somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ধারাবাহিক উপন্যাস : অস্বস্তি

০৪ ঠা মে, ২০১৫ বিকাল ৩:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



এক

-হলুদ রঙের প্যান্ট কিনে আনলে কেন?

-দেখ রুবি, তুমি রাগ করছো কেন? আমার সব প্যান্টই হয় কালো বা অ্যাশ কালারের। তাই ভাবলাম একটু ভেরিয়েশন আনার জন্য একটা শকিং কালারের প্যান্ট কিনি। তাই এই প্যান্টটি কিনেছি।

অফিস থেকে ফিরেই আনিসের এই হলুদ রঙের প্যান্টাটা দেখে আমার মেজাজটা চরমে উঠলো। একটা মানুষ এতটা অগোছালো হয় কি করে? আনিস এমন একটা মানুষ যার কোন কিছুই আমার পছন্দ হয় না। দেখা যাবে আমি একটু খেয়াল না করলে সে কালই অফিসে এই হলুদ রঙের প্যান্ট পড়ে রওয়ানা হবে।

-কি হলো, রুবি, কথা বলছ না কেন? একটা প্যান্ট নিয়ে শুধু শুধু এতটা রাগ করা কি ঠিক? আর আমি এই প্যান্টটা তো তোমার জন্য আনিনি, তাহলে তুমি কোন যুক্তিতে রাগ করছো?

এই হলো আনিস! যার নিজের কোন কিছুতেই খেয়াল নেই। সেই সঙ্গে আমার দিকেও কোন খেয়াল নেই। আমি যদি সেজেগুজে ওর সামনে যাই ও কিছুই খেয়াল করেনা, অফিস থেকে এসেই ওর জুতাগুলো দরজার সামনেই ফেলে এসেছে। আমাকে এগুলো তুলে রাখতে হয়েছে। এখানে মেঝেতে ওর অফিসের ব্যাগ, প্যান্ট, শার্ট সবই পড়ে আছে, এসব নিয়ে ওর সাথে আমার অনেক ঝগড়া হয়েছে।

অথচ আনিসের কোন বিষয়েই কেউ কোন দোষ দিতে পারবে না, সে সবার সাথে ভালো ব্যবহার করে বিশেষ করে আমার পরিবারের লোকরা ওকে খুবই পছন্দ করে। আর আমি যা বলি ও তা-ই করার চেষ্টা করে, কখনওই আমার অজান্তে কিছু করে না। তাই ও-কে আমার কাছে একজন ভালো মানুষ মনে হয়, কিন্তু কোন ভালো লাগার মানুষ মনে হয় না।

ভালো-লাগার মানুষ! হ্যাঁ, ওতো আমার ভালো-লাগার মানুষই ছিলো। পরিবারের সবার অমতে আমি ওকে বিয়ে করেছি, আর বিয়ের পরই ওর কদর্য রূপের সামনে আমাকে পড়তে হয়েছে। প্রতিনিয়ত ওর এই কদর্য রূপ আমাকে চরম অস্বস্তিকর জীবনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। ওর কদর্য রূপ প্রথম আমার চোখে পড়ে বাসর রাতে, বাসর রাতে ও ঘরে ঢোকে স্যান্ডো গ্যাঞ্জি পরে। ও আমার দিকে তাকিয়ে দাঁত বের করে হাসছিল, আর রাগে আমার সমস্ত শরীরে আগুন জ্বলছিল!


এই যে আমি চুপচাপ বারান্দায় বসে আছি, আমি জানি আনিসের এটা নিয়ে কোন মাথা ব্যথা নেই, ও এখন ওর মুঠোফোনে গেমস খেলছে ওর নকিয়া ১১০০ মোবাইলে স্নেক বলে একটা গেম আছে। ওর ইচ্ছা এটার অষ্টম ধাপে যাবে, এটার জন্য অফিস থেকে এসে প্রতিদিনই খুব চেষ্টা করছে, উকি দিয়ে ওর দিকে চেয়েই মেজাজটা আরো খারাপ হলো। খালি গায়ে মেঝেতে শুয়ে শুয়ে গেমস খেলছে, লুঙ্গিটা উঠে গেছে হাটুর উপড়ে! উফ্ একটা মানুষ এতটা বিরক্তিকর হয় কেন?

- রুবি চলো খেয়ে নেই! খিদা লেগেছে ।

- টেবিলে খাবার দেয়া আছে, খেয়ে নাও, আমি খাব না।

- আচ্ছা তুমি আমার হলুদ প্যান্টা নিয়ে ক্ষেপে আছো? ঠিক আছে কালই আমি এই প্যান্টটা পাল্টে আনব। এবার চলো খেয়ে নেই। খুব খিদা লেগেছে।

-তুমি হলুদ কিংবা লাল রঙের প্যান্ট পড়লেই বা কি?

