সদ্য কেনা নতুন গাড়ীটা যখন পরিষ্কার করছিলাম তখন আমার ছয় বছরের ছেলেটা ধাতব কিছু দিয়ে গাড়ীটাতে কিছু লিখছিল । খুব শখের গাড়ী তাই রাগ সামলাতে না পেরে লিখা অবস্হায় ছেলের হাতের উপর আঘাত করলাম । রাগের মাথায় খেয়াল করেনি যা দিয়ে আঘাত করেছি সেটা ছিল লোহার একটা পাইপ!
আমার ছোট্ট ছেলেটা হাসপাতালের বেডে শুয়ে ঘুমাচ্ছিল আর আমি ওর পাশে বসে কাঁদছি । লোহার আঘাতে চারটা আঙুল ভেঙে গেছে। আর ঠিক হবে না কখনও । আমার চোখের পানি ওর গালের উপর পড়ে ঘুম ভেঙে যায় ওর । ব্যান্ডেজ করা হাতের দিকে চেয়ে আমায় বলে 'সরি বাবা, আমি আর গাড়ীর উপর লিখব না । আমার আঙুলগুলো কি আবার ফিরে পাব-বাবা?'
বাসায় ফিরে পুরো গাড়ীটা দুমড়ে মুচড়ে ভেঙে ফেলি । তারপর ক্লান্ত হয়ে বসে পড়ি । আমার চোখ পড়ে গাড়ীর গায়ে ছেলের লিখাটার উপর-' Love u Dad ' !
পরদিন সকালে সেই হতভাগ্য বাবা আর বেঁচে নেই । ভীষণ কষ্টে আত্মহত্যা করেন। তার নিথর দেহের পাশে একটা চিরকুট পড়ে ছিল।
তাতে লিখেছিল :
'Anger & love have no limits. The choice is yours!'
সত্যিকার অর্থে মানুষের রাগ , ইগো মানুষকে এবং তাদের সম্পর্ক গুলোকে নস্ট করে দেয় । আমাদের সবার মধ্যে ছাড় দেয়ার মানুষিকতা একদম ই নাই, রাগ অভিমান ইগো এগুলা ছেড়ে যদি একটু মানসিকতা পরিবর্তন করতে পারি তাহলেই প্রতিটা পরিবার , সম্পর্ক অনেক সুন্দর হয়ে যায় সবার মাঝে শান্তি চলে আসে । মানুষ কতদিন ই বা বাচে ! ৬০ ৭০ ৮০ বছর । এই অল্প সময়ে অন্যর দোষ না ধরে ক্ষমা করতে শিখি,যার সাথে যা সম্পরক তাদের মুল্যায়ন করি । এই অল্প সময়ে কে কি করলো না করলো এই অভি্যোগ না করে পরবর্তন টা নিজের থেকে শুরু করি এতে নিজে ভালো থাকবেন আপনার আচরনে আপনার সাথে খারাপ করা মানুষ টাও লজ্জিত হবে । সো নিজের পরিবারের সাথে কোন কিছু নিয়ে রেগে যাওয়া যাবেনা ।
প্রতিনিয়ত সমাজে এই রাগ ইগোর কারনে বাবা-মা , ভাই-বোন , হাজবেন্ড-ওয়াইফ , বৌ-শাশুরি, নন্দ-ভাবি এরকম অনেক সুন্দর সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যাচ্ছে । মনে রাখবেন রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন ।
জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে সবার কাছে মিনতি রাগ ইগো দূর করুন , মাফ করতে শিখুন এবং সম্পর্ক গুলো সুন্দর করার দায়িত্ত আপনার ।
#রেগে_গেলেন_তো_হেরে_গেলেন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



