somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মুক্তি মিলুক টেনে ধরার সংস্কৃতি থেকে

০৯ ই মে, ২০১৪ রাত ৮:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাঙালি চরিত্রের অন্যতম সমালোচিত বিষয় হচ্ছে একজনের প্রতি আরেকজনের ঈর্ষা। বলা হয়ে থাকে, বাঙালিদের জাহান্নামে নাকি প্রহরীর দরকার হবে না। কেননা জাহান্নাম থেকে তাদের পালানোর সুযোগ থাকলেও একজন পালাতে গেলে অন্যরা পা ধরে টেনে নামিয়ে ফেলবে, যাতে কেউ মুক্তি না পেতে পারে। এ চরিত্রের কারণে সুযোগ থাকা সত্ত্বেও এ জাতিটি কখনোই এগিয়ে যেতে পারলো না। ছোট্ট একটা ভূ-খণ্ডে বিশাল সংখ্যা নিয়ে হাস-ফাঁস করে মরছে। আর ব্যতিক্রম হিসেবে যারা বের হতেও পেরেছেন তাদেরকেও প্রতিনিয়ত ‘বাঙালি’ বলে গালি দেওয়া হয়। অপরকে টেনে নামিয়ে নিজে এগিয়ে যাওয়া চেষ্টার এই প্রবণতা সর্বত্র। গ্রামের একজন মেম্বার হওয়ার জন্যও একে অপরকে খুন করে ফেলে, নিজের এগিয়ে যাওয়াকে নিষ্কণ্টক করার জন্য। আর রাস্তা-ঘাটে এটাতো নিত্য-নৈমত্তিক দৃশ্য। ট্রাফিক সিগনালে কে কাকে ফেলে নিজে এগিয়ে যাবে এই নিয়ে প্রতিযোগিতার সৃষ্টি হয়। ফলটা হয় এই যে- তখন গাড়ি নিয়ে এক বাঙালি আরেক বাঙালির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে রাস্তায় জট লাগিয়ে মাকড়সার জালে আবদ্ধ মাছির মত দাপাদাপি করে, ঘামে মরে। যেখানে পাঁচ মিনিট অপেক্ষা করলেই মুক্তি মিলতো সেখানে এক ঘণ্টা বসে থাকো। অবশ্য দীর্ঘ এই সময়টা তারা কাটায় একে অন্যের উপর দোষারোপ, খিস্তি-খেউড় আর ট্রাফিক পুলিশের গুষ্টি উদ্ধার করে।

এখানে, এই ভূ-খণ্ডে ব্রিটিশদের দ্বারা প্রায় দু’শো বছর সরাসরি গোলামীর পর তাদের শিখিয়ে বহু দলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে কার্যকরী করা হয়েছে। পার্থক্য হয়েছে এই যে, প্রভুরা আগে আমাদেরকে দুই টুকরা করে খেত আর এখন গলাধঃকরণের সুবিধার্থে টুকরার সংখ্যাটা বাড়িয়েছে নিয়েছে মাত্র। আর উপরি হিসেবে আমাদের কপালে জুটেছে চরম জাতীয় অনৈক্য ও বিভক্তি। প্রত্যেকটি দলের আলাদা আলাদা কর্মসূচি, আলাদা আলাদা এজেন্ডা। কর্মসূচিগুলোর উদ্দেশ্য সেই অপরকে ল্যাং মারা। একদল ক্ষমতায় আরোহণ করলে অন্যরা তাকে টেনে-হিঁচড়ে নামানোর লড়াই চালিয়ে যায়। এজন্য এমন কোন পন্থা নেই যা তারা গ্রহণ করে না। কারণ, Nothing is unfair in love and war.

অন্যদিকে আবার যারাই ক্ষমতায় গিয়ে থাকুক না কেন, তারাও বিরোধী দলগুলোর চরিত্র সম্বন্ধে সম্যক অবগত। তারাও ঐ ক্লাস পাশ করেই ক্ষমতায় এসেছে। এবার বিরোধী দলকে টেক্কা দিয়ে বেঁধে রাখতে পারলে তারা ক্ষমতায় থাকতে পারবে আর না হলে মেয়াদ পূর্তির আগেই তল্পি-তল্পা গুটিয়ে বিদায় নিতে হবে। ভাগ্য খারাপ হলে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগে কাঠগড়ায় দাঁড়ানো, চৌদ্দ শিকের অন্তরালে দিনগুজার অথবা যারা নতুন করে ক্ষমতায় আরোহণ করেছে তাদের অনুগত বাহিনীর বিরুদ্ধে নিরন্তর লড়াই চালিয়ে যেতে হবে- যত দিন না আবার ক্ষমতা ফিরে পাওয়া যায়। সুতরাং এই সব বিষয় মাথায় রেখে বিরোধী দলকে দমিয়ে রাখতে গিয়ে মেয়াদের একটি বিশাল অংশ ও শক্তি ব্যয় হয়ে যায়, যার প্রভাব পড়ে জাতীয় উন্নয়নে।

এই সংস্কৃতির কুফল কি তা আর নতুন করে ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন নেই। প্রতিনিয়ত অপহরণ, খুন, গুম, অধিকার আদায় এবং দাবি-দাওয়া পূরণের নামে সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য হরতাল, অবরোধ, সাধারণ মানুষের জান-মালের ক্ষয়-ক্ষতি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বৈদেশিক বিনিয়োগে বিরূপ পরিবেশ ইত্যাদি সব কিছু মিলিয়ে জাতি আজ লেজে গোবরে হয়ে আটকে আছে। মাড়সার জালে আটকে পড়া মাছির মত ভোটার শ্রেণিটি ছটফট করে মরছে। আমাদের বানানো সিস্টেম আমাদেরকেই ধীরে ধীরে গ্রাস করে নিয়েছে।

এই অবস্থা থেকে মুক্তির একটা মাত্র পথ আছে। অবশ্য সেটা এ জাতি গ্রহণ করবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। কেননা এপথ গ্রহণের জন্য যতটুকু মানসিক শক্তি, সাহস ও উদ্যম প্রয়োজন তা এ জাতির মধ্যে অনেকাংশেই হ্রাস পেয়েছে। যদি তাদেরকে বলা হয় যে, আপনারা একে অপরকে পেছন থেকে টেনে ধরার সংস্কৃতি বাদ দিন, অন্যের জন্য পথ ছেড়ে দিন, সে আগে যাক, তারপর আপনি যান। এখানেও প্রশ্ন আসবে শুরুটা করবে কে? আপনি এত মহান তাহলে আপনি আগে শুরু করেন?
আসলে আমাদেরকে পরিণামদর্শী হতে হবে। বুঝতে হবে আমি যখন আরেকজনকে টেনে ক্ষমতা থেকে নামাচ্ছি তখন আমিই ভাগ্যে যোগ করে নিচ্ছি যে, আমি যখন ক্ষমতায় যাবো সেও অনুরূপ আমাকে টেনে নামাবে। অনন্তকাল এই ধারা চলতে থাকবে আর নিজেদের সৃষ্ট এ অশান্তির আগুনে আমরা পুড়তে থাকবো।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই মে, ২০১৪ রাত ৮:৪৩
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

দেখা হবে যুদ্ধ ফুরোলে সন্ধের মাহফিলে;
দেখা হবে ঠিক চেনা রাস্তার অচেনা-অন্ত্যমিলে।
ছড়াব আবার শস্যের দানা দেশ থেকে মহাদেশে
মানুষই জেতে, খুঁজে নেয় আলো অন্ধকারের শেষে...

তোমার গল্পে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×