somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মহাবিশ্ব আসলে কত বড়?

২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মানুষ যে মহাবিশ্বে বসবাস করে, তার প্রকৃত পরিসর সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান এখনো অত্যন্ত সীমিত। জ্যোতির্বিজ্ঞানের বর্তমান পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আমরা মহাবিশ্বের কেবল সেই অংশটুকুই দেখতে পারি, যেখান থেকে আলো বা অন্যান্য তড়িৎচৌম্বকীয় সংকেত মহাবিশ্বের বয়সের মধ্যে আমাদের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ পেয়েছে। এই অঞ্চলকে বলা হয় Observable Universe বা পর্যবেক্ষণযোগ্য মহাবিশ্ব।

বর্তমান হিসাব অনুযায়ী পর্যবেক্ষণযোগ্য মহাবিশ্বের ব্যাস প্রায় ৯২ বিলিয়ন আলোকবর্ষ। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—আলোকবর্ষ মূলত দূরত্বের একক, সময়ের নয়। আলো প্রতি সেকেন্ডে প্রায় তিন লাখ কিলোমিটার বেগে চললেও মহাবিশ্বের প্রসারণের কারণে বর্তমানে পর্যবেক্ষণযোগ্য মহাবিশ্বের বিপরীত প্রান্তগুলোর মধ্যকার দূরত্বকে কেবল আলোর চলার সময় দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। ফলে ৯২ বিলিয়ন আলোকবর্ষের অর্থ এই নয় যে আলো স্থির মহাবিশ্বে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে ঠিক ৯২ বিলিয়ন বছর সময় নেবে।

আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পর্যবেক্ষণযোগ্য মহাবিশ্বই সমগ্র মহাবিশ্ব—এমন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ আমাদের কাছে নেই। পর্যবেক্ষণযোগ্য সীমার বাইরে আরও মহাজাগতিক অঞ্চল থাকতে পারে। সম্পূর্ণ মহাবিশ্বের প্রকৃত আকার কত, এর কোনো সীমানা আছে কি না, অথবা এটি সসীম নাকি অসীম—এসব প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর এখনো অজানা।

অর্থাৎ, মানবসভ্যতা এমন একটি মহাজাগতিক ব্যবস্থার মধ্যে অবস্থান করছে, যার সামগ্রিক পরিসর সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান অত্যন্ত অসম্পূর্ণ।

গ্যালাক্সির সংখ্যা এবং নক্ষত্রের বিস্ময়কর পরিসর

মহাবিশ্বের বিশালতা বোঝার আরেকটি উপায় হলো গ্যালাক্সির সংখ্যা বিবেচনা করা। ২০১৬ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় পূর্ববর্তী পর্যবেক্ষণ ও গভীর-আকাশ জরিপের তথ্য বিশ্লেষণ করে অনুমান করা হয়েছিল যে পর্যবেক্ষণযোগ্য মহাবিশ্বে গ্যালাক্সির সংখ্যা প্রায় ২ ট্রিলিয়ন বা ২ লাখ কোটি হতে পারে।

প্রতিটি গ্যালাক্সিই আবার বিপুলসংখ্যক নক্ষত্রের সমষ্টি। কোনো কোনো নক্ষত্রের চারপাশে গ্রহীয় ব্যবস্থা রয়েছে, যার মধ্যে গ্রহ, উপগ্রহ, গ্রহাণু, ধূমকেতু এবং অন্যান্য মহাজাগতিক বস্তু থাকতে পারে।

আমাদের নিজস্ব গ্যালাক্সি, মিল্কিওয়ে বা আকাশগঙ্গা,-তেই আনুমানিক ১০০ থেকে ৪০০ বিলিয়ন নক্ষত্র রয়েছে। সূর্য সেই বিপুল নক্ষত্রসমষ্টির একটি সাধারণ নক্ষত্র। সূর্যকে কেন্দ্র করে পৃথিবীসহ আটটি গ্রহ এবং অসংখ্য ক্ষুদ্র মহাজাগতিক বস্তু নিয়ে গঠিত আমাদের সৌরজগৎ।

