somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফিরে আসা

০৬ ই মে, ২০১৪ দুপুর ১২:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আচমকা একটা দুলুনিতে ঘুমটা ভেংগে গেল পূর্ণের । বিছানায় বসে হাপাতে হাপাতে চারপাশটা ভাল করে দেখে নিল একবার । ঘড়িতে সময় রাত ০২ টা কি তার একটু বেশি । টিক টিক করে ঘড়িটা নিজের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে বারবার । সবকিছু কেমন যেন অদ্ভুত লাগছে ওর কাছে ! থমথমে আবহাওয়া । ভ্যাপসা গরম ।

জনালার কপাট টা বিকট শব্দে বাড়ি খেল হঠাত । তারপর আবার সবকিছু শান্ত । এবার মনে হচ্ছে কে যেন ওকে ডাকছে, ফিসফিসিয়ে । বলছে, “পূর্ণ, এসো.. এসো পূর্ণ.. এসো” । ভয়ে সারা শরীর ঠান্ডা হয়ে আসছে পূর্ণের । সাইড টেবিল থেকে পিরিচ টা সরিয়ে গ্লাসের সবটুকু পানি এক নিশ্বাসে শেষ করে শুয়ে পড়ল ও । ঘুম আসছেনা । কি যেন একটা অজানা ভয় চেপে বসেছে মনে । সবকিছু য়েন গ্রাস করে নিচ্ছে ।

গ্রীষ্মকাল চলছে । গরম পড়েছে একটু । একটু বললে ভুল হবে । এবার রেকর্ডেড গরম পড়েছে । এর মাঝেই কাথা গায়ে জড়িয়ে নিল পূর্ণ । সকালের অপেক্ষা করতে করতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়ল ! এক ঘুমে রাত পার ।

পরদিন সকালে না খেয়েই কলেজে চলে গেল পূর্ণ । মা খেতে বললে কোন কথা না বলেই দ্রুত পা চালিয়ে বের হয়ে গেল ।
পিছু ডেকেও কোন লাভ হলনা । মেয়ের অদ্ভুত আচরণ বিচলিত করে দিচ্ছে মিসেস রওশনকে । ঠিকমত না খাওয়া, চুপচাপ থাকা । এসব কিছুই চোখ এড়ায়নি মায়ের চোখে । খিটমিটে স্বভাবের হয়ে যাচ্ছে পূর্ণ । ঠিক করলেন, পূর্ণের বাবাকে জানাবেন সবকিছু । এভাবে আর চলছেনা ।

“পূর্ণটা যেন কেমন হয়ে যাচ্ছে !” মিসেস রওশনের চোখে আতংকের ছাপ স্পষ্ট ।
“হ্যাঁ, আমিও ব্যাপারটা লক্ষ্য করেছি । কারণটা কি ধরতে পারলে কিছু ?” পূর্ণের বাবা অফিসের কাগজ ঘাটাঘাটি ছেড়ে স্ত্রীর দিকে ঘুরে বসলেন । তাকেও বেশ চিন্তিত মনে হচ্ছে ।
“আমিও কিছু বুঝতে পারছিনা । কি যে হল মেয়েটার ! ওর কলেজ থেকে স্যার ফোন দিয়েছিল”
“কিছু বললেন ?”
“বললেন, পূর্ণ ইদানিং পড়াশুনায় খুব অমনযোগী হয়ে পড়েছে । আরও বললেন ওকে ভাল কোন ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে ।”
“হুম”
চোখের চষমাটা হাতে নিয়ে গ্লাসটা মুছতে মুছতে চুপ হয়ে গেলেন পূর্ণের বাবা জসিম সাহেব ।
স্বামীকে চুপ থাকতে দেখে আবার বলতে লাগলেন মিসেস রওশন,
“পূর্ণের বান্ধবীদের কাছে জানতে চাইলাম । কিন্তু ওরা কেউ তেমন কিছু বলল না । এড়িয়ে গেল ব্যাপারটা । হয়ত ওরা কিছু জানে । কিন্তু বলতে চাইছেনা ।”
“আর কিছুদিন দেখো । তারপর ঠিক না হলে, ভাল কোন ডাক্তার দেখিয়ে আনতে হবে ওকে”
বলেই চশমা চোখে লাগিয়ে কিসব কাগজ নিয়ে ঘাটতে লাগলেন পূর্ণের বাবা । মিসেস রওশন ও উঠে রান্নাঘরে গেলেন ।

