সকালে মামুন সিদ্দিকী ও মোতাহার হোসেন মাহবুব এসেছিলেন বাসায়। আলাপ হলো সৃজনশীল প্রকাশনার বিভিন্ন গ্রন্থ বিষয়ে। একুশের বইমেলা , যা মাসব্যাপী অনুষ্ঠিত হয় ঢাকার বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে , এ নিয়েও প্রসঙ্গ উঠে আসে । মোতাহার হোসেন মাহাবুব বলেন , সাহিত্য পত্রিকা বিষয়ে কিছু কথা। বিশেষ করে ঋতুভিত্তিক প্রকাশনার দিকেও গুরুত্ব দেন তিনি। কিন্তুু পৃষ্ঠপোষক তো নেই।
সন্ধ্যায় বাসায় এসেছিল কুমিল্লার তরুণ কবি মাসুদ আশরাফ। তার সঙ্গে আলোচনা শুরু হলো চিত্রকলা বিষয় নিয়ে। হিটলারের সংগৃহিত যৌন উদ্দীপক চিত্রকর্ম এবং অশ্লীল ছবির বিভিন্ন প্রসঙ্গও আসে আলোচনায়। ছবি আকর্ষণীয় হলেও সামাজিক মূল্যবোধের প্রসঙ্গও মনে রাখা দরকার । ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগলেও কিছু ছবির নান্দনিকতা অস্বীকারের কোনো উপায়ই নেই। মাসুদের কাছে গ্লোসি পেপারে ছাপা চিত্রকলার একটি ইংরেজি বই দেখে আমার এই অনুভব হয়। কারণ ‘মনে দাগ কাটা এসব ছবি’কে শুধু মূল্যবোধের দোহাই দিয়েই চাপা দেওয়া ঠিক নয়। সাহিত্যতত্ত্বের মতো নন্দনতত্ত্বও সম্ভবত আমার এ মতামতের পক্ষে অবস্থান নেবে।
রাতের বেলা কুমিল্লার সাপ্তাহিক ‘আমোদ’ অফিসে যাই। ওখানে গিয়ে মামুন সিদ্দিকীর ‘বাংলাদেশের ও বিশ্বের রাজনীতি বিষয়ক ভাবনা’ প্রসঙ্গও উঠে আসে। সাংবাদিক আবুল হাসানাত বাবুলের প্রসঙ্গও। এই সাংবাদিকের বাসার কাছেই আমাদের ভাড়া বাসা। মামুনের বাসা হলো বাদুরতলায় , ডা. জোবায়দা হান্নানের বাসার কাছে। তবে আমি বলি ব্রাহ্ম্যমন্দিরের কাছে। কারণ ঢাকায় যখন ছিলাম , লাইব্রেরীতে রাজা রামমোহন রায় ও তার ব্রাহ্ম্যধর্ম বিষয়েও অনেক পড়েছিলাম। উনিশ শতকের প্রথমদিকে রাজা রামমোহন রায় ব্রাহ্ম্যধর্ম প্রবর্তন ও ব্রাহ্ম্যসমাজ প্রতিষ্ঠা করেন। ত্রিপুরার মহারাজ শ্রী বীরচন্দ্র মানিক্য বাহাদুর বর্তমান ফয়জুন নেসা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এই ব্রাহ্ম্যমন্দির স্থাপনের জন্য ভূমি দান করেন । সেই ভূমিতে ত্রিপুরা ব্রাহ্ম্য মন্দির স্থাপিত হয়।
ব্রাহ্মনবাড়িয়ার কালীকচ্ছ গ্রামের আনন্দস্বামীও ব্রাহ্ম্যধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। আর তারই জামাতা ছিলেন কুমিল্লা শহরের বিখ্যাত সিংহ পরিবারের সন্তান গুরুদয়াল সিংহ । তিনিও ব্রাহ্ম্যধর্ম গ্রহণ করেছিলেন এবং কুমিল্লার প্রথম পত্রিকা ‘ত্রিপুরা হিতৈষী’ও তিনিই বের করেছিলেন। তার সেই সিংহ প্রেস থেকেই নবীনগরের মনোমোহন দত্তের সংগীতগ্রন্থ ‘মলয়া’ বের হতো। ‘মলয়া’ আমি প্রথম পড়ি ১৯৮৯ সালে আমার বাবার কাছ থেকে বই নিয়ে। এসব নিয়ে ‘আমোদ’ অফিসে বাকীন ভাইয়ের সঙ্গেও কথা হয়। আমার কাছে তিনি এ বিষয়ে একটি লেখাও চান। যদিও লেখা দেবো বলেছি , কিন্তু লেখা দেওয়ার মতো এত তথ্য আসলে আমার কাছে নেই।
৩০ ফাল্গুন ১৪০২ , পশ্চিম চানপুর , কুমিল্লা।
!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!