এই সংখ্যাগুলোকে একসঙ্গে বিবেচনা করলে মহাবিশ্বের পরিসর সম্পর্কে একটি ধারণা পাওয়া যায়। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক সতর্কতা রয়েছে: গ্যালাক্সির সংখ্যা এবং প্রতি গ্যালাক্সিতে নক্ষত্রের সংখ্যা এক নয়, এবং সব গ্যালাক্সির গঠন ও নক্ষত্রসংখ্যাও সমান নয়। তাই মোট নক্ষত্রের সংখ্যা নির্ণয় করতে সরল গুণের পরিবর্তে পর্যবেক্ষণভিত্তিক পরিসংখ্যানগত পদ্ধতি প্রয়োজন।

তবুও মূল বিষয়টি স্পষ্ট—মানব কল্পনার দৈনন্দিন পরিসরের তুলনায় মহাজাগতিক বস্তুর সংখ্যা অকল্পনীয়ভাবে বিশাল।

মহাবিশ্বের তুলনায় পৃথিবীর অবস্থান

এই বিশালতার মধ্যে পৃথিবীর অবস্থান বোঝাতে বিখ্যাত একটি উদাহরণ হলো Pale Blue Dot।

১৯৯০ সালে ভয়েজার ১ মহাকাশযান পৃথিবী থেকে প্রায় ৬ বিলিয়ন কিলোমিটার দূরে অবস্থান করে পৃথিবীর দিকে ফিরে একটি ছবি ধারণ করে। ছবিতে পৃথিবীকে দেখা যায় মহাকাশের অন্ধকার পটভূমিতে একটি ক্ষুদ্র আলোকবিন্দু হিসেবে। পরবর্তীকালে ছবিটি “Pale Blue Dot” নামে পরিচিত হয়।

এই ছবির বৈজ্ঞানিক গুরুত্বের পাশাপাশি একটি গভীর দার্শনিক তাৎপর্যও রয়েছে। মানুষের দৃষ্টিতে পৃথিবী একটি বিশাল ও গুরুত্বপূর্ণ জগৎ। কিন্তু মহাজাগতিক পরিসরে পৃথিবীর আকার অত্যন্ত ক্ষুদ্র।

এই ক্ষুদ্র গ্রহের মধ্যেই মানবসভ্যতার সমগ্র দৃশ্যমান ইতিহাস সংঘটিত হয়েছে—প্রাচীন সাম্রাজ্য থেকে আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা, যুদ্ধ থেকে শান্তি, বিজ্ঞান থেকে দর্শন, ব্যক্তিগত ভালোবাসা থেকে সামাজিক সংঘাত—সবকিছুর ভৌত মঞ্চ এই একই গ্রহ।

আলেকজান্ডার, চেঙ্গিস খান, রোমান সাম্রাজ্য কিংবা আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা—মানব ইতিহাসের যত বড় রাজনৈতিক ও সামরিক ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর সবই মহাজাগতিক দৃষ্টিকোণ থেকে একটি ক্ষুদ্র গ্রহের পৃষ্ঠে সংঘটিত ঘটনা।

এখানে বিজ্ঞান একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলব্ধির সুযোগ তৈরি করে: মানুষের কাছে যে বিষয়গুলো বিশাল ও গুরুত্বপূর্ণ, মহাবিশ্বের ভৌত পরিসরে সেগুলোর আকার অত্যন্ত ক্ষুদ্র হতে পারে।

বহির্জাগতিক জীবনের সম্ভাবনা

মহাবিশ্বের বিশালতা স্বাভাবিকভাবেই আরেকটি মৌলিক প্রশ্নের জন্ম দেয়—পৃথিবী কি জীবনের একমাত্র আবাসস্থল?

এই প্রশ্নের উত্তর বর্তমানে আমাদের জানা নেই।

পৃথিবীর বাইরে জীবনের অস্তিত্বের কোনো নিশ্চিত প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। তবে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এমন বহু গ্রহ আবিষ্কার করেছেন, যেগুলোর কিছু বৈশিষ্ট্য পৃথিবীর সঙ্গে তুলনীয়। ফলে বহির্জাগতিক জীবনের সম্ভাবনা বৈজ্ঞানিক গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।

যদি পর্যবেক্ষণযোগ্য মহাবিশ্বে বিপুলসংখ্যক গ্যালাক্সি থাকে এবং প্রতিটি গ্যালাক্সিতে বিপুলসংখ্যক নক্ষত্র ও গ্রহ থাকতে পারে, তাহলে পরিসংখ্যানগতভাবে জীবনের উদ্ভব কতটা বিরল ঘটনা—এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণামূলক প্রশ্ন।

