somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নির্বোধ_পৃথিবী । মানুষ

১৮ ই জুলাই, ২০১৭ রাত ১১:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


মাখন কাকার ছোট্ট মেয়ে রুপা ওর ছোটকাকার বিয়ে থেকে ফিরে আমাকে বলেছিল, মানুষদা আমাকে বিয়ে করবা? আমাকে বিয়ে করলে তোমাকে রোজ জলপাইয়ের আচার বানিয়ে খাওয়াবো। কতদিন আগের কথা ও তখন খুব ছোট্টছিল, বিয়ে মানে ও বুঝতো লালশাড়ী, ঠুটে লিপিস্টিক করা। এখন ও বড় হয়েছে ,যৌবনের ছাপ মুখে মিশে আছে ,ওর উঠতি শরীরের তাকালে মন আনচান করে ওঠে ।ভেতর ভেতর মন চায় ওকে ইচ্ছেমত আদর করি , জানি ভেতরের কথা ভেতর থাকা ভালো প্রকাশ পেলেই অসভ্যতা । গত রবিবার ওদের বাড়ি যেয়ে একা পেয়ে ওর হাত চেপে ধরে বলেছিলাম , আমাকে বিয়ে করবি? তোকে রোজ আইসক্রিম খাওয়াবো।রুপা ককিয়ে উঠে বললো, তুমি আমাকে স্কুলের বাচ্চা পয়েছো লজেন্স ,চকলেট দিলেই পটে যাবো? জানো রোজ কত ছেলে-বুড়ুরা আমাকে বিয়ের অফার দেয় ? মানুষদা এবার হাতটা ছাড়ো বলছি ?
-না ছাড়লে কি করবে?
-মাকে ডাকবো । এই বলেই রূপা মাকে ডেকে বললো, মা দেখ মানুষদা আমার শরীর চেপে ধরেছে। রুপার মা এসে , আমাকে জেরা করলো আমি কি কি করেছি কোথায় কোথায় ধরেছি ওর। কাকীমার এমন প্রশ্নতে থ হয়েছিলাম ।পর কাকীমা বললো, শহুরে বড় হওয়া ছেলেরা যে খারাপ হয় তুমি এটা আবার প্রমাণ করলে।তোমাকে ভালো ভেবেছিলাম।তুমি কালই বাড়ি থেকে চলে যাবে।আর প্রয়োজন নেই কাকা বাড়ি আসার , চরিত্র এমন কেন তোমার? সুযোগ পেয়ে আমার মেয়েকে হাতাচ্ছো।ছিহ মানুষ। না কাকীমা ওমন কিছু না।রুপা তেরে বললো, না মা ,মানুষদার নজর ভালো না সে আমার ব্রার দিকে ফ্যালফ্যালিয়ে তাকিয়ে থাকে।রুপার মা থ হয়ে পর বললো , আমিও তাই টের পাচ্ছিলুম । পর বললাম,কাকীমা ওর সাথে আমার বিয়ে দেবেন? কাকীমা উত্তেজিত হয়ে বললো- কি আছে তোমার? জানো রুপার রোজ কত ভালো সমন্ধ আসে? আর্মি,ইঞ্জিনিয়ারিং, বড় মেডিক্যাল ডাক্তার আর কতকি? তোমার ঘরে আমার মেয়ে দিই কি করে বল? তোমাদের তো চালচুলো নেই ।দরিদ্র তোমরা , মাসে যা আয় করবে মাস শেষে কিছুই থাকবে না। রুপা বললো, আমি মানুষদাকে বিয়ে করবো না মা।মানুষদা কেমন জানি ,শ্যামলা, পকেটে টাকা থাকে না,চুল অগোছানো , চেয়ারে বসতে বসতে ঘুমিয়ে যায় ।রুপার মা রুপাকে শান্তনা দিয়ে বললো -না মা ওর সাথে তোর বিয়ে দিব না ।ঢাকা থেকে এক ভালো সমন্ধ এসেছে , ছেলের নাম রাজিন ঢাকার মুহাম্মদপুর থাকে ওখানকার প্যানেল মেয়র , অনেক টাকা ওদের, তার মধ্যে আবার আওয়ামীলীগ করে কত ক্ষমতা ওদের ।ওখানে বিয়ে হলে রাজরানী হয়ে থাকবি রে মা ।রুপা বললো, ঠিকি বলেচো মা আল্লা যেহেতু রুপ যৌবন দিয়েছে এর সঠিক ব্যবহার করা উচিত । রুপার মা বললো, তাহলে রাজিন কে হা বলে দিই ? রুপা বললো, মা আরেকটু অপেক্ষা করো না যদি এরচেয়ে ভালো কিছু হয়, বলছি যদি এমপি,মন্ত্রী বা ওদের ছেলে যদি পাওয়া যায় , এমপি পলকের একটু খোজঁ নাও না যদি হয় । রুপার মা বললো, হুম -দেখছি কি করা যায় । ওদের এমন কথাবার্তা সহ্য করতে না পেড়ে বললাম, আমি এখন উঠচি । রুপার মা বললো, সেকি বাবা উঠচো কি ! পাড়লে আজই চলে যাও না ? আমি বললাম, হুম তাই ভাবছি আর শুনুন আপনার মেয়েরই হবে, ওদের মত নারীরাই দেশের সাংসদ সদস্য । পর রুপা তেরে বললো, আমাদের মত মানে ?
আমি: এই যে পুরুষদেরকে রুপের ফাদেঁ ফেলে বিয়ে করা এর নামকি প্রতারনা বা বেহাইয়াপনা নয় রুপা ?
রুপা : সেতো আমিও বলতে পারি, এতক্ষন এতজোরে হাতচেপে ধরেছিলেন ,সেকি তাহলে ঐ জোরেই ? এই দেখুন না এখনো হাত লাল হয়ে আছে , কোনটা কিসের স্পশ এইসব অনুভূতি আজ ভালো করে টের পাই । আচ্ছা সত্য করে বলবেন , বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবেন , হাত চেপে ধরে আমাকে নিয়ে কামনা করেননি তো ? শুধু নিজের ইচ্ছেপুরন হয়নি তাই এগুলো বলছেন । কে ভালো থাকার জন্য ট্রাই করে না বলুন মানুষদা ? আর সুযোগ যদি পাই কাজে লাগাবো না কেন ?
রুপার মা : দারিদ্রতা তোমাকে পেয়ে বসেছে মানুষ , কোথাও ভালো কিছু দেখলে লোভ তুমিই সামলাতে পারো না , ভেবে দেখো ।
আমি বললাম, হ্যাঁ ঠিকি বলেছেন, দারিদ্রতা থেকেই মানুষ ছোটলোক হয় , নাহলে আপনার মেয়ের হাত ধরাকে কেন্দ্রকে এত কথা হজম করতে হতো না । ভালো থাকবেন আপনারা এই বলে, উঠে গেলুম, নির্বোধ বিকেলের পথ দিয়ে হেটেঁ হেটেঁ ভাবছিলুম আজ সন্ধেরট্রেনটা পেয়ে গেলে ভালো হতো, বেশি রাত্রি করে আর বাসায় ফিরতে হতো না , সকাল থেকে তো আবার কামলাগিরি শুরু ।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জুলাই, ২০১৭ রাত ১১:০৯
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য ঘাটতি : ভারসাম্যের লক্ষ্যে বাংলাদেশে উৎপাদন ও রপ্তানি কৌশল

