সেই চৈত্রে দেখা দিয়েছিলে!
বোশেখেও এসেছিলে দু একবার।
তোমার তো আসার কথা ছিলো আষাঢ়ে-শ্রাবণে।
জ্যৈষ্ঠ আমার কাটলো খরতাপে,
আষাঢ় গেলো তোমার পথপানে চেয়ে,
শ্রাবণের শুষ্ক ধূলো তোমার পদস্পর্শ মাগে।
আদিগন্ত-বিস্তৃত পতিত-জমিন
প্রতীক্ষার পথ চেয়ে আছে তোমার আগমনী বারতার।
তুমি আসবে, ভরবে তার শূন্য বুক
সবুজ ফসলে।
কচি পাতা নিয়ে ধাকন্যারা
নাচবে দখিন হাওয়ায়।
তোমায় কাছে পেয়ে,
সলজ্জ-লজ্জায়, মেকী-অভিমানে
প্রেমিক-সূর্য মুখ লুকাবে
তোমার সঘন কালো মেঘ-কুন্তলে।
সুদীর্ঘ বিরহের অবসানে
অঝোর ধারায় সুখের কান্না কাঁদবে
শ্রাবণের অভিমানী আকাশ।
কেঁদেকেটে কমাবে তার বুকে জমে থাকা
বেদনায় ভারি মেঘের সম্ভার।
আনন্দ-হিল্লোলে বৃষ্টির পায়ে পায়ে
বেজে উঠবে চঞ্চল নুপূরের সুললিত নিক্বণ।
তোমার হাত ধরে অঝোর-বাদল-জলে
ভিজবে ডুমুরের ফুল, চোখ মেলে তাকাবে
বাদল-দিনের প্রথম কদম ফুল।
হাঁসেদের সাথে দল বেঁধে সাঁতরে বেড়াবে
লাল সাদা শাপলা ফুলের সখিগণ।
ডিঙি নায়ে পাল তুলে দুর-গ্রামে পাড়ি দেবে
রাঙা-নববধূ।
তোমার আগমনে ঝরণাধারারা
কলকল ছলছল চঞ্চল-নৃত্যে
মুখর করে তুলবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা
অচল পাহাড়েদের গ্রাম।
মরা-নদীর পরিত্যাক্ত কঙ্কালে কঙ্কালে
রক্ত-মাংসের ছোঁয়া লেগে যৌবনবতী
হয়ে উঠবে ষোড়শী কিশোরীর মতো;
দেহের ভাঁজে ভাঁজে জমে উঠবে তার
রূপের পসরা, ছুটবে উদ্ভ্রান্ত-যৌবনধারা।
শুধু পথ চেয়ে থাকি।
এখোনো এ পথে বাজলো না তোমার পদধ্বনি,
চলে যায় শ্রাবণ, কাটে না তবু প্রহর প্রতীক্ষার।
অনন্ত-জ্বলমান সূর্যের মতো
আমি শুধু তোমার প্রতীক্ষায় চেয়ে থকি, বর্ষা।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জুলাই, ২০১৮ রাত ১০:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


