
হায় মসজিদ! তুমি ততদিন আল্লাহর ঘর ছিলে যতদিন আল্লাহর সৃষ্টি মানুষের সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায়, নিপীড়িত মানুষের সমস্যার সমাধানে তোমার ভূমিকা ছিল। কিন্তু সেই ভূমিকা ত্যাগ করার কারণে তুমি আজ আর আল্লাহর ঘর নও। আল্লাহতো মসজিদের বাইরে ধূলার পরে বসে আছেন ভিক্ষাপাত্র নিয়ে। তুমি তো আল্লাহর গজবের বস্তু এখন।
হায় মুসল্লিরা! তোমরা আল্লাহকে পাওয়ার জন্য যেখানে গেছ সেখানে নেই তিনি। যতদিন এই অনাহারী কঙ্কালসার মানুষগুলোর মতো একটি মানুষও সমাজে বাস করবে আর তোমরা তাদের কষ্ট দূর করার জন্য সংগ্রাম করবে না, ততদিন তোমাদের কোনো নামাজ হবে না। তোমরা নামাজের দ্বারা আল্লাহকে উপহাস করছ। এ নামাজ আল্লাহর গজবের কারণ হবে। কেননা আল্লাহই বলেছেন, ধ্বংস হোক সেই মুসল্লিরা, যারা লোকদেখানোর জন্য নামাজ পড়ে।
হায় আলেমসমাজ! আপনারা নিজেদের হীন স্বার্থে আর কতকাল আল্লাহ-রসুলের নামে ভণ্ডামি করে যাবেন? আর কতকাল ধর্মকে জোব্বার পকেটে পুরে ধর্মব্যবসা চালিয়ে যাবেন? আপনারা কবে মানুষের সামনে এই সত্য তুলে ধরবেন যে, আল্লাহর রসুল এমন সুরম্য প্রাসাদোপম মসজিদ নির্মাণের জন্য আসেন নি, তিনি এসেছেন দুঃখক্লিষ্ট মানুষের চোখের পানি মুছিয়ে দিয়ে তাদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য, আশ্রয়হীনকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য, অন্নহীনকে অন্ন, বস্ত্রহীনকে বস্ত্র দেওয়ার জন্য। প্রথম যুগের খলিফারা খেজুর পাতার ছাউনি দেয়া মাটির মসজিদে বসে অর্ধ-দুনিয়া শাসন করেছেন। তখন মান, ইজ্জত ও গৌরবে এই জাতি ছিল সর্বশ্রেষ্ঠ। তাদের এমন মসজিদ প্রয়োজন হয় নি। নামাজ পড়তে এমন মসজিদ লাগে না, আল্লাহর জমিন পবিত্র। আপনারা কবে স্বার্থচিন্তা বাদ দিয়ে মানুষের জন্য চিন্তা করবেন?
গাড়ি চলতে লাগল আর আমার মনের মধ্যে রসুলাল্লাহর সেই কথাগুলো ঘুরপাক খেতে লাগল, “এমন সময় আসবে যখন ইসলাম শুধু নাম থাকবে, কোর’আন শুধু অক্ষর থাকবে, মসজিদসমূহ জাঁকজমকপূর্ণ ও লোকে লোকারণ্য হবে কিন্তু সেখানে হেদায়াহ থাকবে না, আমার উম্মাহর আলেম সমাজ হবে আসমানের নিচে সর্বনিকৃষ্ট প্রাণী। তাদের সৃষ্ট ফেতনা তাদের দিকেই প্রত্যাবর্তন করবে”।
আল্লাহর শোকর, তিনি আমার জীবনকে মানুষের কল্যাণে উৎসর্গ করার তওফিক দিয়েছেন।
(মসজিদের ছবিটি প্রতীকী)
https://www.facebook.com/asun.system.takei.paltai?fref=photo
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জুলাই, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:০২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




