢ়দর্শণও নয় -আসল তো ভগবান [ রহমান ]
হিন্দু তুমি বল আমায়
আমি তো সে নই,
মুসলমানও নইকো আমি
তবে কোথায় রই ?
পাঁচ তরিকার পথ যে আমার,
আছেন রহমান- [ভগবান]
নিগূঢ় এক প্রেমিক আমার,
সেটাই আমার স্থান ।।
জগৎ কেন পাগল
সাধু ,দেখ এই জগতে তোমার
সবাই কেমন পাগল পানা,
সত্য বললে মারে ধরে ধরে
মিথ্যে কথায় নেই মানা।
মুসলমানে রহিম বলে
হিন্দু পড়ে রামনামা,
দু’জন মরে লড়াই করে
মর্ম কথা নেই জানা ।
কতই দেখি ধর্মপালন
প্রতি প্রাতেই অস্নানা*,
আত্মা ছেড়ে পূজে পাষাণ
পবিত্র জ্ঞানে দিনকানা।
পিতল পাথর পূজেন কেহ
তীর্থে যেতে ভোলেন না,
মালা গলে, টুপী মাথায়
ছাপ তিলকে দিওয়ানা।
সাকির গানে ভুলায় সবই
পরমাত্মা নেই জ্ঞানে,
ঘরে ঘরে মন্ত্র বিলায়
মিথ্যা মায়ার অভিমানে।
দেখেছি অনেক পীর আওলিয়া
পড়ে কোরান কিতাব খানা,
মুরীদ করে , কবর দেখায়
খোদার কথা নাই জানা ।
তুর্কি*র দয়া , হিন্দুর মায়া
নাই তো রে আজ কারও দিলে,
বলি দেয় , কেউ জবাই করে
দুই ঘরেতেই আগুন জ্বলে ।
সবাই করে উপহাস মোরে
ভাবেন তারা বুদ্ধিমান,
কবীর বলে, কও হে সাধু
পাগল তবে সে কোন্ জন ?
.......................
*muslim
আলোচিত ব্লগ
ঝর্ণা জল

আমি ব্যস্তবতা দেখি
পানকৌড়ির সাঁতার-
কল্পনায় শুধু স্বপ্ন আঁকি,
মধ্যবিকাল ঢেউ তোলা সাগর
হতাশা ডিঙিয়ে যায়- নিরিবিলি
রাত দুপুরের বাসর।
উড়ে ধোয়া, নিঃশ্বাসে সাদা বক,
খেলা করে যে, প্রণয়ের চক-
নীল মেঘ ভীর জমায়, বর্ষা কাঁদাময়,
ভোরের ক্লান্তি দেখে... ...বাকিটুকু পড়ুন
নিশীথের মুঠোয় - কেয়া ।

আমি সূর্যোদয়ের অপেক্ষায়,
হিমশীতল সকালের ভেতর নত চোখে চেয়ে আছি।
হিমার্ত জানালায় জমে ওঠে নিঃশ্বাসের মেঘ—
আঙুল বুলিয়ে মুছে দিই;,
যদিও জানি, আজ সেখানে তোমার পদচিহ্ন নেই।
শরতের বৃক্ষেরা পত্রমোচনের ভাষা জানে;
আমি কেবল তোমার... ...বাকিটুকু পড়ুন
জিম করা কি হারাম?

জিম করা কি হারাম?
হ্যাঁ, জিম করা হারাম!
যদি জিমে গিয়ে নিজের পেশিবহুল বাহুডোরে কোনো ললনাকে জড়িয়ে ধরেন!
কিন্তু তারপরেও কথা থাকে।
এখানে জড়িয়ে ধরাটা হারাম। জিম করাটা নয়!
অর্থাৎ, জিমে গিয়ে শরীর... ...বাকিটুকু পড়ুন
মার্কো রুবিও ভারতে কী করছেন?

আওয়ামী দোসর নবনীতা আপার মতে, মার্কো রুবিও ভারতে গেছেন শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ব্যবস্থা করতে। ডিসেম্বর মাসে যাতে শেখ হাসিনা ট্রাভেল পাস নিয়ে দেশে ফিরতে পারেন, সেই আলোচনা করতেই নাকি... ...বাকিটুকু পড়ুন
সুন্দর সর্বনাশ

সবকিছুই পাওয়া যায় এখন বিপণনের কল্যাণে,
বিপনি বিতানে বিতানে;
চাইলে কিনে নিতে পারো লালনীলহলুদ মনও!
মন চাইলে পোষ মানাতে পারো বনের অবাধ্য পশুও;
শুধু পোষ মানাতে যেও না মানুষ;... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।