somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ক্ষতিগ্রস্ত সেই মসজিদ ও তার মুসল্লিরা

১৭ ই জুলাই, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গাড়ি চলছিল ফেনী হয়ে চট্টগ্রামের পথে। হঠাৎ রাস্তার পাশে একটি দৃষ্টিনন্দন মসজিদ দেখে চোখটা আটকে গেল। মসজিদ মুসল্লিতে পূর্ণ, আসরের নামাজ চলছে। আমি গাড়ি থামিয়ে একটু দাঁড়ালাম। কী অপূর্ব, সুরম্য অট্টালিকা। কী বাহারী কারুকাজ। আয়নার মতো ঝকঝকে মেঝে। বিকেলের আলোয় সাদা পদ্মফুলের মতো মসজিদটি ফুটে আছে। তারপর আমার চোখ পড়ল মসজিদের বাইরে। দেখলাম কয়েকজন দীন ভিখারী মাটিতে বসে আছে। তাদের গায়ে নোঙরা শতচ্ছিন্ন পোশাক, হাতে ফুটো পাত্র, মুখমণ্ডলে অসহায়ত্ব, ক্ষুধা আর দয়াভিক্ষার চিহ্ন প্রকট হয়েছে। একটি শিশুও আছে, আজন্ম দুঃখ-কষ্ট যার শৈশবের লালিত্য লুপ্ত করে দিয়েছে। তাকে দেখে কারো মায়া হবে না, নিজের সন্তানের কথা মনে পড়বে না। মসজিদের বাইরের করুণ মুখগুলো আমার ভেতরে যেন এক ঝড় তুলে দিল। তখনো মুসল্লিরা প্রসন্নমুখে আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় নামাজ পড়ছেন। তাদের দেখে আমার মনে হলো, এদের প্রত্যেকের নামাজ মূল্যহীন করে দিয়েছে মসজিদের বাইরে ধূলার মধ্যে বসে থাকা দারিদ্র্যের কষাঘাতে দীর্ণ-জীর্ণ এই মানুষগুলো, বাবা আদমের (আ.) এই সন্তানগুলো।
হায় মসজিদ! তুমি ততদিন আল্লাহর ঘর ছিলে যতদিন আল্লাহর সৃষ্টি মানুষের সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায়, নিপীড়িত মানুষের সমস্যার সমাধানে তোমার ভূমিকা ছিল। কিন্তু সেই ভূমিকা ত্যাগ করার কারণে তুমি আজ আর আল্লাহর ঘর নও। আল্লাহতো মসজিদের বাইরে ধূলার পরে বসে আছেন ভিক্ষাপাত্র নিয়ে। তুমি তো আল্লাহর গজবের বস্তু এখন।
হায় মুসল্লিরা! তোমরা আল্লাহকে পাওয়ার জন্য যেখানে গেছ সেখানে নেই তিনি। যতদিন এই অনাহারী কঙ্কালসার মানুষগুলোর মতো একটি মানুষও সমাজে বাস করবে আর তোমরা তাদের কষ্ট দূর করার জন্য সংগ্রাম করবে না, ততদিন তোমাদের কোনো নামাজ হবে না। তোমরা নামাজের দ্বারা আল্লাহকে উপহাস করছ। এ নামাজ আল্লাহর গজবের কারণ হবে। কেননা আল্লাহই বলেছেন, ধ্বংস হোক সেই মুসল্লিরা, যারা লোকদেখানোর জন্য নামাজ পড়ে।
হায় আলেমসমাজ! আপনারা নিজেদের হীন স্বার্থে আর কতকাল আল্লাহ-রসুলের নামে ভণ্ডামি করে যাবেন? আর কতকাল ধর্মকে জোব্বার পকেটে পুরে ধর্মব্যবসা চালিয়ে যাবেন? আপনারা কবে মানুষের সামনে এই সত্য তুলে ধরবেন যে, আল্লাহর রসুল এমন সুরম্য প্রাসাদোপম মসজিদ নির্মাণের জন্য আসেন নি, তিনি এসেছেন দুঃখক্লিষ্ট মানুষের চোখের পানি মুছিয়ে দিয়ে তাদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য, আশ্রয়হীনকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য, অন্নহীনকে অন্ন, বস্ত্রহীনকে বস্ত্র দেওয়ার জন্য। প্রথম যুগের খলিফারা খেজুর পাতার ছাউনি দেয়া মাটির মসজিদে বসে অর্ধ-দুনিয়া শাসন করেছেন। তখন মান, ইজ্জত ও গৌরবে এই জাতি ছিল সর্বশ্রেষ্ঠ। তাদের এমন মসজিদ প্রয়োজন হয় নি। নামাজ পড়তে এমন মসজিদ লাগে না, আল্লাহর জমিন পবিত্র। আপনারা কবে স্বার্থচিন্তা বাদ দিয়ে মানুষের জন্য চিন্তা করবেন?
গাড়ি চলতে লাগল আর আমার মনের মধ্যে রসুলাল্লাহর সেই কথাগুলো ঘুরপাক খেতে লাগল, “এমন সময় আসবে যখন ইসলাম শুধু নাম থাকবে, কোর’আন শুধু অক্ষর থাকবে, মসজিদসমূহ জাঁকজমকপূর্ণ ও লোকে লোকারণ্য হবে কিন্তু সেখানে হেদায়াহ থাকবে না, আমার উম্মাহর আলেম সমাজ হবে আসমানের নিচে সর্বনিকৃষ্ট প্রাণী। তাদের সৃষ্ট ফেতনা তাদের দিকেই প্রত্যাবর্তন করবে”।
আল্লাহর শোকর, তিনি আমার জীবনকে মানুষের কল্যাণে উৎসর্গ করার তওফিক দিয়েছেন।
(মসজিদের ছবিটি প্রতীকী)
https://www.facebook.com/asun.system.takei.paltai?fref=photo
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জুলাই, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:০২
৬টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিয়োগের রূপকথা

