somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অভ্র এবং সিগারেট

১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৪ রাত ১২:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


প্রচন্ড বৃষ্টি হচ্ছে। বৃদ্ধ রেইল স্টেশনের টিনের ছাউনিতে বৃষ্টির আলতো ছোঁয়ায় সতীনাথ মুখোপাধ্যায়ের সেই গানটা বেজে উঠছে বার বার।

"আকাশ এতো মেঘলা
যেও নাকো একলা
এখনি নামবে অন্ধকার।
ঝড়ের জল-তরঙ্গে
নাচবে নটি রঙ্গে
ভয় আছে পথ হারাবার।।"

ট্রেন আসার কথা আরো তিন ঘন্টা আগে। এক্সপ্রেস ট্রেন। কখন আসে ঠিকনাই। এক কোণায় দাঁড়িয়ে তেরো নম্বর সিগারেটটা টানছে অভ্র। আবহাওয়া চমৎকার। প্যাকেটে আরো সাতটা আছে। আশা করা যায় বৃষ্টি থাকতে থাকতেই শেষ করে ফেলা যাবে। । অভ্র শুধুমাত্র মন ভালো থাকলেই সিগারেট খায়। বেশি ভাল থাকলে বেশি খাওয়া হয়। মন আজকে বেশি ভালো। আজ সে স্বাধীন। ডিভোর্স পেপারে সাইনটা দিয়েই চলে এসেছে এখানে। অজানার উদ্দেশ্যে হারিয়ে যেতে যাইলে কেউ আর শেকল টেনে ধরবেনা। তাকাতে হবেনা পেছন ফিরে।

হঠাৎ পেছন থেকে নারী কণ্ঠস্বর শুনতে পেল অভ্র।

- এইযে কুয়াশা-মানব শুনছেন?
- আমাকে বললেন?
- আপনার মত আর কেউকি নন-স্টপ সিগারেট টানতে টানতে এই বৃষ্টির মধ্যেও কুয়াশা নামায় ফেলছে?
- কিন্তু এইটাতো কুয়াশা না, এইটা হল ধোঁয়াশা। হা হা হা... তো ডাকলেন কেনো?
- একটা সিগারেট দেওয়া যাবে?
- আপনি সিগারেট খান?
- না। কিন্তু এখন খেতে ইচ্ছে করছে।
- এখন হঠাৎ কেনো ইচ্ছে হল জানতে পারি?
- কষ্ট ব্যপারটার সাথে সিগারেট জিনিসটা নাকি খুব ভালো যায়। আচ্ছা ধোঁয়ার সাথে কি কষ্টগুলোও মিলিয়ে যায়?
- জানিনা। কষ্ট নিয়ে কখনো সিগারেট খাইনি তো।
- অদ্ভূত লোক তো আপনি! আর বড্ড বেশি প্রশ্ন করেন। সিগারেটটা দিনতো।

খানিকটা বিস্ময় নিয়ে সিগারেটের প্যাকেট আর লাইটারটা বাড়িয়ে দিল অভ্র। কিন্তু ব্যপারটাতে ভীষণ মজা পাচ্ছে সে। আগ্রহ নিয়ে অচেনা মেয়েটার সিগারেট টানা দেখতে থাকল অভ্র।

- আচ্ছা আপনার নামটাই জানা হলনা।
- রূপা। আপনার?
- অভ্র।
- কি ভাবছেন? শহরের বখে যাওয়া মেয়েছেলে কিনা? ভাবেন। সমস্যা নাই। ভালো মেয়েরাতো আর বিয়ের দিন ঘর ছেড়ে পালায় না।
- পালালেন কেনো? ছেলে পছন্দ হয়নাই?
- তা না। মাথায় চুল একটু হয়ত কম কিন্তু ছেলে ভালো। ইউ.এস.এ থাকে। নাসায় চাকরী করে। আমার মার ছেলে ভীষণ পছন্দ। বিয়ের পর বিদেশে নিয়ে নাকি আমাকে মাথায় তুলে রাখবে।
- তাহলে সমস্যা কি? পালালেন কেন!
- অনেক স্বপ্ন তাড়া করা বাকী রয়ে গেছেযে! এখনো হয়ত নিজেকে চেনা হয়নি পুরোপুরি। জানেন আমার ইচ্ছে করে অজানার পানে ছুটে যেতে, কারো হাত ধরে একসাথে বৃষ্টি দেখতে, নিজের মত করে সবকিছু সাজাতে।
- চলুন তবে আপনার স্বপ্নগুলোকে তাড়া করা যাক।