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:০২


ভারত বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ও নিকটতম বাণিজ্য অংশীদার। ভৌগোলিক নৈকট্য, দীর্ঘ সীমান্ত, পরিবহন সুবিধা এবং পরস্পর-নির্ভরশীল উৎপাদনব্যবস্থার কারণে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কের গুরুত্ব অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

//১৫ ই আগস্ট ১৯৭৫ ও জীবনের সমীকরণ//

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৫৯

নিশ্ছিদ্র পরিকল্পনার পর নিখুঁতভাবে তা মাঠ পর্যায়ে প্রয়োগ করা হলো, অতঃপর আশানুরূপ অথবা আশাতীত ফলাফলও এলো। আপাতদৃষ্টিতে সমীকরণের রাইট হ্যান্ড সাইড আর লেফট হ্যান্ড সাইট হয়ে পরলো কেমন যেন ভারসাম্যহীন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সম্ভবত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসাবেই তারেক রহমান ভারতে যাচ্ছেন....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৭

সম্ভবত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসাবেই তারেক রহমান ভারতে যাচ্ছেন, যদিও এখন পর্যন্ত সফরটি চূড়ান্ত হয়নি। বাংলাদেশের সম্মতি আদায়- এক্ষেত্রে বাংলাদেশের 'কচিকাঁচা কুটনৈতিকদের' হারিয়ে ভারতীয় 'প্রবীণ কুটনৈতিকরা' জয়ী হয়েছে।

শেখ হাসিনার আমলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর কারা মিষ্টি বিতরণ করেছিল?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:১৬


যদি কোনোদিন টাইম ট্রাভেল মেশিন আবিষ্কার হয়, পঁচাত্তরের ঘটনা নিজের চোখে দেখার চেষ্টা করতাম। সে সময় কিছু মানুষ মিষ্টি বিতরণ করেছিল বলে শোনা যায় । আমি তাদের কাছ থেকে মিষ্টি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৯৭

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:০২



আজ জাতীয় শোক দিবসের।
জাতির পিতাকে আজকের দিনে স্বপরিবারে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়েছিলো। আজ শেখ মুজিবের ৩২ নম্বরের ভাঙ্গা বাড়িতে একজন গিয়েছেন শ্রদ্ধা জানাতে। তার হাতে ফুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×