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৩



মা বরাবরই পাতে ভাত কম নিতো , বলতো- ভাতে না-কি  বাত বাড়ে।
বিশেষ বিশেষ দিনে বাড়ি পোষা মোরগের ঝোল কিংবা রুই মাছের তরকারীর সবটুকু  আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দৃষ্টিকটু পোশাক ও দৃষ্টিকটু আচরণ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪



আপডেট - হাফপেন্ট আন্দোলন: ৩০/০৯/২০২৬
হাফপেন্ট পরে মেট্রো ট্রেন ও বাসে চলাচল বাংলাদেশের একটি নাগরিক চাহিদা হতে পারে। যেহেতু সমস্যা মেট্রোতে হয়েছে, আমি ধারণা করেছি বাংলাদেশে ফেসবুকে “হাফপেন্ট আন্দোলন” হওয়ার সম্ভবনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

কঠিনতম সব চ্যালেঞ্জের মুখে বিএনপির ভবিষ্যৎ কি অন্ধকার??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১০



বিএনপির সামনে অনেক কঠিন সব চ্যালেঞ্জ...

তাদের মোকাবেলা করতে হচ্ছে দ্বিমুখী বিরোধী-দলীয় রাজনীতি বা কর্মকাণ্ড (যেটা কিনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে আগে কখনো দেখা যায়নি)।

জামাত-এনসিপি যতই লীগের ফিরে আসার বিরুদ্ধে বিএনপির... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার নানা মরহুম শাহাবুদদীন মাহমুদ জায়গীরদার

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:২৫



আমার আম্মার সেঝ চাচা’র লেখা ‘My life is not mine’ বইটি পড়ছি। বইটিতে ‘মাইজম ভাই’ নামের একটি অধ্যায় আছে। এতে সেঝ নানা আমার নানার বিভিন্ন সত্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যু পেরিয়ে আবার ব্লগে------

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০৬




প্রায় ০৩ মাস হয়ে গেলো ব্লগে আসনা হয় না, আসা হয়না মানে লিখা হয়না। প্রিয়জনের মৃত্যু শোক কাটিয়ে ব্লগে উকি দেওয়া হয় কিন্তু পোস্ট দেওয়া হয় না।


গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×