somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অভিশাপ

১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সকাল ৮:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


কে সেই নরপিশাচ, যে শ্রমিক, মজুর আর গরিবের ঘাম-রক্ত চুষে প্রমোদ অট্টালিকা বানায়? কে সেই নরাধম, যে অন্যায় ভাবে পয়সা কামিয়ে স্ত্রী-কন্যার জন্য হীরে মনি মুক্তা আর সোনার গয়না গড়ে দেয়? কে সেই কুলাঙ্গার, পূজা পার্বণ বা ঈদ আর বিশেষ দিনে বা নববর্ষে হারাম অর্জিত টাকায় সন্তানের জামাকাপড় কিনে দেয়? এদের তুমি দেখনি, তা নয় । দেখেছ, কিন্তু পরিচয় পাওনি । এরা বিলাসে লালিত আর সুখে পালিত তথাকথিত বড় লোক,শোষক । দরিদ্র আর অত্যাচারিত মানুষদের দুঃখ-বেদনা বোঝার ক্ষমতা তাদের নেই । এরা অত্যাচারী, পাষাণ-কঠিন হৃদয়সম । বিশ্বজগৎ আর মানবতা সম্বন্ধে এদের ধারণা নেতিবাচক আর অসম্পূর্ণ । মানবতা আর মানুষকে লাথি মেরে মানুষ ঠকিয়ে এরা যে অর্থ আহরণ করেছে তাই একদিন তাদের মহা-অনিষ্টের কারন হবে । তা এই জনমে বা পর জনমে, যে জনমেই হোক । বিশ্বের সকল শোষিত-বঞ্চিত মানুষদের পক্ষে এই অভিশাপ আমি দিয়ে রাখলুম ।

এরা যে সেচ্ছায় সকলেই অত্যাচারী হয়ে ওঠেন সে কথা আমি বলছি না, এদের অনেকে অজ্ঞাতসারেও অত্যাচারী হয়ে উঠতে পারেন । তা তিনি সেছায় বা অনিচ্ছায় বা অজ্ঞাতসারে যে ভাবেই হন না কেন, অত্যাচারী চিরকাল অত্যাচারীই । সকল মানুষ ভাই ভাই, এ কথা সকল অত্যাচারীই বিলক্ষণ ভুলে থাকে । ভাই হয়ে ভাই কে আঘাত দাও কোন সাহসে? মানুষকে কঠিন আর কঠোর কথা বলতে তোমার লজ্জা হয় না? কার দিন রাত্রির পরিশ্রমের ফসলে ভরেছে তোমার ভাণ্ডার, তা কি ভেবে দেখ না? ক্ষুধিত মানুষের ক্ষুধা নিবারণের আমরণ চেষ্টা বিফলে দিয়ে নিজের উদরপূর্তির মহা আয়োজনে তোমার লজ্জা হয় না? কাকে চেটে-পুটে খাচ্ছ তুমি, কার পয়সা জমাচ্ছ তুমি নিজের সঞ্চয়ী হিসেবে? তোমার পূজিত দেবদেবী অথবা ঈশ্বর, আল্লাহ্ বা বিধাতার কাছে তার হিসেব রহিল জমা ।

অন্যায়-অনাচার, পাপে-তাপে জীবনকে কুলশিত করে অনেকেই মনে করে শেষ কালে স্রষ্টার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিলেই হল ! অনেককে দেখেছি, সারা জীবন মানুষ ঠকিয়ে শেষ কালে মক্কায় গিয়ে টুপি-আলখেল্লা পরে চলে আসে, কেউ বা হয় কাশিবাসি । এদের দেখে হাসি পায়, আফসোস লাগে । বস্তুত, এরা কতই না হতভাগ্য, যদি তারা জানত । অন্যের অধিকার আর পয়সা লুট করে পাপের আয়ে তুমি একবার কেন হাজার বার কিবলা বা পুরি দর্শনেও তোমার মুক্তি নেই । মানুষের অধিকার যদি ফিরিয়ে দিতে পার, তার ন্যায্য পাওনা যদি বুঝিয়ে দিতে পার তবেই তোমার মুক্তি । কিন্তু, তা কি সম্ভব ! সব কিছু ফিরিয়ে দিতে পারলেও আসল অর্থ তো ফিরিয়ে দিতে পারবে না । সময় হল সেই আসল অর্থ । যা তুমি বঞ্চিতের জীবন থেকে কেড়ে নিয়েছ অন্যায় আর অত্যাচারের বশবর্তী হয়ে । এ পাপের ক্ষমা হয় না । কোন ধর্মেই এই অধর্ম সইবে না । মানুষের সাথে নিষ্ঠুরতা আর অনাচার করে স্রষ্টার সাথে সখ্যতা খাতিরের চেষ্টা নির্বুদ্ধিতার নামান্তর ।

