somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাচ্চা কাচ্চার ডিজুস কিচ্ছা-১

০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০১২ দুপুর ২:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কলিকালের একেকটা পিচ্চি পুরাই ডিজুস!!!ওপার বাংলার সঙ্গীত চ্যানেলের প্রভাবে “পাগলু পাগলু আই লাবিউ” দেখে একেকজনের মুখ ই ফুটে আই লাভ ইউ বলে।ছোটবেলায়ই জড়তা কেটে যায়…এক অর্থে ব্যাপার খারাপ না।শাসন করলেও এদের জিদ দ্যাখার মত….আর আদর করলে তো একেবারে এক লাফে মাথায় উঠে…শাঁখের করাত।

সেদিন উন্মাদ পত্রিকায় দেখছিলাম…ছেলে হোক মেয়ে হোক একটি বদের হাড্ডিই যথেষ্ট!!!কথাটা শুনতে খারাপ লাগলেও নিষ্পাপ সত্য।এক পরিচিতের বাসায় দাওয়াত।এক পরিবার মাশাল্লাহ এক হালি বাচ্চা নিয়ে এসছে…তার নিজের।লাস্টের ২টা আবার যমজ।প্রথম ২ ছেলের সাথে যুক্ত হয়েছে আমার পিচ্চি ভাই।মিশন আংকেলের ছেলের পিসি তে গেম খোঁজা।ব্যর্থ হয়ে ডিজনেপ চ্যানেলে ওদের কুলেস্ট ক্যারেক্টর ডরিমন দেখতে লাগল।তাও বেশিক্ষণ দেখতে পারলো না।ঐ বাসার আংকেল আবার এন্টি ডরিমন।ওনার ধারণা স্টার প্লাস যেমন বাংলার নারী ধ্বংস করে…ডিজনেপ শিশুদের ঘুম হারাম করে।ঘুম হারামে মস্তিষ্ক ক্ষয়।যাই হোক,সবাই যখন তাদের মোবাইল পর্যন্ত লুকিয়ে ফেললো গেমের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে…তখন তারা প্রথম অস্ত্র হিসেবে কিছুক্ষণ উদাস উদাস চোখে ঘুরে বেড়ালো।ভাগ্যিস তাদের আগে খাইয়ে ফেলা হয়েছিলো।নইলে এটাকেই প্রথম অস্ত্র বানাত।কোন কাজ হয় না দেখে কিছুক্ষণ পর এসে শুরু হল তীব্র বাক্য বর্ষণ।

১ম পিচ্চি :এই আংকেল খুবই খারাপ।আমাদের দাওয়াত দিতে নিয়ে এসে ইনসাল্ট করে।অনেক হয়েছে,ওনার বাসায় আর না।এই বাসার কেউ ভালো না।

২য় পিচ্চি :খালি এই বাসা না।এই প্ল্যানেটও খারাপ।চলো আমরা এই প্ল্যানেট থেকে অন্য কোনো প্ল্যানেটে চলে যাই।আমার আদৃতা মিস কে বললে ওনি আমাদের একটা স্পেশশীপ অবশ্যই বানিয়ে দিবেন।

৩য় পিচ্চি :সিউর?

২য় পিচ্চি :সিউর।এই মিস অনেক ইয়াং।আমাদের লাভ করে।একটু বুড়ি মিস গুলা আমাদের কষ্ট বুঝে না।খালি পড়তে বলে।

৩য় পিচ্চি :তাহলে আমরা অন্য প্ল্যানেটে চলে যাচ্ছি।যাবার সময় একটা মোবাইল নিয়ে যেতে হবে।আর আমরা কিন্তু তনয় ভাইয়ার(আংকেলের বড় ছেলে) বিয়েতে আসবো না।ওনি থাকুক
ওনার ফকিরা পিসি নিয়ে....(তনয় মাত্র থার্ড সেমিস্টারে)


২য় পিচ্চি :মোবাইল না…একটা ল্যাপটপ নিয়ে যাবো।ওয়েব ক্যামে মাঝে মাঝে আম্মু আব্বুর সাথে কথা বলা যাবে।(এই পিচ্চি আবার মারাত্মক ট্যালেন্ট)

