somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নাস্তিকতা যত (পর্ব-১)

১২ ই জানুয়ারি, ২০১৬ রাত ২:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১.
আমার অনেক নাস্কিক বন্ধু আছে। এরা মাঝে মাঝে এমন ভাব নেয় যেন মহাজ্ঞানী এরিষ্টেটল। আর এমন সব প্রশ্ন করার চেষ্টা করে -ভাব খানা এমন তোরে আজকা পাইছি টাইপ। এমন একজন আমাকে বলল আচ্ছা তুই ধর্ম কেন মানিস? ধর্ম না মানলেইতো ভাল। স্বাধীন জীবন লিড করা যায়। ধর্ম মানলেই যত গেনজাম। বিশ্ব আজ ধর্মিয় উগ্রতার স্বিকার।
আমি বললাম তোর কথা শেষ? নাকি আরো কিছু বলবি?
না আগে এইটাই বল তুই ধর্ম মানিস কেন?
আমি বললাম, তার আগে তোকে একটা প্রশ্ন করি। তুই জামা কাপর পরিস কেন?
কেন আবার! আমিতো আর জংগলি না। মানুষ। আমার শরম আছে । লজ্জা আছে। তাই পরি।
জামা না পরলেইতো ভাল। জামা পরাতেতো যত গেনজাম। জামা না পরলে এর খচরটা বেচে যেত। স্কুল কলেজ অপিস আদালতে কোন ড্রেস কোড থাকত না। সবাই এক নেংটো বাবা ।

কি সব পাগলের মত কথা বলছিস!
ওমা আমি বললাম বুঝি। তুইতো বললি।
আমিতো বলছি ধর্মের কথা।
এইতো । আমার ধর্ম আমার পোষাক। ধর্ম ছাড়া আমাকে নেংটো লাগে। তাই আমি ধর্ম মানি। ধর্ম মানাতে গেনজাম না। ধর্ম কে ব্যাবহারে গেনজাম।
মানে?
খুবই সহজ। জামা না পড়লে সভ্য মানুষ অস্বস্থিতে পড়ে ঠিকই। তাই বলে এখন যদি কেউ লুংগি পড়ে অফিসে যায় অফিসে ঢুকতে পারবে? পারবে নাতো । কেন? ড্রেস কোড মানা হয়নি তাই। কিন্তু সে যদি বলে আমি এটাই পড়ে অফিস করব, দেখি কোন মা কা লাল আমারে বাধা দেয়? দেখা যাবে অফিসের বস তাকে অফিস থেকে বের করে দিল। এখন সে যদি বলে, শালা এই কাপরই পরুম না। নেংটাই ভাল। কোন গেনজাম নাই। কাজটা কি ঠিক হবে? এর জন্য কি পোষাক দায়ি?
সোজা কথা ! পোষাক দায়ি হবে কেন? ঐ উল্লুকে পাঠাই দায়ি। যে ড্রেসকোড মানে নি।
আমিওতো তাই বলছি । ধর্ম আমার পোষাক । তাই আমি এটা মানি। তার একটা কোড আছে। এর ব্যবাহার উল্টা পাল্টা করা যাবে না । কোড মেনে করতে হবে। না মানলেই যত গেনজাম। এবার বল এর জন্য দায়ি কে? ধর্ম নিশ্চয় নয়।

