somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জীবন থেকে লেখা

৩১ শে অক্টোবর, ২০১৪ দুপুর ১:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


-মা, আব্বু হাঁটতে যাচ্ছে । যাবা আব্বুর সাথে?
-উম্ম !
ফিরে কোলবালিশ টা জড়িয়ে ধরে আবার ঘুমিয়ে পড়ল তমা । কিছুক্ষণ পরে নিলাপু ডাকতে আসল ,
-ও তমাঃ উঠ না । আজ না তোর ঈদ ?
তমা শুনল কি শুনলো না , তা কে জানে...
কিছুক্ষণ পরে আম্মু এসে ডাক দিল,
-পাখি, উঠবি না?
এক চোখ খুলে মা কে দেখে আবার চোখ বন্ধ করে ফেলল তমা।
কিন্তু আম্মু দেখে ফেলেছে!
-দুষ্ট মেয়ে ।।
আম্মু এসে উবু হয়ে তমার কপালে চুমু খেল ।
সঙ্গে সঙ্গে তমা দুই হাত দিয়ে আম্মুর গলা আর দুই পা দিয়ে আম্মুর কোমর
জড়িয়ে ধরে ফেলল । আম্মু কোলে নিল তমাকে , আর সুরে সুরে সেই গান-
- " ও পাখি তোর যন্ত্রনা ; আর তো জ্বালা সহে না ! "
তমা খুব কাঁদো কাঁদো স্বরে বলল,
-আম্মু দেখ না আব্বু আমাকে ছেড়ে চলে গেছে। আজকেও নেয়নি,কথা নাই আব্বুর সাথে।
তমার চোখ কচলিয়ে কান্নার ঢং দেখে আম্মু হেসে দিল।
-আচ্ছা, আব্বু আসলে আব্বুর সাথে বাজারে যেও ।
-সত্যি?
-হুঁম।
আম্মু তমার ছোট ব্রাশটাতে মেরিল বেবি পেস্ট লাগিয়ে কাজে চলে গেল। তমা টুক করে ব্রাশ থেকে পেস্ট খেয়ে ফেলে নিলাপুর কাছে গিয়ে বলল,
-দেখো না আপু, আম্মু ব্রাশে পেস্ট দিতে ভুলে গেছে।
-ভুলে গেছে নাকি খেয়ে ফেলেছিস , হুম? দুষ্ট!
তমা ফিক করে হেসে দিল।
-ইইই করো ...
-ইইইইইই......
নিলা আপু, এইবার দাঁত মেজে দিল। পেস্ট খাওয়ার কোন সুযোগ নেই এইবার ।

তমা আয়নার সামনে গিয়ে নিজের কোকড়া চুল ধরে টেনে দেখল । নাক বরাবর এসেছে ।আবার চুল ছেড়ে দিতেই ট্যাঁও করে উপরে উঠে গিয়েছে। মনটাই খারাপ হয়ে গেল।চুল বড় হয়নি , তাহলে পাশের বাসার ফাতেমা আপুর মতন বেশী করবে কি করে ...
-দেখো না নিলাপু, চুল বড় হয়নি । :(
-আচ্ছা, এদিকে আয়, দেখি কি করা যায়।
নিলাপু কোকড়া চুল গুলো টেনে ঝুটি করে দিল দুইটা । বেঁধে দিয়েছে ফুলওয়ালা ব্যান্ড দিয়ে। তমার খুব প্রিয় ব্যান্ড যেগুলো জিদ করে কিনেছিল মাস খানেক আগে ।কিন্তু ছোট্ট চুল গুলোতে ঐ ব্যান্ড বাঁধাই যায় না । তাই এর মাঝে ছুলি কাটেনি । প্রতিদিন দেখে চুল মেপে, বড় হয়েছে কিনা। কিন্তু কষ্টের কথা,
টান দিলে চুল নাক অবদি আসে । তারপর ছেড়ে দিলে ট্যাঁও করে উপরে উঠে যায়। ঠিক মায়ের মতন কোঁকড়ানো ঘন কালো চুল টুকুই পেয়েছে।
নিলাপু কাজল দিয়ে কপালের কোনায় টিপ দিয়ে দিয়েছে । আর আঙ্গুল দিয়ে চোখে হালকা কাজল। ইশ! কি মায়াটাই না লাগছে!!
-নিলু , তমার কানের পিছে একটু কালি দিয়ে দে তো। নজর লেগে যাবে আমার সোনাটাকে।
নিলাপু কানের পিছে কাজল দিয়ে দিল ।
-আম্মু,আমি নিচে গিয়ে একটু দেখে আসি আমার গাছে ফুল ফুটেছে কি-না?
-যাও মা।
৯ টা বাজতে আর কিছুক্ষণ বাকি। তমা ঘড়ি দেখেছে। কিছুক্ষণ হল সে ঘড়ি চিনতে শিখেছে । এখন আর ফুল ফুটতে দেখতে সমস্যা হবে না ।