# # #

ক্লাস চলছে ।
ফিজিক্স ক্লাস নিচ্ছেন আশরাফ স্যার । ভরবেগ নিয়ে কথা বলছেন ।
ক্লাসের একেবারে শেষ ব্রেঞ্চে পূর্ণকে মাথা নিচু করে বসে থাকতে দেখে স্যার পূর্ণকে দাঁড়াতে বললেন ।
“পূর্ণ, এত অমনযোগী কেন তুমি ? আগে তো এমন ছিলে না । আর ফিজিক্স তো তোমার ফেবারিট সাবজেক্ট । আর উইকলি এক্সামে এটাতেই তুমি ফেইল করেছ !”
“জি” বলেই বসে পড়ল পূর্ণ ।
সবাই বেশ অবাক হল পর্ণের এরূপ আচরণে । স্যার বেশ কষ্ট পেলেও কিছু বললেন না ।
এরপর থেকে ওর কাছের বন্ধুরাও ওকে ইগনোর করে । কাছে ঘেষে না কেউ । পূর্ণেরও এ নিয়ে কোন মাথাব্যাথা নেই । কি যেন একটা অদ্ভুত ভয় কাজ করে প্রতিনিয়ত ওর মনে ।

কলেজ শেষে বাড়ি ফেরার সময় মনে হল কে যেন পিছু ডাকল । পিছু ফিরে কাউকে না দেখে আবার হাটতে লাগল পূর্ণ । এবার মনে হচ্ছে কানের কাছে কে যেন বলছে, “পূর্ণ, এসো.. এসো পূর্ণ.. এসো” । ভর দুপুরেও ভয় করতে লাগল ওর । এক দৌড়ে বাসায় পৌছালো । বুয়া দরজা খুলতেই ব্যাগ সোফায় ছুড়ে দিল ।

ড্রইং রুম গোছাতে গোছাতে মিসেস রওশন মেয়েকে ফ্রেশ হয়ে খেতে বললেন । কিন্তু পিছু ফিরে দেখলেন মেয়ে নেই । দরজা বন্ধ করে দিয়ে দিয়েছে ।

# # #

রাতের খাবার শেষে শুতে চলে গেল পূর্ণ । আজ লাইট টা বন্ধ না করেই শুয়ে পড়ল । তবুও ভয়টা বাড়ছে আস্তে আস্তে ।
চোখ বন্ধ করতেই আবার সেই ডাক ।

“পূর্ণ, এসো.. এসো পূর্ণ.. এসো”

# # #

পরদিন সকালে মিসেস রওশনের চিতকার শুনতে পেয়ে প্রতীবেশীরা ছুটে আসে ।
সবাই দেখে, ফ্যানের সাথে পূর্ণের মৃতদেহ ঝুলছে । সুইসাইড !!!!
মিসেস রওশন বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন । একমাত্র মেয়ের মৃত্যুটা সহ্য করতে পারছেন না কিছুতেই ।

কয়েক সপ্তাহ পর ।
কিছুটা স্বভাবিক হয়েছে পূর্ণের পরিবার । কিন্তু মেয়ের মৃত্যুর কারণটা জানা হয়নি জসিম সাহেব কিংবা মিসেস রওশন এর কারও ।

পূর্ণের সবচে কাছের বন্ধু মৌমির কাছে ব্যাপারটা জানতে চান মিসেস রওশন । প্রথমে বলতে না চাইলেও চাপে পড়েই সব বলে দেয় মৌমি ।
“আন্টি, পূর্ণের সাথে আবির নামের একটা ছেলের সম্পর্ক ছিল । ওদের ২ বছরের সম্পর্ক । কোন কারণ ছাড়াই পূর্ণ ব্রেক আপ করে দেয় রিলেশান টা । এর কিছুদিন পরেই সউসাইড করে আবির । এর পর থেকেই পূর্ণ সব সময় কেমন যেন হয়ে থাকত । কারও সাথে কথা বলত না । আমাকে একদিন বলেছিল আবির নাকি ওকে ডাকছে । কানের কাছে ফিসফিসিয়ে ডাকে । আর বলে,

“পূর্ণ, এসো.. এসো পূর্ণ.. এসো”

ফেসবুকে আমি
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

দেখা হবে যুদ্ধ ফুরোলে সন্ধের মাহফিলে;
দেখা হবে ঠিক চেনা রাস্তার অচেনা-অন্ত্যমিলে।
ছড়াব আবার শস্যের দানা দেশ থেকে মহাদেশে
মানুষই জেতে, খুঁজে নেয় আলো অন্ধকারের শেষে...

তোমার গল্পে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×