
ভাই, আমি দেশকে ভালবাসি। বিদেশী কোন দলের সাথে যখন আমার দেশের খেলা হয়, চিৎকার করে আমি গলা ভেঙ্গে ফেলি। বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবসে নিজেকে আমার দেশের পতাকা দিয়ে মুড়িয়ে নিয়ে হইচই করি। ভাষা আন্দোলনের দিনে বুকে লাগাই কালো কাপড়। গলা ফাটিয়ে ফেলি সালাম, রকত, রফিক, জব্বার ভাইদের নামে চিৎকার করে। পহেলা বৈশাখ, চৈত্র সংক্রান্তি আর ফাল্গুন মাসের এক তারিখেও আমার লাফালাফি থাকে উল্লেখযোগ্য।
এমনি কোন এক উৎসবের মাঝে যদি চোখে ছানি পড়া কোন অতিশীপর বৃদ্ধ ছেড়া আর ময়লা একটা মুক্তিযুদ্ধের সনদ দেখিয়ে ভিক্ষা চেয়ে পেছন থেকে জামা টেনে ধরে, তবে ভ্রু-যুগল কুচকে হ্যাঁচকা টান মেরে জামা ছুটিয়ে কেটে পরতে পরতে ভাবি, কত বড় ছোটলোক ! মহান মুক্তিযুদ্ধের সনদ দেখিয়ে ভিক্ষা চায়! সাহস কত বড়! “নিচু জাতের” ওই বুড়োটাকে থেমে দাঁড়িয়ে দু-ঘা না লাগানোর জন্য পরে চায়ের দোকানের আড্ডায় বসে কিছুটা আফসোসও হয় বটে।
যাক, ছোটলোকগুলোর ছোট চিন্তা না করাই আমার জন্য সম্মানের। ওদের মত আমাকে তো নেকড়ের চোয়াল থেকে স্বাধীনতাকে টেনে বের করতে হয়নি ! আমি স্বাধীনতা পেয়েছি জন্মসূত্রে। যে ছোটলোকগুলো বুকের রক্তের বিনিময়ে নিশ্চিত করেছে আমার জন্ম-পরবর্তী পরিচয়, তাদের সেই অকৃত্তিম আর তীব্র লাল রক্ত মেখে সঙ সেজে আমি পালন করি পাশ্চাত্যের “ভূত উৎসব”। শতহোক, এখন বিশ্বায়নের সময়। বিশ্বের সাথে তাল না মেলালে তো চলেনা ।
বিঃদ্রঃ- ছবিটি google থেকে সংগৃহীত...।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে ডিসেম্বর, ২০১৬ সকাল ৯:৩১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



