somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রথম ভালবাসা

৩০ শে এপ্রিল, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কলেজে আসার সময় দেখলাম মেয়েটাকে । এখন ক্লাসে । বুঝলাম, আমাদের সাথেই পড়ে । আজই প্রথম দেখলাম । নতুন এসছে হয়তো । বেশ মায়াবী ওর মুখটা । প্রথম দেখায় যে কেউ প্রেমে পড়বে । আমিও পড়লাম । তাই ঠিক করেই নিলাম, যেভাবেই হোক কথা বলব ওর সাথে । শেষ ক্লাসের ঘন্টা পড়ার সাথে সাথেই সবাই বাড়ীর পথে পা বাড়াল । এত ছেলে মেয়ের ভিড়ে, কিভাবে বলব, কি বলব ভাবতে ভাবতে কখন যে বেড়িয়ে গেল.. বুঝতেই পারিনি । অপলক দৃষ্টিতে শুধু চেয়ে ছিলাম ওর চোখের দিকে । ঢুলুঢুলু চোখে শুধু একবার দেখেছিল আমায় । বলা হল না । জানা হল না তার পরিচয় । মন খারাপ করে চলে গেলাম । বাসায় গিয়ে, গোসল করেই ঘুমিয়ে পড়লাম । স্বপ্নে একটা মেয়েকে দেখলাম । মুখটা আবছা আবছা । ঠিক চেনা যাচ্ছেনা । তবুও আমি জানি, সে কে...

আজ বৃহঃস্পতিবার ।
কলেজ আসলাম । “অর্ধেক ক্লাস হবে” এটা ভেবেই মনটা খারাপ হয়ে গেল । যে আমি কলেজে না আসার কারণে বাবার ঠ্যাংগানি খেয়েছি বহুবার । আর সেই আমি কিনা এখন প্রতিদিন কলেজে !!! নিজেরই কেমন জানি অবিশ্বাস হচ্ছে । অনেক বদলেছি । সারাদিন আয়নার সামনে ঘুরঘুর করি । পরিপাটি হয়ে থাকি সবসময় । কবিতা লিখতে ভাললাগে । একটা মেয়ে কি করে এত বদলে দিল আমায় ! যতবাই ভাবি, ততবারই অবাক হই ।
এখন বুঝতে পারি, “ভালবাসার জন্য অনন্তকাল দরকার নেই, একটা মুহুর্তই যথেষ্ট” । বানীটা হুমায়ুন স্যারের । প্রিয় লেখক আমার । কে জানে, মেয়েটারও হয়ত প্রিয় । আবার নাও হতে পারে । সবার মন তো আর এক রকম না... ।।

“মেয়েটা কে রে ?”
ক্লাস চলাকালে জানতে চাইলাম বন্ধূর কাছে । সেও ঠিকঠাক ভাবে বলতে পারলোনা কিছু । শুধু বলল, “নতুন এসেছে”
মাথা গরম হয়ে গেল ।
আমার একটা প্রবলেম আছে । মাথা গরম হলে হুশ থাকে না । তাই একটু চেঁচিয়েই বললাম, “আরে, ব্যাটা নতুন আসছে.. তা তো জানি । মাইয়ার নামটা তো ক” বলা শেষে বুঝলাম, ক্লাস চলছে । সাথে সাথে চুপ মেরে মাথা নিচু করলাম কেউ দেখার আগেই । কিন্তু কোন লাভ হল না । স্যারের ডাকে সাড়া দিয়ে গেলাম স্যারের কাছে । মাহবুব স্যার । আমাদের কলেজের সবচে ভয়ানক । পাগলাটে চেহারা । একবার এক ছাত্র পড়া পারেনি বলে একটা ভাঙ্গা ব্রেঞ্চের পা দিয়ে পিটিয়েছিল । আরেকবার তো ডাস্টার ঢিল মেরে মাথাই ফাটিয়ে দিয়েছিল । তার এ বিদঘুটে স্বভাবের কারণে তাকে অনেক উপাধিতে ভুষিত করা হয়েছে । কেউ ডাকে “মাহবুব পাগলা” বলে । কেউ “বিষু” । কেউবা, “ডাকু” বলে । কলেজের স্যারেরাও তাকে এসব বলে । তবে, আড়ালে । সামনে বলেনা কেউ ।

“কই আসিস না ক্যান, নবাবজাদা?”
বুকে সাহস নিয়ে দাঁড়ালাম । একটু ভয় ভয় করছিল । তবুও সেটা আড়াল করে এগিয়ে গেলাম বীর পুরষের মত । মনে মনে ভাবলাম, কি আর করবে ? মারবে কয়েকটা । সয়ে নেব । কোন চিন্তা নাই । কত মাইর সহ্য করলাম মায়ের পেট থেকে বের হবার পর !! এ আর এমন কি ?!! যাবার সাথে সাথেই মাহবুব পাগলা বলল, “কান ধরে স্টেজে দাড়িয়ে থাক”

