somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ওরা মানবতার সেবায় নিজেদের উৎসর্গ করে দিয়েছিল মানবপাচারের জন্য নয়।আসুন ওদের পাশে দাড়ায়

১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সকাল ১১:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


পথ শিশুদের সেবাশ্রম তৈরী পুরস্কার সরূপ পুলিশের রিমান্ড।পুলিশ গত ১২ সেপ্টেম্বর শনিবার রাজধানীর রামপুরা থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করে চারজনকে গ্রেপ্তার করে।পুলিশের উদ্ধৃতি দিয়ে খবরে প্রকাশ যে মানবপাচারকারীদের হেফাজত হতে মো. মোবারক হোসেন, মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, মো. বাবুল, মো. আব্বাস, মো. স্বপন, মো. আকাশ, মো. মান্না ইব্রাহিম আলী, মো. রাসেল, মো. রফিক ও মো. ফরহাদকে উদ্ধার করা হয়।পুলিশের ভাষ্যমতে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানিয়েছে, তারা মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য। তারা রাজধানীসহ আশপাশ জেলা শহর হতে শিশু সংগ্রহ করে পাচার করে আসছে।
আদালতের শুনানিকালে ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের সাথে কথা বলেন। ম্যাজিস্ট্রেট প্রশ্ন করেন, তারা কীভাবে শিশুদের সংগ্রহ করতেন? জবাবে আসামি আরিফুর বলেন, 'ঢাকার বিভিন্ন পয়েন্টে যেমন- সদরঘাট, কমলাপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় আমাদের স্বেচ্ছাসেবকরা কমপক্ষে ২ থেকে সর্বোচ্চ ৩ মাস বিভিন্ন ছিন্নমূল বাচ্চাদেরকে পর্যবেক্ষণ করে। যদি দেখা যায় একই বাচ্চা দিনের পর দিন একই স্থানে থাকছে এবং অন্য কোথাও যাচ্ছে না, তখন আমাদের স্বেচ্ছাসেবকরা তাদেরকে আমাদের শেল্টারে আসার জন্য বলতো। যারা আগ্রহী হতো তাদেরকে নিয়ে আসা হতো।' এরপর আদালত ওইসব আসামিদের আর কোনো বক্তব্য শুনতে চাননি। আদালতের বাইরে এসে ওই চার আসামির আত্মীয়-স্বজন এবং উদ্ধারকৃত ১০ শিশুর মধ্যে ছয় শিশুর অভিভাবকদের সাথে কথা বললে বেরিয়ে আসে নিঃস্বার্থভাবে সমাজসেবা করতে গিয়ে ফেঁসে যাওয়া ওই চার তরুণের ভাগ্য বিড়ম্বনার কথা। পরবর্তীতে প্রত্যকের ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

