somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমি ভালো আছি ,খুব ভালো

১৯ শে এপ্রিল, ২০১৭ সকাল ৮:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজকে একটু বেশী সময় নিয়ে বসেছি কিছু লিখবো । লেখালেখিটা এখন আমার নিত্য নৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছ। তাই প্রায় রজনীতেই না লিখতে পারার আক্ষেপ আমাকে নিদ্রাহীন রাখে। আমিও কম যায় না। কত কিছু মনে আসে, ভাবি আর স্বপ্নের মেলবন্ধনে উড়িয়ে দিতে চাই আমার আপন সত্তাকে।

আসলে মৃত্যুর কথা আজকাল বড্ড বেশি মনে হয় । মনে হয় খুব দ্রুতই আমি নিজেকে সবকিছুর থেকেই আড়াল করে নিবো । যদিও আমার বিশ্বাস নিজে আড়াল করে ফেলার ক্ষমতা আমার নেই। কেননা আমি আসলে বড্ড বেশী ভীতু। সমাজ সংসার থেকে পালিয়ে বাঁচবার জন্য আসলে এইসব ভেবে বেড়াই। ভাবাটা একেবারে অমূলকও নয় । এক কঠিন যন্ত্রণা কাঁধে বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছি । এর থেকে পরিত্রাণের উপায় আমার কিংবা আমার পরিবারের জানা নেই।

তারবিহীন ফোনের ওপারে শ্রদ্ধাস্পদ বাবা আমার করুণ কণ্ঠস্বর শোনে এক অজানা আতঙ্কে কেঁপে উঠেন । আমিও আর নতুন কোন শরীর খারাপের গল্প এই মানুষটার সাথে বলতে চাই না। ইচ্ছেও করে না। নিজেই এই কঠিন যন্ত্রণার ভাগ আমি কাউকেই দিতে পারবো না। শুধু শুধু মনোবেদনা বাড়িয়ে কী লাভ?

আমার গ্রামের যে দৃশ্য আমার চোখে এখনো ভেসে বেড়ায় তার অনেক কিছুই এখন আর আগের মত নেই। জায়গা বদল হয়নি কিন্তু পাল্টেছে দৃশ্যপট। কেবল আমার মা ও তার ভালোবাসা বদলায় নি। মায়েরা বদলায় না কেন যেনো। আমার মা আমাকে কখনো বকে না। আমার এই ক্ষুদ্র বর্ণিল জীবনে মায়ের নরম মুখচ্ছবি কখনো কঠিন হতে দেখিনা। ১৪ বছর বয়সে যখন আমি স্বার্থপরের মতো গ্রামের শিকলটা ছিঁড়ে আসি, তখনও দেখি রাস্তার ওপারে নরম মুখ, জল ঢাকার ব্যর্থ চেষ্টা তাঁর মাঝে। নিজেকে ক্ষুদ্র মনে হতে থাকে। আর হয়তোও চাইলেই বাড়ি ফিরতে পারব না। ফিরব শুধুই অতিথি হয়ে।

ছোটবেলায় যে মানুষটির আমি মৃত্যু কামনায় মসজিদে মোম দেবার মানত করতাম অদ্ভুতরকমভাবেই এই মানুষটিই আমার জীবনের সেরা বন্ধু হয়ে উঠছে। কিন্তু এক কঠিন বাস্তবতা আমাকে বারবার তার কাছে থেকে দূরে সরিয়েছে, এখনো সরাচ্ছে। আমি সত্যি অপদার্থ । নাহয় কেনইবা এই বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে তার সামনে যাচ্ছি না। মাঝে মাঝে খুব ইচ্ছে করে গলা জড়িয়ে ধরে চোখের কোণে বৃষ্টি নামাই। আর কানে কানে চুপিসারে বলি ভাইয়া তোকে খুব বেশি ভালোবাসিরে...

