somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

অতনু কুমার সেন
ভালো মানুষ হিসাবে নিজেকে দাবি করি না কখনোই, চেষ্টা করছি ভালো মানুষ হতে। জানিনা কবে ভালো হতে পারব! আর আমি এমনিতে বেশ ঠাণ্ডা, কিন্তু রেগে গেলে ভয়াবহ! স্বপ্ন দেখতে ভালবাসি, তার যদিও অধিকাংশই ভেঙ্গে যায়! আশার পিঠে আশা বেঁধে তবুও নির্লজ্

কত ক্ষিদে তোদের মিটিয়ে যা মাগনায়

২২ শে এপ্রিল, ২০১৮ সকাল ৯:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ক্ষিদে মিটিয়ে যা মাগনায় সম্প্রতি এপার ওপার দুই বাংলাতেই ধর্ষণের ঘটনা যেন ডাল ভাত হয়ে গেছে। প্রতিদিন যেমন ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে তেমনি বিচার হচ্ছে ধর্ষকদের। তারপরেও সামাজিক এই সমস্যা কমছেনা বরং বেড়েই চলেছে।

বিষয়টি নিয়ে তুলেছে দুই বাংলার লেখক, বুদ্ধিজীবি ও সুশীল মহলে। তেমনই একটি লেখায় ওপার বাংলার লেখিকা শ্রীতমা সেনগুপ্ত স্পর্শ করেছেন পাঠকের হৃদয়। লেখনিতে তিনি তুলে ধরেছেন বর্তমান অন্ধকার সময়।বিছানাতেই হড়হড় করে বমি করে ফেলল গনেশ। চোলাই টা আজ বেশী টানা হয়ে গেছে। সাথের ফুলুরি টাও শালা ঠান্ডা ছিল, অম্বল হয়ে গেছে নির্ঘাত।

শালা ঢ্যামনা, দিলি তো শালা বিছানা ভাসিয়ে? সকাল থেকে গিলে বসে আছিস নাকি বে? চুল্লুখোর শালা। সন্ধে সন্ধে দিল শালা সব একশা করে। ধুপ দিলাম এই সবে, দিল হারামী টা বারোটা বাজিয়ে….

বকবক করেই চলেছে বিজলী। গনেশ জানে এখন কিছু বলতে গেলেই আরও খিস্তি খাবে। তাই কাচুমাচু হয়ে চুপ করে রইল।
এই শালা,শুয়োরের বাচ্চা, বসে আছিস কি? ওঠ। নাম খাট থেকে। তোর বাপ এসে সব পরিস্কার করে দেবে নাকি রে গান্ডু…

তড়িঘড়ি খাট থেকে নেমে এল গনেশ। বাথরুমে যেতে হবে একবার, বলতে সাহস হলনা।চুপচাপ নিজেই চলে গেল।ভালো করে মুখ হাত ধুতে ধুতে ভাবল, কিছু টাকা এক্সট্রা দিয়ে দেব বিজলী কে। আজ টোটো চালিয়ে নেহাত মন্দ রোজগার হয়নি।

এই শালা,আর বমি করলে কেলিয়ে বৃন্দাবন দেখিয়ে দেব।
..না না আর হবেনা
বিজলী এইটুকু সময়ের মধ্যেই সুন্দর করে চাদর পাল্টে,সব ধুয়ে,বেশ কটা ধুপ জ্বালিয়ে দিয়েছে।
আধখন্টা পর….
..নে নে…এবার ফোট। অন্য খদ্দের আসবে।
গনেশ পকেট থেকে পাঁচটা একশ টাকার নোট বের করল।
..এই নে।
..পাঁচটা কেন বে? আজ কি এমন মধু পেলি বাবা যে একশ বেশি?