এটা শাস্তি ?! নিজেরই হাসি পাচ্ছে !! একটা ক্লোজআপ হাসি দিয়ে স্টেজে দাঁড়ালাম । কিন্তু আজ খুব লজ্ঝা করছে আমার । কেন ? সেই মেয়েটা দেখছে, আর মিটিমিটি হাসছে । এ কোন শাস্তি দিল স্যার আমায় !? এর চেয়ে ৫০ টা বেতের বারি দিলেও কষ্ট কম হত । তখন হয়তো শরীরে লাগত । কিন্তু এখন লাগছে, বুকে । বুকের ভিতরে ।
লজ্জায় মাথা তুলে তাকাতে পারছিনা । ক্লাস শেষ হবার এখনও বহু দেরী । তাই মাথা নিচু করেই স্যারের কাছে গিয়ে বললাম, “ আর এমন ভুল হবেনা স্যার” । তারপর আচমকা হাতে বেত নিয়ে মারা শুরু করলেন আমাকে । আমি শূধু চোখ বন্ধ করে আছি । মারা শেষ ! তবুও চুপ করে দাড়িয়ে থাকতে দেখে স্যার দাঁত খিচিয়ে বললেন, “যা এবার, নাকি আরও খেতে মন চাইছে?” । কিছু না বলে চলে এলাম নিজের জায়গায় । খুব ব্যাথা করছে এখন । তখন আচমকা মার খাওয়ায় টের পাইনি । চোখ বন্ধ করে মেয়েটার কথা মনে করার চেষ্টা করছি । ব্যাথা অনেকটা কমে গেছে ।
“রক্ত!!!! ” বন্ধুর চিল্লানিতে চোখ খুললাম । আশেপাশের সবাই তাকিয়ে আছে । হাতের দিকে তাকিয়ে দেখি সাদা শার্টটায় রক্ত লেগে আছে । দেখেই হাসি দিলাম একটা । তারপর মেয়েটার দিকে তাকালাম । দেখি সেও আমায় দেখছে । অবাক হয়েছে সে । দৃষ্টিতে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে ।
একপলক চেয়ে থেকে আবার মাথা নামিয়ে নিলাম । মাথাটা ধরেছে । জ্বর আসবে হয়ত । ঘুমিয়ে পড়েছিলাম কখন যেন । স্যার দেখেও কিছু বলেনি । বন্ধুরা সামলিয়ে নিয়েছে স্যারকে ।

ছুটির ঘন্টা পড়ল ।
সবাই চলে যাচ্ছে । আমি বারান্দায় এসে দাড়ালাম । দেহে যেন প্রাণ ফিরে পেলাম । বদ্ধ ঘরে দম বন্ধ হয়ে আসছিল । বারান্দার গ্রিলটা দু’হাতে ধরে দাড়িয়ে আছি ।

কেউ একজন বলল “আমি তন্দ্রা”
দেখি সেই মেয়েটা । কি বলব ভাবছিলাম...
আবার বলল ও, “হাতে খুব ব্যাথা পেয়েছেন । তাইনা ?”
“আরে না । একদম ঠিক আছি ।”
“বন্ধু হবেন?” বলেই মিষ্টি একটা হাসি দিল মেয়েটা ।
আর তার একটা হাসিতেই আমার হৃদয়টা যেন ফালাফালা হয়ে গেল । মেয়েদের সবচে বড় অস্ত্র হল, চোখের জল আর হাসি । এ দুটো দিয়ে এরা সব করতে পারে । জীবন দিতে পারে । জীবন নিতেও পারে ।

আমিও একটা হাড় কাপানো হাসি দিয়ে বললাম, “অবশ্যই ।”
“ধন্যবাদ”
হঠাত ধন্যবাদ শুনে চমকে উঠলাম ।
“কিসের জন্য?”
“জানিনা তো. হি হি হি হি..”
আবার বুকটা ফালাফালা হয়ে গেল ।

তারপর আর থেমে থাকতে হয়নি । সেই থেকে আমরা অনেক ভাল বন্ধু । সময়ের সাথে কেছে এসেছি আরও ।

‘’’’’’’’’’’