জরাজীর্ণ রেইল ষ্টেশনটায় অভ্র আর রূপা তখনো বৃষ্টি দেখছে। অভ্রর সবগুলা সিগারেট এখনো শেষ হয়নাই। আরেকটা সিগারেটের প্রয়োজন ভীষণ অনুভব করছে কিন্তু রুপা এক হাত ধরে আছে বলে সম্ভব হচ্ছেনা।

- কষ্টগুলো কি সিগারেটের ধোঁয়ায় মিশে মিলিয়ে গেল তাহলে?
- উফফফ... আপনি বড্ড বেশি প্রশ্ন করেন।

বৃষ্টি ছেদ করে হঠাৎ ট্রেনের হুইসেলের তীক্ষ্ণ শব্দ ভেসে আসল কোত্থেকে যেন।
প্রচন্ড বৃষ্টি হচ্ছে। বৃদ্ধ রেইল স্টেশনের টিনের ছাউনিতে বৃষ্টির আলতো ছোঁয়ায় সতীনাথ মুখোপাধ্যায়ের সেই গানটা বেজে উঠছে বার বার।

"আকাশ এতো মেঘলা
যেও নাকো একলা
এখনি নামবে অন্ধকার।
ঝড়ের জল-তরঙ্গে
নাচবে নটি রঙ্গে
ভয় আছে পথ হারাবার।।"

ট্রেন আসার কথা আরো তিন ঘন্টা আগে। এক্সপ্রেস ট্রেন। কখন আসে ঠিকনাই। এক কোণায় দাঁড়িয়ে তেরো নম্বর সিগারেটটা টানছে অভ্র। আবহাওয়া চমৎকার। প্যাকেটে আরো সাতটা আছে। আশা করা যায় বৃষ্টি থাকতে থাকতেই শেষ করে ফেলা যাবে। । অভ্র শুধুমাত্র মন ভালো থাকলেই সিগারেট খায়। বেশি ভাল থাকলে বেশি খাওয়া হয়। মন আজকে বেশি ভালো। আজ সে স্বাধীন। ডিভোর্স পেপারে সাইনটা দিয়েই চলে এসেছে এখানে। অজানার উদ্দেশ্যে হারিয়ে যেতে যাইলে কেউ আর শেকল টেনে ধরবেনা। তাকাতে হবেনা পেছন ফিরে।

হঠাৎ পেছন থেকে নারী কণ্ঠস্বর শুনতে পেল অভ্র।

- এইযে কুয়াশা-মানব শুনছেন?
- আমাকে বললেন?
- আপনার মত আর কেউকি নন-স্টপ সিগারেট টানতে টানতে এই বৃষ্টির মধ্যেও কুয়াশা নামায় ফেলছে?
- কিন্তু এইটাতো কুয়াশা না, এইটা হল ধোঁয়াশা। হা হা হা... তো ডাকলেন কেনো?
- একটা সিগারেট দেওয়া যাবে?
- আপনি সিগারেট খান?
- না। কিন্তু এখন খেতে ইচ্ছে করছে।
- এখন হঠাৎ কেনো ইচ্ছে হল জানতে পারি?
- কষ্ট ব্যপারটার সাথে সিগারেট জিনিসটা নাকি খুব ভালো যায়। আচ্ছা ধোঁয়ার সাথে কি কষ্টগুলোও মিলিয়ে যায়?
- জানিনা। কষ্ট নিয়ে কখনো সিগারেট খাইনি তো।
- অদ্ভূত লোক তো আপনি! আর বড্ড বেশি প্রশ্ন করেন। সিগারেটটা দিনতো।

খানিকটা বিস্ময় নিয়ে সিগারেটের প্যাকেট আর লাইটারটা বাড়িয়ে দিল অভ্র। কিন্তু ব্যপারটাতে ভীষণ মজা পাচ্ছে সে। আগ্রহ নিয়ে অচেনা মেয়েটার সিগারেট টানা দেখতে থাকল অভ্র।

