somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

আতা স্বপন
মানবিকতা যার মধ্যে আছে সেই আল্লাহকে পায়

করোনা পরিস্থিতিকে সামনে এনে ব্লগে ইসলাম বিদ্বেষ

১৯ শে এপ্রিল, ২০২০ দুপুর ২:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ধর্ম যার যার এদেশ সবার। কোন ধর্মের কোন উপাসনাকে কোন ধরনের কটাক্ষ করে কিছু বলা ঠিক নয়। আপনি ধর্ম মানুন চাই নামানুন কিন্তু আপনাকে প্রতিটি ধর্মের অনুভতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। এটাই একজন সুনাগরিকের পরিচায়ক । করোনায় আক্রান্ত গোটা বিশ্ব।এটা একটা বৈষয়িক দুর্যোগ। এটা থেকে মুক্তির জন্য আস্তিক আর নাস্তিক সবাই চেষ্টা করছে। দোয়া ও দাওয়ার মধ্যে নাস্তিক যারা তারা দুনিয়াবী চেষ্টা তথা দাওয়ার কাজটাই শুধু করছে । আর আস্তিকরা দুনিয়াবী ও আখিরাত দুটোই অর্থাৎ দোয়া ও দাওয়া দুটোই করছে। এ অবস্থায় কে বা কারা হতে পারে তারা নাস্তিক বা অন্যকোন ধর্মের অনুসারী তারা করোনা পরিস্থিতিতে ইসলাম ধর্ম তার অনুসরীদের কোন হেফাজত করতে পারে নি এমনতর নানা পোস্ট করে অনলাইনে ব্লগে ও সামাজিক যোগাযোগ মধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়াতে চেষ্টা চালাচ্ছে। অনলাইনে তেমনি একজন ব্লগারের পোস্ট আমার দৃষ্টিগোেচর হয়েছে। আমি যেহেতু মুসলামন। তাই আমার কাছে বিষয়গুলো জবাব দেয়া প্রয়োজন বলে মনে করছি।
যে বিষয়ে আমার আপত্তি আছে সেগুলো হলঃ
১।মুখে দাড়ি মাথায় টুপি পড়ে ওজনে কম দিয়া ব্যবসায়ীর আজ মাথায় হাত অর্থনীতি ভেঙে পড়ছে-

দাড়ি টুপি কি ক্ষতি করেছে? দাড়ি টুপির ব্যবসায়ির মাথায় হাত অন্যদের হাত নাই? যদি বলেন তারা ধর্ম বিশ্বাসী দাড়ি টুপি জন। তারা ধর্ম মানার পরও তারা ক্ষতিগ্রস্ত। তাদের মাথায় হাত। এটা কোন ধর্মের লোক নয় এটা হিউমেন ন্যাচার। প্রতিটি মানুষই বিপদের সময় প্রথম ধাক্কায় একটু হতাশ হয়। আর এসময় আল্লাহ বানী - তোমরা নিরাশ হইয়োনা । তোমারই বিজয়ী হইবে।
যারা বিশ্বাসী তারা যখন বিপদে পড়ে একথা শুনে তাদের ধর্ম বিশ্বাস আরো বেড়ে যায়। এর উদাহরণ মসজিদগুলো। আগের চেয়ে অনেক মুসল্লি ছিল। সরকার বাধ্য হয়ে সংখ্যা নির্ধারন করেছে। মাথায় হাত দিয়েছে তারা হয়তো সাময়িক ধাক্কায় স্রষ্টার দায় থেকে নিরাশ হয়নি। আর বলছেন দাড়ি টুপি ওয়ালার ওজনে কম দেয়। বাজারে চাওর হওয়া গড়পত্তা কথা বলবেন না। ভাল মন্দও /হিউমেন ন্যাচার। এটা যে কোন ধর্মের বর্ণের পোষাকের মানুষের মধ্যেই আছে। কাজেই এসব উসকানো মূলক কথা না বলাই ভাল।কারন আমরা আমাদের ব্লগিংকে বিপদে ফেলছি এসব করে। এতে করে সমাজের কিছু চরমপন্থী মানুষ ও সুবিধাবাদী মানুষ ব্লাগারদের উপর চরাও হয়। আমাদের সচেতনতাই আমাদের নিরাপত্তা।

