
ডান হাতের তালু চুলকাতে চুলকাতে সকালের ঘুম ভাঙল । রাতে দেখা দুটো স্বপ্নের মধ্যে একটার আদ্যোপান্ত ভেসে উঠলো মনে । স্মরণ করে দেখলাম, একটা চোর ধরা হয়েছে ! মাঝারি গড়ন, গায়ের রং শ্যামলা, উচ্চতা আনুমানিক পাঁচ ফুট সাড়ে চার ইঞ্চি । পরনে ছয় মাস বয়সী চেক লুঙ্গী, কোমরে পুরনো গামছা বাধা, শরীর উদোম । চোর ব্যাটারে চেয়ারের সাথে পিঠ মোড়া দিয়ে বাঁধলাম আচ্ছা মতন । বউ কইল, এত শক্ত করে বাঁধার কি আছে ! চারপাশে আটকানো আছে, বের হতে পারবে না তো । আমি কইলাম, ওরে তো মাইরা হাড় গোড় ভাইঙ্গা ফালামু, দরদ দেখানোর কি আছে ? হঠাৎ পায়ে কে যেন সুড়সুড়ি দিলো, তাকিয়ে দেখি চার/পাঁচ বছর বয়সী দুইডা বাচ্চা ছেলে, সুড়সুড়ি দিয়ে দাঁত কেলিয়ে হাসছে ! না না ঠিক দাঁত কেলিয়ে নয়, হা করে ! তার মধ্যে একাটার আবার সামনের কোন দাঁতই নেই, পোকা খেয়েছে । আমি প্রশ্ন করলাম, তোরা কারা ? কোন জবাব নেই ! বরং দুজন দুজনের চুল ধরে টানাটানি করা শুরু করে দিল, সাথে কলকলিয়ে হাসি ! দিলাম ধমক । চোর ব্যাটায় কয়, ভাই ওদের ধমকাইয়েন না ! ওরা দুই ভাই, এক বছরের ছোট বড় ! খুব হাসি খুশি । ওদের কোন দুঃখ নাই, ভাবনা নাই ! ধমক দিছেন, তাও দেহেন বেহায়ার মতন হাসতেই আছে । কইলাম, চুপ কর ব্যাডা চোর ! তোর কি হয় ? তোর পোলা লাগে নি ? চোরে কয়, হ ভাই, দনোডাই আমার পোলা ! চোরের কানের লতি ধইরা টান দিয়া কইলাম, হারমজাদা, এইরম, দুইডা ফুটফুটে পোলার বাপ হইয়া, চুরি করস, শরম করে না ? চোরে জবাব, দেয় না । বাচ্চা গুলা তখনো হাসছে ।
চোররে বেধে রেখে বাইরে থেকে কপাট আটকিয়ে আমাদের পুরাণ বাড়ি চলে আসলাম । বিচ্ছু দুইডা পিছু ছাড়ে না । ভাবলাম, পোলাপান মানুষ, বোধ বুদ্ধি নাই ! বাপে চোর হিসেবে ধরা পড়ছে, কোন চিন্তা নাই । সব কিছু ওদের কাছে খেলা । কিছু না কইয়া, দুজনরে গাছ থেকে দুইডা আম পেড়ে দিলাম ! কি হারামি, আম না খেয়ে, দুজন আম দিয়ে ঢেলাঢেলি শুরু করে দিল ! মেজাজ খারাপ হয়ে গেল, দিলাম ধাওয়া । ধাওয়া খেয়ে দুজন চোখের আড়ালে চলে গেল । ওদের আর দেখা নেই ! কিছুক্ষণ পর ভাবলাম, দেখি গিয়ে চোর ব্যাডায় কি করছে । এ কি ? গিয়ে তো দেখি চক্ষু ছড়ক গাছ ! চোর নেই ! চেয়ারটা মুখ থুবড়ে পড়ে আছে বারান্দায় ! সামনে এক জায়গায় বেড়ার ফাঁক দেখা গেল, মনে হোল চোর এইখান দিয়েই পালিয়েছে ! আর তার হাতের বাঁধন খুলে দিয়েছে সেই বিচ্ছু দুইডা !
চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে । কিন্তু আমার ভাঙল ঘুম ! ঘুম ভাঙল হাতের তালু চুলকাতে চুলকাতেই ! লোকে বলে ডান হাতের তালু চুলকালে নাকি অর্থ যোগ ঘটে ! মাসের শেষ পকেটের অবস্থা ভাল না, ঘটলে মন্দ হতো না । বিছানা ছেড়ে প্রাত্যহিক ক্রিয়াদি সম্পন্ন করে অফিসের উদ্দেশ্যে গমন কালে সঙ্গী হোল স্ত্রী । কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টারে যাবার জন্য রিক্সা ভাড়া বাবদ দুইশ টাকার নোট ভাঙ্গিয়ে তারে একশ টাকা দিলাম । অফিসে ঢোকার পূর্ব মুহূর্তে মোটর সাইকেলের জ্বালানি তেল শেষ হলে পাম্পে গিয়ে এক হাজার টাকার নোট ভাঙ্গিয়ে পাঁচ’শ টাকার তেল তুললাম । অফিসে এসে মাইনাসে মাইনাসে প্লাসের সূত্র ধরে গবেষণা করে হাতের তালু চুলকালে যে অর্থ যোগ ঘটে তার হিসেব মিলল না ।
কবি ও লেখকঃ রুদ্র আতিক, সিরাজগঞ্জ
বিষয় শ্রেণীঃ রম্য ও গদ্য কার্টুন
ছবি সংগ্রহঃ গুগল
১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ ।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে মে, ২০২১ বিকাল ৩:১১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


