somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শান্তিনিকেতন থেকে শান্তি পালিয়ে যাচ্ছে কী না!

২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ দুপুর ২:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আলোকচিত্র: জসীম অসীম।
সব কিছুই কেমন যেন হারিয়ে যায়। কোথায় যেন হারিয়ে গেলো লিটলম্যাগ আন্দোলনের বন্ধু মাসুদ আশরাফও। শুনেছি শান্তিনিকেতনের শান্তিও নাকি ক্রমাগত হারাচ্ছে।
মাসুদ ছিলো একজন কবি। তারপর প্রথমে ‘শঙ্খ’ এবং পরে ‘কফিনটেক্সট’ নামে লিটলম্যাগ সম্পাদনা ও প্রকাশনার সঙ্গে জড়িত ছিলো।
চলার পথে প্রায়ই তার হাতে থাকতো কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় কিংবা সুবিমল মিশ্রদের মতো শক্তিমান লেখকদের একাধিক গ্রন্থ। একসময় ‘শামীম কবীর’ সমগ্র নিয়ে উন্মাতাল হয়ে গেলো মাসুদ আশরাফ। আর জীবনানন্দ দাশ তো তাকে পাগলই বানিয়ে দিলো।
সর্বশেষ তার সঙ্গে আমার যোগাযোগ হয়েছিলো 2003 সালে। আমি তখন কুমিল্লার ‘দৈনিক শিরোনাম’ পত্রিকার চাকুরি ছেড়ে বেকার। কান্দিরপাড়ের ‘মাতৃভবন’ বাসার তৃতীয় তলায় থাকি। মাসুদ তখনও আমার শখে লেখা ইংরেজি কবিতা পড়তো। আর বলতো, আপনার বাংলা কবিতা আমার একেবারেই ভালো লাগে না। কিন্তু ইংরেজিগুলো দারুন মোচড় দেয়। আপনি বরং ইংরেজিতেই লিখুন।
আমি বলতাম: যদি বেঁচে থাকি, তাহলে অবশ্যই লেখা ছেড়ে দেবো। এখনও একেবারে লেখা ছাড়তে পারিনি আমি। যদিও চলার পথে অনেক কিছুই আবার ছেড়ে দিয়ে এসেছি। যেমন করে ছেড়ে দিয়ে এসেছি প্রিয় ঢাকা শহর, অনেক ধর্মের পছন্দের অনেক নারী, থিয়েটার...নাটকের দিনগুলো আমার, প্রিয় ফটোগ্রাফি চর্চা, পত্রিকার চাকুরি...ইত্যাদি। আবার অনেক কিছু হারিয়েও ফেলেছি। তেমনি যেন একদিন কোথায় হারিয়ে গেলো সেই মাসুদ। মাসুদ আশরাফ। আর দেখা নেই।
পৃথিবীর কতো বিষয় নিয়ে যে আমরা আড্ডা দিতাম। রামকিঙ্কর বেইজ ঠিক কেমন ভাস্কর ছিলেন? এ নিয়ে আমি আর মাসুদ কতোদিন যে আলাপ করেছি। বিশেষ করে এস.এম সুলতানের চিত্রকর্ম এবং হাফিজ রশিদ খানের লেখা আদিবাসী কাব্য এবং আরো কতো বিষয়...।
মাসুদ আশরাফ কুমিল্লা শহরের পশ্চিম চান্দপুরের আমাদের ভাড়া বাসায় আসতো নিয়মিত। এটা ১৯৯৬ সালের দিকের কথা। তখন প্রায় দিনই আমরা ঘন্টার পর ঘন্টা ভাস্কর্য, চিত্রকলা, সাহিত্য, চলচ্চিত্র...ইত্যাদি নিয়ে আলাপ করে অনেক সময় ব্যয় করেছি। সেই আলোচনায় রামকিঙ্কর বেইজের প্রসঙ্গও আসতো। সেই প্রসঙ্গ অধিকাংশ সময়ে উত্থাপনও করতো মাসুদ আশরাফই।
রামকিঙ্কর বেইজ একদা শান্তিনিকেতনে পড়তেন। কিন্তু শান্তিনিকেতন মাসুদকে না ভাবালেও রামকিঙ্কর তাকে ভাবিয়েছে অনেক অনেক দিন। রামকিঙ্কর তার জীবনের কোনো একটা সময় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিশ্বভারতী বিদ্যালয়ের চারুকলার ছাত্র ছিলেন। তিনি আচার্য নন্দলাল বসুকেও পেয়েছিলেন তাঁর শিক্ষক হিসেবে। এ যে তার জীবনে কতো বড় আর্শীবাদ হয়ে আসে, তার প্রমাণ আমরা পাই তার পরবর্তী জীবনে। কারণ এই রামকিঙ্করই পরে বিশ্বভারতীর ভাস্কর্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের পদে অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন।
মাসুদ আশরাফ প্রায়ই রামকিঙ্করের ভাস্কর্য বিষয়ক প্রকাশনা নিয়ে আমার বাসায় উপস্থিত হতো। নোবেল পুরষ্কার পাওয়ার অনেক বছর পরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যখন বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠা করেন, তখনকার অনেক ফটোগ্রাফ একবার আমার দেখার সুযোগ হয়। সেটা ১৯৮৮ সালে। ঢাকা কলেজের একটি প্রকাশনায়। আমি মুগ্ধ হয়ে দেখলাম সেসব ছবি। বিশেষ করে উইলিয়াম পিয়রসনের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের কিছু ছবিও। বিশ্বভারতীর তখনকার আবহ সত্যিই অন্যরকম ছিলো।
১৯৫১ সালে বিশ্বভারতী যদিও কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মযার্দা লাভ করে এবং কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরপুত্র রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর হোন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য, কিন্তু অনেকেই বললেন, রবীন্দ্রনাথ প্রাচীন ভারতের ‘তপোবন বিদ্যালয়’ থেকে এই বিদ্যালয়ের যে আদর্শটি গ্রহণ করেছিলেন, তা শান্তিনিকেতন বা বিশ্বভারতী থেকে ক্রমাগতই ক্ষয় হতে যাচ্ছে।
নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন, অস্কারবিজয়ী চলচ্চিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায়, ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী প্রমুখ ব্যক্তিগণ এ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন। এসব ইতিবৃত্ত যেমন অনেক গৌরবের, তেমনি অনেকেই শান্তিনিকেতন ঘুরে এসে বলেন, প্রাচীন ভারতের ‘তপোবন বিদ্যালয়’ থেকে এই বিদ্যালয়ের যে আদর্শটি রবীন্দ্রনাথ গ্রহণ করেছিলেন, অতি আধুনিকতার স্পর্শে আজকাল সেই আদর্শ ক্রমে ক্রমেই হারিয়েও যাচ্ছে। কিন্তু আমি নিজে যেহেতু আজ অবধি শান্তিনিকেতনে কিংবা বিশ্বভারতীতে যাইনি, তাই এ বিষয়ে আমি এখনও নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছি না যে, শান্তি নিকেতন থেকে আসলে শান্তি উড়ে দূরে কোথাও পালিয়ে যাচ্ছে কী না।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই আগস্ট, ২০২১ রাত ৮:৪৮
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস: ঢাকার রাজপথ, ধারণক্ষমতার সংকট এবং গণপরিবহনের বাস্তবতা

