somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কতজন বখাটেকে শাস্তি দেওয়া যাবে?

০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ রাত ৮:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বখাটেদের যন্ত্রণায় আরেক স্কুল ছাত্রী উম্মে কুলসুমের আত্মহত্যার ঘটনা বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। মাদারটেক-নন্দীপাড়ায় সৎ পিতার সংসাদের যত্নে লালিত উম্মে কুলসুম স্থানীয় মাদকাসক্ত ও বখাটে ছেলে শিমুল চন্দ্রের দ্বারা উত্যক্ত হয়ে আসছিলো অনেক দিন থেকেই। ঘটনার দিনও একইভাবে শিমুল উম্মে কুলসুমকে অপমান ও অকথ্য গালি-গালাজ করায় অভিমানে, দুঃখ ও ক্ষোভে বিষপান করে আত্মহত্যা করেছে নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া ঐ কিশোরীটি। সবাই এ ঘটনার পেছনে দায়ী বখাটে যুবক শিমুল চন্দ্রের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছেন যাতে ভবিষ্যতে কেউ আর নারীদেরকে উত্যক্ত করতে সাহস না করে। প্রতিবারই কোন বড় ধরনের ঘটনা ঘটলে, অর্থাৎ বখাটেদের উৎপাতে একমাত্র আত্মহত্যা করলেই মানুষের মধ্যে সাড়া পড়ে। মিটিং হয়, মিছিল হয়, মানববন্ধন হয়। কিন্তু ঘটনার ক’দিন পরেই সবাই সব ভুলে যায়। আরেকটি আত্মহত্যা না হওয়া পর্যন্ত আমরা ভিন্ন কোন টপিক নিয়ে রত থাকি। যেন বিবেকবানদের বিবেকের তাড়না জাগাতে প্রতিবারই একজন নারীকে আত্মহত্যা করতে হবে, একজন নারীকে বলিদান করতে হবে। না হলে সুশীল দেবতা প্রসন্ন হবেন না। আর সমাজের সুশীলতার চর্চাকারীরাও এ নিয়ে আলোচনা করবে না। কোন প্রতিরোধ হবে না। আসলে আমাদের এই প্রতিবাদ, আত্মহত্যাকারীর প্রতি সহমর্মীতা কি সত্যিকার অর্থেই আন্তরিক, নাকি শুধুই লোক দেখানো, শুধুই আমাদের কপট সুশীলতার অংশমাত্র?

আমাদের সমাজের এই দুরাবস্থার কারণ কি, আমরা এত নিচে নেমে গেলাম কেন? আমাদেরকে এত ভণ্ডামী ও কপটতার আশ্রয় নিয়ে থাকতে হচ্ছে কেন? এর পেছনে কী শুধু অপরাধীরাই দায়ী? না, মূলত তা নয়।

মহাভারতের কাহিনী অনুসারে কুরুরাষ্ট্রের ভরা সভায় যুবরাজ দুর্যোধনের আদেশে তারই ভাই দুঃশাসন পঞ্চপান্ডবের স্ত্রী নিরপরাধ দ্রৌপদীর বস্ত্র হরণ করার চেষ্টা করেছিল। সে সভায় সবাই ধর্মের দোহাই দিয়ে এ অন্যায় কাজকে প্রতিরোধ না করে মৌন থাকে। সবাই যার যার ধর্মের দোহাই দিয়ে সম্মতি প্রদান করেছিল একজন নারীকে ভরা সভায় বস্ত্রহীন করার মত সাংঘাতিক অধর্মের। কিন্তু নিয়তি সে সভায় দ্রৌপদিকে বস্ত্রহীন করে নি, বস্ত্রহীন করেছিল মুখোশধারী সকল ধার্মিকের।

