somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যুদ্ধ ও সহিংসতা থেকে মানবাজাতিকে বাঁচাতে পারে তার আদি পরিচয়

২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৪ রাত ৮:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পৃথিবীর জানা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় যুদ্ধ হচ্ছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। এ যুদ্ধে বিশ্বের প্রায় ত্রিশটি দেশ সরাসরি অংশগ্রহণ করেছিল। আর এবারে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে আইএসের বিরুদ্ধে অংশ নিচ্ছে প্রায় ৫৪টি দেশ। এ সংখ্যা আরো বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে টুইনটাওয়ার হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ নাম দিয়ে বিশ্বের অধিকাংশ দেশকে একত্রিত করে শুরু হয়েছিল আল-কায়েদাবিরোধী এক যুদ্ধ। এই যুদ্ধের ফলে তালেবান নিয়ন্ত্রিত আফগানিস্তান বিধ্বস্ত হয়েছে। পাশাপাশি পাকিস্তান, ইয়েমেনসহ বিশ্বের বহু দেশে এই যুদ্ধের বি¯তৃতি ঘটেছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ‘এরাব ¯িপ্রং’ বা আরব বসন্তের হাত ধরে মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশ এলোমেলো হয়ে গেছে। এর আগে গণবিদ্ধংসী অস্ত্রের মজুদ আছে এই মিথ্যে অজুহাতে ইরাকে হামলা করে প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে উৎখাত করা হয়েছে। কিন্তু সেখানকার যুদ্ধ আজও শেষ হয়নি। কবে শেষ হবে তার কোন ইঙ্গিতও নেই। ব্যাপক অর্থ ও অস্ত্রের ক্ষয়-ক্ষতি এবং সৈন্যদের প্রাণহানী স্বীকার করে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের বাহিনী সেখান থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়। কিন্তু কয়েকদিন না যেতেই সেখানে বসানো ইরাকি সেনাদেরকে হটিয়ে বিশাল এলাকা দখল করে নিয়েছে আইএস নামের সদ্যপ্রসূত দলটি।

আইএস হচ্ছে সে শক্তি যারা বেশ কিছু দিন যাবৎ ব্যাপকভাবে বিরোধী মতের বিরুদ্ধে নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালিয়ে আসছে ইরাক ও সিরিয়ার একটি বিশাল এলাকা জুড়ে। মজার ব্যাপার হচ্ছে সিরিয়ায় যুদ্ধরত এই আইএস আল-কায়দার ন্যায় কিছুদিন আগেও যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সৌদি আরবসহ ইউরোপীয়দের সহযোগিতা পেয়ে আসছিলো। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে উচ্ছেদের লক্ষ্যে আইএসকে অর্থ, অস্ত্র ও সমর্থন দিয়ে বড় করে তুলেছিল তারাই। এই যুদ্ধের বিপক্ষে মত দিয়েছে সিরিয়ার মিত্র বিশ্বের আরেক পরাশক্তিধর দেশ রাশিয়া। এই তালিকায় রয়েছে ইরানও। কিন্তু এই যুদ্ধের ব্যাপারে ন্যাতিবাচক হুঁশিয়ারীকে অবজ্ঞা করে ঠিকই সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে হামলা চালানো হয়েছে সিরিয়ার অভ্যন্তরে। আর পারমাণু প্রকল্প নিয়ে ইরানের সাথে পশ্চিমাদের ইঁদুর-বিড়াল খেলাতো চলছে বহু দিন ধরেই।

গণভোটের মাধ্যমে ইউক্রেন থেকে বিচ্ছিন্ন করে ক্রিমিয়াকে রাশিয়ার সাথে অঙ্গীভূত করা নিয়ে পাশ্চাত্যের দেশগুলোর সাথে অবিরাম দ্বন্দ্ব চালিয়ে যেতে হচ্ছে রাশিয়াকে। ক্রিমিয়ার সফল অঙ্গীভূত হওয়ার পর এবার ইউক্রেনের দোনেৎস্ক প্রদেশেও সশস্ত্র বিপ্লব শুরু হয়েছে একই লক্ষ্য নিয়ে। ইউক্রেন এবং ইউক্রেনের পশ্চিমা মিত্র দেশগুলোর দাবি এ ক্ষেত্রে স্বাধীনতাকামীদের সহযোগিতা করছে রাশিয়া। এই নিয়ে রাশিয়ার সাথে চলছে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়। দফায় দফায় একে অপরের উপর অবরোধ আরোপ চালিয়ে যাচ্ছে। ঠাণ্ডা যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে এটাই রাশিয়ার সাথে পশ্চিমাদের সবচেয়ে বড় দ্বন্দ্ব বলে বিশ্লেষকগণ মনে করছেন।

মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইল কর্তৃক অবরুদ্ধ আরেক দেশ ফিলিস্তিনে এই কিছুদিন আগেও ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছে। ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ যোদ্ধা হামাসের রকেট হামলার জবাবে ইসরাইল ক্ষেপনাস্ত্র ছুঁড়ে মাসাধিক কালব্যাপী প্রায় হাজার দুয়েক ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে, যাদের মধ্যে অধিকাংশই ছিল নিরস্ত্র সাধারণ মানুষ। বর্তমানে এই যুদ্ধে অস্ত্র বিরতি চললেও বিচ্ছিন্নভাবে এখনও একে অপরকে আক্রমণ করছে। সেখানে যুদ্ধ শুরু হতে কোন আগাম ঘোষণার দরকার নেই। অতীতে বহুবার সেখানে এমনটা হয়েছে। অপরদিকে ক্ষুধার দেশ আফ্রিকাও আজ অশান্ত।

নাইজেরিয়ায় বোকোহারাম ইসলামের পবিত্র যুদ্ধ ‘জেহাদ’ এর নামে নৃশংস হত্যাকাণ্ড পরিচালিত করছে। তারা সে দেশের সেনাবাহিনীর সাথেও যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। পশ্চিমা দেশগুলোও বোকোহারামের উত্থানের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান পরিস্কার করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। অপরদিকে সেন্ট্রাল আফ্রিকায় উগ্র খ্রিস্টানদের হাতে নৃশংস সা¤প্রদায়িক হামলার শিকার হয়ে ব্যাপকহারে নিহত হচ্ছে সেখানকার মুসলিম স¤প্রদায়।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশ ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত নিয়েও উত্তেজনা চলছে। পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর ছেলে ও পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো ঘোষণা দিয়েছেন, যে কোন মূল্যে ভারত অধিকৃত কাশ্মীরকে পাকিস্তানের সাথে যুক্ত করা হবে। তার এই ঘোষণার পর দুটো দেশের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে ভারতের উত্তেজনা চলছে চীনের সাথেও। চীন স¤প্রতি ভারতের সীমান্তে ব্যাপক সৈন্যের সমাবেশ ঘটিয়েছে। পাশাপাশি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ভারত সফর শেষে দেশে ফিরে গিয়ে সেনাবাহিনীকে আঞ্চলিক যুদ্ধের প্রস্তুতির আদেশ দিয়েছেন। অন্যদিকে চীনের অভ্যন্তরে উইঘর স¤প্রদায় সরকারি বাহিনীর নির্যাতনের মুখে পড়ে বিচ্ছিন্নভাবে সশস্ত্র প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছে। আর উত্তর কোরিয়া কয়েকদিন পর পরই পারমাণবিক বোমার পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া ও তার মিত্র যুক্তরাষ্ট্রকে হামলা করার হুমকি প্রদান করেই যাচ্ছে।

