আমার নাম হিমাদ্রী রাখার পিছনের কারণ এখনো উদ্ধার করতে পারিনি। এই নাম নাকি বাবার খুব পছন্দের। বাবা নেই। থাকলে জিজ্ঞেস করতাম। উনি কয়েক বছর আগে প্রস্থান করেছেন! প্রস্থান শব্দটা হাস্যকর শোনাচ্ছে নিশ্চয়ই। জীবনটাই হাস্যকর। বিশ্বাস করুন।
একদিন ভোরবেলা বাবা বললেন পান্তা খাবেন। সেদিন রাতে খাওয়ার পর কোন ভাত ছিলো না। মা গেলেন রান্না ঘরে। গরম ভাত রান্না করে পানি দিলেন। এসে দেখেন বাবা বারান্দার মেঝেতে উপুর হয়ে পরে আছেন। মূহুর্তেই বিধবা হয়ে গেলেন। কাঁদলেন না। বাবার মাথা কোলে নিয়ে বসে থাকলেন আরো দুই ঘন্টা। সকালে দাদাভাই ঘুম থেকে উঠে দেখলেন বৌমার কোলে ছেলের লাশ।
বারো বছরের ছেলের কথা চিন্তা করে মা আর বিয়ে করলেন না। আমাকে বুকের সাথে আগলে স্বামীর বাড়িতেই থেকে গেলেন। এসএসসিতে গোল্ডেন প্লাস পেলাম। এইচএসসি পরীক্ষার কিছুদিন আগে মা বুঝতে পারলেন আমি নেশাগ্রস্থ। অনেক কাঁদলেন। ভাতের প্লেট হাতে দিয়ে কসম করালেন। আমি সব করলাম। সব বুঝলাম। শুধু শেষের দুইটা পরীক্ষা নেশার কারণে দিতে পারলাম না। আত্নীয় স্বজন বাড়িতে ভীড় করলো। মেহমানদারী হলো; আলোচনা হলো; উপদেশের বন্যায় উপচে গেলো মায়ের দু'চোখ।
রাতে মায়ের রুমে ছোট একটা বেডে আমার জায়গা হলো। কড়াতত্ত্বাবধানে আমি সেড়ে উঠলাম। চাকুরী, বউ সব পেলাম। শুধু মা'কে পেলাম না। মায়ের জায়গা হলো বৃদ্ধাশ্রমে। কারণটা অনুহ্যই থাক।
(অণুগল্প)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



