somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

অতনু কুমার সেন
ভালো মানুষ হিসাবে নিজেকে দাবি করি না কখনোই, চেষ্টা করছি ভালো মানুষ হতে। জানিনা কবে ভালো হতে পারব! আর আমি এমনিতে বেশ ঠাণ্ডা, কিন্তু রেগে গেলে ভয়াবহ! স্বপ্ন দেখতে ভালবাসি, তার যদিও অধিকাংশই ভেঙ্গে যায়! আশার পিঠে আশা বেঁধে তবুও নির্লজ্

ফেলে দেয়া পঁচা গোশতের উপর একদল কুকুরকে হামলে পড়তে দেখে রিমি বলল, বাবা! তারা কি কুকুরদের খাওয়ানোর জন্য কুরবানী করেছিলেন?

২২ শে আগস্ট, ২০১৮ বিকাল ৫:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করে রিমির মা রিমির বাবাকে বললেন, আমি তো পিঁয়াজ-মরিচ কেটে রেখেছিলাম, কেউ তো গোশত পাঠালো না! প্রতিবেশীরা আমাদের কথা ভুলে গেলো না তো? আপনি কি একটু গিয়ে দেখবেন?

বাবাঃ রিমির মা, তুমি তো জানো আজ পর্যন্ত কারো কাছে আমি হাত পাতি নি। আল্লাহ তায়ালা অবশ্যই কোন না কোন ব্যবস্থা করে দেবেন।

দুপুরের পর রিমির পীড়াপীড়িতে বাবা বের না হয়ে পারলেন না। প্রথমে গেলেন বড় সাহেবের বাড়ীতে।

বললেন,বড়সাহেব! আমি আপনার পড়শী। কিছু গোশত দেবেন?

গোশত চাইতেই বড় সাহেবের চেহারা গোস্বায় লাল হয়ে গেল। তাচ্ছিল্যের সাথে বললেন, কি জানি কোত্থেকে গোশত চাইতে চলে আসে-বলেই ধরাম করে দরজা বন্ধ করে দিলেন।

অপমানে রিমির বাবার চোখে পানি চলে আসলো। ভারী পায়ে চলতে চলতে এবার গেলেন মিঁয়া সাহেবের ঘরের দিকে। দরজায় করাঘাত করে বিনীতভাবে কিছু গোশত চাইলেন। মিঁয়া সাহেব গোশতের কথা শুনেই বিরক্তিভরে তাকালেন। পলিথিনে কয়েক টুকরো গোশত দিয়ে দ্রুত দরজা বন্ধ করে দিলেন। গোশত চেয়ে যেন বড় অন্যায় করে ফেলেছেন। যাক অবশেষে ছোট মেয়েটাকে তো একটা বুঝ দেয়া যাবে-এমনটা ভাবতে ভাবতে রিমির বাবা ঘরে ফিরে এলেন।

ঘরে ফিরে পলিথিন খুলে দেখলেন শুধু দুটো হাড্ডি আর চর্বি। চুপচাপ রুমে গিয়ে কাঁদতে লাগলেন।

রিমির মা এসে বললেন, আপনি মন খারাপ করবেন না। আমি টমেটো দিয়ে চাটনি বানিয়ে ফেলি।

এরই মধ্যে ছোট্ট রিমি বাবাকে জড়িয়ে ধরে বলল, বাবা! গোশত লাগবে না। আমি গোশত খাবো না, আমার পেট ব্যথা করছে।
মেয়ের একথা শুনে বাবা আর চাপা কান্না ধরে রাখতে পারলেন না।
ফুঁফিয়ে ফুঁফিয়ে কাঁদতে লাগলেন।

এমন সময় বাইরে থেকে সবজি বিক্রেতা আকরাম ভাই ডাক দিলো। আনওয়ার ভাই! ঘরে আছেন?
রিমির আব্বু দরজা খুলতেই আকরাম ভাই তিন-চার কেজি গোশতের একটি ব্যাগ হাতে দিয়ে বলল, গ্রাম থেকে ছোট ভাই নিয়ে এসেছে। এতো গোশত কি একা একা খাওয়া সম্ভব,বলেন? এটা আপনারা খাবেন।

আনন্দ আর কৃতজ্ঞতায় রিমির বাবা ভেজা চোখ মুছতে লাগলেন। অন্তর থেকে আকরামের জন্য দুয়া করতে লাগলেন।
গোশত রান্না করে সবাই মজা করে খেয়ে উঠতে না উঠতেই প্রচণ্ড তুফান শুরু হলো। বিদ্যুৎও চলে গেল। সারাদিন গেল, এমনকি দ্বিতীয় দিনেও বিদ্যুৎ এলো না। তুফানে ট্রান্সমিটার জ্বলে গিয়েছলো যে...