আমাদের বর্তমান সমাজেরও অনুরূপ দশা হয়েছে। আমরা ভাবছি উম্মে কুলসুমরা আত্মহত্যা করছে, বিষপান করছে। কিন্তু হায় মুখোশধারী সুশীলগণ, তোমাদেরকে কে বলে দেবে যে কুলসুমরা বেঁচে যাচ্ছে আর আমরাই প্রতিনিয় মরে যাচ্ছি, নিঃশ্বেষ হয়ে যাচ্ছি। আমাদের আত্মার মৃত্যু ঘটছে প্রতিনিয়ত। অবস্থা এতটাই খারাপ যে তা উপলব্ধি করার মত বোধ শক্তিও আমাদের নেই। পশুরও হয়তো এর চেয়ে বেশি বোধ শক্তি থাকে।
আমরা শাস্তির কথা বলি, কিন্তু কাকে শাস্তি দেবেন? আমরাইতো ঘরে ঘরে জন্ম দিচ্ছি এই বখাটেদের। এই বখাটেরা আমাদের ঘরে, আমাদের সংসারে বসবাস করে। এদেরকে বাঁচিয়ে রাখি আমরাই। তারা যদি শক্তিশালী হয়, পয়সাওয়ালা হয় তবে রাষ্ট্রীয় শক্তি দৈব শক্তির মত আবির্ভূত হয় আপস করিয়ে দেওয়ার জন্য। নারীকে যে ভুলিয়ে ভালিয়ে ধর্ষণ করে তার সাথেই বিয়ে করিয়ে দেয়। এভাবেই আমাদের মমতা, আমাদের ভালবাসা জন্ম দেয় বখাটেদের। তাই এক দিকে বখাটেদের জন্ম দেব আর অন্যদিকে তাদের নির্মূল করবো এমন কুসুমের মত কোমল আর বর্জ্রের ন্যায় কঠিন আত্মিক শক্তি আমাদের আছে? বখাটে এখন ঘরে ঘরে। বখাটেরা রাষ্ট্রীয় পতাকা উড়িয়ে ঘোরা-ফেরা করে। বখাটেরা বিচার করে। বখাটেরা টকশো করে, বখাটেরা মানববন্ধন করে, বখাটেরাই বখাটেদের বিচার দাবি করে। আপনি আমার কথার প্রতিবাদ করবেন? উম্মে কুলসুমরা যখন বখাটেপনার শিকার হয় তখন আপনি মৌন ছিলেন। তাই মৌন সাধুরাও আজ বখাটে। আগে নিজেদের বিচার করুন, তারপর শিমুলদেরকে ধরুন। হ্যা, শিমুলদের নির্মূল হওয়া নির্ভর করছে আপনার আত্ম বিচারের উপর। আপনি যতটা ন্যায়কে ধারণ করবেন ততটাই নির্মূল করতে পারবেন এই শিমূলদের। না হলে অযথা মায়া কান্না করে লাভ নেই। কুলসুমরা ওপার থেকে করুণার হাসি হাসবে।
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৫ আগস্টের সেই ভিডিও, কিছু অমীমাংসিত প্রশ্ন এবং ইতিহাসের নির্মম পরিণতি

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৪৪


৫ আগস্টের সেই ভিডিও, কিছু অমীমাংসিত প্রশ্ন এবং ইতিহাসের নির্মম পরিণতি

ক্ষমতার পালাবদল হয়, কিন্তু ইতিহাসের কাঠগড়া কখনো খালি থাকে না
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক নাটকীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তখন

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৬

তখন
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

তখন আলিফ লায়লা হতো
দেখতাম বিটিভিতে বাংলা মুভি
মিনা কাটুন, হারকিউলিস, রবিন হুড
নাটক, ইত্যাদি, বেশ আনন্দ পেতাম।
খেলাধুলা করতাম বন্ধুদের সাথে
বিবিধ রকম, সবসময় থাকতাম প্রাণবন্ত!
যে বাড়িতে ভাড়া থাকতাম তাদের
একটি সাদা-কালো টিভি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের শাহেদ জামাল- ১০১

লিখেছেন রাজীব নুর, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৭



এক বিদেশি জাহাজ মধুমতি নদীতে একটু একটু করে ডুবে যাচ্ছে।
সেই ডুবে যাওয়া জাহাজ দেখার জন্য শাহেদ জামাল ছুটে চলেছেন- মধুমতি নদীতে। জাহাজ এর নাম স্টিব অস্টিন। শাহেদ জাহাজটির... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওকে নিয়ে চীনের আবেগ, শেখ মুজিবকে নিয়ে আমাদের বিদ্বেষ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২২


ফরাসি ফুটবলার কিলিয়ান এমবাপ্পেকে সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, তাঁকে নিয়ে কোন মিমটি দেখে সবচেয়ে বেশি হাসি পেয়েছিল। ফরাসি অনুষ্ঠান The Bridge এর ব্যাকস্টেজ ভিডিওতে তিনি বলেন, একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোটগল্প - চক্ষুহীন লোকটি

লিখেছেন ফাহমিদা বারী, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩




মি পারসনস যখন হোটেল থেকে বের হলেন, ভিক্ষুকটি তখন রাস্তায় এসে দাঁড়িয়েছে।

সে ছিল একজন অন্ধ ভিক্ষুক। অন্ধদের চিরাচরিত সাদা ছড়ি ছিল তার হাতে। সেটা দিয়ে সামনের পথটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×