
আজ ২৫শে বৈশাখ কবি গুরুর জন্মজয়ন্তী । আমরা সবাই এই দিনে তাঁকে বিভিন্ন ভাবে স্মরণ করে শ্রদ্ধা জানাই । আমি কবির প্রিয় কিছু খাবারের রেসিপি আপনাদের সাথে শেয়ার করেই উনার প্রতি আমার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা নিবেদন করছি ।
ঠাকুর পরিবারের শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চা বাঙালি জীবনকে নানাভাবে সমৃদ্ধ করেছে। পোশাক-পরিচ্ছদ, তাদের প্রসাধনী, ঘরকন্না, রান্না-বান্না, সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চা ইত্যাদি ক্ষেত্রে ঠাকুর বাড়ির মেয়েরা ছিলেন । এ জন্য অবশ্য রবীন্দ্রনাথ ও তার দাদাদের উদার মানসিকতা আর উন্নত সংস্কৃতি চেতনাই ছিল মূল প্রেরণা।
কবি গুরু খাবরের তালিকায় লিখতেন আমস্বত্ত, দুধ ও সন্দেশ আর আহারের সময় খেতেন নিমপাতার সরবত। বিভিন্ন রকমের সাহিত্য সৃষ্টি যেমন উনার নেশা ছিলো ঠিক তেমনি খাদ্য রসিক ছিলেন কবি গুরু।

মাত্র ১২ বছর বয়সে বাবা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে দেশ ভ্রমণে বের হন। তারপর প্রতিটি দেশের ভালোলাগার খাবার গুলো স্থান পেতো ঠাকুর বাড়ির হেঁশেলে ।

ইউরোপের কন্টিনেন্টাল ডিসের অন্তর্গত ফ্রুট স্যালাড ঠাকুর বাড়িতে চালু করেছিলেন। কবি জাপানি চা পছন্দ করতেন সঙ্গে তাদের চা খাওয়ার রেওয়াজটিও। তিনি জাপানে গেলে প্রায় প্রতিদিন তার জন্যে টি সেরিমনির আয়োজন করতো তার গুণমুগ্ধরা।

১৯১২ সালে "গীতাঞ্জলী "র ইংরেজী অনুবাদ প্রকাশিত হয়। ওই দিনের অনুষ্ঠান আয়োজন করেছিলো ইন্ডিয়ান সোসাইটি, লন্ডন। সেদিনের খাদ্য তালিকায় ছিলো গ্রিণ ভেজিটেব্ল স্যুপ, ক্রিম অফ টমেটো স্যুপ, স্যামন ইন হল্যান্ডের সস অ্যান্ড কিউকাম্বার, প্রি সল্টেড ল্যাম্ব উইথ গ্রিণ ভেজিটেবল, রোস্ট চিকেন, ফেঞ্চ ফ্রাই, গ্রিণ স্যালাড ও আইস্ক্রিম।

শ্রুতি মিঠা কাবাব, হিন্দুস্তানি তুর্কি কাবাব ও চিকেন কাবাব নোসি এগুলোও খুব পছন্দ করতেন।শুনা যায় কবি পত্নী মৃণালীনি দেবীও খুব ভালো রান্না করতেন। ঠাকুর বাড়ির সবাই উনার ভক্ত ছিলো।কবির অনুরোধে মাঝ রাতেও নাকি কবি পত্নী মজাদার খাবার বানাতেন।

ঠাকুরবাড়ির হেঁসেলের রান্না সুঘ্রাণ ছড়ায় বাঙালির খাবারের পাতে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভ্রাতুষ্পুত্রী ইন্দিরা দেবী চৌধুরানী ভালো রান্নার সমঝদার ছিলেন খুব। নেমন্তন্নে বা কারও বাড়িতে যে রান্নাই ভালো লাগত, রেসিপি লিখে রাখতেন লম্বা, মুদির খাতার মতো দেখতে এক খাতায়। নতুন বউ প্রণাম করতে এলে তাঁকে আশীর্বাদ করেই জিজ্ঞেস করতেন, তাঁর রান্নার ক্ষমতা সম্বন্ধে। নতুন বউদের অবস্থা তখন কী হতো, তা এখন কে বলবে? কিন্তু ইন্দিরা দেবীর সেই রান্নার খাতাকে ভুলে যেতে দেননি ঠাকুর পরিবারের আরেক সদস্য পূর্ণিমা দেবী। তাঁর মা নলিনী দেবী ছিলেন মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথের জ্যেষ্ঠ পৌত্র দ্বিপেন্দ্রনাথের মেয়ে। তিনিও খুব ভালো রাঁধতেন। পূর্ণিমা দেবীর মা নলিনী দেবী, নমা ইন্দিরা দেবী এবং নিজের সংগ্রহ করা কিছু রান্নার রেসিপি নিয়ে পূর্ণিমা দেবীর নিজের লেখা বই ঠাকুরবাড়ির রান্না (১৯৮৬) আর সেখান থেকে কিছু পদ তুলে দেওয়া হলো এবারের "আমাদের সময় "পত্রিকায় রবীন্দ্র জন্ম জয়ন্তীর আয়োজনে । আমি চেষ্টা করেছি সেই সময়ের খাবারের সঠিক উপকরণ ও প্রনালী ধরে রাখতে । ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমাপ্রার্থী ।
বিশেষ ধন্যবাদ Labonno Lipi আপু ও Faisal Sumon ভাই
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে মে, ২০১৭ রাত ১১:১০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