আমরা ::-* :-* :-*


এক বাসায় ক্লাস সিক্সের এক বাচ্চা মেয়ে পড়াতে গিয়েছি।মেয়ের মা বলল,আমি সারাদিন জব নিয়ে থাকি…ও একা একা থাকতে থাকতে চাপা স্বভাবের হয়ে যাচ্ছে।বাইরের জগৎটা ওর কাছৃ একদম অপরিচিত।তুমি কিন্তু ওর পুরোপুরি দায়িত্ব নিচ্ছ।

মেয়ে ছাত্রী ভাল।পড়িয়ে আনন্দ পাই।সারাদিন পহেলা ফাল্গুন পালন করে ১৩ তারিখ আর যাই নাই।১৪ তারিখ গিয়েছি।


ছাত্রী :মিস আজকে আসছো ক্যানো???কোথাও যাবা না??!!

আমি :(কিছুটা আশ্চর্য হয়ে কারণ ও কখনো এভাবে বলেনা)তোমার আম্মু বললো তুমি বাসায় আছ আর আমারও ক্লাস নাই।

ছাত্রী :ও।তোমাকে একটা কথা বলতে চাইসিলাম।

আমি :বলে ফ্যালো!!!

ছাত্রী :কিন্তু এখন তো মনে হইতেসে তুমি ব্যাপারটা বুঝবা না।

আমি :(মনের ভাব গোপন করে)চেষ্টা করে দেখিই না।

ছাত্রী :এটা পড়ে দেখো(ভাঁজ করা একটা কাগজ)।আমি জানি তুমি কাউকে বলবা না।


আমি কাগজটার ভাঁজ খুলে পড়ছি।আমার কিশোরী ছাত্রীটি বলে যাচ্ছে,‘‘ও আমার ২ বছরের সিনিয়র।আমরা এক জায়গায় গান শিখতে যাই।এক স্কুলে পড়িও।১ বছর ধরে ফলো করে যাইতেসে।JSC তে 5 পাইসে।লাস্ট সানডে তে আমাকে এই লেটারটা দিল।বলসে আজকের মধ্যে জানাইতে।ওকে আমার খারাপ লাগে না।তুমি কি বলো মিস??”

আমি তখন ভাবছি আমার এই ছাত্রী বাইরের জগৎ এর খবর না রাখলেও অন্তরজগতের খবর ভালোই রাখেন।আফটার অল অন্তর জালের যুগ।আর মনে মনে সুর ভাঁজছি…‘‘গভীরে যাও…জ্ঞান বাড়াও।’’একে শিক্ষা দেয়ার জন্য আমাকে যে আরো গভীরে যেতে হবে।


৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"নিজেদের কেলেঙ্কারিই যখন নিরাপদ নয়, প্রধানমন্ত্রী কতটা নিরাপদ"

লিখেছেন রিয়াজ হান্নান, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:২৭


মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রিয় তারেক রহমান রাহিমাহুল্লাহ,আপনাকে সবার আগে বাংলাদেশের জন্য ভালোবাসি। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি আপনার আশেপাশের লোকেরা কেলেংকারির সাথে জড়িত,এরা আবার ইলিয়াসের আগেই নিজেকে নিজে এক্সপোজ করে দেয়।

এরা নিজেরাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের আধিপত্যবাদী নীতি

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৫২

নেপাল সেনাবাহিনীর সম্মানসূচক জেনারেল পদমর্যাদা সম্প্রতি ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠকে দেওয়াকে কেন্দ্র করে আমাদের দেশের কিছু সংবাদ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি করেছে ।
গত ১৭ আগস্ট নেপালের রাজধানী... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোলাপী এখন বাসে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:২০


দেশে আজ থেকে পিংক বাস সার্ভিস চালু হয়েছে। ঢাকা সহ আরও তিনটি বড় শহরে এই বাস চলবে। খবরটা শুনে মনে হলো, দেশ যেন হঠাৎ করেই এক ধাপ আধুনিক হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

"বহু দিন পর বন্ধু"

লিখেছেন সনজিত, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


বহু বছর পর হঠাৎ তোর সঙ্গে দেখা।
প্রথমে চিনতেই পারিনি।
তারপর একচিলতে হাসি-
মনে হলো,
সময় আমাদের চেহারা বদলেছে,
কিন্তু শৈশবের মুখটা এখনো একই রয়ে গেছে।

চোখের কোণে ক্লান্তির রেখা,
চুল অর্ধেকটা সাদা রং,
কাঁধে সংসার,... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×