somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মোঃ আসিফ ইকবাল রুমি
পড়তে, জানতে ও লিখতে ভালবাসি । বিতর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে জানতে ও জানাতে খুব বেশি ভাল লাগে ।

পূর্বাহ্ন- নিশু প্রথম প্রহর

২৫ শে ডিসেম্বর, ২০২২ রাত ১:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

২০১৫ সালের ১১ ই মার্চ

সেদিনের নেহাৎ দুষ্টামীর ছলে একটা পরীক্ষামূলক আড্ডা যে ছয় বছরপর প্রতিটা মানুষের জীবন একেবারে এভাবে বদলে দেবে কখনও চিন্তাও করতে পারে নি, আকাশ, সঙ্গীতা, নীলাদ্রি, নিশু, নাদিম, আবির অথবা আড্ডায় না থাকা শুভ্র।


গল্পটা শুরু হয় একটা প্রতীকি ফেসবুক আইডির নারীবাদি একটা পোষ্ট থেকে। মিষ্টি মেয়ে নামের একটা ফেসবুক আইডি থেকে, তনুশ্রী ধর্ষন এবং হত্যা ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটা নারীবাদী পোষ্ট, যেখানে সমগ্র পুরুষ জাতিকে খারাপ সম্মোধন করে লেখা হয় আট অনুচ্ছেদের বড় একটা পোষ্ট। এই পোষ্টের কমেন্ট বক্সেই প্রথম তর্ক শুরু হয় সেই মিষ্টি মেয়ে এবং আকাশের।

রাত ১১ টা ১০ মিনিট থেকে কমেন্ট বক্সে শুরু হওয়া তর্ক সেদিন শেষ হয় ৫ টা ৩০ মিনিটে ইনবক্সে গিয়ে, তাও মিষ্টি মেয়ে নামাজ পরবে তাই। খুব বেশি গঠনমূলক আলোচনাগুলো কখন যে ডানা গঁজিয়ে প্রশস্ত হয় বুঝাই যায় না।

পুরো রাত শেষ হলেও তাদের গল্পটা যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোট গল্পের মতো অপূর্ণ থেকে গিয়েছিলো, যার ফলে তর্কের অতৃপ্ত বাসনা দুজনের মনেই সৃষ্টি করেছিল আগ্রহের অথই সাগর। যা পরের সপ্তাহখানেক দুজনকেই দিনের সিংহভাগ সময় ফেসবুকের ইনবক্সে অথবা ফ্রী ম্যাসেনজার একত্রে রাখতে তাদের অজান্তেই। তর্কে তর্কে কখন যে তারা অন্যজনের কমফর্ট জোনে পরিণত হয়, দুজনের কেউই বুঝতে পারে নি।

মনের প্রকাশ না করতে পারা হাজারো গল্প প্রকাশের অভয় আশ্রয় স্থল হয়ে উঠে দুজন একে অন্যের জন্য। জন্ম নেয় কিছু নিষিদ্ধ অনুভূতি, জন্ম হয় বেনামী একটা সম্পর্কের। না তো প্রেম ছিলো, না তো ছিলো বন্ধুত্ব তাদের মধ্যে।

সদ্য রাহাতের সাথে প্রেম সম্পর্ক বিচ্ছেদের পর মিষ্টির একটা সাপোর্ট দরকার ছিল সম্পর্কে ধূম্রোজাল থেকে বের হওয়ার জন্য। আর আকাশ নারী কন্ঠের আসক্তিতে ডুবে ছিলো একরকম।

রামপুরার এক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলো আকাশ। আর লালমাটিয়া মহিলা কলেজের ছাত্রী ছিলো মিষ্টি। আচ্ছা যে বিষয়টা এখনও বলা হয় নি, মিষ্টি ছিলো প্রতীকী নাম, মেয়েটার আসল নাম ছিলো সঙ্গীতা। সঙ্গীতা আর আকাশের সম্পর্কটা সময়ের সাথে গভীর হচ্ছিলো। সঙ্গীতা প্রায় আকাশের জন্য রান্না করতো, আকাশও দেখা করতে সপ্তাহে তিন থেকে চারদিন সঙ্গীতার হোস্টেলের নিচে চলে যেতো।

গল্পে ইতোমধ্যেই মধ্যেই নতুন এক চরিত্র যোগ হয়, সঙ্গীতার নতুন এই বন্ধু সম্পর্কে জানতে অনেক আগ্রহী ছিলো সঙ্গীতার রুমমেট নীলাদ্রি, মাঝে মধ্যে সঙ্গীতার ফোন দিয়ে কথাও বলতো আকাশের সাথে। যদিও সঙ্গীতা এবং আকাশের মধ্যে প্রেম ছিলো না তারপরও দুলাভাই ডাকতো আকাশকে নীলাদ্রি।

শালী দুলাভাইয়ের সম্পর্কটা আস্তে আস্তে ভাই বোনের সম্পর্কে রূপ নেয়। বড় ভাইয়ের শাসন বারণ থেকে ছোট বোনের আবদার সব কিছুই জায়গা করে নেয় তাদের মধ্যে। সঙ্গীতার পাশাপাশি তখন নীলাদ্রিও রান্না করতো তার ভাইয়ের জন্য। প্লাস্টিকের বাটিতে করে কাচ্চি, গরুর গোস্ত দেওয়া প্রায় রুটিন করে ফেলেছিলো নীলাদ্রি, আর আকাশ নিয়ে আসতো চকলেট।

