ঈদের উপহার (একটি ইরাকী গল্প)
অনুবাদ : আশরাফ মাসরুর
আত্মবিস্মৃত হয়ে সে হাটছিল; ঠোটে লেগে ছিল কষ্টার্জিত মৃদু হাসির রেশ, খুশিতে মাতোয়ারা হবার সময় যে ক্রমশ:ই ঘনিয়ে আসছে; কাল ঈদ।
ঝিরিঝিরি বৃষ্টি পড়ছে, এরই মধ্যে সে কান্ত দুটি পা নিয়ে এগিয়ে চলছে, নিরবধি। ইতস্তত: ফুটপাথের খানাখন্দের মধ্যে জমে থাকা পানি ছেড়াখোরা জুতার ফাক গলে ভিতরে ঢুকছে, পানির অস্বস্তিকর স্যাতস্যাতে শীতল স্পর্শে মেয়েটি বারবার কেঁপে উঠছে, কিছুন পরপরই সে জুতার ভেতর প্রবেশ করা পানি ঝেরে ফেলে দিচ্ছে। তালিযুক্ত জ্যাকেট দিয়ে মাথা ঢেকে সে দ্রুত পা ফেলে চলছিল। বৃষ্টিভেজা শীতল এই রাত্রি তার অবিরত এই চলায় বিন্দুমাত্রও বাধা সৃষ্টি করতে পারছে না। ধ্বংসপ্রাপ্ত শহরের দৃশ্যগুলি তাকে কেবল তাড়িয়ে ফিরছে; বৃষ্টি তার সকল দু:খÑকষ্টের সাথী হয়ে সঙ্গ দিতে থাকল।
এই তার প্রথম অভিজ্ঞতা; প্রধান সড়কের ফুটপাথে কোথাও রক্তের দাগ চোখে পড়ছেনা, শুনতে হচ্ছেনা কোন কান্নার আওয়াজ। নিশ্চিন্ত, ভারহীন সে চলতে লাগল, হাত দুটি দুদিকে ছড়িয়ে। হঠাৎ তার মনে হল শহীদ আব্বু তার সামনেই দাড়িয়ে আছেন, তার পানে নীরব তাকিয়ে আছেন; সে আরো দ্রুত হাঁটতে লাগল। চারদিক আলোয় ঝলসে বিজলি চমকাচ্ছে, বজ্রের হুংকারে আশপাশ যেন কেঁপে কেঁপে উঠছে; খরগোশ ছানার মত, সেও বাধ্য হল একটি বোমায় বিধ্বস্ত একটি বাড়ির ধ্বংসস্তুপের আড়ালে আশ্রয় নিতে।
ছায়ার মত একটি হাসি তার ঠোটে ফুটে উঠল;―‘আজই নাকি ঈদের রাত’ ―ক্ষীনস্বরে তার স্বগতোক্তি।
-সারাটি বছর তুমি সুখে থাক’......
অশরীরি এই স্বর তাকে চমকে দিল। ভয়ে সে ঈষৎ চিৎকার করে উঠল। ফিরে তাকিয়ে দেখতে পেল, তারই বয়েসি একটি বালক বৃষ্টির ছাট থেকে আত্মরার জন্য পরিতক্ত্য এই বাড়িটির আরেক কোণে দাঁড়ানো।
-কে তুমি ? শুধালো সে ভীতস্বরে।
-চিনতে পারো নি, আমি তোমার সহপাঠি আব্দুল্লাহ !’ জবাব ভেসে আসল।
-আব্দুল্লাহ ! তুমি ! আসলে তোমাকে প্রথমে চিনে উঠতে পারি নি, তুমি আমাকে বেশ ভয় পাইয়ে দিয়েছিলে। স্বস্তির শ্বাস ফেলল মেয়েটি।
-ভয় পাবার কিছু নেই। কিন্তু বলতো, এই নিশি রাতে কিসে তোমাকে এখানে নিয়ে এল ? কৌতুহলি আব্দুল্লাহ ফের শুধালো।
-আমি আব্বুকে খুজছি,.......তাঁকে ঈদের চুমু খাবো বলে ! কিন্ত তুমি এখানে এই সময় কি করছ ?’
-আমি ঈদের তালাশে ফিরছি,.......
-তা তুমি পাবে না, বহুকাল পূর্বেই সে আমাদের ছেড়ে চলে গেছে,......
-তোমার কল্পনার মতই, নিথর রাত, শহরও আকাশের সাথে কাঁদছে.......
-আ....হ ! কি সুন্দর আকাশ ! চাঁদের প্রস্থানে সেও কাঁদছে’.........
-আমি আম্মুকে আমার জন্য নতুন ট্রাউজার সেলাই করতে দেখে এসেছি’..... আসলে তা নতুন নয়, বরং তা আমার একমাত্র ভাই আসেমের; ওরা তাকে ধরে নিয়ে যায়। আমি যতবারই এই ট্রাউজার পরিনা কেন, সে আমার সাথে আর কখনো রাগ করবে না। আমার পুরোন ট্রাউজার পড়লে আমিও কারো উপর রাগ করবো না’....
-আর আমার আম্মুকে প্রতিবেশিনীদের সাথে মিলে মিষ্টান্ন তৈরি করতে দেখে এসেছি, তার কাছে ময়দা-ঘি কিছুই ছিল না। কেবল শীতকালের জন্য জমিয়ে রাখা খাদ্যদ্রব্য বাদে তার কাছে অন্য কিছুই ছিল না, তিনি কাঁদছিলেন............ তারা তখন আটা, ঘি ও চিনি নিয়ে তার দরজায় এসে দাঁড়ায়। অত:পর সবাই মিলে গানের সুরে সুরে আটার খামিরা তৈরি করে ঈদের হালুয়া বানানোতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল।
-তো , এবার চল , ফেরা যাক। তোমার আম্মু আবার চিন্তা করবেন’.....
-না ! আমি যাবো না! আব্বুকে ঈদের চুমো না দিয়ে আমি বাসায় ফিরে যাবো না। আমাকে তিনি ডাকছেন, তার ঈদের উপহার, একমাত্র আমিই। তার একান্ত ইচ্ছা― ঈদের রাত্রটি আমি তার সাথে কাটাবো ! ....
-তোমার আব্বু শহীদ হয়েছেন, কখনোই আর ফিরে আসবেন না; তিনি জান্নাতে আছেন।...
-কিন্তু আমি তো তাকে দেখছি, ঐ তো আব্বু, বেশ কাছেই আছেন। আর দাঁড়িয়ে দাঁিড়য়ে মুচকি মুচকি হাসছেন, আমাকে কোলে নেওয়ার জন্য দুহাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি খুবই আনন্দময় স্থানে আছেন, আমি তার কাছে যাবো।’....
-কোথায় ? আমি তো তাকে দেখছি না, এখানে কেবল ওরাই আছে। বিমান দিয়ে রাত্রির নিরব সৌন্দর্যকে পংকীল করে দেবে বলে। ওরা আবার ফিরে আসছে; এখুনি বোম্বিং শুরু হবে।.........ফিরে এসো, ফিরে এসো, এসো......তুমি ওদের শিকার হবে।
না ! বরং আমি আমার শহরের জন্য শহীদ হবো..............আর হবো― ঈদের উপহার !!!
একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন
কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?
হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন
আসলে কেউ ফেরে না।
মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর
যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন
দ্য ড্রাগ কিং

সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।
খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন
সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে
আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।