somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মতিভ্রম-১ ( একটা বিধঘুট সপ্নের গল্প )

২৫ শে ডিসেম্বর, ২০২২ রাত ১:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিছানার এপাশ ওপাশ করতে করতেই কখন যে চোখ দুটো বন্ধ হয়ে এসেছিল বোধ পাইনি আকাশ ।
সচরাচর চারটার আগে ঘুম মহাশয়ের দেখা মেলে না।
আজ যেমন জলদি ঘুম এসেছিল ঠিক তেমনি ঠিক সোয়া চারটা বাজতেই বিধঘুটে সপ্নের আগমন আর সাথে ঘুমের অবসান।


কি সপ্ন দেখেছিল মনে নেই, তবে সপ্নের শেষ অংশে এক ঝাপটায় চোখ ছানাবড়া হয় আগের মতোই ।

ঘুম ভাঙ্গার পর দুটো ব্যাপার খুবই বিরক্ত করছিল আকাশকে।
প্রথমতো সপ্নের কথা মনে না করতে পারা আর দ্বিতীয়তো কম্বলের ফাঁক দিয়ে শিরশির করে বাতাসের অবাধ আনাগোনা ।

কম্বলের ফাঁকটা বন্ধ করে মাথা মুড়ি দিয়ে সপ্নটা মনে করার চেষ্টায় আবারও এপাশ ওপাশ শুরু করে আকাশ সকালের অপেক্ষায়।

সকালের সূর্যের আলো তৃতীয় বিরক্তির কারণ হয়ে উদয় হওয়ার সাথে সাথেই আরও একটা বিরক্তিকর কথা মনেপরে আকাশের-
যে এগারোটায় ডাক্তার ভোভোতোশের চেম্বারে যাওয়ার কথা তার ।

বিরক্তির কারণ দুটি একতো ডাক্তার বাবুর বিরক্তিকর নাম, দুই ডাক্তার বাবুর পদবী সাইকোলজিস্ট মানে পাগলের ডাক্তার।

রাতে ঘুম না আসা, খুব কষ্টকরে দুই একদিন আসলেও বড় জোর এক ঘন্টা তারপর আবারও ঘুম ভেঙ্গে যায় বিধঘুট সপ্নের আগমনে।
বিধঘুট সপ্নের কিছু বৈশিষ্ট্য আছে, রাত ভোর রঙ্গিন থাকলেও সকালে ঘুটঘুটে কালো হয়ে যায়।

সপ্নের মধ্যে নিয়মিত কেউ একজন রোজ আনাগোনা করে, যার আগমন ও প্রস্থানটা দুটোই বিরক্তিকর, অসহ্য রকম বিরক্তিকর।
ঘুমের মধ্যে এভাবেই নিজের মানসিক সমস্যাগুলোর বিশ্লেষণ করছিল আকাশ।

বেশ মনোযোগ দিয়ে শুনছিল ডাক্তার বাবু ।

হঠাৎ কি যেন মনে পড়ায়, নিজেতেই বিড়বিড় করে বলতে শুরু করলো ডিপ্রেশন, এক্সট্রিম ডিপ্রেশন। ইম্পুট এক্সট্রিম ডিপ্রেশন আউটপুট ইনসোমেনিয়া। ইকুয়েশন সিম্পল সিমটাম অব ইনসোমেনিয়া।

ডাক্তার সাহেব কি বলছিলো বুঝছিল না আকাশ কিন্তু তার বিরক্তির খাতায় যুক্ত হয় নতুন একটা বিষয় ডাক্তার সাহেবের টাকলা মাথার নিচে ফোকলা দাঁত সমেত বিচুমকিভুকার হাসিঁ ।

কিছুক্ষন জীবন নিয়ে মোটিভেশনাল স্পিস আর কিছু নতুন ঘুমের ঔষধ, সাথে বিগত তিন বছরের নিয়মিত রুটিন মাফিক চেকআপ শেষে বাড়ির পথে হাঁটা দিতেই আকাশের মনেপরে রিয়া কাচাঁ মরিচ নিতে বলেছিল।

কিন্তু এই রিয়াটা কে? রিয়া নাফিসের আম্মু, নাফিসটা আবার কে রে বাবা?