-দেখ রুবি, আমি জানি তুমি আমার চালচলনে খুবই বিরক্ত হও! কিন্তু আমিতো মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছি। প্রতিদিন অফিস থেকে এসে এমন দেখতে ভালো লাগে না। আমি কি তোমার কোন কিছু মাথা ঘামাই? তুমি কি পরো না পরো সেটা নিয়ে তো আমি তোমাকে কখনো বিরক্ত করি না। তাহলে তুমি এমন করছো কেন?

-তোমার মাথা থাকলে তো মাথা ঘামাবে, তুমি যেই রকমের মানুষ তোমার বিয়ে করা উচিৎ হয় নাই। উচিত ছিল একা একা থাকা, আশেপাশের মানুষের তোমার কাছে কোন অস্তিত্ব নেই। তুমি হচ্ছো একটা রোবটিক মানুষ!

-সামান্য একটা প্যান্ট এর জন্য কেন তুমি আমাকে এতো কথা শুনাচ্ছে? আমি তো বললাম কাল এটা বদলে নিয়ে আসব! প্রমিজ! বউ, এবার চলো ভাত খেয়ে নেই খুব খিদা লাগছে।

-আমি খাবো না, তুমি খেয়ে নাও।
আচ্ছা যাও, কাল থেকে তুমি যেভাবে বলবে, আমি ঠিক সেভাবে চলার চেষ্টা করব। প্লিজ, বিশ্বাস কর। কাল থেকে তুমি আমার সম্পূর্ন অনুরূপ দেখবে, বিশ্বাস কর, প্লিজ, বিশ্বাস কর।

-সত্যি বলছ?

-হ্যাঁ, সত্যি বলছি, চলো এখন ভাত খেয়ে নেই, চলো। তুমি টেবিলে গিয়ে ভাত বাড়, আমি স্নেক গেমটা আরেকবার চেষ্টা করে দিখে! শালা, একটা জায়গায় গিয়ে শুধু বারবার আটকাইয়া যাচ্ছি।

এই হচ্ছে আনিস, একটু আগে কি শপথ করলো পর মুহুর্তেই সব ভুলে গেলো! ওফ্ , আমার এই অস্বস্তির সঙ্গে বসবাস চলতেই থাকবে, চলতেই থাকবে!
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা মে, ২০১৫ বিকাল ৩:১৫
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিদায় বন্ধু

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ২৩ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:৫১

ইফতার করে আজ সন্ধ্যের দিকে একটু হাটতে আর চা খেতে বের হয়েছিলাম। বিগত কয়েকদিনের মতোই গিয়ে দেখি চায়ের রেস্টুরেন্ট আজও বন্ধ। উপায় না দেখে ছোট একটা দোকান থেকে মেশিনে তৈরী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডার্ক ওয়েব সংবাদ : অনুসন্ধানী রিপোর্ট

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৪ শে মার্চ, ২০২৬ ভোর ৫:১২

ডার্ক ওয়েব সংবাদ : অনুসন্ধানী রিপোর্ট এর সত্যতা কতটুকু ?
সাধারণ মানুষ জানতে চায় !




বাংলাদেশ কি বিক্রি হচ্ছে ডা*র্ক ওয়েবে ?
Redlineinvestigation নামে ডা*র্ক ওয়েবের কেবল ফাইলে চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট ফাঁস... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরান বনাম ইজরাইল আমেরিকা যুদ্ধ; কার কি লাভ?

লিখেছেন খাঁজা বাবা, ২৪ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:১৮



২০০৬ থেকে আহমাদিনেজাদ ইজরাইলকে বিশ্বের মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার হুমকি দিয়ে আসছে, আমেরিকা ২০০২ থেকে ইরানে হামলার প্ল্যান করছে, নেতানিয়াহু ৪০ বছর ধরে স্বপ্ন দেখছেন ইরানে হামলা করার। তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

মিথ্যাবাদী কাউবয় "ট্রাম্প" এবং ইরান যুদ্ধের খবর

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২৪ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:৫৯


দিনের শুরুটা হলো ট্রাম্পের মিথ্যা দিয়ে। তিনি লিখলেন: "ইরানে সামরিক হামলা পাঁচ দিনের জন্য বন্ধ রাখা হচ্ছে, যা আলোচনার সাফল্যের ওপর নির্ভর করবে।" পরে জানা গেলো, ট্রাম্প যথারীতি মিথ্যা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার হারিয়ে যাবার গল্প

লিখেছেন রানার ব্লগ, ২৪ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৫:৩২

তোমাকে আমি কোথায় রাখি বলো,
চোখের ভিতর রাখলে
ঘুম ভেঙে যায় বারবার,
বালিশের নিচে রাখলে
স্বপ্নে এসে কাঁদো।

তুমি কি জানো
আমার এই শরীরটা এখন
পুরোনো বাড়ির মতো,
দরজায় হাত দিলেই কেঁপে ওঠে,
জানালায় হাওয়া লাগলেই
তোমার নাম ধরে ডাকে।

আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×