সাপ্তাহিক ‘আমোদ’ পত্রিকার বাকীন ভাইয়ের সঙ্গে ফটোগ্রাফি বিষয়ে অনেক কথা হয় আজ। ছবিতে যে গল্প কিংবা স্টোরি থাকে , সে প্রসঙ্গেও আলাপ হয় । ছবি সম্পাদনার বিষয়ে , ছবির অপ্রয়োজনীয় অংশ বাদ দেওয়ার প্রসঙ্গ প্রথম পড়েছিলাম ঢাকায় লাইব্রেরীতে। ‘মনজুর আলম বেগ’-এর ফটোগ্রাফি বিষয়ক একটি বইয়ে।
বাকীন রাব্বী বলেন , ছবিতে শুধু সংবাদমূল্যই নয় , মানবিক আবেদনও থাকতে হবে। কিন্তু আমি ছবির প্রথাবিরোধী এঙ্গেল কিংবা দৃষ্টিকোন উপস্থাপনে বিশ্বাসী। বাকীন রাব্বী ১৯৭০ সালে বাংলাদেশের উপকূল দিয়ে বয়ে যাওয়া সাইক্লোনের বিভিন্ন ছবির গল্প আমাকে শোনান । ‘আমোদ’ সম্পাদক শামসুননাহার রাব্বীর কাছে জানতে পারি এখনকার দৈনিক বাংলা পত্রিকাই দৈনিক ‘পাকিস্তান’ নামে বের হতো।
এ ফটোগ্রাফি নিয়ে আজ আরও কথা হয় কুমিল্লা শহরের মনোহরপুর ‘রূপায়ণ’ ষ্টুডিও-র রামু গোম্বামীর সঙ্গেও। জানতে পারি তার বাবাও খুব নামকরা ফটোগ্রাফার। তার দাদা নির্মল গোস্বামীর কথা শুনে আরও ভালো লাগলো । নির্মল গোম্বামীর প্রতি রামু গোস্বামীর ভক্তি শ্রদ্ধা দেখে ভীষণ ভালো লেগেছে।
তবে আজ আমি ওখানে গিয়েছিলাম অন্য একটি কাজে , ফটোগ্রাফির কাজে নয়। আমি গিয়েছিলাম মনোহরপুর ‘উষা মার্কেট’-এর পারিজাত রেষ্ট হাউসের মালিক অজিত দেবের কাছে। অজিত দেব এক মুক্তিযোদ্ধার গল্প আমাকে শোনান । তার নাম রেজু মিয়া। কুমিল্লার মুরাদনগরের এ মুক্তিযোদ্ধা রেজু মিয়ার বিষয়ে নোট নেই অজিদ দেবের স্মৃতি থেকে। এ নিয়ে একটি লেখা দিতে হবে সাপ্তাহিক ‘আমোদ’-এ । দীর্ঘদিন থেকেই নাকি তিনি বাকীন ভাইকে এ বিষয়ে লেখার পরামর্শ ও অনুরোধ করে আসছিলেন। রেজু মিয়া নাকি বড়ই অবহেলায় মারা গেছেন।
এছাড়া আরও নানা প্রসঙ্গে আলাপ করেন অজিত দেব। কুমিল্লা শহরে অবস্থিত ১৯১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ঈশ্বর পাঠশালার বিষয়েও কিছু কথা বলেন। এ পাঠশালার প্রতিষ্ঠাতা মহেশচন্দ্র ভট্টাচার্য তার পিতা ঈশ্বরচন্দ্র ভট্টাচার্যের নামে এ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করলেও আজ অনেকে এর সঠিক ইতিহাস না জেনে ইতিহাস বিকৃত করেন বলেও তিনি দাবি করেন।
১৯৫৫ সালে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ‘আমোদ’-এর প্রথম কপির প্রথম পৃষ্ঠার একটি ছবি বাঁধাই করে ‘আমোদ’ অফিসে লাগানোর প্রস্তাব দেই সম্পাদক শামসুননাহার রাব্বী খালাম্মাকে। খালাম্মা এ বিষয়ে ভেবে দেখবেন বলেছেন।
৪ চৈত্র ১৪০২, পশ্চিম চানপুর, কুমিল্লা।
দিনলিপি:১৪০২:কিছু ছবির নান্দনিকতা অস্বীকারের উপায়ই নেই
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
কোথায় পাই পাগলের শ্বশুর

পাগলের পাতা ছাগলে খায়,
দাঁতের দোষটা হাতেই যে কয়;
দেয় রে দোষটা দেয় চোখের,
মনটা যে ধোয়া তুলসীপাতা,
কেউ দেখে না রে মুখের।
মুখের কথা ঠোঁটে কয়,
ছাগল ডাকে রে ভাই, ব্যাঁ-ব্যাঁ;
পাগলের কাজ পাগল করে সই,
সাধু... ...বাকিটুকু পড়ুন
পরিস্থিতি কি জটিল?

আজকের ডায়েরী- ২০৩

খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন
আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন
Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা
সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।