
১২ চৈত্র ১৪০২, পশ্চিম চান্দপুর, কুমিল্লা।
========================
সংশোধিত:
শরীর ইদানীং একটু খারাপ যাচ্ছে। গতকাল ডা. রফিকউদ্দিনের কাছে গিয়েছিলাম। ফেরার পথে কবি মাসুদ আশরাফের সঙ্গে দেখা ও আড্ডা হয়।
খুব সকালে কুমিল্লা ছাত্র ইউনিয়নের আশেকে এলাহী সুমন ও বিপ্লব মজুমদার আসেন আমাদের বাসায়। সুমনের সঙ্গে কথা প্রসঙ্গে আলাপ হয় বসন্তকুমার স্যারের বিষয়ে।
সুমনের বাড়ি ও কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় এবং আমাদের বাড়িও দেবিদ্বারেই। দেবিদ্বার রেয়াজউদ্দিন হাইস্কুলটি খুবই বিখ্যাত। 1994 সালে এ স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়।
আমার শৈশবের স্কুলের নাম ‘গংগামন্ডল রাজ ইনষ্টিটিউশন’। ওই স্কুলটিও বিখ্যাত একটি স্কুল। এটি প্রতিষ্ঠিত হয় 1922 সালে।
দেবিদ্বার রেয়াজউদ্দিন স্কুলের কৃতি প্রধান শিক্ষক বসন্তকুমার দাসের গল্প প্রায় প্রতিদিনই শুনেছি আমার জ্যাঠা ডা. মাহাম্মদ আলীর (সাবেরুল ইসলাম) কাছে। সেই শিক্ষক নাকি ওই স্কুলে প্রায় 50 বছর শিক্ষকতা করেছিলেন।
1911 সালে কুমিল্লা জিলা স্কুল থেকে 15 টাকা বৃত্তিসহ ম্যাট্রিক পাশ করেন বসন্তবাবু । জ্যাঠার মুখে এই ইতিহাস জীবনে কমপক্ষে একশতবার শুনেছি আমি।
বিপ্লব মজুমদারের সঙ্গে শাস্ত্রীয় কিছু আলাপ জমে উঠে। যেমন কেন আমরা এত অভাব বোধ করি। কেন মানুষের অভাবের শেষ হয় না। অবশ্য এ বিষয়ে মা একটি চমৎকার কথা বলেন:
‘মানুষের অভাব শেষ হয়, তবে তার মৃত্যুর পর।’ এ কথা শুনে বিপ্লব ও সুমন একত্রে হেসে উঠেন।
এই অভাব দূর করার জন্য দৌড়াবো, নাকি সমাজতন্ত্রের জন্য কাজ করবো? একদা আমি ছাত্রশিবির করেছি। এখন করছি ছাত্র ইউনিয়ন। আমি এখন ছাত্র ইউনিয়ন কুমিল্লা জেলা সংসদের শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক।
চারু মজুমদার ও তার ‘নকশাল আন্দোলন’ অধ্যায়ও ভীষণ প্রিয় আমার। চরমপন্থা বরাবরই ভীষণ ভালো লাগে আমার। আর ঠিক এ জন্যই আমাকে অনেকেই সহজভাবে নেয় না।
কেউ কেউ বলে, আমি ভবিষ্যতে আবার বদলেও যেতে পারি। কিন্তু আমার তা মনে হয় না।
অবশ্য অভাবের বিরুদ্ধে জয়ী হওয়ার বৈজ্ঞানিক পন্থার নামই সমাজতন্ত্র: এখন আমি এমনটাই বিশ্বাস করি। এ রকম সংজ্ঞা অবশ্য আমার নিজেরই তৈরি। তবে আমার বাবা প্রায়ই বলেন, টাকার অভাব পূরন করতে পারলেই মানুষের প্রায় সব অভাবই দূর হওয়া সম্ভব। আমিও তা-ই দেখছি। কী আমাদের চলচ্চিত্র নির্মাণের স্বপ্ন কিংবা ভাত কাপড়ের, বাসাভাড়ার ব্যবস্থা করার চিন্তা, সবই টাকার মাধ্যমেই পূরণ হয়। সুতরাং সব কিছুর আগে চাই টাকা, মানে কাগজ।
হায়! কাগজের এত দাম। অবশ্য এটা যেই সেই কাগজ নয়, মুদ্রারূপে মুদ্রিত স্বপ্নের সোনালি রূপালি কাগজ। এই কাগজের জন্যই এখন পুঁজিপতিরা পারলে যেন সমুদ্রের পানি আর সূর্যের আলোকেও বন্দী করে বিক্রি করার ব্যবস্থা করে দেয়।
আজ বিকেলে ছাত্র ইউনিয়ন কুমিল্লা জেলা সংসদের অফিসে যাই। স্বাধীনতা দিবসের আলোচনায় অংশগ্রহণ করি। তারপর শহরের রাজগঞ্জ সড়কদ্বীপ পর্যন্ত আমরা মিছিল করি। রাতে যাই ‘সাপ্তাহিক আমোদ’ পত্রিকার অফিসে। ফেরার পথে আমাদের ঠিক পাশেই মামাদের বাসায় যাই। বিভিন্ন বিষয়ে মামাতো বোন আয়েশা পারভীনের (পারু) সঙ্গেও কথা হয় দীর্ঘক্ষণ।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে আগস্ট, ২০২৪ ভোর ৫:২৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



