somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

আশিক আহমাদ
যারা জীর্ণ জাতির বুকেজাগালো আশা, মৌন মলিন মুখে জাগালো ভাষা।nসেই রক্ত কমলে গাঁথা মাল্যখানি, বিজয় লক্ষ্যে দেব তাদেরই গলে।

কিছু স্মৃতি ....

২৩ শে জুন, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার এই পোস্ট শুধু সেই মা'দের জন্য, যারা নিজেদের কলিজার টুকরা সন্তানের মুহাব্বতকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কুরবানি করেন!!
.......................................................
কুরআন হিফজ করার জন্য অনেক ছোট বয়সে মায়ের কোল ছেড়েছিলাম।
সময়টা ছিলো আমার জন্য অনেক কষ্টের। যেই বয়সে বাচ্চারা শীতের রাতে মায়ের কোলে ওমের ভিতরে থেকে নিশ্চিন্তে ঘুমায়,আমি সেখানে মাদ্রাসায় শুয়ে শুয়ে আম্মুর কথা ভাবতাম। রাতে ঘুম ভেঙে যেতো। এরপরে অনেক ঘুমানোন চেষ্টা করতাম, কিন্তু ঘুম আসতো না।দেখতাম, বন্ধুর সবাই আরামে ঘুমাচ্ছে। কিন্তু আমার চোখে ঘুম নেই।ঘুম না আসার যে কি কষ্ট, ভুক্তভোগী ছাড়া কেউ বুঝবেনা।ধীরেধীরে জানালার কাছে যেতাম। জানালার শিক ধরে আনমনা হয়ে দূর বহুদূরে তাকাতাম। শীতের নির্জনতায় মাঝরাতে দু' একটা গাড়ী ছুটে যেতো। সারাটা সপ্তাহ বৃহঃস্পতিবারে অপেক্ষায় থাকতাম।সেদিন ছিলো "নীড়ে" ফেরার দিন।আম্মুর মুখ দেখে বিচ্ছেদের সব বেদনা ভুলে যেতাম।

ভিতরের ভালোবাসাটা আব্বু কখনো বুঝতে দেয়নি।কিন্তু আমি সেটা ফিল করতাম।এখনো মনে আছে,,,, এক শীতের রাতে প্রচন্ড শৈত্যপ্রবাহ হচ্ছে।লেপের নিচে শুয়ে ছোট্ট পা দুটো গরম করার বৃথা প্রয়াস চালাচ্ছি।হঠাৎ কে যেনো আমাদের রুমের দরজায় নক করলো। দেখলাম, আব্বু একটা চাদর গায়ে দিয়ে বাসা থেকে এই ঠান্ডা বাতাসের মধ্যে হেঁটে আমার জন্য স্লিপিং ব্যাগ নিয়ে হাজির।

যখন আরো দূরের মাদ্রাসায় ভর্তি হলাম, তখন ৩মাসে মাত্র একবার বাসায় আসতাম।প্রথমে কয়েকবার বিদায়ের সময়ে আম্মু আমাকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে বুক ভাসাতো।আম্মুর বুকের ভিতরে শেষবারের মতো মুখ লুকিয়ে আমার অনুভূতি তখন কেমন হতো, সেটা নাহয় নাইবা বললাম।কিন্তু আমি শক্ত হয়ে থাকতাম।অনেকদিন ধরে জমানো কিছু টাকা আব্বুর অলক্ষে আম্মু আমার পকেটে গুঁজে দিতো।ওই টাকাগুলি নিতে আমার খুবিই কষ্ট হতো।মাদ্রাসায় গিয়ে টাকাগুলি আমি খরচ করতে পারতাম না।আম্মুর মুখটা ভেসে উঠতো।
প্রথমে নিতে চাইতাম না।তারপর থেকে আম্মু আমার বইয়ের ফাঁকে টাকা রেখে দিতো।

মুখে কাষ্ঠহাসি নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যখন রিক্সায় উঠতাম, তখন অশ্রু আর বাধা মানতো না।আম্মু দোতলার বারান্দায় এসে দাঁড়াতো।যতক্ষণ পারতাম, রিক্সার হুডের ফাঁক দিয়ে আম্মুর দিকে তাকিয়ে থাকতাম।দেখতাম, মা আমার দরজায় হেলান দিয়ে একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে ....!! বাসে ওঠার আগে আম্মু আবার ফোন করতো কান্নাভেজা কন্ঠে কিছু উপদেশ দেয়ার চেষ্টা করতো ... কিন্তু অপ্রতিরোধ্য আবেগে আম্মুর কন্ঠ থেমে যেতো বারবার......!!

অনেক সংগ্রামের পরে আল্লাহ পুরো কুরআন বুকে ধারণ করার তাওফিক দিলেন।আমাদের মহল্লার মসজিদে তারাবী পড়ালাম।মসজিদের একেবারে পাশেই বাসা ছিলো। রাতে বারান্দায় দাঁড়িয়ে আম্মু তারাবীর নামাজে আমার তিলাওয়াত শুনতো।তারাবীর পরে ক্লান্ত হয়ে বসায় ফিরে আম্মুর খুশিতে ঝলমলে মুখ দেখেই সব ক্লান্তি ভুলে যেতাম।ছেলের পিছনে তারাবীর নামাজে পূর্ণ কুরআন শুনতে পেরে এখনো আব্বুর বুকটা ভালোলাগায় ভরে যায়।নামাজ পড়ে বাপ-বেটা বাসায় ফেরার পথে আব্বুর উচ্ছসিত কথার ভঙ্গিতেই সেটা বুঝতে পারতাম।

দুনিয়ায় এই সামান্য ব্যপারে আব্বু আম্মুর এই অসামান্য খুশি দেখে অবাক হই .....!! আর আল্লাহর কাছে মনেমনে প্রতিক্ষণে সিজদায় লুটিয়ে পড়ি। আর অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে দোয়া করি, আল্লাহ যেনো আব্বু আম্মুকে হাশরের মাঠে নূরের মুকুট পরান।আর আমাকে যেনো জীবনের শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত কুরআনের সকল বিধিনিষেধ পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে পালন করার তাওফিক দেন .......... আমীল

সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জুন, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:১২
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

একাত্তর বাঙালির অভিজ্ঞতা এবং গর্জিয়াস প্রকাশনা উৎসব

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৯:১৭


পহেলা মে বিকেলে একটি আমন্ত্রণ ছিল। অনুষ্ঠানটি ছিল বই প্রকাশনার। এই আয়োজনটি শুরু হয়েছিল বলা যায় এক বছর আগে। যখন একটি লেখা দেওয়ার আমন্ত্রণ এসেছিল। লেখাটি ছিল বিদেশের জীবনযাপনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪



কথা হচ্ছিলো একজন আর্ট সমঝদার মানুষের সাথে। তিনি আক্ষেপ করে বলছিলেন, জীবিতবস্থায় আমাদের দেশে আর্টিস্টদের দাম দেওয়া হয় না। আমাদের দেশের নামকরা অনেক চিত্র শিল্পী ছিলেন, যারা জীবিতবস্থায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ মারা যাবার পর আবার পৃথিবীতে আসবে?

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১০



আমার মনে হয়, আমরা শেষ জামানায় পৌছে গেছি।
পুরো পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে খুব শ্রীঘই। চারিদিকে অনাচার হচ্ছে। মানুষের শরম লজ্জা নাই হয়ে গেছে। পতিতারা সামনে এসে, সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×