২।মানুষের গর্ব মানুষের অহংকার ধর্মীয় মূল্যবোধের আসক্তি কুসঙ্গস্কার জড়িয়ে রাখার আকুলতা সব ঝরে পড়ছে মানুষকে বাধ্য করছে তার চিন্তা চেতনা থেকে বেরিয়ে আসতে মানুষ এখন তার নিয়ন্ত্রণ এ নাই তার বিশ্বাসকে নিয়ে এখন আর সে চলতে পারবেনা।

কে বলেছ আপনাকে? সবই আপনার কল্পনা। ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাসীরা ধর্মের দিকেই ফিরে। আর কুসস্কার সেটাতো মিথ্যা সেটা সবসমই মিথ্যাই। মানুষ ধমীয় বিশ্বাসের দিকে আরো বেশী ঝুকছে। মানুষ বলছে স্রষ্টা আমাদের প্রতি রুষ্ঠ। আমাদের উচিত স্রষ্টাকে খুশি করা। বেশী বেশী তাকে স্মরন করা। তাই হচ্ছে। কে এমন যে ধর্ম পালন করত আর এখন করছে না। এটার ব্যতিক্রম থাকলেও থাকতে পারে। কিন্তু সেটা এতটা নগন্য যে ওটাকে ঢালও ভাবে চাপানো বোকার কাজ।

। যারা একদিন নামাজ পড়ার জন্য রাস্তা বন্ধ করে রাখতো জনগণকে কষ্ট দিতো আজ তাদের সেই মসজিদ ফাঁকা

যারা বলতো ঢাকা হচ্ছে মসজিদের শহর এই দেশ নব্বইভাগ মুসুলমানের দেশ আজ তাদের সেই ধর্মের দেমাগ চূর্ণ

এখন মসজিদে নামাজ পড়তে গেলে পুলিশ লাঠিপিটা করে মসজিদের শহর ঢাকার মসজিদগুলো আজ ফাঁকা পড়ে আছে

আজ এই ফাঁকা মসজিদ গুলো চিল্লিয়ে চিল্লিয়ে বলছে ঢাকার অলিগলিতে এসব মসজিদ না করে হাসপাতাল করলে আজ করোনা ভাইরাসের চিকিৎসার জন্য কাজে দিতো

কবরস্থানের জায়গা গুলো কবরদিয়ে নষ্ট না করে সেখানে ফাঁকা রাখলে আজ করেন্টাইনের জন্য কাজে দিতো

কবর দিয়ে লাশ পুঁতে ফেললে ভাইরাস এর সম্ভবনা থাকে সেখানে আগুনে পুড়িয়ে সৎকার করলে কিছুই থাকেনা
শশান ভূমি কখনো শেষ হয়না কিন্তু কবরস্তান একদিন শেষ হয়।