অন্যায়-অনাচারের অভিশাপ জলন্ত বিভীষিকার চেয়েও ভয়ানক । শোষিত, বঞ্চিত, নিপীড়িত মানুষের পক্ষে যদি কথা বলবার শক্তি ও সাহস তোমার না থাকে, তবে তুমি ভীরু-কাপুরুষ । অন্যায়ের প্রতিবাদ যদি না করতে পার তবে অন্তত তাকে ঘৃণা করতে সেখ । শুধু মসজিদ, মন্দির, গির্জা বা প্যাগোডায় বসে প্রার্থনা, পূজা-অর্চনা, আরাধনা বা উপাসনা করে তোমার মুক্তি নেই । মুক্তি চাইলে তুমি তোমার অধিকার বুঝে নাও, মুক্তি দিতে চাইলে মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দাও । অপরাধের টাকায় গড়ে তোলা তোমার রাজ প্রাসাদ চিরস্থায়ী নয়, নশ্বর এই পৃথিবীতে তুমিও অবিনশ্বর নও । ফেরাউন, নমরুদ, জুলিয়াস সিজার, সিকান্দার শাহ্‌, সম্রাট অশোক, সম্রাট আকবর, মহামতি আলেকজান্ডার সবাই মরেছে, তুমিও মরবে । মটে-মজুর, কৃষক-শ্রমিক, দরিদ্র-নিঃস্ব সহ সকল সাধারণের ঘাম-রক্ত চুষে অর্থ সম্পদের পাহাড়ের পাশাপাশি যে অভিশাপ তুমি অর্জন করেছ তার শাস্তি ভোগ করবার জন্য তৈরি থেকো । তোমার প্রমোদ অট্টালিকা, পাহাড়সম সম্পদের স্তুপ, রাজকীয় সাজ সজ্জা, বিলাস বহুল গাড়ী , শত সহস্র দাস-দাসী সেই অভিশাপের তীর থেকে তোমায় বাঁচাতে পারবে না ।

জীবনে অনেক অর্থ-সম্পদের মালিক হয়েছ, তোমার অধীনে কত শত মানুষ কাজ করে ! কিন্তু তুমি নিজের আত্মীয়-স্বজন আর পরিবার-পরিজন ছাড়া তোমার অধিনস্ত সহ সকল মানুষের প্রতিই নিষ্ঠুর । তোমাকে আমি ভক্তি করি না । ভক্তি বলছি কেন, তোমাকে আমি মানুষ বলেই মনে করি না । অর্থ সম্পদের বিনিময়ে বিচারককে প্রভাবিত করে নিজের সৌভাগ্য ক্রয় করতে গিয়ে যারা অন্যের অধিকারকে ছিনিয়ে নিয়েছে তাদের আমি ঘৃণা করি । তাদের উপার্জিত অর্থে আর অত্যাচারীর সম্পদে আমি কোন ভেদ দেখি না । এদের দ্বারা অত্যাচারিত, শোষিত আর বঞ্চিত মানুষের অভিশাপ কখনো বিফলে যেতে পারে না ।

