somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি সাবলেট এবং মিস্ তনু

০৬ ই আগস্ট, ২০১৫ সকাল ৭:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জানুয়ারী ২০১৩ এর দিকে আমি আর শিশির আমার জন্য অনেক জোরেশোরে মন দিয়ে সাবলেট খোঁজাখুঁজি শুরু করি। যে করেই হোক না কেন ফেব্রুয়ারী মাসে সাবলেট চাই ই চাই

তা না হলে মারাত্মক সমস্যায় পরতে হবে। কারণ অলরেডী আমার আগের বাসা ছেড়ে দিয়েছি

দেয়ালে দেয়ালে ঘুরতাম। কোথায় সাবলেট লেখা আছে। এমন অনেক দিন হয়েছে রিক্সা দিয়ে শুধুমাত্র দেয়াল দেখতে যেতাম কোন নতুন টু-লেট লেখা পোস্টার পাই কি না

অনেকদিন ঘুরলাম। অনেক বাসা দেখলাম। অনেক মহিলার সাথে কথা হলো। কিন্তু মনের মতো পেলাম না। কোথাও বাজেট বেশী, কোথাও কম, কোথাও সিঙ্গেল জনিত ঝামেলা

একদিন রিক্সা দিয়ে দেয়াল ঘুরার সময় একটি পোস্টার নতুন দেখে থামলাম। নাম্বারটা নিয়ে ফোন দিলাম

'হ্যালো'

মেয়ে ;)

'আচ্ছা আমি দেয়ালে একটি পোস্টার পেস্ট করা দেখে ফোন দিয়েছি সাবলেটের জন্য'
'আপনি কি সিঙ্গেল'
'হ্যাঁ। তবে আমার আম্মু মাঝেমধ্যে আসবেন'

মিথ্যা কথা। সিঙ্গেল হলে দেয় না তাই বললাম আম্মু আসবে :/

'মাঝেমধ্যে আসবে মানে'
'সত্যিই আসবে। আমাকে দেখার জন্য'
'সমস্যা নেই। সিঙ্গেল হলেও চলবে। কিন্তু ...'
'কিন্তু কি... বলেন...'
'আমাদের তো জব করেন এমন কাউকে দরকার'
'আমি জব করি না। তবে পেয়ে যাব সত্যি'
'আপনি কি করেন'
'আমি কিছুদিন আগে বিবিএ কম্পলিট করলাম'
'এখন'
'এখন জাস্ট IELTS করছি'
'সবই ঠিক আছে'
'তাহলে কি কনফার্ম'
'আপনাকে আমার আপুর সাথে কথা বলতে হবে'
'আপনার আপুকে দেন'
'আপু তো এখন বাসায় নেই'
'কখন আসবেন'
'আসলে আমি আপনাকে ফোন দিব'

এই বলে মেয়েটি ফোন রেখে দিলো। আমরা দুইজন তো ব্যাপক খুশী। এতদিনের কষ্ট সফল হওয়ার পথে
---

রাত্রে মোবাইলের দিকে তাকিয়েই আছি। ফোন দেয়ার কোন নামগন্ধ নেই। এগারটার দিকে আমি নিজেই ফোন দিলাম

'হ্যাল্লো'

এবার হ্যালো বলার স্টাইলটা পুরাই চেঞ্জ

'আপু আপনার ফোন দেয়ার কথা ছিল'
'ও আচ্ছা আপনি'
'জ্বি আমি'
'ভাইয়া আপু মাত্র বাসায় আসলো'
'তাহলে আপুকে দেন'
'আপু অনেক টায়ার্ড। শাওয়ার নিচ্ছে'
'তাহলে কি আমি ওয়েট করবো'
'না দরকার নেই। আপনি বরঞ্চ সকালে ফোন দেন'
'সকাল কয়টায়'
'নয়টা ত্রিশের দিকে'
'আচ্ছা'

ফোন টা রেখে উনার নাম্বারটা সেভ করে রাখলাম। ৯:৩০ নামে
---

কাটায় কাটায় সকাল নয়টা ত্রিশের দিকে ফোন দিলাম

'হ্যালো'
'আপু আমি'
'আমি কে'
'আপনি যাকে ৯:৩০ এ ফোন দিতে বলেছিলেন'
'ও আচ্ছা আপনি'
'জ্বি আপু আমি'
'বলেন কি বলবেন'
'ঐ যে ঐ কথাই। সাবলেট'
'সরি ভাইয়া। ভাড়া হয়ে গেছে'
'হয়ে গেছে মানে। আপনি ঠিক আছেন তো'
'সরি ভাইয়া'

এই বলে ফোনটা কেটে দিল। আমিও আর ফোন দিলাম না। নিজেকে কন্ট্রোল করলাম

তার কিছুদিন পরেই আমি একটি বাসায় সাবলেট পাই
---

আমি যে বাসায় সাবলেট থাকতাম উনার দুইটি মেয়ে ছিল। সারাহ, জারা। জারা বড় আর সারাহ পিচ্চি। জারা পড়তো মনিপুর স্কুলে। ক্লাস টু তে। কোচিংয়ের পাশাপাশি বাসায় একটি ম্যাডাম দিয়ে পড়াতো