এই হচ্ছে গোটা পৃথিবীর মোটামোটি একটা চিত্র। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে সারা পৃথিবীর অবস্থাই অগ্নিগর্ভে পরিণত হয়ে আছে। এই অবস্থা কি সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব মানুষের পক্ষে কোনভাবে মানানসই? কিন্তু এই অবস্থা কেন? কারণ, মানুষ তার আদি পরিচয় ভুলে গেছে। মানুষ শত্র“তা করার সময় মনে রাখছে না যে, সে যাকে আঘাত করছে সে তারই ভাই, তারই আত্মীয়। প্রবল বস্তুবাদে নিমজ্জিত হয়ে পড়ায় সে দুনিয়াবী প্রতিষ্ঠা, আধিপত্য বিস্তার, জাত্যাভিমান ইত্যাদি কারণে অন্যকে শত্র“ জ্ঞান করছে। এছাড়া ধর্মীয় ব্যবধানও এই শত্র“তার একটি অন্যতম কারণ। অথচ স্রষ্টা প্রেরিত প্রতিটি ধর্মের মূল মর্মবাণী এক ও অভিন্ন। প্রতিটি ধর্মই শিক্ষা দেয় মানুষকে ভালবাসতে। প্রতিটি ধর্মই বলে মানুষ একই স্রষ্টার কাছ থেকে এসেছে একই দম্পত্তি আদম হাওয়ার গর্ভ থেকে। সেই হিসেবে একে অপরের ভাই ও বোন। সুতরাং মানুষ যদি সেই দিকে তার দৃষ্টিকে নিক্ষেপ করে তাহলে সহজেই তার এই অনুচিৎ ও অহেতুক যুদ্ধের অসারতা সম্বন্ধে জানতে পারবে। দেখতে পাবে সে কি বোকামীটাই না করছে। সুতরাং আগামী তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ, যার সূচনা ইতোমধ্যেই দেখা যাচ্ছে তার কোপানল থেকে বাঁচতে, আগামী প্রজন্মকে ধ্বংসের মুখোমুখি দাঁড় করানোর আগে তাকে তার আদি পরিচয়টি একটিবার হলেও খতিয়ে দেখতে হবে। হয়তো এর মাধ্যমেই কলঙ্কিত যুদ্ধের হাত থেকে বেঁচে যেতে পারে মানবজাতি।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৪ রাত ৯:৫৫
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমার মনের ঘোর গেলো না (উৎসর্গঃ প্রিয় ব্লগার ইমন জুবায়ের)

লিখেছেন চারাগাছ, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩১




আমার মনের ঘোর গেলো না


উৎসর্গ

প্রিয় ব্লগার ইমন জুবায়েরের স্মৃতির প্রতি।

তিনি নেই। অনেক বছর হলো।

তবু তাঁর ব্লগে ঢুকলে মনে হয়, কোথাও যেন কিছুই থেমে নেই। লেখাগুলো আছে, শব্দগুলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

জঙ্গল পরিষ্কার করে সাপ তাড়ানাে...

লিখেছেন অপলক , ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪১

নেট দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে: পাকিস্তান এবং বাংলাদেশে বসবাসকারী স্থায়ী হিন্দু অধিবাসীরা চাইলে খুব সহজে তাদের নাগরিকত্ব দেবে ভারত। যদি এই খবরটা সত্য হয়, তবে বাংলাদেশের জন্য সেটা মারাত্মক ভয়ঙ্কর ঘটনা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপি’কে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল বলার কোনো কারণ নাই!!

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:২৩



জাতীয় সন্মাননা কি কোনো গোপন বিষয় । একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা’কে গার্ড অফ অনার দিতে এত অনীহা কেনো বর্তমান সরকারের ‼️

আজ বারবার আমার গোআ’র কুপুত্রের একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাড়ে হাজার বিজ্ঞানী এবং একটি স্ক্যামের গল্প

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২৮


জুলাইয়ের কোটা আন্দোলনের পর বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে। সেই সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের অংশ হিসেবে পাকিস্তান বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘নলেজ করিডোর’-এর আওতায় আল্লামা ইকবাল বৃত্তি চালু করে। ২০২৫... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাসিনা-বিভ্রাট: এটা ট্রল নয়, কূটনৈতিক সতর্কসংকেত

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৮


হাসিনা-বিভ্রাট: এটা ট্রল নয়, কূটনৈতিক সতর্কসংকেত

জাপানের এক প্রভাবশালী সংসদ সদস্যের একটি পোস্ট নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে হাসাহাসি চলছে। আমার মনে হয়, হাসির আড়ালে আসল প্রশ্নটা চাপা পড়ে যাচ্ছে।

ঘটনাটা কী
প্রধানমন্ত্রী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×