রিমির বাবা তৃতীয় দিন রিমিকে নিয়ে হাঁটতে বেরুলেন। বাবা-মেয়ে দেখলো, বড় সাহেব ও মিঁয়া সাহেব গোশতে ভরা অনেকগুলো পোঁটলা ডাস্টবিনে ফেলছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রীজে থাকা সব গোশত নষ্ট হয়ে গিয়েছে।

ফেলে দেয়া পঁচা গোশতের উপর একদল কুকুরকে হামলে পড়তে দেখে রিমি বলল, বাবা! তারা কি কুকুরদের খাওয়ানোর জন্য কুরবানী দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করে রিমির মা রিমির বাবাকে বললেন, আমি তো পিঁয়াজ-মরিচ কেটে রেখেছিলাম, কেউ তো গোশত পাঠালো না! প্রতিবেশীরা আমাদের কথা ভুলে গেলো না তো? আপনি কি একটু গিয়ে দেখবেন?

বাবাঃ রিমির মা, তুমি তো জানো আজ পর্যন্ত কারো কাছে আমি হাত পাতি নি। আল্লাহ তায়ালা অবশ্যই কোন না কোন ব্যবস্থা করে দেবেন।

দুপুরের পর রিমির পীড়াপীড়িতে বাবা বের না হয়ে পারলেন না। প্রথমে গেলেন বড় সাহেবের বাড়ীতে।

বললেন,বড়সাহেব! আমি আপনার পড়শী। কিছু গোশত দেবেন?

গোশত চাইতেই বড় সাহেবের চেহারা গোস্বায় লাল হয়ে গেল। তাচ্ছিল্যের সাথে বললেন, কি জানি কোত্থেকে গোশত চাইতে চলে আসে-বলেই ধরাম করে দরজা বন্ধ করে দিলেন।

অপমানে রিমির বাবার চোখে পানি চলে আসলো। ভারী পায়ে চলতে চলতে এবার গেলেন মিঁয়া সাহেবের ঘরের দিকে। দরজায় করাঘাত করে বিনীতভাবে কিছু গোশত চাইলেন। মিঁয়া সাহেব গোশতের কথা শুনেই বিরক্তিভরে তাকালেন। পলিথিনে কয়েক টুকরো গোশত দিয়ে দ্রুত দরজা বন্ধ করে দিলেন। গোশত চেয়ে যেন বড় অন্যায় করে ফেলেছেন। যাক অবশেষে ছোট মেয়েটাকে তো একটা বুঝ দেয়া যাবে-এমনটা ভাবতে ভাবতে রিমির বাবা ঘরে ফিরে এলেন।

ঘরে ফিরে পলিথিন খুলে দেখলেন শুধু দুটো হাড্ডি আর চর্বি। চুপচাপ রুমে গিয়ে কাঁদতে লাগলেন।

রিমির মা এসে বললেন, আপনি মন খারাপ করবেন না। আমি টমেটো দিয়ে চাটনি বানিয়ে ফেলি।

এরই মধ্যে ছোট্ট রিমি বাবাকে জড়িয়ে ধরে বলল, বাবা! গোশত লাগবে না। আমি গোশত খাবো না, আমার পেট ব্যথা করছে।
মেয়ের একথা শুনে বাবা আর চাপা কান্না ধরে রাখতে পারলেন না।
ফুঁফিয়ে ফুঁফিয়ে কাঁদতে লাগলেন।

এমন সময় বাইরে থেকে সবজি বিক্রেতা আকরাম ভাই ডাক দিলো। আনওয়ার ভাই! ঘরে আছেন?
রিমির আব্বু দরজা খুলতেই আকরাম ভাই তিন-চার কেজি গোশতের একটি ব্যাগ হাতে দিয়ে বলল, গ্রাম থেকে ছোট ভাই নিয়ে এসেছে। এতো গোশত কি একা একা খাওয়া সম্ভব,বলেন? এটা আপনারা খাবেন।

আনন্দ আর কৃতজ্ঞতায় রিমির বাবা ভেজা চোখ মুছতে লাগলেন। অন্তর থেকে আকরামের জন্য দুয়া করতে লাগলেন।
গোশত রান্না করে সবাই মজা করে খেয়ে উঠতে না উঠতেই প্রচণ্ড তুফান শুরু হলো। বিদ্যুৎও চলে গেল। সারাদিন গেল, এমনকি দ্বিতীয় দিনেও বিদ্যুৎ এলো না। তুফানে ট্রান্সমিটার জ্বলে গিয়েছলো যে...