তবে এখানেও একটি পার্থক্য বজায় রাখা জরুরি। কোনো গ্রহে তরল পানি বা জীবনধারণের উপযোগী পরিবেশ থাকার সম্ভাবনা এবং সেখানে প্রকৃতপক্ষে জীবনের অস্তিত্ব থাকার বিষয় এক নয়। একইভাবে অণুজীবের অস্তিত্ব এবং মানুষের মতো বুদ্ধিমান সভ্যতার অস্তিত্ব সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি প্রশ্ন।

তবু সম্ভাবনাটি কল্পনা করা যায়।

মহাবিশ্বের কোনো দূরবর্তী গ্রহে যদি বুদ্ধিমান জীবনের বিকাশ ঘটে থাকে, তাহলে তাদেরও হয়তো নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি, দর্শন, নৈতিকতা এবং সভ্যতা থাকতে পারে। এমনকি তারা হয়তো নিজেদের অস্তিত্ব নিয়েও একই ধরনের প্রশ্ন করছে—

আমরা কোথা থেকে এসেছি?
মহাবিশ্বের উৎপত্তি কীভাবে হলো?
আমাদের অস্তিত্বের কোনো উদ্দেশ্য আছে কি?
এবং মহাবিশ্বে আমরা কি একা?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনো মানুষের অজানা।

মহাজাগতিক পরিসর ও মানব অহংকার

মহাবিশ্বের পরিসর সম্পর্কে সচেতনতা মানুষের সামাজিক ও রাজনৈতিক আচরণ সম্পর্কে একটি দার্শনিক প্রশ্নও উত্থাপন করতে পারে।

মানুষ ভূখণ্ডকে রাষ্ট্রে ভাগ করেছে, রাষ্ট্রকে রাজনৈতিক সীমানায় বিভক্ত করেছে এবং সেই সীমানা রক্ষার জন্য বহুবার যুদ্ধ করেছে। সম্পদ, ক্ষমতা, জাতীয় পরিচয়, ধর্মীয় পরিচয় ও রাজনৈতিক আধিপত্যকে কেন্দ্র করে মানব ইতিহাসে সংঘাতের দীর্ঘ ধারাবাহিকতা রয়েছে।

একই পৃথিবীতে জন্ম নেওয়া দুই মানুষ জন্মের সময় কোনো রাজনৈতিক মানচিত্র, জাতীয় পতাকা কিংবা রাষ্ট্রসীমার ধারণা নিয়ে আসে না। কিন্তু সামাজিকীকরণ ও পারিপার্শ্বিকতার মাধ্যমে তারা পরবর্তীকালে ভিন্ন জাতীয়, ধর্মীয় বা রাজনৈতিক পরিচয় গ্রহণ করতে পারে।

এখানে একটি মৌলিক বৈপরীত্য লক্ষ করা যায়। মানুষের তৈরি সামাজিক পরিচয়গুলো তার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে, অথচ মহাজাগতিক পরিসরে মানুষের বসবাসের স্থানটি নিজেই একটি অতি ক্ষুদ্র গ্রহ।

এর অর্থ এই নয় যে রাষ্ট্র, সংস্কৃতি বা ধর্মীয় পরিচয়ের কোনো সামাজিক মূল্য নেই। বরং প্রশ্নটি হলো—এই পরিচয়গুলোর মূল্য কোথায় শেষ হয় এবং কখন সেগুলো মানুষের পারস্পরিক সহাবস্থানের পরিবর্তে সংঘাতের কারণ হয়ে ওঠে?

মহাবিশ্বের বিশালতা এই প্রশ্নটিকে আরও গভীর করে তোলে।

ধর্ম, মহাবিশ্ব এবং মানবকেন্দ্রিকতার প্রশ্ন

ধর্ম মানবসভ্যতার অন্যতম প্রাচীন ও প্রভাবশালী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান। বিভিন্ন ধর্ম মানুষের নৈতিকতা, পরকাল, সৃষ্টি, ঈশ্বর, আত্মা এবং অস্তিত্বের অর্থ সম্পর্কে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা প্রদান করেছে।

কিছু ধর্মীয় ঐতিহ্যে পরকালীন বিচার, স্বর্গ ও নরকের ধারণা রয়েছে। অন্য কিছু ঐতিহ্যে পুনর্জন্ম ও কর্মফলের ধারণা গুরুত্বপূর্ণ। আবার বিভিন্ন ধর্মে সৃষ্টির উৎপত্তি এবং মানুষের মহাবিশ্বে অবস্থান সম্পর্কে পৃথক ব্যাখ্যা দেখা যায়।

মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে ইতিহাসে ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে সংঘাতের ঘটনাও ঘটেছে। এখানে ধর্মীয় বিশ্বাস এবং সেই বিশ্বাসের রাজনৈতিক বা সামাজিক ব্যবহারের মধ্যে পার্থক্য করা গুরুত্বপূর্ণ।

একজন মানুষ নিজের ধর্মকে সত্য বলে বিশ্বাস করতেই পারেন। কিন্তু সেই বিশ্বাস থেকে অন্য মানুষের জীবন, অধিকার বা অস্তিত্ব অস্বীকার করার নৈতিক বৈধতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় না।

এই প্রসঙ্গে মহাবিশ্বের বিশালতা একটি ভিন্ন ধরনের প্রশ্ন সামনে আনে।

ধরা যাক, পৃথিবীর বাইরে কোনো দূরবর্তী গ্রহে মানুষের মতো বুদ্ধিমান একটি সভ্যতা রয়েছে। তাদেরও যদি নিজস্ব নৈতিক ব্যবস্থা, ধর্মীয় ধারণা এবং মহাবিশ্বের উৎপত্তি সম্পর্কে ব্যাখ্যা থাকে, তাহলে তাদের ধর্মীয় ধারণাগুলো কেমন হতে পারে?

তাদের কি পৃথিবীর মানুষের মতোই কোনো সৃষ্টিতত্ত্ব রয়েছে?

তাদেরও কি কোনো ধর্মীয় পথপ্রদর্শক বা পবিত্র গ্রন্থের ধারণা রয়েছে?

তাদের সংস্কৃতিতেও কি স্বর্গ, নরক, পুনর্জন্ম কিংবা বিচার-পরবর্তী অস্তিত্বের ধারণা বিকশিত হতে পারে?

নাকি এসব ধারণার একটি বড় অংশ পৃথিবীর নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশের ফল?

বর্তমানে এসব প্রশ্নের কোনো বৈজ্ঞানিক উত্তর আমাদের হাতে নেই। কারণ এখন পর্যন্ত পৃথিবীর বাইরে কোনো বুদ্ধিমান সভ্যতার অস্তিত্বই নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা যায়নি।

তবে এই প্রশ্নগুলো মানুষের জ্ঞানতাত্ত্বিক সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্মরণ করিয়ে দেয়। আমরা মহাবিশ্বের একটি ক্ষুদ্র অংশ পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম হয়েছি এবং সেই সীমিত পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতেই মহাবিশ্ব, জীবন ও অস্তিত্ব সম্পর্কে নানা ধারণা তৈরি করেছি।

মানব অস্তিত্বের মহাজাগতিক প্রেক্ষাপট

মহাবিশ্বের বিশালতা সম্পর্কে জ্ঞান মানুষের গুরুত্বকে অস্বীকার করে না; বরং মানুষের অবস্থানকে একটি বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে দেখতে সাহায্য করে।

পৃথিবী ক্ষুদ্র হলেও এখানেই জীবনের পরিচিত একমাত্র উদাহরণটি রয়েছে। এখানেই মানুষের সভ্যতা বিকশিত হয়েছে, বিজ্ঞান জন্ম নিয়েছে এবং মহাবিশ্বকে বোঝার চেষ্টা শুরু হয়েছে।

সম্ভবত এটাই মানব অস্তিত্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈপরীত্য।

আমরা মহাবিশ্বের তুলনায় অত্যন্ত ক্ষুদ্র। কিন্তু একই সঙ্গে আমরা এমন একটি প্রজাতি, যে নিজের ক্ষুদ্র গ্রহ ছেড়ে মহাবিশ্বকে পর্যবেক্ষণ করার প্রযুক্তি তৈরি করতে পেরেছে।

আমরা গ্যালাক্সি গণনা করি, নক্ষত্রের জন্ম ও মৃত্যু পর্যবেক্ষণ করি, দূরবর্তী গ্রহ শনাক্ত করি এবং মহাবিশ্বের উৎপত্তি সম্পর্কে তত্ত্ব নির্মাণ করি।