আজ তন্দ্রার জন্মদিন ।
এতদিনেও এক প্রোপজ করা হয়ে ওঠেনি । আজকেই প্রোপজ করব । হয় এসপার নয়তো ওসপার । যা হবার হবে । অবশ্য ট্রাই যে করিনি, তা বলা যাবেনা । বুকে সাহস নিয়ে যখনই ওর সামনে গিয়েছি, তখনই ফুসসসসস.... হাওয়া বেরিয়ে যেত । মনের কথাটা বলা হয়নি কখনও । তাই আজ নতুন ট্রিক্স কাজে লাগাব । সব কথা কাগজে লিখে দিব । ট্রিক্সটা দিয়েছে পাড়ার বড় ভাই, আমাদের সবার প্রিয়; ডালিম ভাই । প্রেম বিষয়ে সবাই তার কাছেই টিপস নিতে যায় । যদিও সে কোনদিন প্রেম করেনি । তবুও তার বুদ্ধিতে চললে নাকি রিলেশন মাস্ট হবেই । তাই ভরসা করেই কাগজে লিখে ফেললাম ।

“তন্দ্রা আমায় তোমার BF বানাবে?”

এটুকু লিখতেই কত পৃষ্ঠা যে নষ্ট করেছি !! জানা নেই....

,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,

কেক কাটা শেষ । উইশ করলাম । বিনিময়ে পেলাম “ধন্যবাদ” । কিন্তু তারপরেও মন ভরল না । কেমন যেন অস্বস্থি লাগছে । ঘরে আমার দম বন্ধ হয়ে আসে । ছাদে আসলাম । প্রাণ ভরে নিঃশ্বাস নেব বলে । নাহ্ সেটা হচ্ছে কোথায় ? মাথাটা বনবন করে ঘুরছে আমার । একটুও স্বস্থি পাচ্ছিনা । ফোন করলাম ওকে । জরুরী কথা আছে বলে ডেকে নিলাম ছাদে ।
দাড়িয়ে আছি রেলিং ধরে ।
“বলেন স্যার, কি জরুরী কথা ?”
ঘুরে দেখলাম ও এসছে । আকাশী কালারের একটা শাড়ী পড়েছে । নীল বললে ভুল হবে । তারপর নজর দিলাম ওর চোখের দিকে । আজ জোছনা । আকাশের চাঁদটাকে দেখতে পাচ্ছি ওর চোখে । মনে হচ্ছে ওর চোখ থেকেই জোছনা ঝরছে । জোছনার আলোতে জ্বলজ্বল করছে ওর চোখ দুটো । সেই আলোতে জ্বলে যাচ্ছে আমার চোখদুটোও । আর তাকাতে না পেরে বললাম,
“তন্দ্রা”
“হ্যা বলো..”
“কিছুনা” বলেই একটা কাগজ ধরিয়ে দিলাম হাতে ।

তারপর দেখি ও প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে চেয়ে আছে । চোখে চোখেই ওর প্রশ্নটা বুঝতে পেরে বললাম, “পড়ে দেখো”
আমি চোখ বন্ধ করলাম ।
তারপর শুনলাম ও বলছে, “এটা সম্ভব না”
জানতে চাইলাম কারণটা ।
ও আমার সহ্য ক্ষমতা জানতে চাইলে বললাম, “অসীম”
“আমি বিবাহিত । আমার হাজবেন্ড ইউএসএ তে থাকে । ইন্টার পরীক্ষা শেষেই নিয়ে যাবে আমাকে । ” বলে মাথা নিচু করে নিল ও ।

আর কিছু না বলে, হো হো করে হেসে দিলাম । বললাম, “আরে পাগল BF মানে Best Friend .. Boy Friend না । খুব ভয় পাইয়ে দিয়েছি, তাইনা ?”
ওর মুখেও হাসি ফুটে উঠল ।
ও কিছু বলার আগেই বললাম, “আজ যাই । খুব জরুরী একটা কাজ আছে”

বলেই বেরিয়ে পড়লাম । হাটছি । রাস্তা ধরে । দিনের আলো কমে গিয়ে রাত নেমেছে । চোখজোড়া ভিজে যাচ্ছে । হয়ত, আমার চোখেও জোছনা দেখা যাচ্ছে । কিন্তু এ জোছনা কাউকে দেখাতে নেই । লুকিয়ে রাখতে হয় হাসির আড়ালে ।
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

দেখা হবে যুদ্ধ ফুরোলে সন্ধের মাহফিলে;
দেখা হবে ঠিক চেনা রাস্তার অচেনা-অন্ত্যমিলে।
ছড়াব আবার শস্যের দানা দেশ থেকে মহাদেশে
মানুষই জেতে, খুঁজে নেয় আলো অন্ধকারের শেষে...

তোমার গল্পে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×