২.
নাস্তিক বন্ধুটি এবার বলল আচ্ছা ভাল কথা তুই ধর্ম মানিস । কিন্তু ইসলামই কেন? আরোত ধর্ম আছে?
এইতো তুই আস্তে আস্তে আস্তিক হইবার ছবক নিচ্ছিস। শুন তুই মাছ বাজরে গেলি। বাজারেতো অনেক মাছ তুই কোন মাছটা কিনবি?
কেন ভাল আর তরতাজা মাছটা।
আমিও তাই করেছি ধর্মের ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠ ধর্মটা গ্রহন করেছি।
তোর ধর্মই যে শ্রেষ্ঠ বুঝলি কি করে?
গুড বয়! ভাল কথা। তা তুই ভাল মাছ চিনবি কি কইরা?
যাচাই বাছাই করতে হবে। টিপে টুপে দেখতে হবে।
আমিও তাই করেছি। মাছ যদি যাচই কইরা কিনা লাগে ধর্ম গ্রহান করব যাচই করব না। এখন বলতে পারিস কিভাবে যাচাই করলাম? তুই বলেছিস মাছ টিপে টুপে দেখে ভাল মাছ নির্বাচন করবি। আমাকেও তাই সকল ধর্মের মুল জিনিসগুলো দেখতে হবে। তা নিযে একটু জানাতে হবে।
তুই কি জানিস?
তেমন না। তবে কিছু ধারনা আছে। দেখ আমাদের ধর্মে মহান আল্লাহ বলেছেন, এসো সেই কথায় যা আমাদের আর তোমাদের মধ্যে এক। এর প্রধান হল আল্লাহ ছারা কোন মাবুদ নাই। তুই যদি এখন অন্য প্রধানধর্ম গুলাতে এই জিনিসি খুজিস। তা পাবি। খ্রিষ্টান ধর্মে আছে, হিন্দু ধর্মে আছে। যে মহান ইশ্বর এক। কিন্তু ঐ ধর্মের অনুসারীরা কি এটা মানছে? কেউ মানছে তিনজন স্রষ্টা । কেউ মানছে একাধিক স্রষ্টা। সৃষ্টিও তাদের স্রষ্টা। অথচ ইসলাম ধর্মের অনুসারিরা মহান আল্লাহর ঐ কথা মেনে একস্রষ্টার ইবাদত করে। এখন বল যে সঠিক জিনিস মানে যা সকল ধর্মেরই জিস্ট। সে কি ভুল হতে পারে। এই কথা স্বীকার করলেই একজন মুসলিম হওয়া যাবে। এখন মুসলিম যদি এক আল্লাহ স্বীকার করে তবেতো প্রকারান্তরে সেতো খ্রিষ্টান আর হিন্দু ধর্ম দুটোর ধর্মীয় আইনি মানছে। যা ঐ ধর্মের অনুসারির দাবিদাররাও মানে না। কাজেই আমার ধর্ম নির্বাচন ১০০% সঠিক ৯৯% ও নয়। পুরোটা। তাই আমি মুসলিম। আমার ধর্ম ইসলাম।
আচ্ছা বুঝলাম কিন্তু আল্লাহ যে এক এইটা তোর ধর্ম বিশ্বাস আছে তুই মানছিস। কিন্তু আমরাতো মানব না। তুই প্রমান করতে পারবি আল্লাহ এক?
আচ্ছা বলতো তোর বাপ কয় জন?
এইটা কোন ধরনের প্রশ্ন? ফাইজলামি করস।
আরে না! বল না!
কেন একজন। আমর ও তোরও সবার বাপই একজন।
ভাল কথা! কি কইরা বুঝলি?
এটাতো সাধারণ কথা। শালা খালি ফাউল কথা। আচ্ছা আমি যদি বিয়ে করি আমার সন্তানের পিতা আমি না হয়ে আর কে হবে?
আরে এতো চটছিস কেন? তুই বিয়ে করলে তোর সন্তানের পিতা কে এটা বলতে পারে তোর বউ। সে সর্বশেষ কার সাথে ছিল সেইতো জানে।
না আমি আমার বউকে বিশ্বাস করি। সে এমন ধারার নয়। আর যদি এমন হতো একদিন না একদিন আমি ধরতে পারতাম। আমার চোখে ধরা পরত।
এইতো লাইনে আইছো চান্দু। এতো সিরিয়াস ভাবে নিস না । বুঝানোর জন্য বলছি। মহান আল্লাহ এক । এক যদি না হতো এক দিন না একদিন কেউ না কেউ এতে অসংগতি ধরতে পারতো। এর দাবিদার থাকতো অনেক। কেউ বলত এখন দিন । কেউ বলত এখন রাত। মহা গেনজাম লেগে যেত। কোন কোন গেনজাম কি দেখা গেছে? আসল হল বিশ্বাস পরে হল যু্ক্তি। তুই তোর বউকে আগে বিশ্বাস করেছিস। যেহেতু তুই কোন অসংগতি দেখিসনি তাই তোর বিশ্বাস ঠিক ধরে নিয়েছিস। কিন্তু যদি দেখতি তখন আসতো যুক্তি দিয়ে তা প্রমান করার কথা। আল্লাহ এক এটা সর্বপ্রথম আমার বিশ্বাস। মুসলমানের বিশ্বাস ই সব যুক্তি প্রমান দরকার হয় না। হ্যা শুধুমাত্র নাস্তিককে টাইট দিতে একটু যুক্তি প্রয়োগ করতে হয় মাঝে মাঝে । এই আরকি।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জানুয়ারি, ২০১৬ রাত ২:৩৭
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এই প্রথম খাল বাবার পলিটিক্যাল ম্যাচুরিটির নিদর্শন পেলাম