অর্থাৎ, মহাবিশ্বের আকারের তুলনায় মানুষ ক্ষুদ্র হলেও মহাবিশ্ব সম্পর্কে প্রশ্ন করার ক্ষমতার দিক থেকে মানুষ একটি অনন্য অবস্থানে রয়েছে—অন্তত আমাদের বর্তমান জ্ঞানের সীমার মধ্যে।

তাই মহাবিশ্বের বিশালতা থেকে যে প্রশ্নটি শেষ পর্যন্ত ফিরে আসে, সেটি হয়তো শুধু “আমরা কতটা ছোট?” নয়।

বরং প্রশ্নটি হতে পারে—

এই বিশাল মহাবিশ্বে আমাদের অবস্থান কী, এবং আমাদের সীমিত জ্ঞানকে আমরা কীভাবে ব্যবহার করব?

আমরা কি আমাদের ক্ষুদ্র পৃথিবীকে সংঘাতের ক্ষেত্র হিসেবে দেখব, নাকি একই মহাজাগতিক উৎসের একটি সাধারণ আবাসস্থল হিসেবে বিবেচনা করব?

এই প্রশ্নের উত্তর বিজ্ঞান একা দিতে পারে না। বিজ্ঞান আমাদের মহাবিশ্বের পরিসর, গঠন ও ইতিহাস সম্পর্কে তথ্য দিতে পারে; কিন্তু সেই জ্ঞান থেকে মানুষ কী ধরনের নৈতিক ও সামাজিক সিদ্ধান্ত নেবে, সেটি শেষ পর্যন্ত মানুষেরই দায়িত্ব।

মহাবিশ্বের বিশালতার সামনে দাঁড়িয়ে তাই হয়তো সবচেয়ে বৈজ্ঞানিক অবস্থান হলো—যা আমরা জানি, তা স্বীকার করা; যা জানি না, তা স্বীকার করা; এবং অজানা বিষয়কে নিশ্চিত সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার পরিবর্তে অনুসন্ধানের জন্য উন্মুক্ত রাখা।

কারণ আমরা এখনো মহাবিশ্বের গল্পের খুব সামান্য অংশই পড়তে পেরেছি।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৩৬
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমরা কি রাজধানী ঢাকাকে মেরে ফেলছি ?

লিখেছেন এ.টি.এম.মোস্তফা কামাল, ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৯

ঢাকাকে সব কিছুর কেন্দ্র বানিয়ে ঢাকার মাথায় আমরা যে দুর্বহ বোঝা তুলে দিচ্ছি তার ভার কি ঢাকা বইতে পারবে? আমরা যদি খুব চেনা কিছু দেশের দিকে তাকাই তাহলে দেখবো রাজধানী... ...বাকিটুকু পড়ুন

হোয়াইট হাউজে বঙ্গবন্ধু - "I want to survive"

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:২৬




জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শেষ করে অক্টোবরের ১ তারিখে ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউজে এলেন বঙ্গবন্ধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশে তরুন সমাজের মাঝে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার : অশনী সংকেত

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৫:৫১


২০২৬ সালের ২৫ জুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রায় ৮২ লাখ মানুষ অবৈধ মাদক গ্রহণে আসক্ত/জড়িত, এবং এই সংখ্যা একটি গবেষণার
ভিত্তিতে উল্লেখ করেন। তিনি নতুন synthetic ও semi-synthetic... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির মূল্যায়নে বঙ্গবন্ধু কিংবা আওয়ামিলীগের অবদান শূণ্য। মুক্তিযুদ্ধে সবচেয়ে বেশি অবদান জামাতের॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:০৬



বিএনপি করার পূর্ব শর্ত কি? ইতিহাস বিচারে দেখা যায়, পার্ক মার্কিন প্রেসক্রিপশনে সর্বোচ্চ পর্যায়ের মিথ্যুক হতে হবে। আর সাথে রাজাকার পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড হলে তো কথাই নাই,... ...বাকিটুকু পড়ুন

গণতন্ত্রের অধিকার : ২৫ কিমি: মধ্যে ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:২১

গণতন্ত্রের অধিকার : ২৫ কিমি: মধ্যে ?



জাতিসংঘে বিশ্বের সকল দেশের অংশগ্রহনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান হয়ে গেল ।
সেখানে শাসক, স্বৈর-শাসক ও গনতন্ত্রর বক্ততারা এক হয়েছিলেন । কিন্ত কোন ভালো সিদ্বান্ত
নিতে পেরেছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×