প্রতিবার বাড়ি আসার সময় রাস্তা থেকে আমাকে নামতে দেখেই দৌড়ে আসা মানুষটাও আমাকে ভীষণরকম মিস করে। বাবার মুখে আমার বাড়ি আসার কথা শুনে হয়তো অধীর আগ্রহে আমার অপেক্ষা করে থাকে। হয়তো ভাবে তার ছোট ভাইয়াটা ঢাকা থেকে তার জন্য কিছু একটা নিয়ে আসবেই। কিন্তু আমি বরাবরই ভাই হিসেবে ব্যর্থতার পরিচয় দিই। আশ্চর্যরকমভাবেই এই মেয়েটি কখনোই মন খারাপ করে না বরং আশায় বুক বাঁধে অন্য কোন ফিরে আসার।

যে মানুষটাকে নিয়ে আমার গর্বের কোন শেষ নেই, যার প্রতিটি কথা আমার কানে সদা উপদেশের মত বেজে উঠে, যার সাথে একদিন কথা না বললে আমার হৃদকম্পন বেড়ে যায়,যার ভালবাসামাখা শাসন এখনো বড্ড বেশি নস্টালজিক করে তোলে, সে আর কেউ নয় আমার একমাত্র মেডিকেল পড়ুয়া আদরের বুড়ি। ইদানিংকালে বুড়ির সাথে আমার সম্পর্ক ক্রমশই এক অজানা পথের দিকে বেঁকে যাচ্ছে। সে আর সেই ছোটটি নেই, নিজের পথ চলার রাস্তাটা দিয়ে একা চলতে শিখে গেছে। পরিবারের বাইরেও নিজের এক জগত গড়ে তুলেছে। সেই জগতে হয়তো আমার ঠাই নেই। হবার কথাও নয়। তাকেও যে নিজের থেকে কতটা বেশিই ভালবাসি বলতে পারিনি।

আমার এই বিবর্ণ দেহে প্রাণের অস্তিত্ব ছিল না বহু আগেই। কেবল জীবনের রেসে ছুটেছি আর ছুটেছি। জানি অন্তরাত্মার ক্রন্দন শোনার জন্য কোটি মানুষ অপেক্ষা করে নাই। উপরের বর্ণনাকৃত মানুষগুলোই আমার জীবনের অনুপ্রেরণা। যারা অবিরত স্বপ্ন দেখে যাচ্ছে জীবনস্রোতে ফিরে আসার।

২৭ আগস্ট ২০১৪,এই দুনিয়া বরাবর একটা সুইসাইড নোট লিখেছিলাম চলে যাবার, পারিনি। প্রতিশোধ বোধের নেশায় তখন উন্মত্ত আমি, নিজেকে আশ্বস্ত করে একরাশ ঘৃনাদৃষ্টি ছুড়ে দিয়েছিলাম মৃত্যুর উপর। আজ মনে হচ্ছে কঠিন যন্ত্রণা নিয়েও পৃথিবীতে বেঁচে থাকাই আসলে চরম ও পরম স্বার্থকতা। চোখের সামনেই কত মানুষকে দেখছি বাঁচার জন্য লড়াই করে যাচ্ছে । কতজনেই বাঁচতে পারে?

তবুও বলবো - আমি ভালো আছি ,খুব ভালো ।


শনিবার, মে ‎২৩, ‎২০১৫ সময় ০৫:৫৬:০৩ ভোর
ওয়াদুদ ভিলা
কলেজ রোড, ময়মনসিংহ
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে এপ্রিল, ২০১৭ সকাল ৮:১৫
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেশভাগ কি জরুরি ছিল?

লিখেছেন রাজীব নুর, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২২



'...শুন্যে দিলাম উড়ারে ভাই যাইতে চান্দের চর,
ডানা ভাইঙ্গা পড়লাম আমি কইলকাত্তার উপর ।
তোমরা আমায় চিনোনি... '

পাকিস্তানের জাতীয় কবি আল্লামা ইকবাল-
তার বাবাকে কথা দিয়েছিলেন তিনি কবিতা লেখার... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

শরিয়াতন্ত্রের নিষ্ঠুরতা, ধর্মীয় উগ্রবাদ ও নৈতিক দেউলিয়াপনা

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৭


পৃথিবীজুড়ে মুসলমানদের প্রতি ঘৃণা বাড়ছে। এই বিদ্বেষ শুধু ইসরায়েল বা তার পৃষ্ঠপোষক ডানপন্থী দেশগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। কানাডার মতো তুলনামূলকভাবে মধ্যপন্থী এবং ফিলিস্তিনের প্রতি জোরালো রাজনৈতিক সমর্থন থাকা আয়ারল্যান্ডের মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×