এই যে এতো গুলি কথা ধর্মবিদ্বেস ছাড়ানো জন্য বললেন একটাও কিন্তু যৌক্তিক কথা নয়। নামাজ পড়ার জন্য রাস্তা বন্ধ রাখত মানে কি? যে কোন ধর্মী উৎসবে রাস্তা ব্লক হয়। মুসলমানদের ধমীয় উৎসব সাপ্তাহিক জুম্মা আর ঈদের জামাত এসময় রাস্তা ব্লক হতে পারে। প্রয়োজনে। ঢালও ভাবে রাস্তা বন্ধ করে নামাজ পড়ে কথা ঠিক নয়। মসজিদ ফাকা এত মজা পাবার কিছু নাই। এটা প্রতিটি মুসলমানের কষ্টের জায়গা। এতে ঘা দিয়ে কথা বলাটা আপনার উচিত হয়নি। সরকারের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের কারনে মুসল্লিরা মসজিদে যায় না।। তা নাহলে মসজিদগুলো ভরা থাকত। এটা নিয়ে ব্যংগ করার কিছু নাই। ধর্মের দেমাগ চূর্ণ- এটা কি ধরনের ভাষা। বি কেয়াফুল। আপনি কিন্তু তথ্যপ্রযুক্তি আইনে পড়ে যেতে পারেন। মানুষ ঘরে বসে নামাজ পড়ছে। এটা তাদের দূর্বলতা নয় এটা তাদের ধর্ম ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ করে। মসজিদে নামাজ পড়তে যেতে পাড়ছেনা বলে নব্বই ভাগ মুসলমানের দেশের কোন দেমাগ চূর্ন হলো? এটা এখনো নব্বই ভাগ মুসলমানেরই দেশ।
পুলিশ নামাজ পড়তে গেলে লাঠি পিটা করে শুধু হাট বাজার করতে গেলে করে না? মসজিদ ফাকা পড়ে আছে কথাটি সত্য। এর মানে মুসলমানরা সহনশীল ও আইনের প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধাশীল।
মসজিদগুলো চিল্লিয়ে চিল্লিয়ে কি বলছে? বুঝলাম না। যাক আপনি বলছেন মসজিদ না করে হাসপাতাল করলে ভাল হতো। দেখুন হাসপাতাল একটা বিষয় মসজিদ আরেকটা বিষয়। দুটাকে মিলিয়ে খিচুরি বানাতে জাবেন না। করেন্টাইনের জন্য জমির দরকার নাই । চাইলে পানিতেও করা যায়। আর তা খুব সহজেই। যেহেতু লঞ্চ গুলো এখন বন্ধ তাই সেগুলোকে করেন্টাইন হোম বানানো যায়। কবর দেয়াতে জায়গা কমে গেল বলে সুর তোলা ঠিক না। এটা ধমীয় বিষয়। ধর্মকে ধর্মের পথে চলতে দিন।
আর মৃত শরীরে করোনা থাকে না তা বিশ্ব স্বাস্থ সংস্থা ঘোষনা করেছে। কাজেই তার থেকে ভাইরাস ছড়ানো এটা একঘেয়েমি আর মূর্খতা।
পোড়ানো বা কবর দেয়া এটা যার যার ধমীয় রীতি। যে যেটা ইচ্ছা করবে।
কবর দিলে জমি স্বল্পতা হবে। কে বলল? একটি কবর পুরনো হলে তাতে আবার কবর দেয়া যায়। কাজেই জমির কম পরবে না। আর এযাবত এমন কখনো কি শুনেছেন যে জমির কম পরে গেছে কবর দিতে পারছেনা ! হ্যা যখন বন্যা হয় তখনকার কথা ভিন্ন। তখন লাশ ভাসিয়ে দেয়া যাবে। যে বিষয়ে আপনার জ্ঞান সিমিত তা নিয়ে জাহির করে নিজেকে ছোট করবেন না।

পরিশেষে এধরনের ব্লগারদের উদ্দেশ্যে বলছি আপনারা যারা বিভিন্ন পোস্ট করে মুসলমানদের হেয় করার চেষ্টা করেছেন। এটা কিন্তু মোটেই উচিত হয় নয়। এই ধরনের পোষ্ট থেকে বিরত থাকুন । তা নাহলে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে আপনারা অপরধি সাব্যস্ত হলে অবাক হব না।

সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে এপ্রিল, ২০২০ দুপুর ২:৫৪
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শেখ হাসিনা ও তাঁর মন্ত্রীবর্গের দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত নয় কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৪

"হে কাবা! তুমি কতই না উত্তম, তোমার সুঘ্রাণ কতই না চমৎকার! তোমার মর্যাদা কতই না মহান! তবে সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ! নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে একজন মুমিনের জান,... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্পর্শে_ _ _ _ _

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০০

-কি পাও আমার মাঝে ?
-দুটি চোখ।
যেখানে আমার সর্বসুখ নিহিত,
ছমছমে সন্ধ্যা, ভয় জাগানিয়া অন্ধকার রাত,
এসব বৃথা হয়ে যায়,
তোমার একটি ছোঁয়ায়।
তোমার চোখের একটি পলক, আমার হাজার বছর,
আর কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মরীচকাি ও নক্ষত্র

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:১০


মেয়েটি অত্যন্ত শান্ত ভঙ্গিতে টিস্যু পেপার দিয়ে ঠোঁটের কোণ মুছে নিল। তারপর সরাসরি আমার চোখের দিকে তাকিয়ে অবলীলায় বলল, "নীল, আমি প্রেগন্যান্ট!"
আমি তখন চায়ের কাপে সবেমাত্র একটা অসতর্ক চুমুক দিয়েছি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেসুরো গলায় গান গাওয়ার অপরাধে

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:০৯


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে

যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পপুলিস্ট দিক ও ন্যায়বিচারের দিক উভয়ই খেয়াল রাখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×