- আচ্ছা আপনার নামটাই জানা হলনা।
- রূপা। আপনার?
- অভ্র।
- কি ভাবছেন? শহরের বখে যাওয়া মেয়েছেলে কিনা? ভাবেন। সমস্যা নাই। ভালো মেয়েরাতো আর বিয়ের দিন ঘর ছেড়ে পালায় না।
- পালালেন কেনো? ছেলে পছন্দ হয়নাই?
- তা না। মাথায় চুল একটু হয়ত কম কিন্তু ছেলে ভালো। ইউ.এস.এ থাকে। নাসায় চাকরী করে। আমার মার ছেলে ভীষণ পছন্দ। বিয়ের পর বিদেশে নিয়ে নাকি আমাকে মাথায় তুলে রাখবে।
- তাহলে সমস্যা কি? পালালেন কেন!
- অনেক স্বপ্ন তাড়া করা বাকী রয়ে গেছেযে! এখনো হয়ত নিজেকে চেনা হয়নি পুরোপুরি। জানেন আমার ইচ্ছে করে অজানার পানে ছুটে যেতে, কারো হাত ধরে একসাথে বৃষ্টি দেখতে, নিজের মত করে সবকিছু সাজাতে।
- চলুন তবে আপনার স্বপ্নগুলোকে তাড়া করা যাক।

জরাজীর্ণ রেইল ষ্টেশনটায় অভ্র আর রূপা তখনো বৃষ্টি দেখছে। অভ্রর সবগুলা সিগারেট এখনো শেষ হয়নাই। আরেকটা সিগারেটের প্রয়োজন ভীষণ অনুভব করছে কিন্তু রুপা এক হাত ধরে আছে বলে সম্ভব হচ্ছেনা।

- কষ্টগুলো কি সিগারেটের ধোঁয়ায় মিশে মিলিয়ে গেল তাহলে?
- উফফফ... আপনি বড্ড বেশি প্রশ্ন করেন।

বৃষ্টি ছেদ করে হঠাৎ ট্রেনের হুইসেলের তীক্ষ্ণ শব্দ ভেসে আসল কোত্থেকে যেন।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হাসিনা-বিভ্রাট: এটা ট্রল নয়, কূটনৈতিক সতর্কসংকেত

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৮


হাসিনা-বিভ্রাট: এটা ট্রল নয়, কূটনৈতিক সতর্কসংকেত

জাপানের এক প্রভাবশালী সংসদ সদস্যের একটি পোস্ট নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে হাসাহাসি চলছে। আমার মনে হয়, হাসির আড়ালে আসল প্রশ্নটা চাপা পড়ে যাচ্ছে।

ঘটনাটা কী
প্রধানমন্ত্রী... ...বাকিটুকু পড়ুন

পরেছো চশমা গান

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:১৪


কাজল চোখে পরেছো চশমা
লাগছে সুন্দর, দেখছো কি?
প্রণয়ের দেবদারু কিংবা-
কঞ্চি বাঁশের- কৃষ্ণ ছবি;
ডাকছো নাকি হ্যামিলনের বাঁশি

ছায়াহীন ভাবে দেখছো শুধু
ফুলঝুরি নয়, মনে রেখে হিংসা
তবু লাল নীল সাদা চশমায়
রেখে যাও বাতাসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচন।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:২৯


এখন পর্যন্ত প্রকাশিত এক্সিট পোল অনুযায়ী, কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন ৬১টি নিশ্চিত করতে পারেনি।
নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট, প্রায় ৫১–৫২ আসন।
গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট: প্রায় ৪৯–৫১ আসন... ...বাকিটুকু পড়ুন

এক সেকেন্ডের নেই ভরসা

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৩


সংসারের শত দায়িত্ব কাঁধে। ধাপে ধাপে সব পালন করতে হবে। মোটরসাইকেল নিয়ে ভালো মনে রাস্তায় নামলেন রাইড শেয়ার করবেন বলে। হঠাৎ একটা প্রাইভেট কারের সাথে ধাক্কা লাগল। আপনি রাস্তায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:১৮


বাংলাদেশের সমাজে একটি নীরব বিপ্লব ঘটে গিয়েছে। দুই বছর আগে ব্লগে অ্যাকাউন্ট খোলার পর থেকে এই পরিবর্তন নিয়ে কম করে হলেও বিশটির বেশি পোস্ট লিখেছি। এই বিপ্লবের সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×