আরিফুর রহমানের বড় বোন বলেন গত প্রায় তিন বছর ধরে তার একমাত্র ভাই ছিন্নমূল বাচ্চাদের উন্নত জীবনদানের জন্য অক্লান্তভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সে তাদের পরিবারকে কোনো সময় দিত না। আমরাও তার কাছে সময় চাইনি। আমরা চেয়েছি তার স্বপ্ন বাস্তবায়িত হোক। কিন্তু আজ এটা কি হচ্ছে? বলেই তিনি হাউমাউ করে কাঁদতে থাকেন।
একই দিন ১০ শিশুর মধ্যে ৯ জনের সাথে সাংবাদিকরা কথা বললে সবাই একবাক্যে আটককৃতদের প্রশংসা করে। ওইসব বাচ্চাদের মধ্যে স্বপন, বাবলু, আকাশ, রফিক, রাসেলকে জিজ্ঞাসা করা হয়, তোমরা সেখানে কেমন আছো? উত্তরে জানায়, সেখানে বেশ ভালো আছে তারা। তোমরা আবারো সেখানে ফিরে যেতে চাও কি না। শিশুরা বলে, হ্যাঁ আমরা ফিরে যেতে চাই।
ফাউন্ডেশন থেকে বলা হয় এই প্রতিষ্ঠানে ৪০০ ওপরে স্বেচ্ছাসেবী রয়েছেন। তাদের বেশির ভাগ বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী। তাদের অবসর কেটে যায় পথশিশুদের শিক্ষাদানের মধ্য দিয়ে। গ্রেফতারকৃত আরিফুর রহমান অন্য রকম গ্রুপের এক্সিকিউটিভ অফিসার। জাকিয়া তিতুমীর কলেজের অনার্স ফাইনাল ইয়ারের ছাত্রী। গ্রেফতারকৃত হাসিবুল ওই দিনই স্বেচ্ছায় সেবাদানের জন্য এসেছিলেন। শুভ বনশ্রীর শেল্টারহোমের ম্যানেজার ছিলেন।
ঘটনার সময় ওই প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজারও সেখানে ছিলেন। পুলিশ যখন সেখানে প্রবেশ করে তখন ম্যানেজারের ফোন পেয়ে বাকি তিনজনও সেখানে ছুটে যান। পুলিশ তখন তাদেরকেও গ্রেফতার করে। পুলিশকে বারবার বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে তারা কোনো অনৈতিক কাজের সাথে সম্পৃক্ত নন। কিন্তু পুলিশ তাদের কোনো কথাই শোনেনি। কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী বলেন, তারা যখন কাগজপত্র নিয়ে থানায় যান তখন থানা পুলিশ তাদেরকে পাত্তাই দেয়নি। ওসির রুমে ঢুকবেন সেই সুযোগও তারা পাননি। তারা বলেন, তাদের বয়স কম হওয়ায় পুলিশ তাদেরকে কোনো পাত্তাই দেয়নি।

তারা বলেন, রাজধানীতে তাদের একটি স্থায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বনশ্রীর ওই শেল্টার হোম ছাড়াও আরো কয়েকটি ভাসমান স্কুল রয়েছে। শাহবাগ, সদরঘাট এবং কমলাপুর স্টেশনে তারা তিনটি ভাসমান স্কুল পরিচালনা করেন। আগারগাঁওয়ের কুমিল্লা বস্তিতে তাদের একটি স্থায়ী স্কুল রয়েছে, যেখানে ৩০টি শিশু রয়েছে। মজার স্কুল নামে এগুলো পরিচিত। তারা বলেন, এ স্কুলগুলোতে অধ্যয়নরত যেসব শিশুকে একটু মেধাবী মনে হয় এবং যাদের কোনোই পরিচয় নেই, বা পরিবারে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই তাদেরকেই বনশ্রীর ওই শেল্টার হোমে নেয়া হতো, যেখানে তাদেরকে সব ধরনের সুযোগসুবিধা প্রদানের চেষ্টা করত এই প্রতিষ্ঠানের স্বেচ্ছাসেবীরা। খেলাধুলাসহ বিনোদনের জন্যও ব্যবস্থা ছিল। মাঝে মধ্যে তাদেরকে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে ঘুরতে নেয়া হতো। কম্পিউটারসহ তাদেরকে নানা কাজ শেখানো হতো। স্বেচ্ছাসেবীরা বলেন, মোবারক যে অভিযোগ করেছে তা সঠিক নয়। মোবারক বলেছে, তাদেরকে রাতদিন ওই প্রতিষ্ঠানে আটকে রাখা হতো। কিন্তু স্বেচ্ছাসেবীরা বলেছেন, তাদেরকে একা একা বাসার বাইরে যেতে দেয়া হতো না। দিনভর তাদেরকে দেখাশোনার জন্য ম্যানেজার থাকতেন। আর দিনের বেলায় যখনই যে সময় পেতেন ওই বাসায় গিয়ে তারা পথশিশুদের সাথে আড্ডা দিতেন, গল্প করতেন। একত্রে খেতেন, খেলাধুলা করতেন। আবার পড়াশুনা ও হাতের কাজ শেখাতেন।
তারা বলেন, এই প্রতিষ্ঠানের যে স্বেচ্ছাসেবীরা রয়েছেন তাদের পকেটের টাকা এবং তাদের আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধবদের অনুদানের মাধ্যমেই এ সংগঠন চলে আসছে। অনেক স্বেচ্ছাসেবী রয়েছেন যারা আজ বড় বড় চাকরি করেন। তারা নিয়মিত এখানে অনুদান দিয়ে আসছেন। শেল্টার হোমে যে শিশুগুলো থাকত তাদের প্রত্যেকের পেছনে মাসে তিন হাজার টাকা ব্যয় হয়। এই ব্যয় ওভাবেই জোগাড় করা হতো।কি দোষ ছিল এই ‘অদম্য বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন’ পথশিশু আর আমরা কতিপয় বেসরকারি সংস্থার ভার্সিটি পড়ুয়া স্বেচ্ছাসেবক ছাত্রছাত্রীদের?