এই যে অভিশপ্ত শোষক শ্রেণীর বড়লোক বা পুঁজিপতি, শিল্পপতি বা মজুদদার এর কথা বলছি এরা কিন্তু একা নন । এরা এমনই চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী যারা রাষ্ট্রযন্ত্র ও প্রশাসনকেও নিজেদের হীন স্বার্থ চরিতার্থতায় কাজে লাগায় । ফলশ্রুতিতে শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া নিয়ে মালিক-শ্রমিক দ্বন্দ্ব-সংঘর্ষের সময় রাষ্ট্রীয় প্রশাসন তথা পুলিশ মালিকদের পক্ষ নিয়েই নিরস্ত্র শ্রমিকদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালাতে দ্বিধা করে না। হালের আমলে দেশে দেশে মালিক আর শ্রমিকের ঐক্যের কথা বলা হলেও শ্রমিকের অধিকার আন্দোলন দমনের ক্ষেত্রে মালিক শ্রেণী ও সরকারের মধ্যে ঐক্য ও সমঝোতা গড়ে উঠেছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের কথা বাদ দিলেও বাংলাদেশের বেলায় এ কথা হাড়ে হাড়ে সত্য ।

কথায় কথায় আমরা ধর্ম ব্যবহারে (ধর্মের দোহাই) ওস্তাদ । অনেকে সারাদিন অনেক হাদিস, কোরআন, বেদ-বেদান্ত থেকে উদ্ধৃতি দেই । আপন স্বার্থের খেলাপ হলেই মনগড়া মতবাদ দিতেও পিছপা হই না । অনেক নীতি আমরা মানি আবার অনেক নীতি আমরা বিসর্জন দেই । কিন্তু লোক ঠকানোর নীতি আমরা বিসর্জন দিতে পারব না ! এর চাইতে হীন প্রতিজ্ঞা আর কি হতে পারে ? ঠকে যাওয়া নিপীড়িত-বঞ্চিত মানুষ গুলোর অভিশাপ কি আমাদের লাগবে না, বল ?

তোমার ধন আছে বলেই কি নির্ধন তোমার কাছে মূল্যহীন ? তোমার অধীনে কাজ করে বলেই কি তুমি তার সত্ত্বা ও অধিকারকে ক্রয় করে নিয়েছ ? এই যে নিয়ম আর ধর্মের কথা বলে অধর্ম করে বেড়াও, আসলে ধর্ম কি তা কি তুমি জানো ? জীবন কে শুদ্ধ আর পবিত্র করে তুলতে পারাটাই ধর্ম ! সমস্ত ন্যায় আর সত্যই নিয়ম ! অন্যের অনিষ্ট করে, মানবতা কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে, শোষণ আর বঞ্চনার স্ট্রিমরোলার চালিয়ে, মানুষে মানুষে বিভেদ ঘটিয়ে, রক্ত-মাংস-হাড় ক্ষয় করা পরিশ্রমের অর্থ লুটে যে অন্যায় তুমি করেছ, তাতে ধর্ম বজায় থাকে কি ? আমরা যারা কলে-কারখানায়, মাঠে-ময়দানে, হাটে-বাটে, অফিস-আদালতে অন্যের অধীনে কাজ করি, তারা সবাই কোন না কোন ভাবে নিগৃহীত । কেন ? উচ্চ পদে আসীন বলেই কি তুমি মানুষকে পদানত করে রাখতে চাও ? এ অধিকার তোমায় কে দিয়েছে ? আমরা বিশ্বের খেটে খাওয়া সকল নিপীড়িত, শোষিত, বঞ্চিত, নিগৃহীত মানুষ এক হয়ে সমস্ত অত্যাচারীকে অভিশাপ দিচ্ছি, তোমরা মানুষ হও ! নিরর্থক অহঙ্কার আর দাম্ভিকতা ভুলে মানুষের পাশে দাঁড়াও । মানুষ হয়েই বুঝতে সেখ মানবের বেদনা ! যদি তা না হয়, তবে বাজাও ভেরি, বাজাও ডঙ্কা ! যুদ্ধারম্ভের প্রস্তুতি নাও এখনই । এ যুদ্ধ ন্যায় আর অন্যায়ের, এ যুদ্ধ অত্যাচারী আর শোষিতের, এ যুদ্ধ অমানুষ আর মনুষ্যত্বের ! এ আহ্বান নিষ্পেষিত মনুষ্যত্বের,এ আহ্বান জাগ্রত বিবেকের,শুদ্ধি সাধনার এই আহ্বান নির্মল আত্মার ! তবে আর দ্বিধা কেন, সংশয় আর সঙ্কোচ কিসের? মৃত্যু যেখানে অবশ্যম্ভাবী সেখানে মৃত্যুর ভয় পুষে লাভ কি? বারবার মরে বেঁচে থাকবার যন্ত্রণা ভুলে এসো একবারই মরি!
‘’ঐ রেঙেছে পুব আকাশে অরুণ রাঙা রবি
যুদ্ধে নামার ডাক দিয়েছে মানুষ নামের কবি,
ভেঙে আবার সভ্যতাকে নূতন করে গড়ি
বারেবারে না মরে আজ একবারে সব মরি !’’