নাফিস আকাশেরই ছোট ছেলে অনেকক্ষণ হাঁটার পর আবিষ্কার করে আকাশ।

আকাশ-রিয়া তাহলে বাচ্চার নাম নাফিজ হলো কিভাবে? হয়তো নিজেই রাখেছিল কিন্তু কেন? নাফিজ নামটার কারণ খুঁজতে খুঁজতে দুটো লাইন কানে ভেসে আসছিল আকাশের,” বাচ্চার নাম কিন্তু আমার নামের সাথে মিল রেখে রাখবো, ছেলে হলে নাফিস, মেয়ে হলে নাফিজা।”

কোথায় থেকে আসছিল শব্দটা বুঝতে না পেরে এটাও মনের কল্পনা সিদ্ধ গল্পের অংশ ভেবে বিরক্তিকর মুখের ভঙ্গি নিয়ে হাঁটা শুরু করলো আবারও আকাশ।

নিলাদ্রী নামটা বেশ দাগ কাটে বারংবার আকাশের মনে।

গল্পটা শুরু হয় কলেজ জীবনের প্রথম বর্ষের মাঝামাঝি সময়ে, কলেজের বর্তমান ভিপি এবং আগামী ভিপি নির্বাচনের দাপুটে প্রতিনিধি আকাশ সেদিন নির্বাচনি প্রচারণায় বেশ ব্যাস্ত ছিল ।

কলেজের ছাদে দাড়িয়ে ব্যানারগুলোর অবস্থান নির্ধারণ করছিল আকাশ ।

নিচে হঠাৎ চিৎকার শুনে তাড়াহুড়ো করে নিচে নামতেই দেখে এক হুলস্থুল কান্ড ।

তার দলের সৌরভকে ইচ্ছেমতো মারছে কেউ, অন্য সময় হলে মানুষটা কলেজ থেকে ফিরতে পারতো না সুস্থ শরীর নিয়ে ।

কিন্তু একটা মেয়ের এতো সাহস অবাক করে আকাশকে ।

পরে জানতে পারে মেয়েটা সৌরভের প্রাক্তন নাম নিলাদ্রী, বিচ্ছেদের পর তার দেওয়া উপহারগুলো ফেরত না দেওয়ায় এমন করে মারছিল।

কিন্তু এত বছরপর কেনো সৌরভের ততকালীন প্রেমিকার কথা মনে দাগ কাটছে চিন্তা করতে করতেই রিয়ার ধমকে বুঝতে পারে আকাশ আজ আবারও নিশ্চই বাজারে কোন একটা গোজামিল করেছে সে এবং আজ আবারও নিশ্চিত দুপুরের খাবারে হরতাল তার ।

অন্যান্য খণ্ড
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে ডিসেম্বর, ২০২২ রাত ১:৪৮
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশে বর্তমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট: দায় কার?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৭


সংক্ষিপ্ত রায় সবচেয়ে বড় দায় বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নীতির। এর মধ্যে ২০০৯–২০২৪ সময়কালের সরকারের সিদ্ধান্তগুলোর দায় তুলনামূলকভাবে বেশি, কারণ ওই সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা দ্রুত বাড়ানো হলেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

যাপিত জীবন.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৭


১।মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশে জুম্মার নামাজ পড়ার সুযোগ হয়েছে। ১২.৫০ এ আজান তারপর ১.১৫ দিকে জুম্মার নামাজের সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ। আজানের কিছুক্ষণ পর খুতবা শুরু তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

মঞ্জুর চৌধুরর ছোট গল্প "একাউন্ট্যান্ট"

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:৪০

একাউন্ট্যান্ট

মঞ্জুর চৌধুরী


রফিকুল ইসলামের জীবনে সবচেয়ে বিলাসী জিনিসটি ছিল একটি কাঠের আলমারি।

আলমারিটা নতুন নয়। মিরপুর এগারোর যে দুই কামরার বাসায় সে আর শায়লা থাকত, তাদের বিয়েরও আগে থেকে বাড়িওয়ালার স্টোররুমে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট বিদ্যুৎও কি দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেল ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:১৪


শিরোনামটা একটু অদ্ভুত মনে হতে পারে। তবে কিছুদিন ধরে বিদ্যুতের দাম, ভর্তুকি আর লোডশেডিং নিয়ে যেভাবে আলোচনা হচ্ছে, তাতে প্রশ্নটা একেবারে অযৌক্তিক নয়। কারণ সরকার বদলেছে, কিন্তু বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

লংমার্চ নাকি ‘ফোর-হুইল ড্রাইভ’—ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম!

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৭

জামায়াতের নেতৃত্বে ১১ দলের আজকের লংমার্চ—ঢাকার শাপলা চত্বর থেকে শুরু হয়ে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হওয়ার কথা। শুনে মনে হলো, ইতিহাস বুঝি আবার হাঁটতে শুরু করেছে!

কর্মসূচির ছয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×