ফুল ফুটে গিয়েছে ।তমা অবাক হল, তার ঘড়িতে ০৯:০৫ বাজছে। ফুল ফুটতে দেখলো না কেন সে ? ফুল তো ঠিক ৯ টা বাজেই ফোটার কথা । যাক গে,তমা চেয়ে নিল-
- " আজকে যেন ছোটদা আসে, নাজিপুরা যেন আসে,আব্বু যেন তমাকে কোয়েল পাখির ডিম কিনে দেয়, তমার ছোট্ট চুড়ই পাখির ডানা যেন ভাল হয়ে যায় , সে যেন উড়তে পারে ... "
এই-ই যত চাওয়া তার ।ফুল নতুন ফুটলে বা ফুটতে দেখলে কিছু চাইলে নাকি তা পাওয়া যায় ।

শুক্রবার আজ। শুক্রবারে অনেক মজা হয় ।স্কুলে যেতে হয় না ।সারা দিন তমা খুব খেলে ।মাজে মাজে চাচ্চুরা আসে। ছোটদা আসে । তমা আব্বুর সাথে বাজারে যায়। অনেক অনেক মজা হয় । ঈদ মানে খুশি , শুক্রবার মানে খুশি । তাই শুক্রবারে তমার ঈদ ।


আব্বু চলে এসেছে আম্মু আব্বুকে বাজারের লিস্ট ধরিয়ে দিল । আব্বু যাচ্ছে বাজারে , তমাও যাচ্ছে বাজারে । আম্মুর কড়া বারন,
-তমাকে খবরদার ললিপপ কিনে দেবেন না । ললিপপ খেয়ে খেয়ে মুখের স্বাদ নষ্ট করে, সারাদিন আর কিছুই খেতে চায় না ।
-আরে, আমি কি আর দেই নাকি ?
বাজারের পথে কিছুদুর গিয়েই আব্বু তমাকে ললিপপ কিনে দিল।
-আম্মুকে বলিস না কিন্তু!
-আচ্ছা।
-স্বর্ণলতা, আমার স্বর্ণা মা ,কোয়েলের ডিম খাবি?
-হুঁম।
আব্বু তমাকে যে কত নামে ডাকে ... ২ ছেলের পরে শেষ বয়সের ছোট্ট একটা মাত্র মেয়ে । খুব শখের । মা তমাকে ডাকে পাখি । তাই কেউ ওকে পাখি ডাকলে ওর খুব রাগ হয় । আর বাবার তো তমার জন্য ডাক নামের অভাব –ই নাই ।
কোয়েলের ডিম কিনল বাবা ।
-ছোট্ট তমার জন্য ‘ছোট্ট ‘ছোট্ট ‘কোয়েলের ডিম।
তমা হেসে দিল।
বাসায় ফিরেই তমা আম্মুকে বলল,
-আম্মু, আব্বু আমার জন্য কোয়েল পাখির ডিম কিনেছে , আর কাউকে দিবা না কিন্তু।
-আর ললিপপ কিনে দেয়নি ?
-হুঁম ।
আব্বু চোখ টিপ দিতেই,
-না , না ;দেয়নি ।
আম্মুর তো সেই রাগ,
-মেয়েটাকে বিগড়াচ্ছ। এখন দাও ওকে খাইয়ে...
-আয় মা, খেতে আয়।