কি অপরাধ তাদের, তারা ছিন্নমূল শিশুদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল?। যাদের অভিবাবক কেউ ছিল না, যেই শিশুরা কিছুদিন আগেও খিদের জ্বালা সইতে না পেরে রাস্তায় রাস্তায় ভিক্ষা করত,চুরি করত, পেপার বিক্রি করত আবার কখনো কখনো মানুষ নামে অমানুষদের মার হজম করত।
ওদের দোষ কি ছিল এটাই যে; ওরা নিজেদের পকেটের টাকা দিয়ে পথশিশুদের লেখাপড়া করানো সহ সকল সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করত?
ওরা মানবতার সেবায় নিজেদের উৎসর্গ করে দিয়েছিল মানবপাচারের জন্য নয়।
যাই হোক আমি বাংলাদেশের আইন এবং বাংলাদেশ পুলিশের উপর যথেষ্ট সম্মান রেখে বলছি; আমি চাই আপনারা এই মামলার সঠিক বিচার করুন। আত্মমানবতার সেবায় এসে যেন ওদের শুধু শুধু অপরাধের বোঝা মাথায় নিয়ে জেল খাটতে না হয়।

সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সকাল ১০:০৯
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাষ্ট্রভাষা নিয়ে জিন্নাহর সেই ভাষণ। কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১০


জিন্নাহর সেই ভাষণ
সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে ভাষা আন্দোলন নিয়ে জিন্নাহর একটি বক্তব্য যাতে দাবী করা হচ্ছে তিনি নাকি আমাদের ওপর উর্দু যেভাবে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে বলে এতকাল “প্রচার”... ...বাকিটুকু পড়ুন

গালিব সাহেব, মিথ্যারও তো একটু সামাজিক মর্যাদা আছে!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৩



মির্জা গালিব বলেছেন -
“পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি মিথ্যা বলা হয় ধর্মগ্রন্থ ছুঁয়ে, যেটা আদালতে। আর সবচেয়ে বেশি সত্য বলা হয় মদ ছুঁয়ে, যেটা পানশালা।”

গালিব সাহেব, আপনার কথায় যুক্তি আছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাউঞ্জ এন্ড ফুড রিভিউ; দ্যা সেন্স

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৪২


নিয়মিত-অনিয়মিত গত এক যুগ ধরে ভ্রমণ করছি এবং প্রায়োরিটি পাস দিয়ে বিভিন্ন দেশের এয়ারপোর্টে লাউঞ্জ ব্যবহার করছি প্রায় ৪ বছর ধরে। দীর্ঘ ফ্লাইট, লং ট্রানজিটের মধ্যে এয়ারপোর্টে ফ্রিতে দৃষ্টিনন্দন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

অধরা বালিকা

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:১৮




লোভনিয়া তুমি এক অধরা বালিকা
ঘুমগুলো কেড়ে নাও ধুম করে তুমি
অথচ আমার জন্য তুমি মরুভূমি
পর ঘরে মহারানি হয়ে থাক চাই।
পরের হৃদয় রাজ্যে থাকবে মালিকা
তেমনটা আশাকরি। তাতেই যে আমি
অনেক প্রশান্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

যেখানে খোদা নেই; সেই ঠিকানার সন্ধানে( একটি দীর্ঘ সুফি দার্শনিক আত্মজিজ্ঞাসা)

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


প্রথমেই জানাই আমার এই লেখাটি ব্লগার মরুভুমির জলদস্যুর লেখা “শরাব পিনে দে”
হতে উৎসারিত, তাই তাঁর প্রতি জানাই কৃতজ্ঞতা ।

সেই লেখাটিতে তিনি মির্জা গালিব এর বিখ্যাত শেরটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×