কবি ও লেখকঃ রুদ্র আতিক, সিরাজগঞ্জ,
০৫ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ ।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সকাল ৮:৩১
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এই প্রথম খাল বাবার পলিটিক্যাল ম্যাচুরিটির নিদর্শন পেলাম

লিখেছেন অপলক , ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৪

২০১০ সালে ফেব্রুয়ারীর ২২ তারিখ। মেয়েলি ব্যাপার বলি, প্রতিহিংসার ব্যপার বলি অথবা পলিটিক্যাল ইমম্যাচুরিটির কথা বলি, বাংলাদেশ জিয়া আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের নতুন করে আকীকা দিয়ে নাম রাখা হয়েছিল হযরত শাহজালাল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাষণময়

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১


বিশ্বাসগুলো হাবুডুবু খাচ্ছে
ভাগ্যের কম দোষটার হাত
ঝাঁকনি কম নেই তো- তাহলে
বিশ্বাসগুলো মরে যাচ্ছে এই;
মাটির আনন্দটা শুধু ফুল গন্ধ
নাকের সুসংবাদ যে দৌড়াচ্ছে
রাতের ঘুমটা যেনো স্বপ্নবিরল কষ্ট
ভোরের শিশির গড়ে না আর শক্ত;
তবু নিশ্বাসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

।।মাদার অব ড্রাকুলা হাসিনার রাস্ট্রীয় জঙ্গীবাদ।।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৮


মাদার অব ড্রাকুলা হাসিনা ভারতের প্রযোজনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীদেরকে দিয়ে জঙ্গী জঙ্গী নাটক মঞ্চস্থ করতো। বহিবিশ্বকে বোঝাতো দেশে ইসলামী জঙ্গী দিয়ে ভরে গেছে এবং সেই জঙ্গীরা ইউরোপ আমেরিকার ভয়াবহ ক্ষতি করবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=শরত তুই যাস নে ! =

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৩



ভ্যাপসা গরমে নাভিশ্বাস জীবনে কেবল বৃষ্টির হাপিত্যেশ,
মেঘ বলেছে আসবো আসবো আমার উদ্দেশ,
শুভ্র মেঘেদের নাচন
উত্তাপ হাওয়ায় যায় না আর বাঁচন,
তবুও স্নিগ্ধ আবেশ মনজুড়ে,
হঠাৎ হাওয়ার ঝাপটা, বাজে পাতার বাঁশি সুরে।

বিকেলের হাওয়ায় দেহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

১ কোটি চাকরি: শর্ত প্রযোজ্য, মেধার প্রবেশ নিষেধ !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:২৫


ভোটের আগে বলা হয়েছিল, ক্ষমতায় এলে প্রথম আঠারো মাসেই এক কোটি মানুষকে চাকরি দেওয়া হবে। কথাটা শুনে দেশের বেকার তরুণেরা তো মহাখুশি, কেউ ভাবল সরকারি চাকরি হবে, কেউ ভাবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×