ম্যাডাম পড়াতে আসতো সন্ধ্যার পরে। তাই আমার সাথে তেমন দেখা হতো না। কারণ আমি সারাদিন ঘুমিয়ে পাঁচটার দিকে বাইরে বের হতাম আড্ডা দিতে। মাঝেমধ্যে দুই এক দিন দেখা হতো

তবে আমি যেই বাসায় সাবলেট থাকতাম সেই আপুর কাছে শুনতাম জারার ম্যাডাম এর নাকি একটি বুটিকস এর দোকান আছে। আর এই কারনেই মাঝেমধ্যে আপুর মাধ্যমে আমার সাথে উনার বিজনেস নিয়ে টুকিটাকি কথা হতো

একসময় উনার সাথে ভালোই আন্ডারস্ট্যান্ডিং হয়। উনার বিজনেসের খাতিরে
---

এভাবে প্রায় এক বছর ছিলাম সাবলেট। শেভরন প্রজেক্টে একটি অপরচুনিটি পাওয়ার পর জানুয়ারী ২০১৪ তে সাবলেট ছেড়ে চলে আসি সিলেটে

সিলেট আসার তিন দিনের মাথায় রাত আটটার দিকে ফোন আসে। পকেটে থেকে মোবাইল বের করে স্ক্রিনে তাকাতেই মেজাজ টকাস করে গরম হয়ে গেল। সেই ৯:৩০ এর ফোন। মনে করলাম রুম মনে হয় খালি হয়েছে এই কারণে ফোন দিয়েছে। রাগে রাগে রিসিভ করলাম

'হে বলেন। এত্তদিন পর। রুম কি খালি হয়েছে'
'হ্যালো'
'হে শুনছি। আপনি বলেন আপা'
'আপনি আমাকে চিনতে পারছেন'
'আপনাকে চিনবো না একটা কথা হলো'
'সত্যিই চিনতে পারছেন'
'আপনার কথা আমি কোনদিন ভুলতে পারি'
'বলেন তো আমি কে'
'আপনি আবার কে। সেই নয়টা ত্রিশ'
'নয়টা ত্রিশ মানে'
'আমাকে সাবলেট দেয়ার কথা বলে ঘুড়িয়েছিলি'
'ভাইয়া..কোন কথা বলছেন আমি বুজছি না'
'এখন তো বুঝবেন না'
'ভাইয়া আমি তনু'
'ও আচ্ছা আপনার নাম তাহলে তনু'
'ভাইয়া আমি জারার মিস্ তনু'

কথাটা শোনার সাথে সাথে মোবাইল এর স্ক্রিনে আবার তাকালাম। নাম্বার তো সেই টা

'আপনি আমার নাম্বার পেলেন কোথায়'
'আপুর কাছ থেকে নিয়েছি'
'আগে বলবেন না'
'আপনি তো বলার সুযোগ ই দিলেন না'
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই আগস্ট, ২০১৫ সকাল ৭:২২
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছবি ব্লগ -৭ বিনীত, অবনত বৃক্ষ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৯

পথে যেতে চোখে পড়লো নুয়ে পড়া বৃক্ষের শাখাগুলো। মনে হলো স্রষ্টার কাছে সে যেন নিবেদিত প্রার্থনায় অবনত। সব অহংকার, সব আত্মগরিমা, কৃতিত্বের ভার সে ধীরে ধীরে ঝরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

হযরত ইমাম হোসেনের (রা.) পরিবর্তে ইয়াজিদী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল কেন?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:৪৯



সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬৫ ও ৬৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৫। হে নবি! মু’মিন দিগকে যুদ্ধের জন্য উদ্বুদ্ধ কর। তোমাদের মধ্যে কুড়িজন ধৈর্যশীল থাকলে তারা দুইশতজনের উপর বিজয়ী হবে।তোমাদের মধ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কোন ইসলাম পালন করছি! কাদের ফলো করছি!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৫১

খোদা ও নবীজীকে অবমাননা করলে অর্থাৎ ধর্মীয় অবমাননা করলে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে, এমন আয়াত কোরআনে পেলাম না!
অনেক খুঁজলাম.........আমি পাই নাই। আপনি পেয়েছেন কি?



পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন, প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং ঢাকা দক্ষিণের নতুন সমীকরণ: রাজনৈতিক খেলায় ইশরাক কোথায়?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২

রাজনীতির মাঠে অতি-উৎসাহ কখনো কখনো যে আত্মঘাতী হয়ে দাঁড়াতে পারে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় যেভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে, দলবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবের প্রতি বাংলার মানুষের কেন এত ক্ষোভ?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮



বাংলাদেশের বেকারত্ব সমস্যা দূরীকরণে সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশটিতে বাংলাদেশের প্রায় ৩৫ লাখ শ্রমিক কাজ করছেন। সৌদি আরবই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক শ্রমবাজার। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সৌদি আরব... ...বাকিটুকু পড়ুন

×