নীলাদ্রি তার ভাইকে অনেক ভালোবাসতো, কিন্তু ভাইয়ের চেয়েও যদি কিছু ভালোবাসতো তবে সেটা তার প্লাস্টিকের বাটি। মার্চের ৭ তারিখ আকাশের জন্য কাচ্চি, মিষ্টি ও গরুর গোস্ত বাটি করে দেয় নীলাদ্রি সাথে ১১ তারিখের আল্টিমেটাম।

গল্পটা এইভাবে সারাজীবন এমন চলতে থাকলে হয়তো খুব ভালো হতো কিন্তু উপর ওয়ালার মর্জি হয়তো ভিন্ন কিছু ছিলো। সঙ্গীতার জীবনে রাহাত ফিরে আসে।

আকাশকে পুরোপুরি এভোয়েড করা শুরু করে সঙ্গীতা। যেহেতু তাদের মধ্যে প্রেম ঘটিতো কোনো কমিটমেন্ট ছিলো না, সেহেতু সঙ্গীতা সহজেই আকাশের অস্তিত্বকে অস্বীকার করে তার জীবনে। ভালো বন্ধু মানতেও নারাজ ছিলো সে। আকাশ শুধু বন্ধু ছিলো বলতে লাগলো সে।


১১ই মার্চ ২০১৫, সকাল সকাল নীলাদ্রি সঙ্গীতা বিছানায় গিয়ে বসে।
– কিছু বলবি নীলা?
– আচ্ছা সঙ্গী তুই কি আকাশ ভাইকে খেয়ে ছেড়ে দিলি টাইপ কিছু?
– মানে কি! আকাশ কে? দুইদিন কথাই বলছি শুধু আমি, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐ ঢেমনা ছেলেটা, যে জীবন নিয়ে মোটেও সিরিয়াস না, ঐ ছেলেকে নিয়ে কি আমি সিরিয়াস হবো নাকি আজব? রাহাত সামনে বছর সলিমুল্লাহ মেডিকেল থেকে পাস করে বের হবে, ও বের হলেই আমরা বিয়ে করে নিবো, তাই প্লিজ বাজে কথা বলিস না নীলা।
– ওকে!
-তাহলে আমি ভাইকে আজ নিশুর সাথে পরিচয় করিয়ে দেই, কি বলিস।
– প্লিজ নীলা প্লিজ। খুব উপকার হবে।
– আচ্ছা আজ বিকালে আমরা কয়েকজন মিলে ধানমন্ডি ৩২ শে একটা আড্ডা প্লান করছি! তুই কি যাবি আমার সাথে? অবশ্য আকাশ ভাইও আসবে বাটি দিতে তখনই নিশুর সাথে পরিচয় করিয়ে দিবো ভাইয়ের।
– আচ্ছা! আমি আগে রাহাতের সাথে কথা বলে দেখি। ও অনুমতি দিলো যাবো যা।

অন্যান্য পর্ব সমূহ
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে ডিসেম্বর, ২০২২ রাত ১:৫০
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্যা সিক্রেট অফ ব্লগ ল্যাং মারামারি

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৫

ব্লগে টিকে থাকতে হলে আপনাকে মানসিক ভাবে শক্ত হতে হবে। আপনাকে অন্য কোন ব্লগার ল্যাংচি মেরে ফেলে দিবে, এরজন্যে আপনার প্রস্তুত থাকা উচিৎ। এই 'আমেরিকা বনাম ইরান' ল্যাং মারা খাওয়ায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

গভীর ক্রন্দন

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:৫৮


মেম্বার বাড়ি আর সরকার বাড়ির শত্রুতা দীর্ঘদিনের। জমিজমা লইয়া আজ এমন একখানি ঘটনা ঘটিয়া যাইবে, কেহ বোধহয় কল্পনাও করিতে পারেন নাই।

সকাল আটটায় কাঠের ব্যাপারী খসরু আসিয়া হাজির। দলিল লেখক আবু... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাজারের আগুন নিভবে পে-স্কেলে, প্রবৃদ্ধি ছুঁয়ে যাবে দশ শতাংশ ...

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৭ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৩৮


কেরামত মওলা সাহেবকে চেনেন না এমন মানুষ সচিবালয়ে কমই আছেন। তিনি মন্ত্রিপরিষদের একজন সিনিয়র সচিব। আজ নতুন পে স্কেল নিয়ে গঠিত সচিবদের কমিটির সবচেয়ে ক্ষমতাধর এবং গুরুত্বপূর্ণ মানুষটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসলামাবাদে জুলাই শহীদদের স্মরণে অনুষ্ঠান

লিখেছেন মাথা পাগলা, ১৭ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৭:৪৩



পাকিস্তানের ইসলামাবাদে বাংলাদেশ হাইকমিশনে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মরণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বক্তারা দাবি করেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান কোনো ব্যক্তি বা দলের একক অর্জন নয়; এটি ছিল ছাত্র-জনতার সম্মিলিত আন্দোলনের ফল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপা আর ফিরে আসবে না......

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৭ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:৪১

যুগে যুগে গণ-আন্দোলন ও তীব্র জনরোষের মুখে ক্ষমতা ছেড়ে পালাতে বাধ্য হওয়া বিভিন্ন দেশের স্বৈরশাসকদের তালিকাঃ

(১) মোহাম্মদ রেজা পাহলভিঃ (ইরান - ১৯৭৯)১৯৭৯ সালে ইরানি বিপ্লবের সময় লাখ লাখ মানুষের প্রবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×