রিমির বাবা তৃতীয় দিন রিমিকে নিয়ে হাঁটতে বেরুলেন। বাবা-মেয়ে দেখলো, বড় সাহেব ও মিঁয়া সাহেব গোশতে ভরা অনেকগুলো পোঁটলা ডাস্টবিনে ফেলছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রীজে থাকা সব গোশত নষ্ট হয়ে গিয়েছে।

ফেলে দেয়া পঁচা গোশতের উপর একদল কুকুরকে হামলে পড়তে দেখে রিমি বলল, বাবা! তারা কি কুকুরদের খাওয়ানোর জন্য কুরবানী করেছিলেন?

বাবা মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন। পাশ থেকে মিঁয়া সাহেব ও হাজী সাহেবও ছোট মেয়েটির কথা শুনে লজ্জায় মাথা নুইয়ে ফেললেন।

হ্যাঁ, এটিই আমাদের সমাজের অধিকাংশ মানুষের বাস্তবচিত্র। আমরা যেন মিঁয়া সাহেব আর বড় সাহেবদের মতো না হই। লাইনে দাঁড় করিয়ে নয় বরং (সম্ভব হলে) অভাবীদের ঘরে ঘরে কুরবানীর মাংস পৌঁছে দেই-আল্লাহ তায়ালার কাছ থেকে উত্তম বিনিময় পাওয়ার আশায়।

আল্লাহ তায়ালা আমাদের সমস্ত নেক আমলগুলো কবুল করুন,
আমাদের ভূল-ত্রুটিগুলো মার্জনা করুন।?

বাবা মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন। পাশ থেকে মিঁয়া সাহেব ও হাজী সাহেবও ছোট মেয়েটির কথা শুনে লজ্জায় মাথা নুইয়ে ফেললেন।

হ্যাঁ, এটিই আমাদের সমাজের অধিকাংশ মানুষের বাস্তবচিত্র। আমরা যেন মিঁয়া সাহেব আর বড় সাহেবদের মতো না হই। লাইনে দাঁড় করিয়ে নয় বরং (সম্ভব হলে) অভাবীদের ঘরে ঘরে কুরবানীর মাংস পৌঁছে দেই-আল্লাহ তায়ালার কাছ থেকে উত্তম বিনিময় পাওয়ার আশায়।

আল্লাহ তায়ালা আমাদের সমস্ত নেক আমলগুলো কবুল করুন,
আমাদের ভূল-ত্রুটিগুলো মার্জনা করুন।
৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার একান্ত মুহূর্ত কি লুকানো ক্যামেরায় বন্দি হচ্ছে, জেনে নিন শনাক্তের উপায়

লিখেছেন নতুন নকিব, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:৩৬

আপনার একান্ত মুহূর্ত কি লুকানো ক্যামেরায় বন্দি হচ্ছে, জেনে নিন শনাক্তের উপায়

USB Charger এর ভেতরে লুকানো ক্যামেরার ছবিটি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

ভূমিকা

ভ্রমণ মানেই নতুন জায়গা দেখা, প্রিয়জনের সাথে সময় কাটানো... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের সেই মানুষগুলো কোথায় গেলো

লিখেছেন অর্ক, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:২৬



স্বাধীনতা পরবর্তী, পচাত্তর পরবর্তী সময়ের ঘটনা। পচাত্তরের পনেরোই আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে নৃশংসভাবে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছে। ক্যু হয়েছে দেশে। সামরিক বাহিনীতে সংঘাত। বহু সদস্য হতাহত। জেনারেল জিয়া অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভুটান ও বাক স্বাধীনতা!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৪৪

ভুটানের নাগরিকদের জন্য দেশটির সরকার সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষা নিশ্চিত করেছে, যা দেশটির "গ্রস ন্যাশনাল হ্যাপিনেস" (GNH) দর্শনের মূল ভিত্তি। ভুটানের সাধারণ মানুষ মূলত যে সমস্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাঝা

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:০৬



বর্তমানে জনসংখ্যার বিচারে 'বিহার' ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম রাজ্য।
বিহারের রাজধানী পাটনা। বিহার মূলত দরিদ্র অঞ্চল বলা যেতে পারে। এখানে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় আছে। অনেক পুরাতন বিশ্ববিদ্যালয়। নালন্দা ছিলো মূলত... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ কি ক্যাশলেস সোসাইটি এর জন্য কি পারফেক্ট?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০



এটা বাংলা কিউ আর কোড। বাংলাদেশ ব্যাংক সকল ব্যাবসায়ীদের বাংলা কিউ আর কোড বাধ্যতামূলক করেছেনভ এটার ভালো দিক ও খারাপ দিক দুইটাই আছে। বাংলাদেশের সিস্টেম, কারিগরি দক্ষতা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×