দাদীর কথা মনে পড়ছে খুব। জন্মগত অধিকারেই বাবা-মা আর আত্মীয়দের ভালবাসা পাওয়ার সৌভাগ্য সৃষ্টিকর্তা আমাকে দিয়েছেন। এত এত ভালবাসার মাঝে দাদীর ভালবাসার প্রকাশ ছিল সবচেয়ে নিঃশর্ত। তিনি আমাকে পড়াশোনার জন্য চাপাচাপি করেননি। অথবা চারিত্রিক কোন গুণাবলী অর্জনের সাফল্যের উপরও ওনার ভালবাসা নির্ভরশীল ছিলনা। তিনি আমায় ভালবেসেছেন নিছক ভালবাসার জন্য।
খুবই অবাক হয়েছিলাম আমার দাদীর নামকরণের ইতিহাস জেনে। নারীদের প্রতি অবহেলার এমন জ্বলজ্বলে দৃষ্টান্ত আমার জানা নেই। দাদীর বিয়ে হয় এগার (১১) বছর বয়সে। বিয়ের নিবন্ধন করতে গিয়ে দেখা যায়, বিগত ১১ বছরে ওনার কোন নাম রাখা হয়নি। তো যেহেতু নিবন্ধনের জন্য নাম প্রয়োজন। তাই বিয়ের আসরে আমার দাদীর নাম রাখা হয়। অত্যন্ত সুন্দরী হওয়ার কারণে কাজী সাহেব আমার দাদীর নাম রাখেন মোসাঃ ফটিকুন্নেসা। ফটিক নামের পেছনে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের কোন ভূমিকা নেই। ফটিক শব্দের অর্থ চাঁদ। আঠার শতকের শেষ ভাগে এতটা সৃজনশীলতার পরিচয় দেবার জন্য কাজী সাহেবের প্রতি আমার শ্রদ্ধার কথা তাঁর অজানাই থেকে গেছে।
মৃত্যুকালে দাদীর বয়স কত হয়েছিল তার নির্ভুল হিসেব জানা সম্ভব হয়নি। বিভিন্ন ঘটনার বর্ণনা থেকে আমার ধারণা হয়েছে দাদীর জন্ম হয়েছিল ১৮৮৫ সালের কাছাকাছি কোন সময়ে। তাঁর মৃত্যু হয় ১৯৯৮ সালে। আমার স্মৃতিতে দাদী বয়সের ভারে কোমরের কাছে সমকোণে নুয়ে পড়া একজন মানুষ। আমার প্রতি যার ভালবাসা ছিল সীমাহীন। নানা অপরাধে আম্মা যখন ভয়ংকর মূর্তি ধারণ করে শাস্তি দিতে তৈরি হতেন, তখন দাদীর আঁচলই ছিল আমার নিরাপদ আশ্রয়।
দাদীকে দেখিনা আজ প্রায় সতের বছর। বেতন পাওয়ার পর মাঝে মাঝে আমার ইচ্ছে হয় দাদীর জন্য কিছু কিনি। তখন আমি আমার পছন্দের কোন খাবার কিনি প্রচুর পরিমানে। কারণ আমি জানি দাদী বেঁচে থাকলে, আমাকে তৃপ্তি নিয়ে খেতে দেখলেই সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ বিকাল ৫:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