তমা হুম বলেই বড়দার কাছে চলে গেল।
-বড়দা, উঠবা না ?
-হুম,হুম।
-বড়দা...উঠ...
-হুম।
-উফফ! উঠ তো!
-আরেকটু ঘুমাই ! তুমিও আসো, ঘুমাও আমার সাথে__
বলেই বড়দা তমাকে জড়িয়ে ধরে আবার ঘুম । এই ফাঁকে তমা তার কাজ সারলো । বড়দার চোখে, মুখে , ঠোটে কাজল আর লিপস্টিক দিয়ে সেই এক কাণ্ড । আবার কপালে লিখেও দিয়েছে-
“সং”
“ সং " শব্দটা তমা তার বই থেকে শিখেছে । সঙের ছবি দেখেও খুব মজা পেয়েছে । বড়দা আয়নায় নিজেকে দেখে কি করবে তা ভেবেই তমা খুব হাসল ......


তারপর আব্বুর কাছে গিয়ে একটু পাউরুটি মুখে দিয়েই খেলতে দৌঁড় !!
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইসলাম প্রতিষ্ঠায় যুদ্ধের প্রয়োজন নেই, ভালোবাসাই যথেষ্ট

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২১ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:৪৮



চীনের লিংশান পর্বতে শুয়ে আছেন ইসলামের শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সাঃ)-এর দুই সাহাবী সা-কে-জু (Sa-Ke-Zu) এবং
উউ-কো-শুন (Wu-Ko-Shun)। এই নামেই তাঁদের চিনতো স্থানীয় চীনবাসীরা। অবাক হতে হয়, আরব... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয় সামু ব্লগারদের কাছে খোলা চিঠি.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫০

প্রিয় সামু ব্লগারদের কাছে খোলা চিঠি.....

প্রিয় সহব্লগার,
একসময় সামু ছিল আমাদের ছোট্ট এক মহাবিশ্ব।
দৈনিক গড়ে তিন-চারশ' ব্লগার অনলাইনে থাকতেন। প্রতি মিনিটেই নতুন নতুন পোস্ট আসত। কেউ গল্প লিখছেন, কেউ কবিতা, কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্য ধর্মের অনুসারীদের সাথে সদয় আচরণ করলে আল্লাহর ভালোবাসা পাবেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২২ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৭

১) "দ্বীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদেরকে নিজ দেশ থেকে বের করে দেয়নি, তাদের প্রতি সদয় আচরণ ও ন্যায়বিচার করতে আল্লাহ তোমাদের নিষেধ করেননি। নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ২২ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭



বাংলাদেশে শেষ কবে সিনেমা হলে গিয়ে মুভি দেখেছিলাম মনে নাই। গতকাল সন্ধ্যায় আমন্ত্রিত হয়ে গিয়েছিলাম, স্টার সিনেপ্লেক্স মুভি থিয়েটারে। এখন আর আগের মতন সিনেমা হল নেই। অনেক কিছু বদলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে প্রথম ১০০০০০ মন্তব্যপ্রাপ্ত রাজীব নুর'কে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা!!

লিখেছেন বিজন রয়, ২২ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪০



প্রাপ্ত মন্তব্য ১,০০,০০০!!
ঐতিহাসিক!

এই ব্লগের ইতিহাসে রাজীব নুর আপনি সর্বপ্রথম ১০০০০০ মন্তব্য পেয়ে দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করলেন!

আপনাকে অভিনন্দন আর শুভেচ্ছা প্রাণঢালা।

আপনি আবার এই ব্লগে সর্বপ্রথম ১০০০০০ মন্তব্যকারীও বটে!
সেটা নিয়ে আমি এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×