somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মুক্তবুদ্ধি‬ ও ‪‎চিন্তা‬

০৫ ই মার্চ, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


সত্যকে জানিবার ও ধারণ করিবার সুযোগ ও ক্ষমতার সহিত যুগপৎ সখ্য ও দ্বন্দ্ব রহিয়াছে চিন্তা, বুদ্ধি ও যুক্তির; কেহ স্থির বিশ্বাসকে, কেহ স্থির যুক্তিকেই ধর্মরূপে গ্রহণ করিয়া থাকে, এইখানে বিশ্বাস ও যুক্তি বিপরীত দিক হইতে ধর্মান্ধ হইয়া উঠিতে পারে। কেমন করিয়া? যেমন করিয়া বিশ্বাসের সহিত সমর্পণ ও আস্থার অভাব ঘটে, যুক্তিও অসমর্পণ ও অনাস্থাকে স্থিররূপে সত্য বলিয়া মানিতে থাকে। মানুষের জীবনে সমর্পণ ও আস্থার কি প্রয়োজন? শিশুর মাতৃত্বের বা পিতৃত্বের যে প্রয়োজন; মাতৃত্ব ও পিতৃত্বহীন শিশুও বিকশিত হইতে পারে কহিতে পার, কিন্তু সে ঘটনাচক্র, মানদণ্ড নহে।
এই যে চারিদিকে এখন সত্য সত্য রব উঠিতেছে মিথ্যার বাতাসে, যেন ‪#‎সত্য‬ আসিয়া সহসা বাতাসকে শুদ্ধ করিয়া লইবে, দূর করিবে চেতনাহীন লৌহসমাজ ও আচারের মরিচা, কেহ ভাবিতেছে ধর্মশাস্ত্র, কেহ ভাবিতেছে বুদ্ধি-চিন্তা-দর্শনের শিরিষ দ্বারা ঘসিয়া ঘসিয়া। কিন্তু কী সে শাস্ত্র? কী সে বিধান? কী সে বুদ্ধি ও চিন্তার দর্শন? আচারধর্মে যেমন দর্শন ধীরে ধীরে বিধানে পরিণত হইয়াছে, বিপরীতে বুদ্ধি-চিন্তার দর্শনও যেন বিধানরূপে গ্রাহ্য হইতেছে। ধর্মের বর্ম দীর্ঘকাল ধরিয়া বিধানে বৃহৎ হইয়াছে, রাষ্ট্র-ক্ষমতা-প্রতিপত্তির আদরণীয়রূপে বরণ হইয়াছে, সুযোগ পাইয়াছে বহিরঙ্গের পোশাকী চেতনার বিকাশে, কিন্তু তাহার বিরুদ্ধমত তথাকথিত ‘মুক্তচিন্তা ও প্রগতি’ সেই সুযোগ অধিকতর পায় নাই, তাই সে দূর্বল, জনপ্রিয় নহে। কিন্তু আমরা দেখিয়াছি, তাহার যৎসামান্য সুযোগের দারুণ অসদ্ব্যবহার! আত্মপরিচয়ের বদলে সম্মুখ লড়াই আর প্রতিরোধই যেন মুক্তবুদ্ধি ও চিন্তার ধর্ম! যে লড়াই অবশেষে বুদ্ধি-চিন্তা-যুক্তি-অনুমানের শরিয়তরূপে আরেকখানি আচারধর্মকেই প্রতিষ্ঠা করে।
বুদ্ধি ও চিন্তা যতদূর আত্মঘনিষ্ট না হইবে ততখানি তাহার ঘেরাটোপ। এই ঘেরাটোপ ও প্রতিষ্ঠার ব্যুহ যখন আক্রান্ত হয় তখন সে নাঙা তলোয়ারে পরিণত হয়, আর তাহার চারিদিকে ধর্মান্ধ কাণা-মূঢ়-অচেতন শত্রুরা শকুণের মতো তাহাকে দেখিতে থাকে; সমাজধর্মের হাতে সে পরাভূত হয়, কিংবা ঘটে তাহার বলিদান।
সত্য ইহার ভিতরে আছে কিংবা নাই সে তর্ক নাই করিলাম, কিন্তু সত্য যে আত্মপরিচয়ের তালাশহীন ধর্ম বা প্রগতিতে নাই ইহা বুঝিতে পারি। তাই, আত্মসংস্কৃতির বিনিময়ে ধর্ম ও প্রগতিকে পাঠ করিতে চাহি, বিশ্বাস বা অবিশ্বাসের কাঠকুঠুরীতে বন্দী হইয়া নহে...

View this link
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নবীজি ﷺ -এর অতুলনীয় উপমা: হাদিসে প্রকৃতি ও প্রাণের অপূর্ব ছবি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১৯ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:০৪

নবীজি ﷺ -এর অতুলনীয় উপমা: হাদিসে প্রকৃতি ও প্রাণের অপূর্ব ছবি

এআই দ্বারা তৈরিকৃত ছবি।

আরবের সাহিত্যের স্বর্ণযুগে, যখন কবিতা ছিল জাতির প্রাণশক্তি এবং ওকাজের মেলায় কাব্য প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠ কবিতা... ...বাকিটুকু পড়ুন

এসো ঈদের গল্প লিখি..... পড়ি

লিখেছেন অপ্‌সরা, ১৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:১১


আরও অনেকের গল্প পড়ার অপেক্ষায়..... স্বপ্নের শঙ্খচিলভাইয়া, নতুন নকিবভাইয়া, প্রবাসীকালোভাইয়া,ওমর খাইয়ামভাইয়া, হুমায়রা হারুন আপুনি, করুনাধারা আপুনি, মেহবুবা আপুনি, রাজীব নূর ভাইয়া, রানার ভাইয়ার গল্প পড়তে চাই, জানতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কে আমারে ডাকে?

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ১৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২০

কিছু কিছু গান তৈরির পর সৃষ্টির আনন্দে আমি অত্যধিক উচ্ছ্বসিত হই। এ গানটার ফিমেইল ভার্সনটা তৈরি করেও আমি অনেক অনেক তৃপ্ত। আপনারা যারা ফোক-ক্ল্যাসিক্যাল ফিউশন ভালোবাসেন, এটা তাদের জন্য উপযুক্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরানের ভুল বনাম যুদ্ধকৌশল

লিখেছেন আলামিন১০৪, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:০৯






ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করেছিল এবং তার মাশুল দিচ্ছে হাড়ে-হাড়ে। যখন গাজার শিশু-মহিলা-আপামর জনসাধারণকে নির্বিচারে বোমা-ক্ষেপনাস্ত্রের আঘাতে নির্মমভাবে হত্যা করা হচ্ছিল তখন আম্রিকা বলেছিল ঈসরাইলের উপর হামলায় ইরানের ভূমিকা নেই- মানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

লোভে পাপ, পাপে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১:৫২


"মাংস সমিতি।" এরকম নাম শুনলে প্রথমে হাসি পায়। সঞ্চয় সমিতি শুনেছি, ঋণ সমিতি শুনেছি, এমনকি মহিলা সমিতিও শুনেছি। কিন্তু মাংস সমিতি? তারপর একটু ভাবলে হাসি থেমে যায়। কারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×