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৩৩



আজ ২২ সেপ্টেম্বর—বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস। কল্পনা করুন তো, কর্মব্যস্ত এক মঙ্গলবারের সকালে ঢাকার রাজপথে কোনো ব্যক্তিগত গাড়ি নেই! কানে তালা লাগানো অহেতুক হর্নের গর্জন নেই,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফুনফুনা ফুন

লিখেছেন রাজীব নুর, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৩৩



ছয় হাজার হাজার আগে পৃথিবীর জনসংখ্যা ছিলো মাত্র দশ লাখ।
হ্যা দশ লাখ। পুরো পৃথিবীর সব জায়গায় মানুষ থাকতো না। বনজঙ্গল ছিলো। আর সমুদ্র এবং নদী। পাহাড় পর্বত।... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রেম বয়সের বাধা মানে না!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৮

প্রেমের ক্ষেত্রে বয়স যে কেবলই একটি সংখ্যা, তা প্রমাণ করেছেন বিশ্বের অনেক নামী দম্পতি। পুরুষরা তাদের চেয়ে কম বয়সী নারীদের বিয়ে করবেন - এমন সামাজিক প্রথা ভেঙে অনেক প্রভাবশালী নারী... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহিউদ্দিন মোহাম্মদের জেন জি নিয়ে মূল্যায়ন এবং জেন জি'কে নিয়ে আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, মূল্যায়ন

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৯



লেখক মহিউদ্দিন মোহাম্মদের এইসব কথার সাথে একটু দ্বিমত আছে। কারণটা বলছি..

২০১৯ থেকে আমার যে বিপুল সংখ্যক নারীদের সাথে সুন্দর, নির্ভেজাল ও পরিচ্ছন্ন বন্ধুত্ব হয়েছে, এর ৬০%-ই হচ্ছে জেন জি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সর্বজনীন পেনশন: সুবিধা বাড়ছে, ভবিষ্যৎ কতটা নিশ্চিত ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৪৪


সরকারের মনোভাব সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা কঠিন। ফ্যাসিস্ট আমলের বিতর্কিত 'সর্বজনীন পেনশন' প্রকল্পটি বাতিল না করে বর্তমান সরকার উল্টো নতুন নতুন স্কিম চালু করছে এবং এর সুযোগ-সুবিধা দিন দিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×