ওসব না। তোর ঘর নোংরা করলাম। আর আজ রোজগার ভালোই হয়েছে রে।এক বিয়েবাড়ির ভাড়া ছিল…
..আজ কিছুই লাগবেনা।ফিরি।
..ফ্রি? কি?
..হ্যাঁ, ফিরি। কানের মাথা খেয়েছিস নাকি?
..কিন্তু কেন?এরকম তো কোনদিন….
আজ, কাল দুদিন ফিরি করে দিয়েছি আমরা। এই পুরো মহল্লা। ওই যে, রেপ হয়েছে না কোথায়, তাই।
হাসি চাপতে গিয়েও পারলনা গনেশ।
তার জন্য তোরা ফ্রি কেন করলি? প্রতিবাদ? তা মোমবাতি নিয়েও নামবি নাকি? ভুখ হড়তাল করবি?
..না। ওসব শালা পতিবাদ টতিবাদ না। এত ক্ষিদে নিয়ে ঘুরছিস তো তোরা…আট বছরের বাচ্ছাটাও বেশ সুড়সুড়ি দিল তোদের..এতই কামড় তোদের। তাই আর কি।এই দুদিন তোদের মতো ব্যাটাছেলেদের জন্য আমরা ফিরি। কত ক্ষিদে তোদের মিটিয়ে যা মাগনায়।বাচ্ছাগুলোকে ছাড়ান দে, এই দুদিন না হয়….!!

কথা নেই গনেশের মুখে।ব্যাটাছেলে হয়ে জন্মে,এই প্রথম লজ্জা করছে। নির্বিকার বিজলি…..
..নে নে।অনেক ভড়ং হল।ফোট এবার।পরের মালকে আসতে দে……

বেশ্যাপট্টি থেকে বেড়িয়ে গনেশের মনে হল, এরকম ভাবে সবাই যদি ভাবতে পারত। ওই বেশ্যাগুলোর জন্য একজনও যদি রেহাই পায়….. কপালে দুহাত ঠেকিয়ে প্রণাম করল গনেশ।কার উদ্দেশ্যে?
জানেনা।।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে এপ্রিল, ২০১৮ সকাল ৯:০১
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেবদাস, কালজয়ী উপন্যাস এবং চিত্রনাট্যের পটভূমি

লিখেছেন মেহবুবা, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:২৮


প্রথম ১৯২৮ সনে নির্বাক "দেবদাস" মুক্তি পায় ফনী বর্মা এবং তারকবালা অভিনীত ছিল সেটি। এরপর প্রমথেশ বড়ুয়া এবং যমুনা বড়ুয়া অভিনীত সবাক দেবদাস মুক্তি পায় ১৯৩৫ সনে। তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে হৃদয় বিলিয়ে দেয়, বিশ্ব চরাচরে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:৪৩




যে হৃদয় বিলিয়ে দেয়, বিশ্ব চরাচরে
শান্ত গৌরবে, সেই আত্মারা কোথায় বেঁচে রয়।
দয়ার প্রতিটি বীজ সর্ন্তপণে বপন করা হয়,
সপ্তাকাশে উজ্জ্বল ফসল তবে অবধারিত রয়।

সাত আকাশের চরাচরে , ছায়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কেমনের দিনে

লিখেছেন শাওন আহমাদ, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৫



মাঝেমধ্যেই মনের ক্যানভাসটা কেমন যেন বিবর্ণ হয়ে যায়। পৃথিবীর সমস্ত রং হারিয়ে যায় অচেনা পথের বাঁকে। কোনো সংকেত ছাড়াই একরাশ এলোমেলো বিষণ্ণতা এসে জেঁকে বসে মনের কার্নিশে। চারপাশের চেনা জগৎটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

"দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন"- হলো একটি সনাতন নীতি...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



"দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন"- হলো একটি সনাতন নীতি, যার অর্থ খারাপ বা অন্যায়কারীকে শাস্তি দেওয়া এবং ভালো বা সৎ মানুষকে রক্ষা করা। এটি মূলত সমাজে শান্তি ও ন্যায়বিচার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কারো নামে মিথ্যা অপবাদ কাম্য নয় তবে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩৯


ঘটনাটি মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের এবং তার সঙ্গে থাকা এক সাংবাদিক বন্ধুকে ঘিরে। পরিবাগ ওভারব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় ট্রান্সজেন্ডার বা হিজড়া জনগোষ্ঠীর কয়েকজনের সঙ্গে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×