আমরা যারা লেখালেখি করতে চাই, তারা অল্পতেই হতাশ হয়ে পড়ি । অথচ লেখালেখি হচ্ছে একটা সৃষ্টিশীল কাজ। স্রষ্টা হওয়া এত সহজ নয়। কেউ লিখি মনের আনন্দে, কেউ লিখি যশ খ্যাতির জন্য। কেউ লিখি সমাজ দেশের মঙ্গলের জন্য।
যারা লেখালেখিতে আগ্রহী তাদের জন্য কিছু বিখ্যাত ব্যক্তি কিছু উপদেশ দিয়েছেন।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, যদি এমন মনে বুঝিতে পারেন যে, লিখিয়া দেশের বা মনুষ্যজাতির কিছু মঙ্গল সাধন করিতে পারেন , তবে অবশ্য লিখিবেন । যাঁহারা অন্ন উদ্দেশ্যে লিখেন, তাঁহাদিগকে যাত্রাওয়ালা প্রভৃতি নীচ ব্যবসায়ীদিগের সঙ্গে গণ্য করা যেতে পারে।

বঙ্কিম আরও বলেছেন, কাহারও অনুকরণ করিও না। অনুকরণে দোষগুলি অনুকৃত হয়, গুণগুলি হয় না। অমুক ইংরেজি সংস্কৃত বা বাংলা লেখক এরুপ লিখিয়াছেন , আমিও এই রুপ লিখিব , এই কথা মনে কদাপি স্থান দিও না।
মহাদেব সাহা বলেছেন, রাগ নিয়ে লিখতে বোসো না। সাহিত্য রাগ প্রকাশের জায়গা না। ভালোবাসার জায়গা। রাগ দিয়ে বড় সাহিত্য হয় না।

সৈয়দ শামসুল হক বলেছেন, পড়ার বাইরে তরুণ লেখকদের উদ্দেশ্য আমার তিনটা উপদেশ আছে,-- পড়ো , পড়ো এবং পড়ো ।

শামসুর রাহমান বলেছেন, নিজের লেখাকে কখনো খারাপ বলবেন না । কখনো বলবেন না, আমার কবিতা হয় না । বললেই লোকে বলবে, ও নিজেই বলে ওরটা হয় না। আমরা কেন ওরটা কবিতা বলব ?

মুহাম্মদ জাফর ইকবালকে এক বিদেশিনী লেখক বলেছিলেন,
গল্প লিখতে বসে সত্য তথ্য দিয়ে লেখা নষ্ট করো না।

আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেছেন, শুধু বই থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা নয় , জীবন থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতাও উপন্যাসের জন্য জরুরী ।

বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ বলেছেন, আপনি আপনার লেখায় যদি টার্গেট অডিয়েন্সকে দোষী প্রমাণ করে ফেলেন , তাহলে সেই লেখা কেউ পছন্দ করবে না। ধরা যাক , আপনি বললেন আজকের পাঠক বই পড়ে না। খালি ফেসবুক করে। এটা ভালো কথা না। তাই যদি সত্য হয় , তাহলে আপনার লেখা লোকে পছন্দ করবে না।

রেফারেন্স ঃ গুগুল
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ দুপুর ১২:৪১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