লিখেছেন অপলক , ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৪

২০১০ সালে ফেব্রুয়ারীর ২২ তারিখ। মেয়েলি ব্যাপার বলি, প্রতিহিংসার ব্যপার বলি অথবা পলিটিক্যাল ইমম্যাচুরিটির কথা বলি, বাংলাদেশ জিয়া আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের নতুন করে আকীকা দিয়ে নাম রাখা হয়েছিল হযরত শাহজালাল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাষণময়

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১


বিশ্বাসগুলো হাবুডুবু খাচ্ছে
ভাগ্যের কম দোষটার হাত
ঝাঁকনি কম নেই তো- তাহলে
বিশ্বাসগুলো মরে যাচ্ছে এই;
মাটির আনন্দটা শুধু ফুল গন্ধ
নাকের সুসংবাদ যে দৌড়াচ্ছে
রাতের ঘুমটা যেনো স্বপ্নবিরল কষ্ট
ভোরের শিশির গড়ে না আর শক্ত;
তবু নিশ্বাসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

।।মাদার অব ড্রাকুলা হাসিনার রাস্ট্রীয় জঙ্গীবাদ।।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৮


মাদার অব ড্রাকুলা হাসিনা ভারতের প্রযোজনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীদেরকে দিয়ে জঙ্গী জঙ্গী নাটক মঞ্চস্থ করতো। বহিবিশ্বকে বোঝাতো দেশে ইসলামী জঙ্গী দিয়ে ভরে গেছে এবং সেই জঙ্গীরা ইউরোপ আমেরিকার ভয়াবহ ক্ষতি করবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=শরত তুই যাস নে ! =

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৩



ভ্যাপসা গরমে নাভিশ্বাস জীবনে কেবল বৃষ্টির হাপিত্যেশ,
মেঘ বলেছে আসবো আসবো আমার উদ্দেশ,
শুভ্র মেঘেদের নাচন
উত্তাপ হাওয়ায় যায় না আর বাঁচন,
তবুও স্নিগ্ধ আবেশ মনজুড়ে,
হঠাৎ হাওয়ার ঝাপটা, বাজে পাতার বাঁশি সুরে।

বিকেলের হাওয়ায় দেহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

১ কোটি চাকরি: শর্ত প্রযোজ্য, মেধার প্রবেশ নিষেধ !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:২৫


ভোটের আগে বলা হয়েছিল, ক্ষমতায় এলে প্রথম আঠারো মাসেই এক কোটি মানুষকে চাকরি দেওয়া হবে। কথাটা শুনে দেশের বেকার তরুণেরা তো মহাখুশি, কেউ ভাবল সরকারি চাকরি হবে, কেউ ভাবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×